পাঁচ মিশালী

সাফল্য গাঁথা বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী

মোঃ মনজুর আলম প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০১-২০২০ ইং ০০:৩১:৩২ | সংবাদটি ১৫৩ বার পঠিত

কোন বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন মানে বিদ্যালয়টির পঞ্চাশ বৎসর পূর্তি। এযে কত কত বড় আনন্দের আর কত অহংকারের। কারণ এক এক করে বিদ্যালয়টি পঞ্চাশ বছর অতিক্রম করেছে। পঞ্চাশ বছর একটি প্রতিষ্ঠান স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে থাকা একটুখানি কথা নয়। আমাদের জানামতে কত প্রতিষ্ঠান কম দিনে ধ্বংস হয়ে গেছে। এলাকাবাসী ও ম্যানেজিং কমিটির ভালো খেয়াল থাকলে কোনো বিদ্যালয়ই ধ্বংস হতে পারে না। বলছিলাম কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা। এ বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠা হয়ে আজ অবদি গৌরবের সাথে টিকে আছে। প্রচুর ছাত্র/ছাত্রী নিয়ে বিদ্যালয়টি তার পাঠদান অব্যাহত রেখেছে। পাঠদানে রয়েছেন সুদক্ষ শিক্ষক/শিক্ষিকামন্ডলী। বিদ্যালয়টির অবস্থান দক্ষিণ সুরমায় হুমায়ূন রশিদ চত্বর থেকে হেঁটে আসার মাত্র ২ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। হুমায়ূন রশিদ চত্বর অনেক ব্যস্ত এলাকা। এ পথ দিয়েই সিলেট শহরের বাহিরে যেতে হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী আরো বিভিন্ন স্থানে হুমায়ূন রশিদ চত্বর হয়েই যেতে হয়। সিলেট জকিগঞ্জের রোডের ওভার ব্রীজ সংলগ্ন ‘বান্দ’ নামক স্থানে কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান। একটি তিন তলা ও একটি একতলা বিশিষ্ট ঘরে এ বিদ্যালয়ের বর্তমান কার্যক্রম চলছে। চতুর দিকে দেয়াল ঘেরা বড়ই মনোরম পরিবেশে এ বিদ্যালয়। বাহিরের দেয়ালে বই হাতে ছাত্র/ছাত্রীরা বই পড়ছে এমন দৃশ্য অংকন করা হয়েছে। তাছাড়া বড় বড় জ্ঞানীদের অনেক অমর বাণী লেখা হয়েছে বিদ্যালয়ের দেয়ালে। ১, ২, ৩ অ, আ, ক, খ.... ইত্যাদিও অংকিত হয়েছে দেয়ালে। বিদ্যালয়টি বড় ছিমছাম। এ বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি, বঙ্গবন্ধু গ্যালারী, নজরুল গ্যালারী, রবীন্দ্রনাথ গ্যালারী রয়েছে। এসব গ্যালারীতে ছাত্রছাত্রীরা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পারে। বঙ্গবন্ধু গ্যালারীতেও বঙ্গবন্ধু সম্বন্ধে জানার অনেক কিছু আছে। এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদেরকে সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও দেশাত্মবোধক গানে উৎসাহ দেওয়া হয়। ছয়শত ছাত্রছাত্রী নিয়ে বিদ্যালয়টি খুব সুনামের সাথে চলছে। প্রতিদিন দুই শিফট এ পাঠদান কার্যক্রম চলে। ২০০৯ সাল হতে সমাপনী পরীক্ষায় ১০০% সফলতা ধরে রেখেছে। প্রতিবছরই পরীক্ষার ফলাফলে এ+ ১৬ থেকে ২০টা অব্যাহত রয়েছে। তদুপরি টেলেন্টপুল বৃত্তিতো আছেই। ২০১২ সালে একবার এ বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে এসেছিলেন আমাদের চার জাতীয় নেতার একজন সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্রবধু সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের (স্ত্রী) শিলা ঠাকুর সুদূর ইংল্যান্ড থেকে ২০১৬ সালে। এই বিদ্যালয়টি জেলায় শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের সুনাম অর্জন করে। ২০১৭ সালে জেলা এসএমসিতে (স্কুল ম্যানেজিং কমিটি) শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে এবং ২০১৭ সালে এডিবি’র প্রতিনিধিদল এই বিদ্যালয়টি ভিজিট করে খুব সুন্দর বলে মন্তব্য করে এবং ছাত্রছাত্রীদের আচরণে সন্তোষ প্রকাশ করে গেছেন। ২০১৮ সালে অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফারহানা বেগম উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা হবার গৌরব অর্জন করেন। ২০১৯ সালে অত্র বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা মুনিরা বেগম চৌধুরী জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা হবার গৌরব অর্জন করেন। দেশময় আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিজয় ফুল (শাপলা ফুল) বানানো অনুষ্ঠানে ২০১৯ সালে এই পরিচিত বিদ্যালয়টি মহানগর পর্যায়ে ১ম স্থান অর্জন করে। এভাবে খেলাধুলায়ও এই বিদ্যালয়টি এগিয়ে আছে। এ বিদ্যালয়ের আরো একটি পরিচয় হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট রফিকুল হকের বাড়ি ‘মুক্তির নীড়ে’র লাগুয়া এ বিদ্যালয়টির অবস্থান হওয়ায় অতি সহজে এ বিদ্যালয়ে আসা যায়। সকল শিক্ষারই মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা। এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করে পরবর্তীতে লেখাপড়া অব্যাহত রেখে অনেকেই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। স্ব স্ব ক্ষেত্রে কেহ ব্যবসা করছেন, কেহ বুয়েটে চান্স পেয়ে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বিদেশে উচ্চ বেতনে কর্মরত আছেন। এই সুপ্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে সবাই আনন্দিত, খুশিতে উদ্ভাসিত। সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিদ্যালয়টিকে বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। ব্যানার ফেস্টুন প্রচারণা এসব আগে থেকেই জানান দিচ্ছিল কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চাশ বছরের পূর্তি অনুষ্ঠানটি। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নাম তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রেজিস্ট্রেশন উপকমিটি গঠন করে খুব সুশৃৃঙ্খলভাবে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল। উক্ত অনুষ্ঠানের মহামিলন ২৪ ও ২৫ শে ডিসেম্বর ২০১৯ এ অনুষ্ঠিত হয়ে সকলের দৃষ্টি কেড়েছিল। রংবেরঙের বাতি দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল পুরো অনুষ্ঠান স্থল। একটি সুদৃশ্য মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। সম্পূর্ণ প্রস্তুতি শেষ। এখন ২৪ শে ডিসেম্বর সকাল ৯ টার জন্য সবার অপেক্ষার পালা। ৯টা বাজতে না বাজতে অনুষ্ঠান স্থলে অনেকে আসতে থাকেন। চোখে মুখে কি যে উচ্ছ্বাস কি যে আনন্দ বহুদিন পর কেহ মধ্য বয়সে কেহ প্রায় বৃদ্ধ চেহারা নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসেছেন। অনেকের বাড়ি কদমতলী গ্রামে হলেও সবসময় বিদ্যালয়ে আসা হয় না। কিন্তু আজ নতুন, পুরাতন, ছাত্র, অভিভাবক সবার এক মিলন স্থানে পরিণত হয়েছে পঞ্চাশ বছর পূর্তির এ অনুষ্ঠান। সকাল ৯টায় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। তারপর উপস্থিত সবাই র‌্যালি করে কিছু পথ প্রদক্ষিণ করেন। সে যে কি আনন্দ। অনেকদিন পর এই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে টি শার্ট পরে র‌্যালিতে অংশ নেয়া তাতে অনেককেই উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। যারা রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন তাদেরকে টি শার্ট ও একটি উপহার দেওয়া হয়েছিল। র‌্যালি শেষে কবিতা আবৃত্তি, গান ও খেলাধুলার আয়োজন ছিল। তারপর স্মৃতি চারণমূলক বক্তৃতা। বেলা ১.১০ মিনিটে বিরতি দিয়ে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। নতুন পুরাতন সবাই মিলে উপভোগ করছেন বিদ্যালয়ের এ আয়োজন। অতীতের কয়েকটি ঘটনা অনেকেই স্মৃতিচারণ করেন। শৈশব সেই কোন সুদূরে অতিক্রান্ত হয়েছে তার জন্য ক্ষণে ক্ষণে প্রাণ কেঁদে উঠে। সাধের শৈশব, মাধুর্যের শৈশব আমাদের অজ্ঞাতে অলক্ষে কোথায় যে হারিয়ে গেলো তা আজ কেবল মনে পড়ে। এসব কথা অনেকে বলছিলেন। একে অন্যের সাথে সাক্ষাৎ কোশল বিনিময় দীর্ঘক্ষণ ধরে চলছিল। সবাইকে আরো অনুপ্রাণিত করছিল ২৪ তারিখ অর্থাৎ প্রথম দিন প্রধান অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন উপস্থিত হবেন তা শুনে। মন্ত্রী মহোদয় ৪.৩০মি. এর কিছু পরে সভাস্থলে এসে উপস্থিত হলে সবার আনন্দ আরো বাড়িয়ে দেয়। মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় দলীয় নেতারাও উপস্থিত হয়েছিলেন। মন্ত্রী মহোদয় ও সঙ্গীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন এটা যেন আশা থেকে বেশি। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও ব্যবসায়ীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এডভোকেট রফিকুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম.এ. মান্নান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মালিক মারুফ, হাজি সমরাজ মিয়া, সমাজ সেবক এম এন ইসলাম, সমাজ সেবক সিরাজুল ইসলাম শিরুল, সমাজ সেবক সেলিম রানা, সমাজ সেবক ছয়েফ খান, শমশের সিরাজ সোহেল, আমিনুর রশিদ প্রমুখ। পুরো আলোচনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কাউন্সিলর ২৬নং ওয়ার্ড প্যানেল মেয়র-১ তৌফিক বকস লিপন। অনুষ্ঠানের ২য় দিনও এভাবে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে। ২য় দিনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। দুই দিন পর সাঙ্গ হয় এ আয়োজন।

শেয়ার করুন
পাঁচ মিশালী এর আরো সংবাদ
  • লজিং জীবন
  • বঙ্গবন্ধু : এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের দৃষ্টিতে
  • একটি কুসুম ফলে
  • শিশুদের ভালবাসায় সিক্ত দানবীর
  • কবিতা
  • হায়রে বাংলা ভাষা
  • স্বাধীন
  • ৬৪টি জেলা ঘুরেছেন সিলেটের ফাহিম
  • জন্মভূমির টানে
  • তাজমহল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা
  • বঙ্গবন্ধু : এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের দৃষ্টিতে
  • বঙ্গবন্ধু : এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের দৃষ্টিতে
  • প্রকৃতির হাতছানি
  • সাংবাদিক জিয়া খালেদের চলে যাওয়া
  • ব্যারিস্টার নাজির ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন সম্মাননায় ভূষিত
  • প্রাচীন বাংলার রাজধানী পানামনগরে একদিন
  • বঙ্গবন্ধু : এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের দৃষ্টিতে
  • কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ
  • চলতি পথের সরস বচন
  • লিথিসি’র ‘ভাইবে রাধারমণ’-এ মুগ্ধ শিলচর
  • Developed by: Sparkle IT