সম্পাদকীয়

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০১-২০২০ ইং ০০:১৪:৩৭ | সংবাদটি ২৫৭ বার পঠিত
Image


সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে দুর্নীতি হচ্ছে। যে কারণে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধের জন্য ইতোপূর্বে পদ্ধতির পরিবর্তন করেও তা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন সরকারি কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য এবং উপজেলা চেয়ারম্যান। জানা গেছে, কর্মসংস্থান কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকায় ২০ শতাংশই ভূয়া নাম রয়েছে। এই নামের কোন মানুষ নেই। অথচ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বরাদ্দ বাজেট প্রতি বছরই বাড়ানো হচ্ছে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার চালু করেছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এর আওতায় পরিচালিত উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হচ্ছে- বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, দুঃস্থ ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি। এইসব প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের নিয়মিত ভাতা দেয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে- সরকারিভাবে ৯৬টি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি পরিচালিত হলেও সমন্বয় ও মনিটরিংয়ের অভাবে কাংখিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। কর্মসূচি বাস্তবায়নে দুর্নীতি বিশেষ করে উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার কারণে অনেকেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে সরকার দারিদ্র্য এবং নাজুক অবস্থা থেকে উত্তরণের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছে। অথচ এই কর্মসূচি গুলোতে শুরু থেকে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উপকারভোগী শনাক্তকরণে গাইডলাইন অনুসরণ না করা, কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাব, সমন্বয়হীনতা, আর্থসামাজিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব না দেয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। এর বাইরের সমস্যা হচ্ছে, পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছে না। উল্লেখ করা যেতে পারে, দেশে পরিচালিত প্রায় দেড়শ’টি বিভিন্ন ধরণের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের চেয়ে বেশী হারে মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। তবে এটাই সুসংবাদ যে, বাংলাদেশে সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ও বরাদ্দ ক্রমাগত বাড়ছে। অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য হচ্ছে, সামাজিক সুরক্ষার এই প্রথাগত কর্মসূচির পাশাপাশি সর্বজনীন পেনশনের মতো কর্মসূচি চালু করা দরকার। ইতোমধ্যে সরকার এই ধরণের একটা ঘোষণা দিয়েও রেখেছে। এখন জরুরি হচ্ছে চলমান ও আসন্ন সব কর্মসূচিই স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়িত করা।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT