সম্পাদকীয়

সড়কে ঝরছে প্রাণ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০১-২০২০ ইং ০০:১৪:৫৭ | সংবাদটি ১৪৩ বার পঠিত
Image

নতুন বছরের শুরুতে নানা ধরণের পরিসংখ্যান আসে পত্রপত্রিকায়। ফেলে আসা বছরের সফলতা-ব্যর্থতার পরিসংখ্যানের সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশিত হয় মানুষের অপমৃত্যুর পরিসংখ্যানও। আর অপমৃত্যুর অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা। গত বছরে (২০১৯) সড়ক দুর্ঘটনায় সারাদেশে অপমৃত্যু হয়েছে পাঁচ হাজার দু’শ ২৭ জনের। দুর্ঘটনা ঘটেছে চার হাজার সাতশ’ দু’টি। একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গত বছরে সংঘটিত দুর্ঘটনা এবং নিহতের সংখ্যা এর আগের বছরের চেয়ে বেশি। আর এসব দুর্ঘটনা বেশিরভাগই ঘটেছে মহাসড়কগুলোতে। উল্লিখিত সংস্থার মতে দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির অভাব। অনেক নির্দেশনা, আইন মানা হয় না। তাছাড়া, গত এক বছরে দেশের সড়কে যানবাহন বেড়েছে দশ লাখের বেশি। কিন্তু সেই অনুপাতে কর্তৃপক্ষের নজরদারি না বাড়ার কারণে দুর্ঘটনার হার বেড়েছে।
সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতি দিন। ঝরছে তাজা প্রাণ। আহত হচ্ছে অনেকে। সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল থামাতে সব ধরণের প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হচ্ছে। বলা যায়, সরকারের প্রবর্তিত আইন কিংবা সতর্কতাবাণী উপেক্ষা করে রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে চলছে যানবাহনগুলো এবং ঘটিয়ে চলেছে প্রাণঘাতি দুর্ঘটনা। ইতোপূর্বে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে কম গতির যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। তাছাড়া, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন দুর্ঘটনার হার বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর বাইরে রয়েছে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা। [সড়কের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের যথাযথ আইনের আওতায় নিয়ে আসা; দরকার এব্যাপারে কঠোর আইন প্রণয়ন। উল্লেখ করা যেতে পারে, সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করেও তা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারছে না সরকার। পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা এই আইনের বিরোধীতা করছে। তারা এই আইনের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে ধর্মঘটও করেছে।]
সড়কপথ নিরাপদ করতে হলে সচেতনতা দরকার সব মহলের। ফিটনেসবিহীন ভাঙাচুরা যানবাহন রাস্তায় নামানো যাবে না। অদক্ষ চালক লাইসেন্সবিহীন চালক যাতে যানবাহনের ড্রাইভিং সিটে বসে স্টিয়ারিং হাতে নিতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি দরকার বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধ করা, ওভারটেকিং বন্ধ করা। বন্ধ করতে হবে বিআরটিএ’র অনিয়ম-দুর্নীতি। বিআরটিএ’র দুর্নীতিবাজ কর্মচারী ঘুষের বিনিময়ে আনকোরা চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে দিচ্ছে, ভাঙাচুরা যানবাহনকেও দিয়ে দিচ্ছে ফিটনেস সার্টিফিকেট। এই অনিয়ম দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাছাড়া, ইচ্ছেকৃত-বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানোর জন্য চালক-হেলপারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদেরকে আনতে হবে আইনের আওতায়। তারা আইনের ফাঁক দিয়ে পার পেয়ে গেলে এভাবে বেপরোয়া ড্রাইভিং আর দুর্ঘটনা চলতেই থাকবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT