সম্পাদকীয়

ভিক্ষাবৃত্তি নির্মূল হচ্ছে না

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০১-২০২০ ইং ০১:০১:৩৬ | সংবাদটি ৫১ বার পঠিত


নির্মূল হচ্ছে না ভিক্ষাবৃত্তি। সরকারের শত চেষ্টার পরও ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমছে না। অথচ ভিক্ষাবৃত্তি একটি সামাজিক ব্যাধি। একে একটি সামাজিক অপরাধ হিসেবে ও উল্লেখ করা যায়। লাখ লাখ লোক জড়িত এই ‘পেশায়’। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ভিক্ষাবৃত্তি একটা অপরাধ। ইসলামে ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ভিক্ষাবৃত্তি নির্মূলের তাগিদ দিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি ভিক্ষার হাতকে কর্মের হাতিয়ারে পরিণত করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যান্য ধর্মেও ভিক্ষাবৃত্তিকে সমর্থন করা হয় নি। আর তাই এই ভিক্ষাবৃত্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। এটা ঠিক যে, দারিদ্র্যই ভিক্ষাবৃত্তির মূল কারণ। আর তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই এই প্রবণতা বেশি। অনেক ক্ষেত্রে দারিদ্র্য নয়, ¯্রফে, ‘ব্যবসা’ হিসেবে ভিক্ষাকে বেছে নিয়েছে অনেকে।
ভিক্ষাবৃত্তি চলে আসছে এ দেশে অতীত থেকেই। গ্রাম-শহর সর্বত্রই ভিক্ষুকদের ছড়াছড়ি। ভিক্ষুকের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তবে অতীতে পরিচালিত এক জরিপে সারাদেশে ছয় লাখের বেশি ভিক্ষুক রয়েছে বলে জানানো হয়। আর সেই জরিপ অনুযায়ী সিলেট মহানগরীতে চার হাজারের বেশি ভিক্ষুক রয়েছে। বিভিন্ন শহরে এই ভিক্ষুকদের ঘিরে গড়ে ওঠেছে নেটওয়ার্ক। আর এই নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে গডফাদার। এরা পেশাদার ভিক্ষুক। সবচেয়ে বড় কথা, একজন সক্ষম ব্যক্তি, যে দৈহিক শ্রম দিয়ে রোজগার করতে সক্ষম, তাকে ভিক্ষা দেয়া মানে ভিক্ষাবৃত্তিকে উৎসাহিত করা। অথচ ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে অনেক সক্ষম ব্যক্তি কর্ম বিমূখ হয়ে উঠছে। এই [ভিক্ষাবৃত্তি রোধে সরকারের আইন রয়েছে। কিন্তু সেই আইনের প্রয়োগ নেই। তবে আশার কথা এই যে, বর্তমানে বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটছে। স্বল্পোন্নত দেশের অবস্থান থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তরণ ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভিক্ষাবৃত্তির লজ্জা থেকে দেশকে মুক্ত করার সময় এসেছে বলেই আমরা আশা করতে পারি।]
ভিক্ষাবৃত্তি নিরসনের লক্ষে ২০১০ সালে শুরু হয় ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রম। তবে তখন সেটা তেমন কার্যকর হয়নি। সর্বশেষ ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে প্রথমবারের মতো দেশের ৫৮টি জেলায় ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেয়া হয়। দুই লাখের বেশি ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়েছে বলেও শোনা যায়। সরকারি হিসেবে এতে ব্যয় হয় চারশ’ ২২ কোটি টাকা। সরকারিভাবে এই তথ্য জানানো হলেও বাস্তবে ভিক্ষুকের সংখ্যা কমেনি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT