ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০১-২০২০ ইং ০১:১৩:০৯ | সংবাদটি ৫৪ বার পঠিত

মূল : মুফতি মুহাম্মদ শফী
অনুবাদ : মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সূরা : বাক্বারাহ [পূর্ব প্রকাশের পর]
কোরআন এ বিষয়টি বারবার বিভিন্ন ভঙ্গিতে বর্ণনা করেছে। এক আয়াতে বলা হয়েছে : “প্রত্যেকের আমলের দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে।” অন্য এক দায়াতে আছে : “কিয়ামতের দিন একজনের বোঝা অন্যজন বহন করবে না। রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলছেন : “হে বনী-হাশেম, এমন যেন না হয় যে, কিয়ামতের দিন অন্যান্য লোক নিজ নিজ সকর্ম নিয়ে আসবে আর তোমরা আসবে সৎকর্ম থেকে উদাসীন হয়ে শুধু বংশ গৌরব নিয়ে এবং আমি বলব যে, আল্লাহর আযাব থেকে আমি তোমাদের বাঁচাতে পারব না। অন্য এক হাদীসে আছে : “আমল যাকে পেছনে ফেলে দেয়, বংশ তাকে এগিয়ে নিতে পারে না।”
আনুষাঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয়
কোরআন ইয়াকুব (আঃ)-এর বংশধরকে ‘আছবাতা’ শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছে। এটা ‘ছবাতা’ এর বহুবচন। এর অর্থ গোত্র ও দল। তাদের ‘ছবাতা’ বলার কারণ এই যে, হযরত ইয়াকুব (আঃ)-এর ঔরসজাত পুত্রদের সংখ্যা ছিল বার জন। পরে প্রত্যেক পুত্রের সন্তানরা এক-একটি গোত্রে পরিণত হয়। আল্লাহ তাআলা তার বংশে বিশেষ বরকত দান করেছিলেন। তিনি যখন হযরত ইউসুফ (আঃ)-এর কাছে মিসরে যান, তখন সন্তান ছিল বার জন। পরে ফেরাউনের সাথে মোকাবেলার পর মুসা (আঃ) যখন মিসর থেকে বনী-ইসরাঈলকে নিয়ে বের হলেন, তখন তাঁর সাথে ইয়াকুব (আঃ)-এর সন্তানদের মধ্য থেকে প্রত্যেক ভাইয়ের সন্তান হাজার হাজার সদস্যের সমন্বয়ে একটি গোত্র ছিল। তাঁর বংশে আল্লাহ তা'আলা 'আরও একটি বরকত দান করেছেন এই যে, দশজন নবী ছাড়া সব নবী ও রসূল ইয়াকুব (আঃ)-এর বংশধরের মধ্যেই পয়দা হয়েছেন। বনী-ইসরাঈল ছাড়া অবশিষ্ট পয়গম্বরগণ হলেন, আদম (আঃ)-এর পর হযরত নূহ, শোয়াইব, হুদ, সালেহ, লুত, ইবরাহীম, ইসহাক, ইয়াকুব, ইসমাঈল ও মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
‘ফাইন আ’মানু বিমিছলি মা আ’মানতুম বিহি’ (যদি তারা তদ্রুপ ঈমান আনে, যেরূপ তোমরা ঈমান এনেছ) - সুরা বাক্বারার প্রথম থেকে এ পর্যন্ত ঈমানের স্বরূপ কোথাও সংক্ষেপে এবং কোথাও বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। এ আয়াতের বর্ণনা সংক্ষিপ্ত হলেও তাতে বিশদ বিবরণ ও ব্যাখ্যার প্রতি ইঙ্গিত নিহিত রয়েছে। কেননা, তোমরা ঈমান এনেছ’ বাক্যে রসুলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামকে সম্বোধন করা হয়েছে। আয়াতে তাদের ঈমানকে আদর্শ ঈমানের মাপকাঠি সাব্যস্ত করে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ও স্বীকৃত ঈমান হচ্ছে সে রকম ঈমান, যা রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাহাবায়ে কেরাম অবলম্বন করেছেন। যে ঈমান ও বিশ্বাস এ থেকে চুল পরিমাণও ভিন্ন, তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
এর ব্যাখ্যা এই যে, যে সব বিষয়ের উপর তারা ঈমান এনেছেন, তাতে হ্রাস-বৃদ্ধি হতে পারবে না। তারা যেরূপ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে ঈমান এনেছেন, তাতেও প্রভেদ থাকতে পারবে না। নিষ্ঠায় পার্থক্য হলে তা ‘নিফাক' তথা কপট বিশ্বাসে পর্যবসিত হবে। আল্লাহর সত্তা, গুণাবলী, ফেরেশতা, নবী-রসূল, আল্লাহর কিতাব ও এ সবের শিক্ষা সম্বন্ধে যে ঈমান ও বিশ্বাস রসূলুল্লাহ (সাঃ) অবলম্বন করেছেন, একমাত্র তাই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য। এ সবের বিপরীত ব্যাখ্যা করা অথবা ভিন্ন অর্থ নেয়া আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর উক্তি ও কর্মের মাধ্যমে ফেরেশতা ও নবী-রসুলগণের যে মর্তবা, মর্যাদা ও স্থান নির্ধারিত হয়েছে, তা হ্রাস করা অথবা বাড়িয়ে দেওয়াও ঈমানের পরিপন্থী।
এ ব্যাখ্যার ফলে কতিপয় ভ্রান্ত সম্প্রদায়ের ঈমানের ক্রটি সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তারা ঈমানের দাবীদার, কিন্তু ঈমানের স্বরূপ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। [চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT