উপ সম্পাদকীয়

দুর্নীতি রুখব, সোনার বাংলা গড়ব

মো. রফিকুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০১-২০২০ ইং ০০:৩৮:০১ | সংবাদটি ২২৪ বার পঠিত
Image

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং উন্নত দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭১ সালে এদেশের মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল এবং বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতা এবং হানাহানির কারণে আজও শহীদদের মনের আশা পূর্ণ হয়নি এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। তবে আশাব্যঞ্জক যে, বঙ্গবন্ধুর দল ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী সরকার ঘোষণা করেছে যে, ১৯২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে এবং ১৯৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে পরিণত হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে শহীদদের আশা-আকাঙ্খার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবে রূপ লাভ করবে। তাই দেশের জনগণ আওয়ামী লীগ সরকারের রূপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য নানা প্রকার উন্নয়ণমূলক কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু দুর্নীতি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। কাজেই এই দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে না পারলে দেশে টেকসই উন্নয়ন হবেনা এবং আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব না, অর্থাৎ আমরা সোনার বাংলা গড়তে পারবনা। আমাদের দেশের সকল মানুষ যে দুর্নীতিবাজ একথা আমি বলছি না, তবে কিছু সংখ্যক সুবিধাবাদী লোক অবশ্যই দুর্নীতিবাজ, যারা দেশের জন্য সমূহ ক্ষতির কারণ। তারা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এবং দুর্নীতি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। এসব দুর্নীতিবাজদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, আমলা, সরকারী কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ব্যবসায়ী সহ সমাজের বিভিন্ন পেশা ও স্তরের লোক আছে।
দুর্নীতি আমাদের সমাজের একটি সংক্রামক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। দিন দিন এই ব্যাধি কেবলই বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে সব লোকেরা দুর্নীতি করছে, তাদের মধ্যে বিবেক বলতে নেই। বিবেক থাকলে তারা দুর্নীতির ন্যায় জঘন্য কাজ করতে পারত না। সরকার সরকারী কর্মচারীদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি করেছেন, তারপরও বহু সরকারী কর্মচারী ঘুষ খাচ্ছে, দুর্নীতি করছে। এতে বুঝা যায় যে, সরকারী কর্মচারীরা অভাবের কারণে দুর্নীতি করছে না বরং দুর্নীতি তাদের স্বভাবে পরিণত হয়ে গেছে। তারা লোভের বশবর্তী হয়ে দুর্নীতি করছে। তাদের চাওয়া-পাওয়ার শেষ নেই-এ কারণে তারা দুর্নীতি করছে। কাজেই দুর্নীতিবাজ সরকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা দুর্নীতি করতে সাহস পায় না।
আমাদের দেশের অনেকে রাজনীতি করেন নিজেদের আখের গোছানোর জন্য। তারা দেশের স্বার্থে নয় বরং নিজেদের স্বার্থে রাজনীতি করেন। দুর্নীতি করার জন্য তারা সবসময় ক্ষমতার রাজনীতি করেন। যে দলই ক্ষমতায় যায়, তারা খোলস পাল্টে সে দলে চলে যায়। এসব সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদরা ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয়ে থেকে চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, দখলবাজী সহ নানা প্রকার দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হন। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা যখন দুর্নীতি করে, তখন সরকারী কর্মচারীরাও দুর্নীতি করতে উৎসাহিত হয়। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সরকারী দলের নেতা-কর্মীরা দুর্নীতি করার কারণেই সরকারী কর্মচারীরা সীমাহীন দুর্নীতি করেছিল। তাই আমাদের দেশ তখন টানা চারবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। যে কারণে বিশ্বে আমাদের সীমাহীন দুর্নাম হয়েছিল।
দুর্নীতিবাজরা আসলে দেশের শত্রু। কারণ তারা অবৈধ উপায়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে, তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেই টাকা আর ফেরৎ দেয় না এবং তারা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করে। যার ফলে দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে। দুর্নীতিবাজদের মধ্যে ন্যূনতম দেশপ্রেম থাকলে এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে তারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করত না। গত বছর সরকারী দলের নাম ভাঙ্গিয়ে যে সব দুর্নীতিবাজরা ক্যাসিনো নামক জুয়া খেলায় জড়িত হয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছিল এবং দেশের টাকা বিদেশে পাঁচার করেছিল, তারা প্রকৃত পক্ষে দেশের শত্রু। তারা রাজনীতির নামে রাহাজানী করেছিল এবং ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেদের আখের ঘুছিয়েছিল। কিন্তু তারা পার পায়নি, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার তাদেরকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় এনেছে। এর জন্যে আওয়ামী লীগ সরকারকে সাধুবাদ জানাই।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতিবাজরা সরকারী দলের হলেও ছাড় দেওয়া হবে না বরং তাদেরকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় দুদক নড়েচড়ে বসেছে। দুদক এখন অতীতের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। তারা এখন স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনছে। দুদক ইতিমধ্যেই ক্যাসিনোর সাথে জড়িত সকল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় এনেছে। দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হলে ক্রমান্বয়ে দেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে। দেশ দুর্নীতিমুক্ত হলে দেশের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হবে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়িত হবে।
আসুন, আমরা সকলে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসি। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার হাতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়িত হবে-ইহাই আমাদের প্রত্যাশা।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য
  • আল্লামা আহমদ শফী চলে গেলেন
  • কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির নব্য রূপকার
  • স্মরণ:ডা. দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চল
  • কোভিড-১৯ এর সম্মুখ সমরে লড়ছে জিন প্রকৌশলীরা
  • মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তুরস্কের প্রভাব
  • বৃদ্বাশ্রম
  • পুষ্টি-অপুষ্টি প্রসঙ্গ
  • পুষ্টি-অপুষ্টি প্রসঙ্গ
  • সত্য যখন উক্তি হয়ে ফিরে আসে
  • প্রসঙ্গ : মহামারিতে ধৈর্য ধারণ
  • মা-বাবার সাথে থাকি
  • নব্যউদারনীতিবাদ নিয়ে কিছু কথা
  • মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  • বাউল সম্রাট ও গ্রামীণ সংস্কৃতি
  • সমাজসেবা ও দেশপ্রেম
  • ক্ষণজন্মা সৈয়দ মহসীন আলী
  • শিক্ষার সাথে চরিত্র গঠনও প্রয়োজন
  • জাতীয় প্রবীণ নীতিমালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
  • ম. আ. মুক্তাদির : বিপ্লবীর স্বপ্নের দেশ
  • Image

    Developed by:Sparkle IT