সাহিত্য

গণমানুষের কবি দিলওয়ার

সৈয়দ মবনু প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০১-২০২০ ইং ০০:০৯:২৮ | সংবাদটি ৬৯ বার পঠিত

কবি দিলওয়ারের সাথে প্রথম দেখার দিন-তারিখ মনে নেই। তবে তাঁর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দের দিকে; যখন আমি ইংল্যান্ড থেকে দেশে আসি। এক সন্ধ্যায় ছোটমামা (ছোটকাগজ ভূমিজ এবং সাপ্তাহিক সুরমা পত্রিকার সম্পাদক আহমেদ ময়েজ) বললেন, কবি দিলওয়ার অসুস্থ, চলো দেখে আসি। আমরা হাজির হই খান মঞ্জিলে। বর্তমান দালানঘর তখন ছিল না; ছিল মাটির সাদা দেয়ালের টিনের ঘর। আমরা গিয়ে খবর দিলে বেরিয়ে আসেন কবিপুত্র কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ার। ছোটমামার সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল। তিনি আমাদের বৈঠকখানায় রেখে ভেতরে গেলেন। কিছু সময় পর আসেন কবি হাতে দু’টো তাজা গোলাপ। দু’জনকে দুটো দিলেন। ছোটমামাকে তিনি নাম ধরেই ডেকে জিজ্ঞেস করেনÑকেমন আছ? ছোটমামার কাছে আমার পরিচয় চাইলেন। মামা নাম ও পরিচয় দিলেন। আমার নাম উচ্চারণে প্রায় মানুষ প্রথমে কিছুটা অসুবিধায় পড়েন। বেশিরভাগের সমস্যা হয় নামের মধ্যাক্ষর ‘ব’ উচ্চারণে। কেউ ‘ব’র বদলে ‘গ’ লাগিয়ে মগনু, কেউ ‘জ’ লাগিয়ে মজনু, কেউ ‘স’ বা ‘ছ’ লাগিয়ে মসনু কিংবা মছনু, কেউ ‘ম’ দিয়ে মমনু, কেউ মধ্যাক্ষরে ‘খ’ আর শেষের অক্ষরে ‘ল’ লাগিয়ে মখলু উচ্চারণ করেন। কিন্তু কবি দিলওয়ারের ক্ষেত্রে তা হলো না। একবার বলতেই তিনি শুদ্ধ উচ্চারণে বলতে পারলেন। আমি আরও আশ্চর্য হই, তিনি কিছু সময়ের মধ্যেই আমাকে আপন করে নিলেন। সেদিন তাঁর সাথে বাংলা সাহিত্য, বাংলা ভাষা, বাংলাদেশ, বৃটেন ইত্যাদি বিষয়ে দীর্ঘ কথা হয়। আমাদের আত্মীয়দের অনেকের সাথেই কবির সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। লন্ডনে যারা আছেন, তাদের সম্পর্কে তিনি একে একে জিজ্ঞেস করেন। আড্ডায় রাত দশটা হয়ে গেল। সেদিন কবি আমাকে অনেক উপদেশ দিয়েছিলেন, তবে আমি গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করেছি তাঁর যে কথাটি তা হলোÑ ‘মবনু, তুমি গ্রামে-গঞ্জে যাও। সাধারণ মানুষের কথা মন দিয়ে শুনতে চেষ্টা করো। সকল সাহিত্য-দর্শনের উপাদান তুমি সেখানে পেয়ে যাবে।’ আমি আজীবন চেষ্টা করেছি কবি দিলওয়ারের এ কথাকে মনে রাখতে।
১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে আমার বিয়ের দাওয়াত দিতে গেলে তিনি হাসতে হাসতে বললেনÑ ‘গ্রহের গুহার দিন শেষ হলো/ফিরলো মানুষ ঘরে/জানলো তখন প্রেমপ্রীতি স্নেহ/ খেলা করে অন্তরে,/পাখির বাসার শিল্প সুষম/মানুষকে দিলো খোঁজ/যুগল মিলনে বংশধারায়/মহাজীবনের ভোজ।’
তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন কাগজ-কলম নিয়ে লিখতে। আমি তাই করলাম। আমার ছোটভাই সৈয়দ নাসির আহমদ জানে না আমি যে কবি দিলওয়ারকে দাওয়াত করেছি। সে গেল কবিকে দাওয়াত করতে। কবির শরীর খারাপ, বিয়েতে আসতে পারবেন না, তাই একটা কাগজে ‘মবনু স্নেহভাজনেষু’ শিরোনামে লিখে দিলেন- ‘প্রর্থনা করি, বংশতরুর শাখা/দশদিক জুড়ে আনুক প্রাণের সাড়া/প্রার্থনা করি, যুগ্মপাখির পাখা/মরুতে দিক শীতল বায়ুর নাড়া।/ মানবজীবন একটি সত্য সার/জানি ভালোবাসা, সেই সত্যের নাম,/তবে শুরু হোক জীবনের অভিসার/মানবতা দিক সেই সত্যের দাম।’ (শেষ পর্যন্ত কবি দিলওয়ারের কবিতাসহ আরো কিছু কবিদের কবিতা নিয়ে এনামুল হাসান ছাবিরের সম্পাদনায় ‘কাঁকন’ নামে একটি বিয়ে স্মারক প্রকাশিত হয়)।
সময়ের ব্যবধানে এক সময় কবিপুত্র কবি কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ারের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক হয়ে যায়। প্রায় প্রতিদিনই কিশওয়ার ভাইয়ের সাথে আড্ডা জমতো বারুতখানাস্থ আমার সিটি অফসেট প্রেসে, নয়তো আমাদের রহমানিয়া বোডিং-এ। মাঝেমধ্যে হয়তো তাঁর বাসায়, নয়তো আমার বাসায়। তাঁর বাসায় গেলে প্রথমে কিছু সময় কবি দিলওয়ারের সঙ্গে গল্প করতে হতো। মাঝেমধ্যে কবি দিলওয়ার আমার প্রেসেও আসতেন এবং কখনও কখনও আমাকে নিয়ে ডাক্তারে যেতেন। কিশওয়ার ভাইয়ের মৃত্যুর পর কবিকে খুশি করার জন্য দু’এক ঈদে আমি আমার ছেলেমেয়ে নিয়ে তাঁর বাসায় যাই। তিনি তাদের পেয়ে কী যে খুশি হলেন! আমার সাথে আর কথাই বললেন না। ‘ভাইবোনেরা এসো’ বলে তাদেরকে নিয়ে সারা বাড়ি ঘুরলেন আর গল্প করলেন।
কবি দিলওয়ারের জন্ম ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দের ১লা জানুয়ারি হযরত শাহজালাল (র.)-এর পুণ্যস্মৃতি বিজড়িত সিলেটের সুরমার তীরে ভার্থখলাস্থ খান মঞ্জিলে। তাঁর শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি এমসি কলেজে। অতঃপর সাংবাদিকতার চাকুরি করেন কিছুদিন। দীর্ঘদিন তিনি কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। অসুখের সূচনা স্মৃতিচারণে কবি প্রায় বলতেন, গরীবের ছেলে মছদ্দর আলী, ঢাকাদক্ষিণের চন্দরপুরে বাড়ি। লেখাপড়া করতো আমার সাথে এমসি কলেজে, লজিং ছিল আমাদের বাড়িতে। আমার একটি বাইসাইকেল ছিলো, প্রতিদিন কলেজে যাওয়া আসা হতো দু’জনের ডাবলিং করে। যেহেতু মছদ্দর আলী সাইকেল চালানো জানতো না, তাই আমারই চালাতে হতো। এভাবে কিছুদিন যাওয়া-আসার পর হঠাৎ একদিন আমার তলপেটে ভীষণ যন্ত্রণা শুরু হলো, অবস্থা খারাপ দেখে মা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন, ডাক্তারের মন্তব্য সাইকেল ডাবলিং করলে সাধারণত কিডনিতে চাপ পড়ে, এর দ্বারা কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এগুলো ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের কথা। এরপর প্রায়ই তলপেটে ব্যথা অনুভব করতাম, জীবনে অনেক চিকিৎসা করিয়েছি, যদিও সুষ্টু চিকিৎসা আজও করাতে পারিনি। আমি অসুস্থ কবি আজো বেঁচে আছি। কিন্তু আমার বন্ধু মছদ্দর এই পৃথিবী থেকে বহুদূরে। বেশ আগে রংপুর জেলার ডিসি মছদ্দর আলী এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় (ইন্না...রাজেউন)।
২০০৬ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে শক্তিমান কবি কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ার ইন্তেকাল করেন। ছেলের লাশ কবরে নিয়ে যেতে যেতে ক্লান্ত কবি আমাকে বলেছিলেনÑ ‘মবনু, সন্তানের লাশ বহন করা বাপের পক্ষে কত ওজনের, তা ভাষায় প্রকাশের নয়’। কবি এই ওজনের ক্লান্তি যেন আর কোনদিন কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ধীরে ধীরে তিনি আরো দুর্বল হতে থাকেন। এই ওজন আর অসুস্থতা যেন কবিকে চিবুতে চিবুতে ক্ষয় করতে থাকল। এক সময় অসুস্থতার কারণে তিনি আর নিজে লিখতে পারতেন না। ছেলে কামরান ইবনে দিলওয়ার কিংবা পরিবারের অন্য সদস্য তাঁকে লিখে সাহায্য করতেন। আমি জানি কবি অসুস্থ, তবু দেখা হলে সামাজিক কারণে জিজ্ঞেস করতামÑচাচা কেমন আছেন? তিনি কাতর কণ্ঠে প্রায় বলতেনÑ ‘হ্যাঁ! তবু বেঁচে আছি, যদিও প্রয়োজন নেই, তোমাদের কিছু দেওয়ার ইচ্ছে ছিলো, কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না, অবস্থা বেশি ভাল নয়, দেখ না! অসুখের সাথে যুদ্ধে যেন পরাজিত হতে চলেছি। এই যুদ্ধে হয়তো আর জয়ী হব না, কারণ জয়ী হতে প্রয়োজন চিকিৎসা নামের অস্ত্রের, কিন্তু এখানে এর বড় অভাব। আমাদের জনসংখ্যানুপাতে সরকার ডাক্তার এবং চিকিৎসাকেন্দ্র তৈরি করতে ব্যর্থ। এর মধ্যে ডাক্তাররা আছেন তাদের অল্পদিনে বড়লোক হওয়ার রঙিন স্বপ্ন নিয়ে। তাই যত্রতত্র উঠেছে প্রাইভেট ক্লিনিক। সরকারি ডাক্তার এখন সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে নামে মাত্র। এর মধ্যে বাজারে নকল ওষুধের প্রতিযোগিতা। রোগ পরীক্ষার জরুরি যন্ত্র নাই বললেই চলে। সরকারগুলো ক্ষমতায় থাকার জন্য যত সচেতন, সাধারণ মানুষের প্রতি তত নয়। যার ফলে চিকিৎসা এদেশে সাধারণ মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেখ! এই অভিশাপ থেকে মানবপুত্র তোমাদের কিশওয়ারও রক্ষা পাচ্ছে না (কিশওয়ার ভাইয়ের মৃত্যুর পর বলতেন ‘রক্ষা পায় নি’)। আমি আছি তবে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা খেলে। জীবন-মৃত্যু অসুখ-বিসুখসহ সবকিছুর সুপার কন্ট্রোলার মহান সৃষ্টিকর্তা প্রভু। এই মহাসত্য কথাটা আমি হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করি। আমি ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অবশ্য আমি ধর্মের নামে কুসংস্কারকে বিশ্বাস করি না এবং প্রগতির নামে নাস্তিকতাকে পছন্দ করি না। আমি নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কে আদর্শ মানব হিসেবে শ্রদ্ধা করি। যারা ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ তারা ভন্ড এবং নাস্তিক। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানতে হলে সবচাইতে জরুরি আকল, নকল এবং কাশফের জ্ঞান রাখা। তোমরা চেয়ে দেখ! অজ্ঞরা ভাবছে পৃথিবী ধ্বংস করে দিবে মানবতৈরি মারণাস্ত্র দিয়ে, তাদের বোঝা উচিত, এই পৃথিবীর তাবৎ বিজ্ঞানী এই গ্রহ থেকে তাদের গবেষণার উপাদান সংগ্রহ করে। তাই এই প্রকৃতির ঘোষণা, তোমাদের সর্বপ্রকারের মারণাস্ত্র আমারই রক্ত মাংসের উপাদান। তোমরা নিশ্চিহ্ন হবে আর একদিন আমার কাছে ফিরে আসবে। ইংরেজ সাহিত্যিক হারেস-এর মতে; যে শক্তিতে জ্ঞান-বুদ্ধি নেই, সে নিজের ওজনে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে।’
কবি দিলওয়ারকে আব্দুল্লাহ ইউসুফের ইংরেজিতে তরজমাকৃত কোরআন শরিফ বেশি আকর্ষণ করতো। তিনি প্রায়ই ক্যাসেট বাজাতেন ইয়াকুব জাকি’র কন্ঠে কোরআনের ইংরেজি তরজমা। ইয়াকুব জাকির এই তরজমা কবিতার মতোই মনে হয়। একদিন কবি খুব প্রশংসা করে এই ক্যাসেট বাজিয়ে আমাকে শোনান। আমি তাঁকে জানালামÑড. ইয়াকুব জাকির সাথে আমার সম্পর্ক আছে। তিনি একজন স্কটিশ নিউ মুসলিম, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর এবং খুব ভাল লেখক। কবি খুব খুশি হলেন এবং ড. ইয়াকুব জাকিকে তাঁর সালাম পৌঁছাতে বললেন। জাতিসংঘের পঞ্চাশ বছরপূর্তি উপলক্ষে যেদিন জেনেভায় জাতিসংঘের সদর দফতরে অনুষ্ঠান চলছিল, জাতিসংঘের পঞ্চাশ বছরের সফলতা নিয়ে সেদিন লন্ডনে ড. কলিম সিদ্দিকীর ডাকে জাতিসংঘের পঞ্চাশ বছরের বিতর্কিত ভূমিকার পর্যালোচনামূলক এক সেমিনারে ড. ইয়াকুব জাকি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেই সেমিনারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্যাতিত জাতির অনেক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সেমিনার থেকে ফেরার পথে ড. ইয়াকুব জাকি’র সাথে আমরা ক’জন রেলস্টেশন পর্যন্ত পৌঁছি। পথে অনেকগুলো আলাপের সাথে কবি দিলওয়ারের সালামের কথাটাও বললে তিনি কবিকে তাঁর সালাম পৌঁছানোর জন্য বলেছিলেন।
দিলওয়ার! বাংলাদেশের সবশ্রেণির মানুষের মননের কথা যিনি কবিতায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলতে পেরেছেন, তাই সবার কাছে ‘গণমানুষের কবি’ বলে খ্যাত। ভাবের সওদাগর, ভাষার কারিগর আর বিপ্লবের স্বাপ্নিক ছিলেন। ঐকতান, রক্তে আমার অনাদি অস্থি, উদ্ভিন্ন উল্লাস, স্বনিষ্ঠ সনেট, জিজ্ঞাসা ইত্যাদি কবিতার বইয়ের পাঠকেরা স্বীকার করবেনÑকবি দিলওয়ার তাঁর সমসাময়িক অনেক কবির মধ্যাকার ভাব, ভাষা এবং ভঙ্গির চেয়ে তুলনামূলক অনাবৃত। ভাষা ও ভাবের দিকে সহজবোধ্যতার পরও শৈল্পিকতা-নান্দনিকতায় যখন কবিতা অক্ষুণœ থাকে, তখন একজন সাধারণ কবি অসাধারণ হয়ে ওঠেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেনÑ‘সহজ কথা যায় না বলা সহজে।’ কবি দিলওয়ারের কবিতা পাঠে আমরা বুঝি, তিনি খুব সহজেই বলতে পেরেছেন সাধারণ মানুষের মনের কথা। তাই তিনি সমসাময়িক কবিদের অতিক্রম করে ‘গণমানুষের কবি’র খ্যাতি পেয়েছেন। কবি দিলওয়ার তাঁর কবিতায়, ছড়ায়, গানে ছন্দের ক্ষেত্রে খুবই সচেতন ছিলেন। তাঁর কবিতায় ছন্দ যেন নদীর তটে ঢেউয়ের আঘাতের শব্দের মতো ছলাৎ ছলাৎ করে। ১০ অক্টোবর ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে কবি দিলওয়ার এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। তবে তিনি বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের প্রাণে প্রাণে থেকে যাবেন অনেক কাল কিংবা অনন্তকাল। এ আত্মবিশ^াস কবির ছিলো, তাই তিনি নিজেই বলছেন,...এগিয়ে চলেছি আমি সোনারতরীর পরিত্রাণে/হয়ত ফিরতে পারি, নয়তো থাকবো প্রাণে প্রাণে।’ (এগিয়ে চলেছি)।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT