উপ সম্পাদকীয়

সিলেট জেলা বারের নির্বাচন ঐতিহ্য

মো. ওবায়দুর রহমান প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০১-২০২০ ইং ০০:০৯:৩০ | সংবাদটি ১৩২ বার পঠিত

সিলেট জেলা বার এসোসিয়েশন। এটা আইনজীবীদের নিজস্ব পরিচালিত একটি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান। মূলত: দেশের সকল জেলায় এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পেশাজীবী সম্প্রদায় হিসাবে আইনজীবীদের জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। এ জন্য ইহা একটি অত্যন্ত সুশৃংখল ও সর্বজন স্বীকৃত সংস্থা। জেলা পর্যায়ের বার এসোসিয়েশনগুলো সরাসরি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেও প্রত্যেকটি মফস্বল বারের আইনজীবীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় আঞ্চলিক ভাবে নিজস্ব সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে পরিচালনা করার অধিকার বার এসোসিয়েশন সংরক্ষণ করে। এই হিসেবে একটি অফিস, আইনজীবীদের প্রদেয় অর্থ দিয়ে আইনজীবীর মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যদেরকে বেনিভোলেন্ট ফান্ড হতে টাকা দেয়া, আপদকালীন ফান্ড হতে সাহায্য সহযোগীতা প্রদান, আইনজীবী মোয়াক্কেল কিংবা আইনজীবীদের পরস্পরের মধ্যে উত্থাপিত বিরোধ নিষ্পত্তি সহ সমুদয় কাজ বার এসোসিয়েশন করে থাকেন।
এক্ষেত্রে প্রতি বৎসর কিংবা কোনো কোনো বারে ২ বৎসরান্তে আইনজীবীদের গোপন ভোটের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত কমিটি করা হয়। কমিটিতে সভাপতি, সেক্রেটারী, যুগ্ম সেক্রেটারী সহ ১১ জন এক্সিকিউটিভ মেম্বার থাকেন। বৎসর শেষে সিলেট জেলা বারের সংবিধান অনুযায়ী প্রতি বৎসর শেষে পরবর্তী বৎসরের জানুয়ারি মাসের ২য় সপ্তাহে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সুদূর অতীত কাল থেকে প্রথানুযায়ী জেলা বারের এই সুন্দর সুশৃংখল মাধুর্যপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বৎসরের শেষ দিকে অক্টোবর-নভেম্বর মাস হতে আদালত পাড়ায় নির্বাচনী একটি আমেজ শুরু হয়ে যায়। ঐ সময় থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঘনিষ্ঠ কলিগজনদেরকে তাঁদের নির্বাচন করার ইচ্ছার কথা জানান দিতে শুরু করেন। সালাম কুশল বিনিময় বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞ নবীন আইনজীবীগণের জন্য তাঁদের আইন পেশার সময়কাল অনুযায়ী বিভিন্ন পদ নির্ধারিত থাকে। বড় বড় পদে বেশীদিন আইন পেশার বয়স থাকতে হয়। বড় পদের প্রার্থীগণের ভোট চাওয়া/প্রচারণা স্টাইল একটু গাম্ভীর্যপূর্ণ হয়। এ পর্যন্ত জেলা বারে জেলার প্রতিথযশা আইনজীবী, ব্যক্তিত্বগণ সভাপতি, সেক্রেটারী পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন যাদের অনেকই বর্তমানে পরলোকগত। প্রচার প্রচারণায় বিজ্ঞ জুনিয়র আইনজীবীগণ বিশেষ করে তাদের সিনিয়দের কাছে একটি কার্ড দিয়ে অত্যন্ত ভদ্রোচিত ও মার্জিত আচরণে ভোট চান। সিনিয়রগণও আদর স্নেহ মিশ্রিত ভঙ্গিতে রেসপন্ড করেন। একটি দেশের অনেক নির্বাচনে একটি বিরল মুহূর্ত কিংবা চিত্র বাস্তবতা না থাকলে তা অনুধাবন করা যাবে না।
জেলা বারের কমিটিতে একজন নির্বাচিত নির্বাচন কমিশনার থাকেন। সম্প্রতি সহ নির্বাচন কমিশনার পদ সৃষ্টি করে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানকে আরো বেগবান করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সর্ব সম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা বারের বিজ্ঞ এক বা একাধিক রিটার্নিং অফিসারের সাহায্য চান। সেক্ষেত্রে বারের সিনিয়র বিজ্ঞজন নির্বাচন অনুষ্ঠানে তদারকি করে থাকেন। জেলা বারের এই নির্বাচন যেকোন জাতীয় নির্বাচনের মতো নমিনেশন দাখিল করে তার শেষ তারিখ ধার্য করে বাছাই এর জন্য তারিখ দেন। এর সবগুলিই নির্বাচন কমিশন করে থাকেন এবং অত্যন্ত স্বচ্ছতা লক্ষণীয়। একটু হেরফের করার প্রয়াস থাকে না। এ বৎসরও এই স্বচ্ছতার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ জেলা বার প্রত্যক্ষ করেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ পদে নমিনেশন দাখিল করার মাত্র কয়েক মিনিট চলে যাওয়ার কারণে একজন প্রার্থী তার নমিনেশন পেপার দাখিল করতে পারেননি। ফলে ঐ পদে মাত্র একটি নমিনেশন থাকায় তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করার কথা। এহেনো দৃষ্টান্তটি সমাজ, দেশ এবং সমগ্র পৃথিবীর জন্য অনুস্মরণীয় এবং প্রশংসনীয়।
ভোট কাষ্টিং হয় ঠিক একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। জাতীয় যে কোন নির্বাচনের মত গোপনে লাল কাপডের আড়ালে আলাদা আলাদা বসার ব্যবস্থা করে গোপনে ভোটারদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা অত্যন্ত শোভনীয়। ভলান্টিয়ারগণ শৃংখলা রক্ষায় তৎপর থাকেন। ভোটের দিন প্রার্থীগণ জেলা বারের ২নং হলের নীচে লাইনে দন্ডায়মান থেকে তাদের নিজ নিজ প্রার্থীতা জানিয়ে ভোটারদের হাতে কার্ড দিয়ে আকুতি মিনতি যাচনা করার দৃশ্য অতীব সুন্দর। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার প্রথা চালু থাকায় ভোটার ও প্রার্থীদের একটা সামাজিক সৌহার্দের সুযোগ সবার কাছে বাঞ্ছনীয় বলে মনে হয়।
জেলা বারের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অর্থাৎ সফলতা ব্যর্থনায় আইনজীবীদের পারস্পরিক সু-সম্পর্কের কোনোরূপ ঘাটতি পরিলক্ষিত হয় না। সু-সম্পর্ক অটুট থাকে। আইনজীবীদের এই সহমর্মিতা ও সু-সম্পর্ক অটুট রেখে আইন পেশাকে ও আইনজীবীকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্টায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকেন বলে বিচারপ্রার্থী জনগণ বিজ্ঞ বিচারক এবং রাষ্ট্রের প্রত্যাশা এবং এ প্রত্যাশা পূরণ একমাত্র উপযুক্ত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার মাধ্যমেই সম্ভব বলে সচেতন ও অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।
লেখক : আইনজীবী, কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • বিদ্যুৎসাশ্রয় এবং আমাদের করণীয়
  • বেঁচে থাকি প্রাণশক্তির জোরে
  • রক্ত দিন জীবন বাঁচান
  • নদীকে না দেখলে নদীও আমাদের দেখবে না
  • করোনা ভাইরাসে থমকে গেল পৃথিবী
  • করোনা ভাইরাসে আমাদের করণীয়
  • বঙ্গবন্ধুর মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন
  • বঙ্গবন্ধু ও আমাদের শিশুরা
  • করোনা ভাইরাস ও দেশের অর্থনীতি
  • Developed by: Sparkle IT