ধর্ম ও জীবন

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় মহানবীর ভূমিকা

ওলীউর রহমান প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০১-২০২০ ইং ০১:১৫:২৯ | সংবাদটি ১০৭ বার পঠিত

বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মুসলিম সেই যার যবান ও হাত থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে। আর মুজাহিদ সেই, যে আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে সর্বাত্মকভাবে নিয়োজিত করে এবং মুহাজির সেই যে সকল প্রকার অন্যায় ও পাপকর্ম পরিত্যাগ করে।’ (সহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৪৮৬২) স্বাধীন ও ইনসাফভিত্তিক বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মনে রেখ, অপরাধের শাস্তি অপরাধী ছাড়া অন্যের উপর বর্তাবে না। পিতার অপরাধের শাস্তি পুত্রের উপর এবং পুত্রের অপরাধের শাস্তি পিতার উপর বর্তাবেনা।’ (-তিরমিযী, হা/২১৫৯)
এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সমাজে যে সার্বজনীন মানবাধিকার ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার ফলশ্রুতিতেই মুসলিম জাহানের প্রথম খলীফা হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রা.) খলীফার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে বলেছিলেন, ‘জেনে রেখো! যে ব্যক্তি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল, আমি যতক্ষণ তার অধিকার আদায় করে দিতে না পারব, ততক্ষণ আমার কাছে সে সবচেয়ে শক্তিশালী। আর যে সবচেয়ে শক্তিশালী তার কাছ থেকে যতক্ষণ অধিকার আদায় করতে না পারব, ততক্ষণ সে আমার কাছে সবচেয়ে দুর্বল’।-(মানবাধিকার ও দন্ডবিধি : ইসলামিক ল’ রিসার্চ সেন্টার এন্ড লিগ্যাল এইড বাংলাদেশ ২০০৮, পৃ : ৫৪)
নারী ও শিশুর অধিকার :
শিশু অধিকার বর্তমান বিশ্বের একটি আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে ‘জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ’ নামে একটি আন্তর্জাতিক সনদও রয়েছে। সনদটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাশ করা হয় ১৯৮৯ সালের নভেম্বর মাসে। তবে আজ থেকে চৌদ্দশ বছর আগে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের অধিকার সম্পর্কে যে ব্যবস্থাপনা দিয়েছেন এর চেয়ে উত্তম ব্যবস্থাপনা পৃথিবীতে আর কেউ দিতে পারেনি। যে সমাজে কন্যা সন্তানদের জীবন্ত মাটিতে পুতে ফেলা হতো সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজের বুকে দাঁড়িয়ে রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহর বাণী ঘোষণা করেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের দারিদ্র্যতার ভয়ে হত্যা করো না। তাদেরকে আমিই রিজিক দেই এবং তোমাদেরকেও। তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।’ (সূরা বনী ইসরাঈল, আ/১৭) রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সন্তানদের লালন-পালন, আদব, শিষ্টাচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্নেহ-মমতাসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুর অধিকার নিশ্চিত করেছেন। হযরত উম্মে সালামাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যতদিন তুমি (আবু সালামার সন্তানদের জন্য) খরচ করবে ততদিন তোমার জন্য প্রতিদান থাকবে।’-(সহীহ বুখারী, হা/৫৩৬৯)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বিখ্যাত মহিলা সাহাবী হযরত সালামা (রা.) কে বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ কি এতে খুশি নয় যে, সে যখন স্বামী কর্তৃক গর্ভবতী হয় এবং স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্টও থাকে তখন সে আল্লাহর পথে সর্বদা রোজা পালনকারী ও সারা রাত নফল এবাতদকারীর মতো সওয়াব পাবে? তার যখন প্রসব ব্যাথা শুরু হয় তখন তার জন্য নয়ন শীতলকারী কী কী নিয়ামত লুকিয়ে রাখা হয়, তা আসমান জমিনের কোন অধিবাসীই জানে না। সে যখন সন্তান প্রসব করে তখন তার দুধের প্রতিটি ফোটার বিনিময়ে একটি করে নেকী দেওয়া হয়। এ সন্তান যদি কোন রাতে তাকে (অসুখ ইত্যাদির কারণে) জাগিয়ে রাখে তাহলে আল্লাহর পথে নিখুঁত সত্তরটি গোলাম আজাদ করার সওয়াব পাবে।’-(আল-মু’জাম, তাবরানী, হা/৬৯০৮)
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশুদের কারণে কোন কোন সময় নামাজও সংক্ষিপ্ত করে নিতেন। হযরত আবু কাতাদা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি নামাজে দাঁড়িয়ে তা দীর্ঘায়িত করব বলে ইচ্ছা করি, এরপর শিশুর কান্না শুনতে পেয়ে আমি নামাজ সংক্ষিপ্ত করি এ আশঙ্কায় যে তার মায়ের কষ্ট হবে।’-(সহীহ বুখারী, হা/৮৩৩)
নারী সমাজের অধিকার :
পৃথিবীতে নারীরা ছিল চরম অবহেলিত। পুরুষের ভোগের বস্তু ছাড়া তাদেরকে আর কিছু ভাবা হতো না। নারীদের এমন ঘৃণার চোখে দেখা হতো যে, কন্যা সন্তানদের জন্মের সাথে সাথে জীবন্ত কবর দিয়ে দেওয়া হতো। ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ কনভেনশন’ গৃহিত হয়। তবে আজ থেকে চৌদ্দশ বছর পূর্বে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের অধিকার সম্পর্কে যে আইন দিয়ে গেছেন এরচেয়ে উত্তম আইন পৃথিবীর কোথাও কোনদিন খোঁজে পাওয়া যাবে না। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা ভাল কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করবে।’ (সূরা আত-তাওবা, আ/৭১) ইসলাম নারীদেরকে সম্পদের উত্তরাধিকার এবং বিয়ের সময় মোহরানা পাওয়ার অধিকার দিয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদেরকে দিয়েছেন কন্যার আদর, স্ত্রীর মর্যাদা, বোনের অধিকার এবং মায়ের সম্মান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দু’জন কন্যা সন্তানকে লালনপালন ও দেখা-শুনা করল (বিয়ের সময় হলে ভাল পাত্রের কাছে বিয়ে দিল) সে এবং আমি জান্নাতে এরূপ প্রবেশ করব যেরূপ এই দু’টি আঙ্গুল।’ তিনি নিজের দু’টি আঙ্গুল মিলিয়ে দেখালেন।-(জামে তিরমিযী, হা/১৯১৪)
স্ত্রী হিসেবে নারীদের অধিকার দিতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কাছে সেই উত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ (জামে তিরমিযী, মানাকির অধ্যায়) বিধবা হিসেবে একজন নারীকে আশ্রয় দেওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যারা বিধবা নারীদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেয়, তারা যেন আল্লাহর পথে জেহাদকারী এবং নিরলস নামাজী ও সদা রোজা পালনকারী।’ (বুখারী ও মুসলিম) আর মা হিসেবে একজন নারীর পদতলে সন্তানের বেহেস্ত রেখেদিয়েছেন। (মুসলিম শরীফ) এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী সমাজের সম্মানজনক অধিকার নিশ্চিত করেছেন।
পিতা-মাতার অধিকার :
আজ বহু পিতা-মাতা সন্তানের পক্ষ থেকে অবহেলা, অনাদর এমনকি শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছেন এবং তাদের জীবনের শেষ ঠিকানা হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। অথচ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিতা-মাতাকে যে সম্মান ও অধিকার দিয়েছেন তা যদি আজ পালন করা হতো তাহলে মাতা-পিতাগণ আজ এই অমানবিকতার স্বীকার হতেন না। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, ‘আমি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, কোন কাজটি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সঠিক সময়ে নামাজ পড়া, আমি বললাম তারপর? তিনি বললেন, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা।’-(সহীহ বুখারী, হা/৫০৯/৫০২)
অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় গুনাহের অন্তর্ভূক্ত হলো কাউকে আল্লাহর সমক্ষ স্থির করা, মাতা-পিতার নাফরমানি করা।’-(সহীহ বুখারী, হা/২৬৫৪)
বয়োবৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের অধিকার :
আজ সারা বিশ্বেই বয়োবৃদ্ধ, বিধবা ও অসহায় লোকেরা নানা রকম নির্যাতনের স্বীকার হয়ে তাদের মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসহায় মানুষের অধিকারের প্রতি ছিলেন সোচ্চার। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘বিধবা ও অসহায়কে সাহায্যকারী ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর সমতুল্য।’ (সহীহ বুখারী, হা/৬০০৭) অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন মু’মিনের পার্থিব কষ্টসমূহ থেকে কোন কষ্ট দূর করবে কেয়ামতের কষ্টসমূহ থেকে আল্লাহ তার একটি কষ্ট দূর করবেন।’-(মুসলিম, হা/৭০২৮)
দাস-দাসীদের অধিকার :
দাস প্রথা পৃথিবীর একটি প্রাচীন অমানবিক ও নিন্দনীয় প্রথা। দাস-দাসীরা অবর্ণনীয় নির্যাতনের স্বীকার হতো। ইসলাম দাস প্রথাকে সমর্থন করলেও দাস-দাসীদের অধিকারের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বদা সোচ্চার। দাসমুক্তির জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে এ ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করেছেন। বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে উৎসাহ পেয়ে মাত্র সাতজন সাহাবী ৩৯হাজার ২৫৯জন দাস-দাসী মুক্ত করেছেন। (আররিফকু ফিল ইসলাম, পৃ : ১৩১) তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনীত দ্বীন ইসলামের বিভিন্ন বিধানাবলীর সাথে দাসমুক্তির বিষয়টা সম্পৃক্ত করে দেওয়ার কারণেই এক সময় পৃথিবী থেকে দাস প্রথা বিলুপ্ত হয়েগেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজ্জের ভাষণে এবং তাঁর জীবনের শেষ সময়েও দাস-দাসীদের অধিকারের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছেন। দাস-দাসীদের অধিকার সংক্রান্ত এক সহীহ হাদীসের সারমর্ম হলো- ‘তুমি যা খাবে তাকে তা খাওয়াবে, তুমি যা পরবে তাকে তা পরতে দেবে এবং যে বোঝা সে বহন করতে অক্ষম এমন বোঝা তার উপর চাপিয়ে দেবে না।’-(সহীহ বুখারী, হা/৫৭০৩)
যুদ্ধবন্দীদের অধিকার :
ইসলামপূর্ব যুগে যুদ্ধবন্দীদের মানবিক অধিকার বলতে কিছুই ছিলনা। যুদ্ধবন্দীদের হয়ত হত্যা করা হতো না হয় তাদেরকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হতো। ইসলাম যুদ্ধবন্দীদের মানবিক অধিকার প্রদান করে তৃতীয় একটি পদ্ধতি বের করলো আর তা হলো; যুদ্ধবন্দীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করা এবং তাদেরকে মুক্ত করা। বদর যুদ্ধে ইসলামের চরম দুশমন যারা বন্দী হয়েছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দেন এবং তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ নিয়ে মুক্ত করে দেন। আর মক্কা বিজয়ের দিন মক্কবাসীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা যুদ্ধবন্দীকে মুক্তি দাও, ক্ষুধার্থকে আহার দাও এবং রুগ্ন ব্যক্তির সেবা কর।’-(সহীহ বুখারী, হা/২৮৮১)
শ্রমিকদের অধিকার :
শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৮৮৬ সাল থেকে ১লা মে তারিখকে আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ইসলাম শ্রমিকদের সম্মানজনক অধিকার প্রদান করেছে আজ থেকে চৌদ্দশ বছর পূর্বে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কারো জন্য স্বহস্তের উপার্জন অপেক্ষা উত্তম আহার্য আর নেই। আর আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) স্বহস্তে জীবিকা নির্বাহ করতেন।’-(মিশকাতুল মাসাবীহ, হা/২৭৫৯)
শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা শ্রমিককে তার শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’-(মিশকাতুল মাসাবীহ, হা/২৯৮৭)
মানবাধিকার সুরক্ষায় রাসূল (সা.)-এর উদ্যোগ :
রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনীত জীবনব্যবস্থায় সার্বজনীন মানবাধিকারের পূর্ণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মানবাধিকারকে সুদৃঢ় ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেমন সকল প্রকার অমানবিকতা, জুলুম, অত্যাচার, অন্যায়-অবিচারকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং যে কোন অন্যায় ও অপরাধের জন্য উপযুক্ত শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। তাছাড়া এমন কিছু বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে যেগুলোর দ্বারা মানবাধিকার সুসংহত ও সুরক্ষিত হয়। যেমন- দান-সাদকা, যাকাত, ফিতরা ইত্যাদির বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। এসবের দ্বারা অভাবী, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের অর্থনৈতিক চাহিদা পুরণ করা হয়।
সুদ, ঘুষ, জুয়া ইত্যাদির দ্বারা সমাজের মানুষ বিভিন্নভাবে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে অমানবিকতার স্বীকার হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনীত জীবনব্যবস্থায় এগুলোকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গীবত, পরনিন্দা, অন্যায় অপবাদ ও যৌতুক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব বিষয় নিষিদ্ধ করার দ্বারাও মানবাধিকারকে সুরক্ষিত করা হয়েছে।
ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকাজের মধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং মালিক ও কৃষক কোন এক পক্ষ নির্দিষ্টভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হবে কিংবা প্রতারণার স্বীকার হবে এমন পদ্ধতিগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এই নিষিদ্ধ করার দ্বারাও মানবাধিকার সুরক্ষায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT