উপ সম্পাদকীয়

অন্ধকার থেকে আলোয়, বন্দিত্ব থেকে স্বাধীনতায়

ইনাম আহমদ চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০১-২০২০ ইং ০০:৪১:৩৩ | সংবাদটি ৭২ বার পঠিত

আজ মনে পড়ছে, ৪৮ বছর আগের ১০ জানুয়ারি দিল্লিতে ছিলাম। দিল্লি গিয়েছিলাম ঢাকাস্থ বাংলাদেশ সরকারের প্রথম সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে। ৫ জানুয়ারি ১৯৭২-এ তদানীন্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের নেতৃত্বে গঠিত প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন, জ্যেষ্ঠ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রাচার প্রধান ফারুক চৌধুরী, দিল্লিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী প্রমুখ। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী দিল্লি থেকে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি দিল্লিতে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ছিলেন।
দিল্লিতে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ছিল, অতি আবশ্যিক সরবরাহ নিশ্চিত করা, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন সম্পর্কে আলোচনা করা, বঙ্গবন্ধুর মুক্তি এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে অন্যান্য রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়। দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আমরা কাজ করেছিলাম। আমার মনে আছে যে, ৮ জানুয়ারি যখন আমরা আলোচনা করছি, তখন কনফারেন্স হলের দরজা খুলে প্রবেশ করলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের মণি দীক্ষিত, যিনি পরবর্তীকালে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তিনি অত্যন্ত উত্তেজিত অবস্থায় ছিলেন। তিনি ঘোষণা করলেন, এইমাত্র আমাদের কাছে খবর এসেছে যে, শেখ মুজিবুর রহমান মুক্ত হয়েছেন এবং তিনি কিছুক্ষণের মধ্যেই পাকিস্তান ছেড়ে রওনা হয়ে যাচ্ছেন। তখন আমরা সবাই আনন্দ রোল করে উঠলাম। ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতা ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান ডিপি ধর আর আমাদের দলনেতা ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ।
যাই হোক, তাৎক্ষণিকভাবেই আমরা দ্বিপক্ষীয় সাহায্য সম্পর্কে আমাদের মতামত ব্যক্ত করলাম এবং তখনই আমরা আলোচনা শুরু করলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কীভাবে দিল্লিতে অভ্যর্থনা জানানো যেতে পারে এবং তার ঢাকায় প্রত্যাবর্তনবিষয়ক কর্মসূচিগুলো কী হবে। এটা ঠিক হলো, ১০ জানুয়ারি সকালবেলা ব্রিটিশ সরকারের বিশেষ বিমানে তিনি আগমন করবেন এবং সেদিনই তিনি ঢাকায় চলে যাবেন। কিন্তু এর মধ্যে তিনি দিল্লি থেকে যাওয়ার পথে কলকাতাতেও বিরতি দেবেন।
সেখানে আমাদের আলোচনা শুরু হলো এবং স্থির হলো যে, বাংলাদেশি প্রেসিডেন্ট হিসেবে যেহেতু তিনি আসছেন, তাই তাকে অভ্যর্থনা জানাতে ভারতের প্রেসিডেন্ট ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অন্য কেবিনেট সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন এবং শত শত সাংবাদিক থাকবেন। তাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং তিনি এয়ারপোর্র্টেই ভাষণ দেবেন। এরপর তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে যাবেন সামান্যক্ষণের জন্য। তারপর আবার তিনি বিমানবন্দরে ফিরে আসবেন। এই সিদ্ধান্ত স্থির হলো।
১০ জানুয়ারি দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে সকাল ৮টা বা সোয়া ৮টার পরবর্তী কিছু সময়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর রুপালি রঙের বিমানে করে তিনি অবতরণ করেন। সহাস্য সুদর্শন বঙ্গবন্ধু বিমান থেকে বেরিয়ে এলেন এবং ‘জয় বাংলা’ শব্দ উচ্চারণ করলেন। তখন কী করতালি! অবিশ^াস্য আনন্দ-উচ্ছ্বাস! সবাই তাকে অভ্যর্থনা জানালেন। তারপর তাকে মঞ্চে নেওয়া হলো। সেখানে তিনি বক্তৃতা দিলেন। বক্তৃতার খসড়া করেছিলেন সম্ভবত রাষ্ট্রাচার প্রধান ফারুক ভাই।
তিনি তখন ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আজকের এই জয়যাত্রা অন্ধকার থেকে আলোয়, বন্দিত্ব থেকে স্বাধীনতায়, নিরাশা থেকে আশায়। ৯ মাসের ব্যবধানে তিনি দেশে ফিরছেন, এই সময়টুকুতেই বাংলাদেশ যেন শতাব্দী অতিক্রম করেছে। তিনি এখন ফিরছেন বিজয়কে শান্তি, প্রগতি ও উন্নতির পথে চালিত করতে। তিনি আশা করেছিলেন, তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এই সান্ত¡নায় যে, অবশেষে অসত্যের ওপর সত্যের, উন্মাদনার ওপর প্রকৃতিস্থতার, কাপুরুষতার ওপর শৌর্যের, অবিচারের ওপর ন্যায়বিচারের, অমঙ্গলের ওপর মঙ্গলের জয় হয়েছে।
তিনি এটাও বললেন, আজ আমি যাচ্ছি। আমার কোনো ঘৃণা-বিদ্বেষ কারও প্রতি নেই। আমি সবার সঙ্গেই সহযোগিতা ও সহমর্মিতা নিয়ে কাজ করতে চাই। এ আমার সান্ত¡না যে, অসত্যের ওপর সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো। আমার মনে আছে, এই বক্তৃতা অত্যন্ত চমৎকার ছিল। সবাই তা গ্রহণ করেছিল। উচ্ছ্বসিত করতালি চারদিকে। তারপর তিনি ওখানে বিশ্রাম করতে গেলেন। তাকে প্রোগ্রামের কথা জানানো হলো যে, তিনি কলকাতা যাবেন এবং সেখানে ভাষণ দিয়ে সন্ধ্যাবেলা ঢাকা যাবেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বললেন, ‘না আমি সোজা ঢাকায় যাব। দিন থাকতে থাকতেই আমি ঢাকায় পদার্পণ করতে চাই। যে সূর্যালোক আমি নিয়ে এসেছি, সেই আলোতেই আমি আমি আমার মুক্ত স্বদেশ দেখতে চাই। আমার দেশের জনগণের সঙ্গে আমি একত্রিত হতে চাই।’
তাকে অনুরোধ জানানো হলো যে, কলকাতায় কিছুক্ষণ থেকে যান। তারা অত্যন্ত আশা করে আছে যে, তার সঙ্গে দেখা হবে। তিনি বললেন, ‘না, সেটাই আমার কাছে বড়।’ তখন দেখা গেল যে, তার মালপত্র ব্রিটিশ বিমান থেকে নামিয়ে ভারতীয় বিমানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্থির হয়েছিল যে, ভারতীয় বিমানে তিনি ঢাকা প্রত্যাবর্তন করবেন। তখন তিনি বললেন, সেটা কেন হবে? আমাকে তো ব্রিটিশ সরকার পাঠিয়েছে তাদের বিমানে ঢাকা যাওয়ার জন্য। তো আমি যদি সেই বিমানে করে না যাই, তা অত্যন্ত খারাপ দেখাবে।
ওই সময়টাতে তার কূটনৈতিক জ্ঞান দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছিলাম। তিনি বললেন, ‘না আমি ব্রিটিশ বিমানেই যাব এবং পরবর্তীকালে আমাদের সহযোগিতার অনেক অনেক অকেশন হবে।’ তখন তাকে বলা হয়েছিল, ব্রিটিশ কমেট জেট বিমান ঢাকায় অবতরণ করতে পারবে কিনা সে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তিনি বললেন, ‘না, জেনেশুনেই কি তারা আমাকে পাঠিয়ে দিয়েছে এই বিমানে? খোঁজ নাও।’ তিনি রাষ্ট্রাচার প্রধানকে খোঁজ নিতে বললেন। রাষ্ট্রাচার প্রধান খোঁজ নিয়ে জানালেন, না, সিভিল অ্যাভিয়েশন থেকে এটা ঠিক করা হয়েছে। এই বিমান অবতরণ করতে পারবে। তখন সেই ব্রিটিশ বিমানেই ঢাকায় অবতরণ করলেন।
ওই মুহূর্তের আমার একটি অনুভূতি মনে পড়ছে যে, আমাদের বুকের ছাতি অনেক বেড়ে গেল। আমরা অনেক উঁচু হয়ে দাঁড়ালাম। অনেক জনগোষ্ঠীর ভেতরে আমার প্রথম মনে হলো যে, আমি একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাগরিক। আমরা আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা অর্জন করেছি। অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে। আর আমাদের নেতা, আমাদের মুক্তিদাতা, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপস্থিত থেকেও যিনি নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘোষণা দিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আজ সেই নেতা আমাদের সামনে উপস্থিত। তিনি বিজয় অর্জন করেই এসেছেন। এই জয় বাংলাদেশের বিজয় ছিল অবশ্যই। কিন্তু তার চেয়ে বড় বিজয় ছিল, আমাদের নেতা, যার দৃঢ় বিশ^াস ছিল, তিনি এ দেশের মানুষের মুক্তি সম্ভবপর করে তুলবেন। তার রাজনৈতিক ইতিহাসে সেটাই আমরা দেখেছি, ধ্রুবতারার মতো তার লক্ষ্য ছিল, কীভাবে আমাদের দেশের মানুষের মুক্তি হতে পারে, মঙ্গল হতে পারে, উন্নয়ন হতে পারে এবং জয়যাত্রার পথে তারা সামনে এগিয়ে যেতে পারে।
সেদিন সেই মুহূর্ত আমরা যারা উপস্থিত হয়েছিলাম, আমরা মানুষের মাঝে হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমার মনে হয় না, জীবনে কোনো মুহূর্তে আমি সেদিনের চেয়ে বেশি গর্ববোধ করেছি। তখন আমাদের মাথা অনেক উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তারপর বঙ্গবন্ধু এলেন। পরের ইতিহাস আমরা জানি।
কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি একজন অত্যন্ত সৌভাগ্যবান লোক। সেই দৃশ্য প্রথম চাক্ষুষ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। আমার যত দূর মনে পড়ে, সেদিন দিল্লিতে বাংলাদেশি যারা ছিলেন, তারা কেউই আমাদের মধ্যে বেঁচে নেই। সেদিনের স্মৃতি রোমন্থন করতে আমার অত্যন্ত ভালো লাগছে এবং আমি আনন্দিত বোধ করছি। আজ আমরা ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন ও অনুষ্ঠানমালা শুরু করতে যাচ্ছি। ১৯২০-২১ সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেছেন, ‘এই উদযাপন শুধু আনুষ্ঠানিকতা সর্বস্ব নয়। এই উদ্যাপনের লক্ষ্য জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে জাতিকে নতুন মন্ত্রে দীক্ষিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’
বস্তুতপক্ষে এটি ঐতিহাসিক ক্ষণ। এই ঐতিহাসিক ক্ষণকে আমরা স্মরণ করছি জাতি হিসেবে বাঙালিকে অনুপ্রাণিতবোধ করার জন্য এবং আমাদের আগামী যে উন্নয়নের লক্ষ্য স্থির হয়ে আছে, সেই পথে আমাদের দুর্বার অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করার জন্য।
এত বছর পর যখন আমরা পেছনে ফিরে তাকাই, আমার কাছে মনে হয়, বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন এবং একটি নতুন রাষ্ট্রের সূচনা এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ছিল। আজকে আমরা তার সেই বাণী থেকে উদ্ধৃত করে বলব, তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাচ্ছি। অসত্য-অন্যায়কে পর্যুদস্ত করে আমরা সত্য-ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছি।’ তার সেই মহামূল্যবান বাণী আমাদের অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি এও বলেছিলেন, ‘কারও প্রতি আমার বিদ্বেষ নেই। আমাদের ঘৃণা নেই। সবার সঙ্গে আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দিকে এগোতে চাচ্ছি। সেই অনুকূল একটা পরিবেশও আমরা আমাদের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে চাই।’
এটা অনস্বীকার্য যে, গত ১০ বছরে দেশে যথেষ্ট উন্নয়ন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নের বাংলাদেশের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। গত অর্থবছরে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭২০ কোটি টাকায়। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমরা বিদেশের ওপর নির্ভরশীল নই। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার ওপর নির্ভরশীল নই। বাজেটের ৯০ ভাগই বাস্তবায়ন হচ্ছে আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে। এটা নিশ্চিত যে, আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি এবং আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মনে রাখি, বঙ্গবন্ধুর বাণী আমরা আত্মা ও চেতনায় ধারণ করি, তাহলেই আমাদের অগ্রযাত্রা সার্থক হবে, আমাদের অভিযাত্রা সফল হবে এবং আমাদের অভিযাত্রা জনগণের জন্য, জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।
লেখক : উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • নতুন সূর্যের প্রত্যাশায়
  • ভেজাল ও নকল ওষুধের দৌরাত্ম্য
  • বকুল ফুলের মালা
  • লিবিয়ায় তুরস্কের সেনা মোতায়েনের কারণ
  • প্রসঙ্গ ফসলের ন্যায্যমূল্য
  • প্রসঙ্গ : ভিক্ষাবৃত্তি
  • নৈতিক অবক্ষয় প্রতিকার
  • অসহায় প্রবীণদের দেখাশোনার দায়িত্ব কে নেবে?
  • আজকের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
  • একাডেমিক শিক্ষা বনাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
  • শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কী হবে?
  • বাংলাদেশের শীতকাল
  • মাটির উৎকর্ষ ও সংরক্ষণ সাধন সরকার
  • নারী নিপীড়ন প্রসঙ্গ
  • আপন শ্রম ও মেধা ভাগ্য নির্মাণের নিয়ামক
  • ফেসবুক ও আমাদের সন্তান
  • পুলিশ জনগণের বন্ধু
  • প্রাথমিক শিক্ষার এক দশক : পরিপ্রেক্ষিত
  • শুদ্ধি অভিযানের শুদ্ধতা
  • বিপন্ন নদনদী ও খালবিল
  • Developed by: Sparkle IT