উপ সম্পাদকীয়

মকর সংক্রান্তি

সচ্চিদানন্দ কৃষ্ণ দাস (সজল) প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০১-২০২০ ইং ০০:১৫:২২ | সংবাদটি ২৩৮ বার পঠিত


বাংলা বর্ষপঞ্জিকার নবম মাসের শেষ দিন পৌষ পার্বন বা পৌষ সংক্রান্তি হিসেবে বঙ্গভূমিতে পালিত হয়। পৌষ পার্বন ভারতীয় উপমহাদেশে মকর সংক্রান্তি নামে পরিচিত। কারো কারো নিকট এটি সাকরাইন নামেও পরিচিত। সাকরাইন এর মূল তিনটি উপাদান হচ্ছে নাটাই, ঘুড়ি, সুতা অর্থাৎ এ উৎসবটি অনেকের কাছে ঘুড়ি উড়ানোর উৎসব হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে বিশেষ করে পুরান ঢাকায় ঘুড়ি উড়ানো উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। কেউ কেউ আবার এসময় নতুন ফসল (আমন) ঘরে তোলার আনন্দকে উৎসব হিসেবে পালন করে থাকেন। তখন ঘরে ঘরে আয়োজন করা হয় পিঠা, পুলি, মিষ্টান্ন সহ রকমারী সব খাবারের। তাই পৌষ সংক্রান্তি মানে বাড়তি একটা আমেজ, বাড়তি একটা আনন্দ বিরাজ করে সবার ঘরে ঘরে।
পৌষ সংক্রান্তি শুধু যে পিঠা পুলি খাওয়ার মধ্যেই¡ সীমাবদ্ধ তা কিন্তু নয়। সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে এ উৎসবটির গুরুত্ব অপরিসীম এবং তাৎপর্যপূর্ণ। জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে বারোটি রাশি আছে এবং তন্মধ্যে বারোটি সংক্রান্তি আছে। মকর হচ্ছে একটি রাশি। যার অধিপতি হচ্ছেন শনিদেব। এদিনে সূর্য নিজ কক্ষপথ থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে অর্থাৎ পিতার (সূর্যদেব) পুত্রের (শনিদেব) ঘরে প্রবেশ। তাই সূর্য এ দিনটিতে মকর রাশিতে প্রবেশ করে বলে তা মকর সংক্রান্তি নামে পরিচিত। আবার এই দিন থেকে সূর্য তিল তিল পরিমাণ বাড়তে থাকে অর্থাৎ আস্তে আস্তে দিন বড় হতে থাকে তাই এর আরেক নাম তিল সংক্রান্তি।
পৌষ সংক্রান্তি সম্পর্কিত মহাভারতে বর্ণিত তাৎপর্যে বলা হয়েছে, আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর পূর্বে অর্থাৎ দ্বাপরযুগে হস্তিনাপুরের রাজ্য নিয়ে কৌরব ও পান্ডব পক্ষের সেনাদের মধ্যে ধর্মযুদ্ধ সংঘটিত হয় ধর্মক্ষেত্র নামে পরিচিত কুরুক্ষেত্র ময়দানে। যুদ্বে কৌরব পক্ষের সেনাপতি ছিলেন গঙ্গাপুত্র ভীষ্মদেব আর পান্ডব পক্ষের সেনাপতি ছিলেন কুন্তিপুত্র অর্জুন। আঠার দিনব্যাপি চলা যুদ্ধের দশম দিনে মহাবীর অর্জুনের শরাঘাতে পিতামহ ভীষ্মদেব শরশয্যায় পতিত হন। কিন্তু ভীষ্মদেব তাঁর পিতা শান্তুর কাছ থেকে ইচ্ছামরণ বর লাভ করেছিলেন। তাই তিনি ভূমি স্পর্শ না করে আঠান্নদিন তীরবিদ্ধ অবস্থায় ছিলেন উত্তরায়ণ কালের অপেক্ষায়। কারণ দক্ষিণায়ন কালে দেবলোকের দ্বার বন্ধ থাকে। তাই উত্তরায়ণকাল শুরু হলে তিনি যোগবলে দেহত্যাগ করে দেবলোকে গমন করেন। যেহেতু পিতামহ ভীষ্মদেব ছিলেন নিঃসন্তান তাই তিনি নির্দেশ দিয়ে যান তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া যেন আর্য সমাজ করে থাকে। তাই বর্তমান অবধি পৌষ মাসের শেষ দিন অর্থাৎ পৌষ সংক্রান্তিতে খড় কুটো জড়ো করে ভীষ্মদেবের প্রতীকি শবদাহ করা হয়। যা গ্রামাঞ্চলে শিশু কিশোররা মেড়া মেড়ির ঘর বানিয়ে তা দাহ করে থাকে। তাই গঙ্গাপুত্র ভীষ্মদেব দক্ষিণায়ন কালে শরবিদ্ধ হয়ে উত্তরায়নকালে দেহত্যাগ করেছিলেন বলে এর আরেক নাম উত্তরায়ন সংক্রান্তি।উত্তরায়ন সংক্রান্তি থেকে দেবতাদের দিন শুরু আর দক্ষিণায়ন হচ্ছে দেবতাদের রাত। দক্ষিণায়নকালে দেবতারা থাকেন নিদ্রিত।
এছাড়া এ দিনে ভগীরথ গঙ্গা মাতাকে কপিল মুনির আশ্রমে আনয়ন করে তর্পন করেছিলেন পিতৃপুরুষদের উদ্বারের নিমিত্তে।পরবর্তীতে সে গঙ্গা গিয়ে মিলিত হন সমুদ্রের সাথে। এই দিন পূণ্য স্নানের দিন।তাই অনেকে এ দিনে গঙ্গা এবং সমুদ্রে স্নান করে পূণ্য অর্জন করে থাকেন।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রসঙ্গে হাইকোর্টের রুল
  • মাইক্রোপ্লাস্টিক ও পরিবেশ
  • সিলেটে হিজড়া ও বেদে গোষ্ঠীর উৎপাত
  • ইসহাক কাজল : মেহনতি মানুষের বন্ধু
  • ভয় করো না করোনাকে
  • একুশের চেতনা
  • পেপার বুক হোক নিত্যসাথী
  • ফেইসবুক আসক্তি
  • শান্তিময় সমাজ গঠনে যা প্রয়োজন
  • অনির্বাণ ওসমানী
  • ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ
  • একুশের অম্লান স্মৃতি
  • ভোটের প্রতি জনগণের অনীহা কেন?
  • ওসমানী : সৎসাহসী বঙ্গবীর
  • উৎপাদনের সঙ্গে দরকার সম্পদের যথাযথ ব্যবহার
  • নিঃসঙ্গতাই আজকের শিশুদের সমস্যা
  • সুন্দরবনকে ভালোবাসুন
  • প্রসঙ্গ : কানাইঘাট উপজেলা
  • খাদ্য অধিকার এবং মানবাধিকার
  • দিবসের আবরণে অপসংস্কৃতি
  • Developed by: Sparkle IT