সম্পাদকীয় অবসর জীবন এবং অলসতাময় জীবন দু’টি আলাদা জিনিস। -বেনজামিন ফ্রাংকলিন

পল্লী সড়ক উন্নয়ন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০১-২০২০ ইং ০০:৩১:০১ | সংবাদটি ১৬০ বার পঠিত
Image

একই সঙ্গে দু’টি প্রকল্প পল্লী সড়ক উন্নয়ন এবং গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান। দেশের প্রায় ৮৯ হাজার কিলোমিটার পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে চলাচল উপযোগী রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে নিয়োগ দেয়া হবে প্রায় ৪৫ হাজার দুঃস্থ নারী। এর মাধ্যমে একদিকে গ্রামীণ রাস্তার উন্নয়ন হবে এবং পাশাপাশি এই প্রকল্পে কাজ পাবে দুঃস্থ নারীরা। এর ফলে নারীরা হতদরিদ্র অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাবে। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে-নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে পল্লী সড়কগুলোকে সারা বছর চলাচল উপযোগী করে রাখা, সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, কৃষিজাত পণ্যের বাজারজাতকরণে সুবিধা এবং গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখা।
গ্রামীণ জনপদে যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি হচ্ছে, এটা আজ আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। এক সময় যেসব গ্রামে যোগাযোগের জন্য ভরসাই ছিলো বর্ষায় নৌকা এবং হেমন্তে পায়ে হাঁটা। এখন সেইসব গ্রামীণ জনপদের মানুষ সারা বছরই সড়কপথে যাতায়াত করতে পারছে। দেশের বেশির ভাগ গ্রামেই এখন রয়েছে পাকা না হলেও নিদেনপক্ষে মাটির সড়ক। অবশ্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অনেক গ্রাম রয়েছে এখনও। তবে যেসব গ্রামাঞ্চলে ছোটবড় সড়কপথ রয়েছে, সেগু লো সংস্কারের অভাবে অনেক সময়ই চলাচল অনুপযোগী থাকে। বিশেষ করে বর্ষা মওসুমে এই সব সড়কে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। এইসব সড়ক সংস্কারে সরকারের রয়েছে বিশেষ প্রকল্প। ইতোপূর্বে বিদেশী সাহায্য সংস্থাগুলোর অর্থায়নে গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো। ২০০৭ সাল পর্যন্ত এভাবে চললেও ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। মাঝখানে এক মেয়াদে দাতা সংস্থা এই খাতে অর্থ যোগান দিলেও এ বছর থেকে আবার নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হচ্ছে প্রকল্প। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এই প্রকল্পে শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি অতি দরিদ্র নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে এবং এর মধ্যে ৯০ শতাংশেরই অতিদরিদ্র অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটেছে।
এ বছর জুলাই থেকে এক হাজার সাতশ’ ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে দেশের ৬৪ জেলার চার হাজার চারশ’ ৪৬ ইউনিয়নে। প্রকল্প শেষ হবে ২০২৩ সালের জুন মাসে। তবে এই ধরনের প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সবসময়ের। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দাতা সংস্থার অর্থায়নে কেয়ার-বাংলাদেশ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি চালু করে। এতে মূলত শ্রমিকদের পারিশ্রমিক হিসেবে গম দেয়া হতো; পরবর্তীতে গমের স্থানে চলে আসে চাল। কিন্তু এই প্রকল্পে প্রচুর অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে গ্রামীণ জনপদে গৃহীত এই ধরনের প্রকল্পগুলোতেও লুটপাট-আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। আমরা চাই এবার থেকে এই ধারাবাহিকতার অবসান হোক।

 

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT