ইসলামী শরীয়তে রসূলের মহত্ব ও ভালবাসা ফরয তথা অপরিহার্য কর্তব্য। এর অবর্তমানে ঈমানই শুদ্ধ হয় না। কিন্তু রসুলকে এলেম, কুদরত ইত্যাদি গুণে আল্লাহর সমতুল্য মনে করা একান্তই পথভ্রষ্টতা ও শিরক। আজকাল কোন কোন মুসলমান রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে ‘আলেমুল-গায়েব’ আল্লাহর মতই সর্বত্র বিরাজমান উপস্থিত ও দর্শক (হাযির ও নাযির) বলেও বিশ্বাস করে। তারা মনে করে যে, এভাবে তারা মহানবী (সাঃ)-এর মহত্ব ও মহব্বত ফুটিয়ে তুলছে। অথচ এটা স্বয়ং রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নির্দেশ ও আজীবন সাধনার প্রকাশ্য বিরোধিতা। আলোচ্য আয়াতে এসব মুসলমানের জন্যেও শিক্ষা রয়েছে। আল্লাহর কাছে, মহানবী (সাঃ)-এর মহত্ব ও মহব্বত এতটুকু কাম্য যতটুকু সাহাবায়ে-কেরামের অন্তরে তার প্রতি ছিল। এতে ক্রটি করাও অপরাধ এবং একে বাড়িয়ে দেয়াও বাড়াবাড়ি ও পথভ্রষ্টতা।
নবী ও রসূলের যেকোন রকম মনগড়া প্রকারভেদই পথভ্রষ্টতা ঃ এমনিভাবে কোন কোন সম্প্রদায় খতমে নবুওয়ত অস্বীকার করে নতুন নবীর আগমনের পথ খুলে দিতে চেয়েছে। তারা কোরআনের সুস্পষ্ট বর্ণনা ‘খাতামুন্নাবিয়ীন" (সর্বশেষ নবী)-কে উদ্দেশ্য সাধনের পথে প্রতিবন্ধক মনে করে নবী ও রসুলের অনেক মনগড়া প্রকার আবিষ্কার করেছে। এসব প্রকারের নাম রেখেছে ‘নবী-যিল্লী’ (ছায়া-নবী) ‘নবী-বুরুষী’। (প্রকাশ্য-নবী) ইত্যাদি। আলোচ্য আয়াতটি তাদের অবিমৃশ্যকারিতা ও পথভ্রষ্টতার মুখোশটিকেও উন্মোচিত করে দিয়েছে। কারণ, রসুলুল্লাহ (সাঃ) বসুলগণের উপর যে ঈমান এনেছেন, তাতে ‘যিল্লী-বুরুযী’ বলে। কোন নাম-গন্ধও নেই। সুতরাং এটা পরিষ্কার ধর্মদ্রোহিতা।
আখেরাতের উপর ঈমান সম্পর্কে কোন অপব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। কিছুসংখ্যক লোকের মস্তিষ্ক ও চিন্তা-ভাবনা শুধু বস্তু ও বস্তুবাচক বিষয়াদির মধ্যেই নিমজ্জিত। অদৃশ্যজগত ও পরজগতের বিষয়াদি তাদের মতে অবান্তর ও অযৌক্তিক। তারা এসব ব্যাপারে নিজে থেকে নানাবিধ ব্যাখ্যা করতে প্রবৃত্ত হয় এবং একে দ্বীনের খেদমত বলে মনে করে। তারা এসব জটিল বিষয়কে বোধগম্য করে দিয়েছে বলে মনে করে গর্বও করে। কিন্তু এসব ব্যাখ্যা ‘বিমিছলি মা আমানতুম বিহি’ উক্তির পরিপন্থী হওয়ার কারণে বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য। আখেরাতের অবস্থা ও ঘটনাবলী কোরআন ও হাদীসে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, বিনা দ্বিধায় ও বিনা ব্যাখ্যায় তা বিশ্বাস করাই প্রকৃতপক্ষে ঈমান। হাশরের পুনরুত্থানের পরিবর্তে আত্মিক পুনরুত্থান স্বীকার করা এবং আযাব, সওয়াব, আমল, ওজন ইত্যাদি বিষয়ে নিজের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা বর্ণনা করা সবই গোমরাহী ও পথভ্রষ্টতার কারণ।
এখলাসের তাৎপর্য ঃ ‘ওনাহনু লাহু মুখলিছুন’ বাক্যটিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে যে, তারা আল্লাহর ব্যাপারে নিষ্ঠাবান। নিষ্ঠা বা এখলাসের অর্থ হযরত সায়ীদ ইবনে যুবায়ের (রঃ)-এর বর্ণনা মতে ধর্মে নিষ্ঠাবান হওয়া। অর্থাৎ, আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার না করা এবং একমাত্র আল্লাহর জন্যে সৎকর্ম করা, মানুষকে দেখানোর জন্যে অথবা মানুষের প্রশংসা অর্জনের জন্যে নয়।

'/> SylheterDak.com.bd
ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০১-২০২০ ইং ০০:৫৬:৩২ | সংবাদটি ১৫৯ বার পঠিত
Image

মূল : মুফতি মুহাম্মদ শফী
অনুবাদ : মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সূরা : বাক্বারাহ
[পূর্ব প্রকাশের পর]
ঈমানের মৌখিক দাবী মূর্তিপূজক, মুশরিক, ইহুদী, খ্রীষ্টানরাও করত এবং প্রতিটি যুগে ধর্মভ্রষ্ট বিপথগামীরাও করেছে। যেহেতু আল্লাহ রসুল, ফেরেশতা, কিয়ামত-দিবস ইত্যাদির প্রতি তাদের ঈমান তেমন নয়, যেমন রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর ঈমান, এ কারণে আল্লাহর কাছে তা ধিকৃত ও গ্রহণের অযোগ্য সাব্যস্ত হয়ে যায়।
ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের কোন কোন দল পয়গম্বরদের অবাধ্যতা করেছে। এমনকি কোন কোন পয়গম্বরকে হত্যাও করেছে। পক্ষান্তরে কোন কোন দল পয়গম্বরদের সম্মান ও মহত্ব বৃদ্ধি করতে গিয়ে তাদেরকে খোদা অথবা 'খোদার পুত্র’ অথবা খোদার সমপর্যায়ে নিয়ে স্থাপন করেছে। এ উভয় প্রকার ত্রুটি ও বাড়াবাড়িকেই পথভ্রষ্টতা বলে অভিহিত করা হয়েছে আয়াতে।
ইসলামী শরীয়তে রসূলের মহত্ব ও ভালবাসা ফরয তথা অপরিহার্য কর্তব্য। এর অবর্তমানে ঈমানই শুদ্ধ হয় না। কিন্তু রসুলকে এলেম, কুদরত ইত্যাদি গুণে আল্লাহর সমতুল্য মনে করা একান্তই পথভ্রষ্টতা ও শিরক। আজকাল কোন কোন মুসলমান রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে ‘আলেমুল-গায়েব’ আল্লাহর মতই সর্বত্র বিরাজমান উপস্থিত ও দর্শক (হাযির ও নাযির) বলেও বিশ্বাস করে। তারা মনে করে যে, এভাবে তারা মহানবী (সাঃ)-এর মহত্ব ও মহব্বত ফুটিয়ে তুলছে। অথচ এটা স্বয়ং রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নির্দেশ ও আজীবন সাধনার প্রকাশ্য বিরোধিতা। আলোচ্য আয়াতে এসব মুসলমানের জন্যেও শিক্ষা রয়েছে। আল্লাহর কাছে, মহানবী (সাঃ)-এর মহত্ব ও মহব্বত এতটুকু কাম্য যতটুকু সাহাবায়ে-কেরামের অন্তরে তার প্রতি ছিল। এতে ক্রটি করাও অপরাধ এবং একে বাড়িয়ে দেয়াও বাড়াবাড়ি ও পথভ্রষ্টতা।
নবী ও রসূলের যেকোন রকম মনগড়া প্রকারভেদই পথভ্রষ্টতা ঃ এমনিভাবে কোন কোন সম্প্রদায় খতমে নবুওয়ত অস্বীকার করে নতুন নবীর আগমনের পথ খুলে দিতে চেয়েছে। তারা কোরআনের সুস্পষ্ট বর্ণনা ‘খাতামুন্নাবিয়ীন" (সর্বশেষ নবী)-কে উদ্দেশ্য সাধনের পথে প্রতিবন্ধক মনে করে নবী ও রসুলের অনেক মনগড়া প্রকার আবিষ্কার করেছে। এসব প্রকারের নাম রেখেছে ‘নবী-যিল্লী’ (ছায়া-নবী) ‘নবী-বুরুষী’। (প্রকাশ্য-নবী) ইত্যাদি। আলোচ্য আয়াতটি তাদের অবিমৃশ্যকারিতা ও পথভ্রষ্টতার মুখোশটিকেও উন্মোচিত করে দিয়েছে। কারণ, রসুলুল্লাহ (সাঃ) বসুলগণের উপর যে ঈমান এনেছেন, তাতে ‘যিল্লী-বুরুযী’ বলে। কোন নাম-গন্ধও নেই। সুতরাং এটা পরিষ্কার ধর্মদ্রোহিতা।
আখেরাতের উপর ঈমান সম্পর্কে কোন অপব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। কিছুসংখ্যক লোকের মস্তিষ্ক ও চিন্তা-ভাবনা শুধু বস্তু ও বস্তুবাচক বিষয়াদির মধ্যেই নিমজ্জিত। অদৃশ্যজগত ও পরজগতের বিষয়াদি তাদের মতে অবান্তর ও অযৌক্তিক। তারা এসব ব্যাপারে নিজে থেকে নানাবিধ ব্যাখ্যা করতে প্রবৃত্ত হয় এবং একে দ্বীনের খেদমত বলে মনে করে। তারা এসব জটিল বিষয়কে বোধগম্য করে দিয়েছে বলে মনে করে গর্বও করে। কিন্তু এসব ব্যাখ্যা ‘বিমিছলি মা আমানতুম বিহি’ উক্তির পরিপন্থী হওয়ার কারণে বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য। আখেরাতের অবস্থা ও ঘটনাবলী কোরআন ও হাদীসে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, বিনা দ্বিধায় ও বিনা ব্যাখ্যায় তা বিশ্বাস করাই প্রকৃতপক্ষে ঈমান। হাশরের পুনরুত্থানের পরিবর্তে আত্মিক পুনরুত্থান স্বীকার করা এবং আযাব, সওয়াব, আমল, ওজন ইত্যাদি বিষয়ে নিজের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা বর্ণনা করা সবই গোমরাহী ও পথভ্রষ্টতার কারণ।
এখলাসের তাৎপর্য ঃ ‘ওনাহনু লাহু মুখলিছুন’ বাক্যটিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে যে, তারা আল্লাহর ব্যাপারে নিষ্ঠাবান। নিষ্ঠা বা এখলাসের অর্থ হযরত সায়ীদ ইবনে যুবায়ের (রঃ)-এর বর্ণনা মতে ধর্মে নিষ্ঠাবান হওয়া। অর্থাৎ, আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার না করা এবং একমাত্র আল্লাহর জন্যে সৎকর্ম করা, মানুষকে দেখানোর জন্যে অথবা মানুষের প্রশংসা অর্জনের জন্যে নয়।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT