সাহিত্য

কবিতায় বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

মিল্টন বিশ্বাস প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০১-২০২০ ইং ০০:১৫:১২ | সংবাদটি ৩৮০ বার পঠিত
Image

স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে সার্বভৌম রাষ্ট্রের আঙিনায় বঙ্গবন্ধু ফিরে এলেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধুর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে রচিত হয়েছে অসংখ্য কবিতা। একাধিক কবিতা কিংবা বলা চলে সবচেয়ে বেশি কবিতায় বঙ্গবন্ধুর এ প্রসঙ্গ উচ্চারিত। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় কবি লিখলেন কবিতা। সিকানদার আবু জাফর ও আবুবকর সিদ্দিক জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে লিখেছেন ‘সে নাম মুজিব’ এবং ‘প্রশ্ন’ কবিতা। এ ধারা যখন আরো বেগবান হওয়ার অপেক্ষায় তখনই এল ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট। নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্যে মানুষের অস্তিত্ব যখন বিপন্ন তখনও কবিদের আবেগ ও ভালোবাসা থেমে থাকেনি। নির্যাতনের ভয়ে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকলেও কবিদের বিবেকের তাড়না সত্য ছিল।
কবিদের কাছে বঙ্গবন্ধু মুক্তিকামী মানুষের অতি আপনজন হিসেবে চিহ্নিত। শ্যামল দেশের আদিগন্ত বিস্তৃত তাঁর কার্যকলাপ। এজন্য সৈয়দ শামসুল হকের একাধিক কবিতায় বঙ্গবন্ধু উজ্জ্বল হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছেন। ‘আমার পরিচয়’, ‘বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে’ ‘পিতার প্রতি’, ‘আমি সাক্ষী’, ‘রোজ গার্ডেনে সেদিন শেখ মুজিব’, ‘হে মহাজীবন’ প্রভৃতি কবিতায় বঙ্গবন্ধুর শাশ্বত উপস্থিতি লক্ষণীয়। ‘রোজ গার্ডেনে সেদিন শেখ মুজিব’ ও ‘হে মহাজীবন’ কবিতা দুটিতে বঙ্গবন্ধুর মধ্য দিয়ে দেশকে তুলে ধরেছেন তিনি। বিরূপ বিশ্বে কবি অস্থির হয়েছেন, হাহাকার করেছেন; প্রেম, ইতিহাস ও পুরাণে আশ্রয় নিয়েছেন। এভাবে দুঃসময়ের কাব্যরূপ ও ব্যক্তিগত কষ্টের অনুভূতিতে তাঁর কবিতা ভাস্বর। কখনো ব্যাপক ও তীব্র সেই প্রকাশ। দুঃস্বপ্নতাড়িত ভয়াবহ দৃশ্য তাঁকে উত্তেজিত করে, অস্থির হয়ে পড়েন কবি। সে সময় তাঁকে ইতিহাসের আলোকবর্তিকার স্তম্ভগুলো পথ দেখায়। ‘রোজ গার্ডেনে সেদিন শেখ মুজিব’ কবিতায় কবি ইতিহাসের রক্তলাল গোলাপের বাগানে বাঙালির স্বপ্নপ্রতীক বঙ্গবন্ধুর পদচারণার কথা বলেছেন। রোজ গার্ডেনের গোলাপগুলো নেতার পদস্পর্শে বিপ্লবের রক্তলাল রং পেয়েছিল। ইতিহাসই কবি হয়ে উঠেছিল সেদিন। কারণ রোজ গার্ডেন নামক বাড়িটিতেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠিত হয়। এই সংগঠনটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রধান নিয়ন্ত্রক। সৈয়দ শামসুল হকের ‘আমার পরিচয়’ কবিতায় নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বাঙালির নৃতত্ত্ব থেকে শুরু করে বর্তমান কাল পর্যন্ত ইঙ্গিতময় ইতিহাস তুলে ধরেছেন কবি। এ কবিতায় শেষপর্যন্ত আমরা শেখ মুজিবুর থেকেই উৎপন্ন হয়েছি বলে তিনি দৃপ্ত প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এই প্রত্যয় অবিনাশী হয়ে ওঠে ১০ জানুয়ারি স্মরণের মধ্য দিয়ে।
প্রকৃতপক্ষে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় একটি দিন। সেদিন মহান নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে এসেছিলেন মুক্ত স্বদেশে। যে স্বদেশকে তিনি নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছিলেন। সেদিন ঢাকার ১০ লাখ মানুষের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে বারবার ভেঙে পড়েছেন; অশ্রু সজল নয়নে চেয়েছেন মানুষের মুখপানে। ১৯৭১ সালে দেশের মধ্যে যা কিছু ঘটেছে তা তিনি জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই জেনেছিলেন। হানাদার বাহিনী ও এদেশীয় লুটেরা রাজাকার-আলবদর-আলশামসের অত্যাচারের কথা শুনেছিলেন। এজন্যই আবেগময়ী ভাষণে তিনি এদেশকে পাকিস্তান কর্তৃক শ্মশান করে ফেলার কথা বলেছিলেন। তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। তাঁর অনুভূতি তখন প্রতিটি তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে শিহরণ জাগাচ্ছিল। যখন তাঁকে বহন করা বিমানটি ঢাকার মাটি স্পর্শ করছিল, তখন বিপুল জনতার ঢেউ দেখে তিনি বলেছিলেন- ‘আমার দেশের মানুষ আমাকে এত ভালোবাসে। আমি এদেরকে খাওয়াবো কীভাবে?’ দেশ পরিচালনায় জননেতার এই উৎকণ্ঠা সত্যিই শেষ দিন পর্যন্ত অটুট ছিল। যুদ্ধোত্তর ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও বীরের মতো মানুষের জন্য উদগ্রীব হয়েছেন। একাত্তরে হত্যাযজ্ঞের শিকার মানুষের আত্মীয়-স্বজনের হাহাকার, নিরাশ্রয় আর খাদ্যহীন পরিস্থিতির কথা বলে তিনি বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিলেন পাকিস্তানিদের বীভৎসতার চালচিত্র। ‘স্বাধীন’ শব্দটি তাঁর প্রাণের গহিন থেকে উচ্চারিত হলো-‘ভাইয়েরা আমার লক্ষ মানুষের প্রাণদানের পর আজ আমার দেশ স্বাধীন হয়েছে। আজ আমার জীবনের সাধ পূর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।’ এই স্বাধীন দেশের প্রথম সংবর্ধনায় তিনি তাঁর ভাষণে আত্মত্যাগী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শহীদদের জন্য অন্তরের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন-‘আমার বাংলায় আজ এক বিরাট ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে। ৩০ লক্ষ লোক মারা গেছে। আপনারা জীবন দিয়েছেন, কষ্ট করেছেন। বাংলার মানুষ মুক্ত হাওয়ায় বাস করবে, খেয়ে-পরে সুখে থাকবে, এটাই ছিল আমার সাধনা।’ তিনি সেদিন ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁর মুক্তির জন্য ইন্দিরা গান্ধীর প্রচেষ্টাকে স্মরণ করেছেন। আর বড়ো হৃদয়ের মানুষ ছিলেন বলেই শত্রু পাকিস্তানিদেরও মঙ্গল কামনা করেছেন। কারণ বাংলাদেশ তখন স্বাধীন। এর চেয়ে বড়ো আর কোনো চাওয়া ছিল না তাঁর। ১০ জানুয়ারির ভাষণেই বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন-‘অনেকেই আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে আমি তাদের জানি। ইয়াহিয়া সরকারের সাথে যারা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি আরো উল্লেখ করে বলেছিলেন-‘২৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৯ মাসে বর্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এদেশের প্রায় সব বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করেছে। তারা আমার মানুষকে হত্যা করেছে। হাজার হাজার মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে।’ বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে জঘন্যতম কুকীর্তির তদন্ত হওয়া দরকার বলেই পরবর্তীকালে ১১ হাজার কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীকে কারাগারে আটকও রাখা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে সপরিবারে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করার পরে জেনারেল জিয়া ক্ষমতা গ্রহণ করে তাদের জেল থেকে ছেড়ে দেন।
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, সিকানদার আবু জাফরের ‘সে নাম মুজিব’ ও আবুবকর সিদ্দিকের ‘প্রশ্ন’ জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে লেখা কবিতা। ফিরে আসা বঙ্গবন্ধুর চোখে অশ্রু ছিল সেদিন। কোনো কোনো কবি সেই দৃশ্যও কবিতার চরণে উপস্থাপন করেছেন। আবুবকর সিদ্দিক ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ফেরা’ কবিতায় বঙ্গবন্ধুর ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আনন্দ এবং বিরান বাংলায় স্বজন হারানোর বেদনাকে পাশাপাশি উপস্থাপন করেছেন।’ কামাল চৌধুরীর ‘১০ জানুয়ারি ১৯৭২’ এ বিষয়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা। বঙ্গবন্ধু ফিরে এলেন, মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের হাল টেনে ধরলেন, মানুষ আশায় বুক বাঁধল-
চতুর্দিকে শোক, আহাজারি, ধ্বংসচিহ্ন, পোড়াগ্রাম, বিধ্বস্ত জনপদ
তিনি ফিরে আসলেন, ধ্বংসস্তূপের ভেতর ফুটে উঠল কৃষ্ণচূড়া
মুকুলিত হ’ল অপেক্ষার শিমুল
শোক থেকে জেগে উঠল স্বপ্ন, রক্তে বাজল দারুণ দামামা
বেদনার অশ্রুরেখা মুছে ফেলে
‘জয় বাংলা, জয় বাংলা’ ব’লে হেসে উঠল
লতাগুল্ম, ধূলিকণা, পরিপূর্ণ দীপ্ত পতাকা।
সিকানদার আবু জাফর রচিত ‘ফিরে আসছেন শেখ মুজিব’ সম্পর্কে কবীর চৌধুরী লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মাটিতে, তাঁর মুক্তস্বদেশে ফিরে আসেন ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগেই আন্তর্জাতিক তৎপরতা ও পাকিস্তানের বাস্তব পরিস্থিতির ফলে তখন তাঁর মুক্তি ও বাংলাদেশে ফিরে আসার বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়ে যায়, তখন সংগ্রামী কবি সিকানদার আবু জাফর ‘ফিরে আসছেন শেখ মুজিব’ নামে একটি চমৎকার কবিতা লেখেন। সিকানদার আবু জাফর তখন আরো বহু দেশত্যাগী বাংলাদেশের মানুষের মতো ভারতের পশ্চিম বাঙলায় ছিলেন।’ মূলত কবি এ কবিতায় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা সংগ্রামে ডাকের সফলতার চিত্র তুলে ধরেছেন। বাঙালির ত্যাগ-তিতিক্ষার ফল স্থপতিরূপে বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা। তাঁর প্রত্যাবর্তন আমাদের স্বপ্নগুলো বাস্তবে পরিণত করে। কবি জানতেন বঙ্গবন্ধু ফিরে আসবেন। ৭ মার্চের ডাক ব্যর্থ হতে পারে না। মা-বোনদের ইজ্জত বৃথা যেতে পারে না। নির্মলেন্দু গুণের ‘প্রত্যাবর্তনের আনন্দ’ বঙ্গবন্ধুর আত্মকথনে রচিত। স্বদেশে ফিরে আসা বীরের চেতনার নানা প্রান্ত উন্মোচিত হয়েছে এখানে। পঁচাত্তরের পনেরো আগস্ট ও পরবর্তী সময়ে সত্যের জয়গান সম্পর্কে জাতির পিতার কথনে কবির চরণ এরকম-
আনন্দের ঘোর কাটতে না কাটতেই,
একাত্তরের পরাজিত এজিদবাহিনী
রাত্রির অন্ধকারে সংগঠিত হয়ে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট
সপরিবারে হত্যা করলো আমাকে।...
বহুদিন পর আজ সত্য জয়ী হয়েছে,-
সংগ্রাম জয়ী হয়েছে, সুন্দর জয়ী হয়েছে।
আজ আমার খুব আনন্দের দিন।
১০ জানুয়ারির প্রসঙ্গ টেনে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদন করে কবিরা যে সমস্ত কবিতা লিখেছেন তার বেশিরভাগই প্রাণের আবেগ দিয়ে লেখা শ্রদ্ধার্ঘ্য। কবিরা কবিতায় বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে বীরত্বের ইতিহাস লেখেননি। এজন্য কবিতাগুলো প্রাণের গভীরে বেজে ওঠে, হৃদয়কে মথিত করে। কবিতার ছন্দ-সুরে আবেগ ক্রিয়াশীল। বঙ্গবন্ধু জাতীয় মুক্তির আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বাঙালিকে সাহসী করেছেন, আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও যোদ্ধাদের প্রেরণার কোনো ঘাটতি ছিল না। পাকিস্তান-বিরোধী আন্দোলন দেশভাগের সালটি থেকেই শুরু করেছিলেন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক তৎপরতায় তৎকালীন দেশপ্রেমিক জনতা দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়। বাঙালিকে আত্মত্যাগের সাহসও তিনি জুগিয়েছেন। এজন্যই ১০ জানুয়ারি-কেন্দ্রিক কবিতায় উচ্চারিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন ও আত্মত্যাগ। এই মহাপুরুষের প্রতি অনুরাগ, শ্রদ্ধা, আকুলতা সবই মিশে আছে কবিতার চরণে। প্রতিটি কবিতায় কবি হৃদয়ের আর্তি প্রকাশিত হয়েছে। অধিকাংশ কবি ১৯৭১-এ স্বজন হারানোর বেদনা একীভূত করেছেন অপরিসীম যন্ত্রণা উপলব্ধির মাধ্যমে। কোনো কোনো কবিতায় আবেগের অফুরন্ত উৎসারণ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ মিলেমিশে একাত্ম হয়েছে কবিতায়।
মূলত বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত কবিতাগুলো থেকে। বঙ্গবন্ধুর আলোতেই বাঙালির জাতিসত্তার অন্তর্লোক আলোকিত; চেতনা সঞ্চারিত হয় এগিয়ে চলার মন্ত্র জপে। কখনো তাঁর ভাষাকে কেন্দ্র করে, কখনো আবার বাঙালির চেতনায় তাঁর শাশ্বত উপস্থিতি ব্যক্ত করে কবিতার ভাব নির্মিত হয়েছে। যুদ্ধকালীন সময়ে গানে বঙ্গবন্ধু উচ্চারিত হয়েছেন। যুদ্ধের স্নোগান ‘জয় বাংলা’র সাথে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ যুক্ত হয়েছিল। কবিরা সেই চেতনার সিঁড়ি বেয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। শব্দ সৈনিকের মতো অপপ্রচার ও ভ্রান্ত প্রচারণা থেকে বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করেছেন। কবিতায় বঙ্গবন্ধুর জীবন্ত হয়ে ওঠা, সংগ্রাম ও বিজয় একান্তভাবেই মন্ময়। তবে কোথাও কোথাও কেবল বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু ত্যাগ-তিতিক্ষার ইতিহাস উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কবিতায়। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াল দিনরাতের কথা প্রসঙ্গেও জাতির পিতাকে স্মরণ করা হয়েছে। মুক্তিসংগ্রামের গৌরবগাথায় বঙ্গবন্ধু উন্মোচিত হয়েছেন। কোনো কবিতায় কবি সরাসরি বঙ্গবন্ধুকে জীবন্ত করেছেন। কেউ বা রূপক প্রতীকের আশ্রয় নিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর ভাবব্যঞ্জনা কবিতার বহিরঙ্গ ও অন্তরঙ্গে দীপ্তমান। কবির অনুভূতি অন্তরঙ্গ বর্ণনায় খুলে দিয়েছে কবিতার দিগন্ত। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসায় নত হয়ে আবেগময় বহিঃপ্রকাশ আছে কবিতার পঙক্তিতে। স্বাধীনতার চিরায়ত অর্থ চিরঞ্জীব মুজিবকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। স্বাধীনতার নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে রচয়িতারা দেখেছেন ভালোবাসা ও অসীম কৃতজ্ঞতায় ক. কবিদের কবিতায় ভালোবাসা শ্রদ্ধা আত্মপ্রকাশ করেছে। খ. মহানায়কের কীর্তি তুলে ধরছেন কেউ কেউ। গ. মানুষকে আলোকিত করার স্বপ্নময় বিন্যাস রয়েছে কারো কারো পঙক্তিতে। বঙ্গবন্ধুর তেজস্বিতা, দীপ্তি, মেধা, শৌর্যবীর্য ও পরাক্রম ভাস্বর এবং চিরন্তন হয়ে আছে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কবিতায়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের জয় ও গৌরবই মহিমান্বিত করেছেন কবিরা।

 

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT