স্বাস্থ্য কুশল

শশার গুণাগুণ

আফতাব চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০১-২০২০ ইং ০০:৪৭:৩৫ | সংবাদটি ২৩৩ বার পঠিত

শশা আমাদের দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ সব্জি ও ফল। শশা চাষের জন্য পানি জমে না এরকম উঁচু জমি নির্বাচন করতে হবে। দোঁয়াশ মাটিতে এর চাষ ভাল হয়। জৈবিক সার প্রয়োগ করে এঁটেল মাটিতেও শশা চাষ করা যায়। অবশ্য মাটিতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালভাবে থাকা দরকার।
দেশের কৃষিবিদ ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা উচ্চফলনশীল ক’জাতের শশাকে অনুমোদন করেছেন। সেগুলো হল- চাইনিজ গ্রীণ, পুচা সংযোগ, পইনসেটী, এএইউসি ২, এএইউসি ৩ এবং এএইউসি ৪। এছাড়াও বাজারে অনেক উচ্চফলনশীল এবং হাইব্রীড জাতের শশা পাওয়া যায়। শীতে শেষ থেকেই বর্ষাকালীন শশার বীজ বপন করা যায়, অবশ্য মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত বীজ বপন করা চলে। শশার চাষের জন্য বিঘা প্রতি ৩০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন। বীজ সাধারণত সারিতে বুনতে হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৪ ফুট। সাধারণত শশার বীজ মাদায় বপন করা হয়। এর জন্য প্রথমে উঁচু ভিটা সারি সারি ভাবে তৈরি করে নিতে হয়। প্রত্যেক ভিটাতে মাদা থেকে মাদার দূরত্ব হবে ৩ ফুট। প্রত্যেকটি মাদায় ২-৩টি বীজ বপন করতে হয়। জমি প্রস্তুতির সময়েই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে রাখতে হবে। শশা চাষের জন্য জমি ভালভাবে চাষ করে বিঘা প্রতি ৬ কেজি ইউরিয়া, ৩৬ কেজি সিঙ্গল সুপার ফসফেট এবং ১৬ কেজি মিউরিট অব পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে। তারপর চাষ দিয়ে মাটিকে ভালভাবে ঝুরঝুরে করে নেওয়া দরকার। চারার বয়স একমাস হওয়ার পরে বিঘা প্রতি ৬ কেজি ইউরিয়া গাছের গোড়াতে প্রয়োগ করতে হবে। অনেকে মাদাতে সার প্রয়োগ করতে পছন্দ করেন। এমন অবস্থায় মাদা প্রতি ৫০ কেজি ইউরিয়া, ৫০ গ্রাম সিঙ্গল সুপার ফসফেট এবং ১০০ গ্রাম নিউরেট অব পটাশ সার বীজ বুনার আগেই প্রয়োগ করতে হবে। পচন সার বা ভার্মিকম্পোস্ট ইত্যাদি প্রয়োগ করলে গাছের বৃদ্ধি ভাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমির মানও ভাল থাকে। শশা গাছের গোড়া থেকে আগাছা নিড়ানী দিয়ে পরিস্কার করে রাখতে হয় এবং লত ধরার সময় পরা দিতে হবে। শশা চাষে পাউারি মিলভিউ রোগসহ অনেক ধরনের রোগ এবং পোকার আক্রমণ হয়। নিকটস্থ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার করলে রোগ দমন সম্ভব।
শরীরকে ঠান্ডা ও নীরোগ রাখতে শশার গুণ অপরিসীম। শশা খেলে শরীরের ঠান্ডাভাব বজায় থাকে এবং শরীরে সজীবতা আসে। শশায় পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, গন্ধক, সিলিকন, ক্লোরিন এবং ফ্লোরিন পর্যাপ্ত মাত্রায় থাকে। এছাড়াও শশায় ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, আয়রণ, ভিটামিন-সি এবং বি-ও প্রচুর মাত্রায় থাকে।
শশা পেটের রোগে ঔষুধির কাজ করে। পেটের অম্লতাকে দূর করে এবং আলসার রোগে উপকার আসে। শশার রস দিনে ২/৩ বার খেলে পেটের রোগ দূর হবে। নিয়মিত লবণ মেখে খাবার আগে শশা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। জন্ডিসে শশার রস পান করলে উপকার হয়। প্র¯্রাব করা অবস্থায় অনেক সময় জ্বালা-যন্ত্রণাও হয়। এ রোগে শশা খুব ভাল ঔষুধ।
শশা খাওয়ার সঙ্গে পানি খাওয়া উচিত নয়। যেসব ব্যক্তির অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে তাদের খাদ্য-তালিকায় শশা রাখা প্রয়োজন। শশায় প্রচুর মাত্রায় পানি থাকে। গরমের দিনে শশা খেলে শরীরের শুস্কতা দূর হয়। ত্বকের রোগেও শশা ফলদায়ক। এটা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে এবং দাগ দূর করতে সাহায্য করে। গাজরের রসের সঙ্গে শশার রস মিশিয়ে পান করলে লাভ হয়। শশার রস ত্বকের জন্য এক বিশেষ ধরনের টনিকের কাজ করে। মুখে ব্রণ-ফুসকুড়ি, কালো দাগ, ত্বকে ভাঁজ পড়া ইত্যাদিতে শশার রস লাগালে উপকার হয়। শশায় সিলিকান এবং সালফার থাকায় ত্বককে সুন্দর করে এবং ত্বককে সংক্রামণের হাত থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত শশা খেলে বিভিন্ন ধরনের রোগের হাত থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • জুতায় কতদিন বেঁচে থাকতে পারে করোনাভাইরাস?
  • হার্ট সুস্থ রাখা চাই
  • হাম রুবেলা ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে প্রচারণা
  • গাজরের উপকারিতা
  • রোগ প্রতিরোধে ডুমুর
  • তরমুজ এক উপকারী ফল
  • সকালের নাস্তা যখন সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি
  • করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার উপায়
  • শাকসবজি ও ফলমূল কেন খাবেন
  • দৈনন্দিন জীবনে লেবুর চাহিদা
  • এ্যাপোলো হসপিটালে ভারতের প্রথম ইনভেসিভ ডবল কার্ভ কারেকশন সার্জারি
  • হাঁড়ের ক্ষয় রোগ : নীরব ঘাতক
  • আপনার সন্তানের চোখের যত্ন নিন
  • আয়োডিন স্বল্পতায় জটিল রোগ
  • শারীরিক শক্তি বাড়ায় যে খাবার
  • সুস্থতার জন্য পানি
  • রোগ প্রতিরোধে ডালিম
  • শীতে হাঁপানি এড়াতে কী করবেন
  • শীতে ঠোঁটের সুরক্ষা
  • এক জায়গায় বসে কাজ করার কুফল
  • Developed by: Sparkle IT