স্বাস্থ্য কুশল

ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলী (রা.)

রফিকুর রহমান লজু প্রকাশিত হয়েছে: ২০-১২-২০১৯ ইং ০১:৩২:২২ | সংবাদটি ২৬২ বার পঠিত

বংশ মর্যাদাগুণে হজরত আলীর (রা.) পিতা আবু তালিব ছিলেন কাবাঘরের সংরক্ষক। তখন পর্যন্ত কাবাঘরে মূর্তি ছিলো এবং মূর্তি পূজা হতো। বাল্যকাল থেকেই হজরত আলী (রা.) মূর্তি বিমুখ ছিলেন। আর কাবাঘরের মূর্তি অপসারিত হয় তাঁরই হাতে। এই কাবাঘর প্রাঙ্গণে ৬০১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর হজরত আলী (রা.) জন্ম হয় কুরাইশ বংশের বানু হাশিম গোত্রে। এই সূত্রে তাঁর একটি খেতাব হলো ‘আওলাদ আল কাবা’ (কাবার শিশু)।
মক্কাবাসীকে ইসলামের পথে, সত্যের পথে আনার জন্য মুহম্মদ (সা.) দীর্ঘ নয় বছর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এই চেষ্টায় ফল না আসায় তাঁকে মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করতে হয়। ন্যায় ও সত্যের পথের অনেক মক্কাবাসী আল-আমীন নবীজির (সা.) কাছে তাঁদের ধনসম্পদ জমা রেখেছিলেন। জমাকারীদের ধনসম্পদ তাদের কাছে ফেরত দেওয়ার জন্য তিনি হজরত আলী (রা.) কাছে বুঝিয়ে দেন। তিনি তা প্রাপকদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছিয়ে দেন।
জন্মসূত্রে হজরত আলী (রা.) হলেন হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই। আলীর (রা.) জন্মের পর মহানবী (সা.) হজরত আলীকে (রা.) কোলে তুলে নেন এবং তিনিই তাঁর নাম রাখেন আলী (রা.)। কুরাইশ বংশের নেতা আব্দুল মতলিবের এক পুত্র আবু তালিবের ঘরে জন্ম হয় হজরত আলীর (রা.) এবং আরেক পুত্র আবদুল্লাহর ঘরে জন্ম নেন স্বয়ং হজরত মুহম্মদ (সা.)।
হজরত আলী (রা.) বিভিন্ন কারণে হজরত মুহম্মদ (সা.) এর ঘরে বেড়ে ওঠেন। হজরত মুহম্মদ (সা.) এবং তাঁর স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.) পাঁচ বছর বয়স থেকে হজরত আলী (রা.) কে পরম সেবা যতেœ পালন করেন।
হজরত মুহম্মদের (সা.) নবুয়ত প্রাপ্তির পর এই অলৌকিক ঘটনা বিনা প্রশ্নে বিশ্বাস করেন এবং সর্বপ্রথম ঈমান আনেন নবী করীমের (সা.) স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গে হজরত আলী (রা.)। হজরত আলী (রা.) এর বয়স যখন নয় বছর, তখন তাঁর নিজ গোত্র বানু হাশিমের একটি অনুষ্ঠানে মূর্তিপূজার পরিবর্তে এক আল্লাহ এবং তাঁর রসুলের প্রতি ঈমান আনার আহবান জানান। এতে নবী করীম (সা.) প্রবল বিরোধীতার সম্মুখীন হন। কিন্তু এই আহবানে বিনা প্রশ্নে হজরত আলী (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁকে নিজের উত্তরসুরি ও প্রতিনিধি হিসেবে ঘোষণা করেন।
হজরত আলী (রা.) এর শাসনকাল ছিলো পাঁচ বছর। একদল বিদ্রোহী মিসরীয় সেনাদের হাতে ৬৫৬ সালের ১৭ জুন নিজ কক্ষে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত ওসমান (রা.) নিহত হন। অতঃপর মসজিদে নববীতে মুসলমানদের সমাবেশে পরামর্শক্রমে হজরত আলী (রা.)-কে ইসলামের চতুর্থ খলিফা নিযুক্ত করা হয়। তাঁকে যুদ্ধ, বিদ্রোহ, ষড়যন্ত্র, হানাহানিসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে আগাতে হয়।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর মক্কায় অবস্থানকারী তাঁর নিকট আত্মীয়দের জীবনেও ঝুঁকি নেমে আসে। এ সময় হজরত আলী (রা.) নবী (সা.)-এর পরিবারের পাশে থাকেন।
হজরত আলী (রা.) ও হজরত ফাতেমা (রা.) এর বিয়ে বিষয়ে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে ঃ ‘নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি তাঁর মা ফাতেম বিনতে আসাদ, হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ (সা.) এবং অপর দু’জন নারীসহ মদিনায় গমন করেন। মদিনায় পৌঁছার পর হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর মধ্যস্থতায় এবং তাঁর অপর দু’জন স্ত্রী মা আয়েশা (রা.) ও মা উম্মে সালমা (রা.) এর আতিথেয়তায় হজরত আলী (রা.) এবং হজরত ফাতেমা (রা.) এর বিবাহ সম্পন্ন হয়।’ তাঁদের দুই পুত্র ইমাম হাসান (রা.) ও ইমাম হোসেন (রা.) পরবর্তীতে শাহাদাত বরণ করেন।
বীর হজরত আলী (রা.) অনেকগুলো খেতাবপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। জুলফিকার, আলী ও হায়দার মুসলিম বিশ্বে একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম। তিনি যুদ্ধে একটি বিশেষ তরবারি ব্যবহার করতেন। এই তরবারি জুলফিকার নামে পরিচিতি পেয়েছিলো। তিনি আল মুরতাজা বা পছন্দের একজন বলে আখ্যায়িত হয়েছিলেন। তাঁকে ইসলামের চতুর্থ খলিফা হিসেবে অন্য খলিফাগণের মতো আমির উল মোমেনিন বা বিশ্বাসীদের দলপতি হিসেবে সম্বোধন করা হতো। নবী (সা.) জীবদ্দশায় নিজেকে জ্ঞানের শহর এবং হজরত আলী (রা.)-কে সেই জ্ঞানের শহরের দরজা বলে অভিহিত করেন। এক্ষেত্রে তাঁর উপাধি ‘বাবে মদিনাতুল ইলম’ বা ‘জ্ঞানের শহরের দরজা’ বলা হয়। তাঁর আরেকটা উপাধি ‘আবু তুরাব’ (মাটির বাবা) নবীজির (সা.) দেওয়া।
হজরত আলী (রা.)-এর মৃত্যু হয়েছে রমাদ্বান মাসে। ইরাকের কুফা মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ার সময় এক অমুসলিম বিষ মাখানো তরবারি দিয়ে তাঁকে আঘাত করে। তিনি তীব্র যন্ত্রণায় অতি কষ্টের মধ্যেও তাঁর পুত্র এবং অনুসারীদের আঘাতকারীকে ক্ষমা করে দিতে বলেন। তিনি আরো বলেন তাঁর মৃত্যু হলে কেবল আঘাতকারীকে অনুরূপ আঘাতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া যাবে। আহত হওয়ার দুই দিন পরে রামাদ্বান মাসের ২১ রামাদ্বান তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর কবরের ব্যাপারে দু’টি মত রয়েছে। একদল গবেষক হজরত আলীর (রা.) কবর ইরাকের নাজাফ শহরে রয়েছে বলে দাবি করেন এবং বলেন এখানে ইমাম আলী মসজিদ রয়েছে। অন্য একদলের দাবি হজরত আলীর (রা.) কবর আফগানিস্তানে।
সূত্র ঃ সর্বাধিক খেতাবপ্রাপ্ত খলিফা হজরত আলী (রা.), বাংলাদেশ প্রতিদিন। ১ নভেম্বর ঃ ২০১৯।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • শাকসবজি ও ফলমূল কেন খাবেন
  • দৈনন্দিন জীবনে লেবুর চাহিদা
  • এ্যাপোলো হসপিটালে ভারতের প্রথম ইনভেসিভ ডবল কার্ভ কারেকশন সার্জারি
  • হাঁড়ের ক্ষয় রোগ : নীরব ঘাতক
  • আপনার সন্তানের চোখের যত্ন নিন
  • আয়োডিন স্বল্পতায় জটিল রোগ
  • শারীরিক শক্তি বাড়ায় যে খাবার
  • সুস্থতার জন্য পানি
  • রোগ প্রতিরোধে ডালিম
  • শীতে হাঁপানি এড়াতে কী করবেন
  • শীতে ঠোঁটের সুরক্ষা
  • এক জায়গায় বসে কাজ করার কুফল
  • সুঅভ্যাসে সুস্বাস্থ্য
  • ঠান্ডায় নাক বন্ধ হলে করণীয়
  • শশার গুণাগুণ
  • রোগ প্রতিরোধে কমলা
  • শিশুর খাবার
  • ডা. এ হাসনাত শাহীন অসুস্থ শিশুর যত্ন নিচ্ছেন মা
  • শীতে যেসব রোগের প্রকোপ বাড়ে
  • শীতকালে নাক, কান ও গলার সমস্যা
  • Developed by: Sparkle IT