স্বাস্থ্য কুশল

আল্লামা তাহির আলী তহিপুরী (র.)

সৈয়দ মবনু প্রকাশিত হয়েছে: ২০-১২-২০১৯ ইং ০১:৩১:২৩ | সংবাদটি ২১৮ বার পঠিত

সিলেট শহর থেকে গোলাপগঞ্জ হয়ে রানাপিং যাওয়ার পথে তহিপুর একটি গ্রাম। এই গ্রামে ৩ জানুয়ারী ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে আল্লামা মুহাম্মদ তাহির আলী (র.)-এর জন্ম। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু স্থানীয় মক্তবে। পাঁচ বছর বয়সে ঢাকা উত্তর পরগনার জায়গীরদার পাড়ার মায়না প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েন। তখন পঞ্চম শ্রেণীকে বলা হতো ‘মাইনর পাশ’। অতঃপর ভর্তি হলেন মাধ্যমিকে। তখন তাদের বাড়িতে থাকা জনৈক ছাত্রের অনুরোধে তহিপুরীকে তাঁর বাবা ঢাকা উত্তর জামেয়া হোসাইনিয়া আরাবিয়া রানাপিং মাদরাসায় ভর্তি করেন। রানাপিং মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে তিনি প্রথম বছর ছরফ ও নাহু এবং দি¦তীয় বছর হেদায়তুন্নাহু ও কাফিয়া অর্থাৎ প্রতি বছরে দু’ জামা’ত করে দুই বছরে চার জামায়াত পাস করেন। অতঃপর মাত্র এগারো বছর বয়সে আল্লামা রিয়াছত আলী চৌঘরী (র.)-এর সহযোগিতায় উচ্চশিক্ষার জন্য দারুল উলুম দেওবন্দে যান। সেখানে তিনি ছয় বছর লেখাপড়া করে তাকমিল ফিল হাদিস জামায়াতে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। তখন তাঁর বয়স ছিলো ষোল।
দারুল উলূম দেওবন্দে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন বৃটিশ বিরোধী ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা শায়খুল ইসলাম আল্লামা সৈয়দ হোসাইন আহমদ মাদানি (র.), শায়খুল আদব আল্লামা এযাজ আলী (র.), দারুল উলুম দেওবন্দ-এর সাবেক মুহতামিম আল্লামা আছগর হুছাইন (র.), আল্লামা ইবরাহিম বলইয়াবী (র.), আল্লামা মোহাম্মদ মিয়া (র.)। তাঁর সহপাঠিদের মধ্যে ছিলেন কুতবে জামান আল্লামা লুৎফুর রহমান শায়খে বর্ণভী (র.), আল্লামা বদরুল আলম শায়খে রেঙ্গা (র.), ফুলবাড়ির আল্লামা বশিরুদ্দিন (র.) প্রমুখ।
আল্লামা তহিপুরী (র.)-এর দেশীয় শিক্ষকেরা হলেন, আল্লামা রিয়াছত আলী শায়খে চৌঘরী (র.), আল্লামা আব্দুর রাশীদ টাইটেলী হুজুর (র.), আল্লামা মুকাম্মিল আলী চান্দগ্রামী (র.), আল্লামা মোস্তাকীম আলী দেউলগ্রামী (র.), আল্লামা শামসুল ইসলাম শেরপুরী (র.) প্রমুখ। হযরত তহিপুরী (র.)-এর হাদিসের সনদের ক্রমধারায় আমরা দেখতে পাই, শায়খ হুসাইন আহমদ মাদানি (র.), শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান (র.), শায়খ কাসিম নানুতবী (র.), শায়খ আহমদ আলী সাহারানপুরী (র.), শায়খ ইসহাক মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.), শায়খ শাহ আব্দুল আজীজ (র.), শায়খ শাহ ওলী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.), শায়খ আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহীম কুরদী আল মাদানি (র.), শায়খ ইব্রাহীম কুরদী (র.), শায়খ আহমদ আল কুসাসী (র.), শায়খ আহমদ ইবনে আব্দুল কুদ্দুস মাওয়াহেব আস্সান্নাবী (র.), শায়খ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আর-রমলী (র.), শায়খ যায়নুদ্দীন যাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ আল আনসারী (র.), শায়খ হাফেজ আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আসকালানী (র.), শায়খ ইব্রাহীম ইবনে আহমদ আত-তানুখী (র.), শায়খ আব্বাস আহমদ ইবনে আবু তালেব আল হাজ্জার (র.), শায়খ হুসাইন ইবনে মোবারক যুবায়দী (র.), শায়খ আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা সাজাজী (র.), শায়খ আবুল হাসান আব্দুর রহমান ইবনে মুযাফফর দাউদী (র.), শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আস্সাবাখসী (র.), শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ফেরাবরী (র.), শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইমাম বুখারী (র.), শায়খ আহমদ ইবনে আশকাব (র.), শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ফুজাইল (র.), শায়খ উমারাতা ইবনে কাকা (র.), শায়খ আবু হুরায়রা (র.), সায়্যিদুনা হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)।
আল্লামা মুহাম্মদ তাহির আলী তহিপুরী (র.) ছাত্র জীবন শেষে তায্কিয়ায়ে নাফ্স বা আত্মশুদ্ধির জন্য নিজ শিক্ষক হযরত মাওলানা সৈয়দ হোসাইন আহমদ মাদানী (র.)-এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেন। এরপর তিনি উস্তাদ ও মুর্শিদের পরামর্শে বাংলাদেশে ফিরেন। হযরত মাদানী (র.)-এর কাছে বায়াত নিলেও তিনি খিলাফতি লাভ করেন মাওলানা মাদানি (র.)-এর খালিফা হাফিজ মাওলানা আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়া (র.)-এর কাছ থেকে। দেশে ফিরে তিনি তাঁর শিক্ষক শায়খে চৌঘরী (র.)-এর নির্দেশে ১৩৫৯ হিজরীতে ঢাকা উত্তর রানাপিং আরাবিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। অতঃপর একাধারে ৬১ বছর এই মাদ্রাসায় কর্মজীবনের এক বিরাট অধ্যায় ব্যয় করেন। এই ৬১ বছরের মধ্যে সহকারি শিক্ষকতায় দু’বছর, অতঃপর শিক্ষাসচিবের দায়িত্ব নিতে হয়। তখন তাঁর বয়স ১৮ বছর। অসাধারণ কৃতিত্বের সাথে তিনি এ দায়িত্ব আদায় করেন। মাত্র ৫ বছরে তিনি মাদ্রাসার শিক্ষা বিভাগকে আশাতীত সাফল্যে নিয়ে যেতে সম্পূর্ণভাবে সক্ষম হন। শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব আদায়ের মাত্র ৫ বছর যেতেনা যেতে মাদরাসার সার্বিক উন্নতিকল্পে তাঁকে মুহতামিম বা প্রিন্সিপালের দায়িত্ব নিতে হয়। এ সময় তিনি নিজ শিক্ষক আল্লামা রিয়াছত আলী চৌঘরী (র.)-এর সহবত আরও ঘণিষ্ঠভাবে লাভ করেন। চৌঘরী (র.)-এর নির্দেশনা ও খাছদোয়ায় একাধারে ৪৭ বছর এ গুরুদায়িত্বে তিনি ছিলেন।
আমার সাথে আল্লামা মুহাম্মদ তাহির আলী তহিপুরী (র.) প্রথম দেখা রানাপিং মাদরাসায়। আমার বাবার সাথে রানাপিং মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা রিয়াছত আলী চৌঘরি (র.)-এর খুব আন্তরিক সম্পর্ক ছিলো। আল্লামা চৌঘরি ছিলেন আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী (র.)-এর হাদিসের ছাত্র। তিনি খুব তীক্ষè বুদ্ধিসম্পন্ন লোক ছিলেন। আমাদের ছোটবেলা তিনি ছিলেন খুব বৃদ্ধ, তবে মেধাশীল সচেতন একজন আলেম। আমি মাঝেমধ্যে তাঁর সহবত পেতে রানাপিং যেতাম। হুজুরও আমাকে খুব ¯েœহ করতেন। রানাপিং গেলে মাদরাসায় দেখা হতো আল্লামা তহিপুরী (র.)-এর সাথে। মাঝেমধ্যে তাঁর বাড়িতে যাওয়া হতো। হযরতের ছেলেদের সাথে আমার আন্তরিক সম্পর্ক ছিলো। বিশেষ করে বড়ছেলে মাওলানা শায়েখ লোকমানকে আমি জানতাম আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালিম বাংলাদেশের পঞ্চাশসালা দস্তারবন্দি সম্মেলনের সময় থেকে। তখন তিনি মাঝেমধ্যে সম্মেলন উদযাপন কমিটির অফিসে আসতেন, থাকতেন, কাজে সহযোগিতা করতেন। আমার বাবা এক সময় রানাপিং মাদরাসার মজলিসে শুরার সদস্য ছিলেন। রানাপিং মাদরাসায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দ্বন্দ্ব হয়, চলে মামলা মুকদ্দমা। মাওলানা মুহাম্মদ তাহির আলী তহিপুরী (র.) সর্বদাই আল্লামা রিয়াছত আলী চৌঘরি (র.)-এর পক্ষে দৃঢ়তার সাথে কাজ করেছেন।
আমি তখন খুব ঘণিষ্টভাবে তাঁকে দেখার সুযোগ পেয়েছি, যেহেতু আমার বাবা সৈয়দ আতাউর রহমানও তখন আল্লামা রিয়াছত আলী চৌঘরি (র.)-এর পক্ষে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। আল্লামা তহিপুরী (র.) ছিলেন আল্লামা চৌঘরি (র.)-এর ছাত্র। বাবার সূত্রে তখন আল্লামা তহিপুরী (র.)-এর সাথে আমার আন্তরিক সম্পর্ক হয়। মাঝে মধ্যে মোলাকাতের জন্য তাঁর বাড়িতে গেলে তিনি অনেক ¯েœহ করতেন। বিশেষ করে তাঁর ছেলে মাওলানা লোকমান আমাকে অনেক ভালোবাসেন। এভাবে আমি হযরত আল্লামা তহিপুরী (র.)-কে বারবার দেখেছি রানাপিং মাদরাসায়, এবং তাঁর নিজ বাড়িতে। দেখা এবং না-দেখা থেকে তাঁর সম্পর্কে যতটুক জানা হয়েছে, তিনি সবসময় সুন্নাতের পাবন্দ ছিলেন। বেশিরভাগ সময় অজু অবস্থায় থাকতেন। আমাদের নিজের দেখা, বড়দের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ছিলো খুব। তাঁর উস্তাদ শায়খে চৌঘরি কিংবা তাঁর মুর্শিদ শায়খে কৌড়িয়াকে তিনি খুব মান্য করতেন। ছোটদের প্রতি ছিলো তাঁর অতি স্নেহ, আমি খুব ছোট ছিলাম, তবু তিনি আমাকে খুব গুরুত্ব দিয়ে আদবের সাথে এমনভাবে কথা বলতেন, যেন প্রেম মুক্তার মতো ঝরছে।
তাঁর ছাত্ররা বলেছেন, তিনি ছাত্রদেরকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। আত্মীয় স্বজনদের সাথেও তাঁর গভীর সুসম্পর্ক ছিলো। দানের ক্ষেত্রে তিনি উদার ছিলেন। ছোট-বড়, আপন-পর, মুসলিম-অমুসলিম সবাইকে তিনি দান করতেন। তিনি কোনদিন গিবত করতেন না। কেউ গিবত করলে তাঁকে গিবতের কুফল বলে দিতেন। তাহাজ্জুদ, ইস্রাক, আওয়াবিন ও তিলাওয়াত ইত্যাদি তাঁর আমালে নিয়মিত ছিলো বলে অনেকে উল্লেখ করেছেন। তিনি ধর্ম-বর্ণ-জাত নির্বিশেষে মানুষকে খুব মূল্যয়ন করতেন। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, হযরত তহিপুরী (র.) সর্বদা মেহমানদের শান অনুযায়ী মেহমানদারী করতেন। তিনি ছোট-বড় সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতেন।
মাওলানা মুহাম্মদ তাহির আলী তহিপুরী (র.)-এর পাঠদানের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তাঁর অনেক ছাত্র আমাকে বলেছেন, তিনি বোখারী শরিফ থেকে শুরু করে যেকোন কিতাব ছাত্রের মেধা অনুপাতে ধীরস্থীরে, পৃথক পৃথক শব্দ প্রয়োগে, ধারাবাহিকভাবে, পিছনের ছবকের সাথে মিলরেখে নিখুঁতভাবে পড়াতেন, যা প্রত্যেক ছাত্রের স্মৃতিতে স্পষ্টভাবে স্থান করে নিতো। তিনি কোনদিন লম্বা তাকরির দিতেন না, কঠিন শব্দগুলো পর্যবেক্ষণ করে মূল বাক্য বা বাক্যের মূল শব্দগুলো সমাধান করে দেয়ার উপর গুরুত্বারোপ করতেন। কেউ কোন প্রশ্ন করলে স্নেহভরে জবাব দিয়ে বলতেন, ‘আপনার কি বিষয়টি হল অর্থাৎ সমাধান হয়েছে?’ হ্যাঁ বললে সামনে চলতেন। না হলে পুনরায় নতুন ভঙ্গিতে বুঝাতেন। এতে অন্য ছাত্র বিরক্ত হলে বলতেন, ‘বেটাতো বুঝে নাই বলে এখানে বুঝতে এসেছে, তাকে বুঝতে দিন। একজন ছাত্রের কাজ হল না বুঝলে প্রশ্ন করে বুঝে নেয়া, আর শিক্ষকের দায়িত্ব হল তাকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়া। এতে অন্য কেউ বিরক্ত হওয়া চলেনা।’
তাঁর ছাত্রদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি অত্যন্ত দক্ষ এবং আদর্শবান শিক্ষক ছিলেন। প্রতিদিন তিনি ক্লাসে ঘন্টা বাজার সাথে সাথে হাজির হতেন। সময় অপচয় করতেন না। তিনি অবসর সময় হয় পাঠদানে, নয়তো ইবাদতে, নতুবা সমাজিক কাজে সময় দিতেন। তাঁর ঘুম ছিলো অল্প। প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতেন না। তিনি কোন কাজের জন্যে কোথাও কাউকে পাঠালে কাজটি কি এবং কীভাবে করতে হবে, আনুমানিক কত সময় লাগবে ইত্যাদি অত্যন্ত পরিস্কারভাবে আস্তে আস্তে বুঝিয়ে দিতেন।
১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দের ২৮ নভেম্বর শনিবার বিকাল চারটার দিকে হযরত (র.) আকস্মিক অসুস্থ্য হয়ে যান। সাথে সাথে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডেকে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। মোট একমাস এগার দিন অসুস্থ অবস্থায় থেকে ৭ই জানুয়ারী ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ২৪শে পৌষ ১৪০০ বাংলা, ২৪ শে রজব ১৪১৪ হিজরী রোজ শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টা ৩০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। হযরত তহিপুরী (র.)-এর জানাযায় তাঁর ছাত্র, ভক্ত, মুরিদ এবং অনেক বুজুর্গদের উপস্থিতিতে ইমামতি করেন তাঁর মুর্শিদ হযরত শায়খে কৌড়ীয়া (র.)।
মাওলানা আব্দুল করিম-এর লেখা ‘আল্লামা তাহির আলী তহিপুরী (র.) জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক একখানা জীবনী গ্রন্থ গত সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে তাহির একাডেমি লন্ডন কর্তৃক সিটি অফসেট প্রেস, বারুতখানা, সিলেট থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এই বইয়ের উৎসর্গে রয়েছে হযরত আদম (আ.) থেকে কিয়ামত পর্যন্ত এ’লায়ে কালিমাতুল্লাহের উদ্দেশ্যে কোরবানি দিয়েছেন, দিচ্ছেন এবং দিবেন তাদের সবার স্মরণ। অভিমত রয়েছে শায়খের বড়ছেলে মাওলানা শাহ লুকমান আহমদ, রানাপিং-এর এক সময়ের শিক্ষক এবং তহিপুরী (র.)-এর ¯েœহধন্য ও ঘনিষ্ঠ সহচর মাস্টার আবুল খায়ের. তহিপুরী (র.)-এর ছেলে মাওলানা সুলতান আহমদের। প্রবেশকথায় লেখক বলেছেন, ‘মামুলাত-মুআশারাত, দারস-তাদরিস, দাওয়াহ-তাযকিয়াÑসব কিছুর পেছনে আল্লামা তহিপুরী (র.)-এর উদ্দেশ্য ছিলো রেজায়ে মাওলা।’ লেখক বলেন, আল্লামা তহিপুরী (র.) ‘রেজায়ে মাওলার সৌরভে উদ্ভাসিত হতে আক্ষরিক অর্থেই পুরো জীবন ব্যয় করেছেন। তাঁর মধ্যে যশখ্যাতির লোভ ছিল না। রিয়া ছিলো না। আত্মম্ভরিতা ছিল না। তিনি ছিলেন লৌকিকতা মুক্ত, সহজ-সরল সোনালি যুগের মতো উপমাতুল্য বুজুর্গ। তিনি সত্যিকার অর্থেই প্রকৃত এক বুজুর্গ ছিলেন। তাঁর মতো দুনিয়াবিমুখ আল্লাহ ওয়ালার সন্ধান পাওয়া অসম্ভব-ই প্রায়।’ লেখক আরও লিখেন, আল্লামা শায়খ তাহির আলী তহিপুরী রাহ.’র এতোটাই দুনিয়া থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেনÑ অনাকাঙ্খিত ফাহাসাত থেকে বাঁচতে বাজারে পর্যন্ত তিনি যেতেন না।
পুরো জীবনে মাত্র দু’দিন তিনি বাজারে গিয়েছেন বলে এই গ্রন্থে বিবৃত হয়েছে। এই যুগের একজন মানুষের জন্য এটা নিশ্চয় চমকপ্রদ এক তথ্য।’ অতঃপর লেখক, নাম ও পরিচয়, শৈশবকাল, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবন, স্কুল থেকে মাদরাসায় যাওয়ার সূচনা, দারুল উলুম দেওবন্দে ক’টি অবিস্মরণীয় ঘটনা, স্বপ্ন দেখে সাহারানপুর ছেড়ে যাওয়া, দেওবন্দের মেইন গেইটে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা, কুতবে আলম হযরত মাদানি রাহ. এর নেক দৃষ্টি ও জীবনের একধাপ পরিবর্তন, হাকিমুল উম্মাত আশরাফ আলী থানভি রাহ. এর মাহফিলে একদিন, হযরত থানভি রাহ. এর সংস্পর্শে জীবনের একধাপ পরিবর্তন, লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগের অবিস্মরণীয় ঘটনা, হযরত তহিপুরী রাহ. এর হাদিসের সনদ, তায্কিয়ায়ে নাফস বা আত্মশুদ্ধি, কর্মজীবন, স্বপ্নের তাবির, কিতাবের উপর দক্ষতা, হেদায়া চতুর্থ খ-ের খাস ইজাযত, পাঠদানের বৈশিষ্ট্য, দারসে বুখারি শরিফ, দারসে শামায়িলে তিরমিযি, মুনাযেরা মঞ্চে হযরত তহিপুরী হুজুর (র.), জীবনে মাত্র দু’দিন বাজারে যান, হাট-বাজারে যাতায়াতে অনিহার কারণ, বেশিরভাগ সময় অজু অবস্থায় থাকতেন, সময় ও নিয়মের পাবন্দ ছিলেন, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ছোটদের প্রতি ¯েœহশীল, দানশীলতা, তাওয়াক্কুল ও ধৈর্য্য, হানাফি মাযহাবের ওপর হযরতের দৃঢ়তা, গীবতকে খুব অপছন্দ করতেন, নফল আমল, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে সম্মান করতেন, আল্লামা মুস্তাকিম আলী রাহ. এর দৃষ্টিতে তহিপুরী ও চৌঘরী হুজুর, হযরতের বিশেষ দোয়া পাওয়ার কিছু পদ্ধতি, হযরতের মেহমানদারী, হযরতের হাঁটার পদ্ধতি, সময়ের গুরুত্বারোপ, ছাত্রদের মতামতকেও তিনি গুরুত্ব দিতেন, সুন্নাতের পাবন্দি, দ্বীন শিক্ষায় ছিলেন প্রেরণার উৎস, অগ্রজদের প্রতি আনুগত্যে ছিলেন উপমাতুল্য, নামাজে দীর্ঘ সুরা পাঠ করতেন, আল্লামা তহিপুরী সার্বক্ষণিক অজু অবস্থায় থাকতেন, আল্লামা হোসাইন আহমদ বারোকোটির দৃষ্টিতে আল্লামা তহিপুরী, আল্লামা আলাউদ্দীন আহমদের স্মৃতিতে আল্লামা তহিপুরী (র.), আল্লামা শায়েখ মস্তাকিম আলীর স্মৃতিতে আল্লামা তহিপুরী (র.), মাওলানা নূরুল ইসলাম এল.এল.বি রহ. এর স্মৃতিতে আল্লামা তহিপুরী (র.), আল্লামা হাফিজ বদরুল ইসলাম-এর স্মৃতিতে আল্লামা তহিপুরী (র.), হযরতের বিচক্ষণতার কয়েকটি উদাহরণ, হযরতের খিলাফত, সমাজসচেতনতা, মেহমান নেওয়াজী, আত্মীয়তার বন্ধন, কুতবুল আলমের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক অবিস্মরণীয় ঘটনা, নিজ উস্তাযের প্রতি হযরতের আনুগত্য ও শ্রদ্ধা, নিজ শায়খের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা, শায়খের খেদমতের আগ্রহের এক আদর্শিক ঘটনা, খালিফার প্রতি শায়খের স্নেহ-ভালোবাসার এক অবিস্বরণীয় ঘটনা, কুতবে আলম হযরত মাদানি রাহ. এর খলিফাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি, কেরামতি বা অলৌকিক ঘটনা, উত্তম কিছু ঘটনা, পরহেজগারির, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, কিছু উপদেশ, অসুস্থতা ও কিছু স্মরণীয় ঘটনা, অসুস্থতায় যারা দেখতে এলেন তাঁদের উল্ল্যেখযোগ্য কয়েক জন, বিবাহ ও সন্তানাদি, ইন্তেক্বাল, মৃত্যু সংবাদে যারা ছুটে এসেছিলেন তাদের বিশেষ ক’জন, ইন্তেকালের পর স্বপ্ন, জানাযার দৃশ্য, জানাযার ইমামতি ও দাফন, ইত্যাদি একশ এগারোটি শিরোনামে ‘আল্লামা মুহাম্মদ তাহির আলী তহিপুরী (র.)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবনকে আলোচনা করেছেন। আল্লামা তহিপুরী (র.)-কে জানা এবং বুঝার ক্ষেত্রে এই বই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • শাকসবজি ও ফলমূল কেন খাবেন
  • দৈনন্দিন জীবনে লেবুর চাহিদা
  • এ্যাপোলো হসপিটালে ভারতের প্রথম ইনভেসিভ ডবল কার্ভ কারেকশন সার্জারি
  • হাঁড়ের ক্ষয় রোগ : নীরব ঘাতক
  • আপনার সন্তানের চোখের যত্ন নিন
  • আয়োডিন স্বল্পতায় জটিল রোগ
  • শারীরিক শক্তি বাড়ায় যে খাবার
  • সুস্থতার জন্য পানি
  • রোগ প্রতিরোধে ডালিম
  • শীতে হাঁপানি এড়াতে কী করবেন
  • শীতে ঠোঁটের সুরক্ষা
  • এক জায়গায় বসে কাজ করার কুফল
  • সুঅভ্যাসে সুস্বাস্থ্য
  • ঠান্ডায় নাক বন্ধ হলে করণীয়
  • শশার গুণাগুণ
  • রোগ প্রতিরোধে কমলা
  • শিশুর খাবার
  • ডা. এ হাসনাত শাহীন অসুস্থ শিশুর যত্ন নিচ্ছেন মা
  • শীতে যেসব রোগের প্রকোপ বাড়ে
  • শীতকালে নাক, কান ও গলার সমস্যা
  • Developed by: Sparkle IT