উপ সম্পাদকীয়

নৈতিক অবক্ষয়

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০১-২০২০ ইং ০০:২১:০৭ | সংবাদটি ১০০ বার পঠিত

অবক্ষয় শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ক্ষয়প্রাপ্তি। মানবজীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে হলে কিছু গুণের প্রয়োজন হয়। আর মানুষের এই গুণগুলি যখনই লোপ পায় বা নষ্ট হয় তখনই শুরু হয় নৈতিক অবক্ষয়। কোনো একটি দেশের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক হলো যুব সমাজ। তারা কখনও পরাজয় মেনে নেয় না এবং পুরাতনকে নতুন করে গড়তে চায়। কিন্তু এই যুবসমাজ যখন খারাপ দিকে ধাবিত হয় তখন সমাজের মধ্যে নানা সমস্যা দেখা যায়। যুব সমাজের অবক্ষয়ের কারণে জাতীয় জীবনে নেমে আসে চরম দুঃখ-দুর্দশা, বিপর্যয় ও হতাশা।
যুবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থ-স্বাভাবিক পদচারণার মাধ্যমেই দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে উঠে। কিন্তু তারা যদি সৎ চারিত্রিক গুণাবলির সমাবেশ নিজেদের মধ্যে না ঘটায় তবেই তাদের নিজেদের অবনতির সাথে সাথে সমাজ তথা দেশের সার্বিক অগ্রগতি ও বাধাগ্রস্ত হয়। ব্যক্তি এবং সামাজিক জীবনে কোনো মানুষ কোনো কালেই সকলের শ্রদ্ধা ও বিশ্বস্ততা লাভ করতে পারে না, যদি তার নৈতিক মূল্যবোধ না থাকে। নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ স্বভাবতই উত্তম চরিত্রের হয়ে থাকে। তাই সৎ চরিত্রবান মানুষের প্রভাব পড়ে সমাজে, কোনো একটি বিশেষ কারণে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের পতন ঘটে না, নানাবিধ কারণে এ অবক্ষয়ের শিকার হয় মানুষ, সমাজজীবনে চরম দারিদ্র্য শিক্ষিত বেকারের কর্মহীনতা, ভোগবাদী মানুষের বিলাসী প্রতিযোগিতা, ধর্মীয় বিধি নিষেধকে গুরুত্ব না দেওয়া, মাদকাসক্ত হওয়া প্রভৃতি কারণে মানুষ তার নৈতিক মূল্যবোধ হারায়। সাম্প্রতিককালে আমাদের যুব সমাজের নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও উচ্ছৃঙ্খলতায় সকলেই ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন। তাদের উচ্ছৃঙ্খলতার কলঙ্কিত স্বাক্ষর পড়ে পরীক্ষা হলে, বাসে, পথে-প্রান্তরে, সমাজ জীবনের অলিতে-গলিতে। যুব সমাজ স্বভাবতই অগ্রসর হতে চায়, চায় কর্মব্যস্ততা। কিন্তু আজ তাদের সামনে অগ্রসর হওয়ার সব পথ রুদ্ধ, কর্মহীনতার অভিশাপে কেউ কেউ রাজনৈতিক ব্যক্তি বা দলের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে এবং রাজনীতিকদের স্বার্থবাদিতায় প্রভাবিত হয়ে তাদের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ শুরু করে। স্বভাবতই শৃঙ্খলা বোধ হারিয়ে হিংস্র রাজনৈতিক পরিমন্ডলে আশ্রয় নিয়ে যুব সমাজ উচ্ছৃঙ্খলতার কলঙ্কের বোঝা মাথায় বয়ে চলছে। তাছাড়া কুরুচি ও নৈতিকতার অবক্ষয়পূর্ণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীও যুবসমাজকে অসৎ পথে পরিচালিত করে।
ভৌগোলিকভাবেই বাংলাদেশ মাদকপ্রবণ দেশ। কেননা বাংলাদেশের অবস্থান গোল্ডেন ক্রিসেন্ট এবং গোল্ডেন ওয়েজের মধ্যবর্তী স্থান। এ কারণে এদেশে মাদকদ্রব্য সহজলভ্য। ফলে যুবসমাজের হাতের নাগালে চলে আসে মাদকদ্রব্য যা তাদেরকে মাদকাসক্ত হতে প্রলুব্ধ করে। মাদকাসক্ত হওয়ায় যুবসমাজের নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় ঘটে। ফলে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। দেশের উন্নয়নের অন্যতম অন্তরায় এই মাদকদ্রব্য। তাই দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য সর্বপ্রথম যুবসমাজকে মাদকের ভয়ঙ্কর ছোবল থেকে বাঁচাতে হবে। তা নাহলে তাদের সৃজনশীল শক্তি লোপ পাবে এবং তারা অন্ধকারে ধাবিত হবে। তাই দেশের উন্নয়নের জন্য মাদককে না বলতে হবে। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মাদক নিষিদ্ধ করতে হবে। তবেই সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
যুব সমাজকে একথা মনে রাখতে হবে যে, তাদের জীবনের এ সময়টাই হলো দায়িত্ববোধ বিকাশের কাল, সামাজিক কর্তব্যবোধে দীক্ষিত হওয়ার সময়। একটা সুন্দর কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের তাগিদ থেকে আমাদের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের জাগরণ জরুরি। যুবসমাজের এই নৈতিক অবক্ষয়রোধে আমাদের সকলেরই এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
লেখক ঃ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • শান্তিময় সমাজ গঠনে যা প্রয়োজন
  • অনির্বাণ ওসমানী
  • ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ
  • একুশের অম্লান স্মৃতি
  • ভোটের প্রতি জনগণের অনীহা কেন?
  • ওসমানী : সৎসাহসী বঙ্গবীর
  • উৎপাদনের সঙ্গে দরকার সম্পদের যথাযথ ব্যবহার
  • নিঃসঙ্গতাই আজকের শিশুদের সমস্যা
  • সুন্দরবনকে ভালোবাসুন
  • প্রসঙ্গ : কানাইঘাট উপজেলা
  • খাদ্য অধিকার এবং মানবাধিকার
  • দিবসের আবরণে অপসংস্কৃতি
  • শীতরে আনন্দ এবং বদেনা
  • বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান
  • ঢাকা সিটি নির্বাচন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
  • ভারতে সি.এ.এ, এন.আর.সি ও এন.পি.আর
  • বই পড়ি : সত্যকেই সত্য জানি
  • বাঙালি সংস্কৃতি
  • পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার
  • আসুন নিজেকে চিনি, বিশ্বাসী হই
  • Developed by: Sparkle IT