সম্পাদকীয় তোমরা তোমাদের খাদ্য মেপে নেবে, তাতে তোমাদের জন্য বরকত হবে। আল হাদিস

শীতের রোগ ব্যাধি

প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০১-২০২০ ইং ০০:২০:৫৪ | সংবাদটি ৬১ বার পঠিত

জেঁকে বসেছে শীত। বিগত বছর কয়েকের তুলনায় এবার শীতের প্রকোপ ও স্থায়িত্ব বেশি বলেই পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আর এই শীতের মওসুমটি বাঙালিদের সারা বছরের একটি আরাধ্য বিষয়। গ্রীষ্ম প্রধান দেশের বাসিন্দা হিসেবে এদেশের মানুষ শীত ঋতুকে উপভোগ করার জন্য নানা আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বলা যায় নবান্ন, পিঠা-পুলি আর নানা ধরনের মেলা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একটা উৎসবের আমেজ বিরাজ করে সারা বাংলায়। কিন্তু এই আনন্দ উৎসবে বিঘœ ঘটাচ্ছে শীতজনিত নানারোগ ব্যাধি। শীত নামার সাথে সাথেই নানা ধরনের রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে, শিশুসহ বয়োবৃদ্ধদের এইসব রোগ আক্রমণ করছে বেশি, আর অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে তীব্র শীত। শীতের প্রকোপ থেকে বেঁচে থাকাসহ প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ।
জানা গেছে, প্রতিদিনই দেশের হাসপাতালগুলোতে বিপুল সংখ্যক রোগী ভর্তি হচ্ছে, যারা শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। একটি জাতীয় দৈনিকের খবর হচ্ছে প্রতিদিন গড়ে চার হাজার রোগী দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় সোয়া তিন লাখ। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের। বিশেষ করে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। এর পরে রয়েছে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা। তবে অন্যান্যবারের চেয়ে এবার ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এছাড়া, সাধারণ সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ব্রংকাইটিস, ব্রংকিউলাইটিস, মধ্যকর্ণের প্রদাহ, সাইনাসের প্রদাহ, নিউমোনিয়া, জ-িস, আমাশয়সহ অন্যান্য রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। আর হৃদরোগীদের জন্য তীব্র ঠা-ায় নানা ধরনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন-এবারে দেশে শীতের অস্বাভাবিক আচরণের ফলে রোগের গতি প্রকৃতিতেও অস্বাভাবিকতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, পৌষের শীতেও যেভাবে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস বইছে তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে জনস্বাস্থ্যের জন্য। তাছাড়া, এবার এমন কিছু রোগ দেখা যাচ্ছে, যা শীতের মওসুমে সাধারণত দেখা যায় না। সব মিলিয়ে শীতের সঙ্গে শীতজনিত রোগে কাবু সারাদেশ।
এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, শীত মওসুম শুরু এবং বিদায়ের প্রাক্কালেই শীতজনিত রোগের প্রকোপ হয় বেশি। সেই প্রেক্ষাপটে আগামী দিনগুলোতে রোগের প্রকোপ আস্তে আস্তে কমে আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তবে এই মুহূর্তে জরুরি হচ্ছে রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা। তাদের বক্তব্য হচ্ছে-শীতকালীন বা ভাইরাস ডায়রিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। তাদের মতে ভাইরাস থেকে ডায়রিয়া বা যেকোন রোগ হলে, তা সারাতে অ্যান্টিবায়োটিকের কোন ভূমিকাই নেই। বরং ক্ষতির ঝুঁকি বেশি। আর খাবার সেলাইনের ব্যাপারেও সতর্ক হতে বলেছেন তারা। কারণ অতিরিক্ত খাবার সেলাইন হিতে বিপরীত হতে পারে। সর্বোপরি অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোন চিকিৎসা নেয়া ঠিক হবে না।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT