ইতিহাস ও ঐতিহ্য

জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদ

মোঃ দিলওয়ার হোসেন বাবর প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০১-২০২০ ইং ০০:২৪:১৪ | সংবাদটি ২১২ বার পঠিত

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার মহিমায় উদ্ভাসিত সীমান্তবর্তী জেলা ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জ। যুগে যুগে এখানে জন্ম নিয়েছেন অনেক স্বনামধন্য কীর্তিমান পুরুষ যারা স্বীয় কৃতকর্মের মাধ্যমে বৃহত্তর সিলেট তথা বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও প্রচার করেছেন বাংলাদেশের গৌরবগাঁথা ইতিহাস। আর তাঁদেরই একজন হলেন স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য জননেতা আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ।
স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ ১৯২২ সালের ১৫ জানুয়ারি তৎকালীন সুনামগঞ্জ মহকুমার জগন্নাথপুর থানার ভুরাখালী নামক এক অজ পাড়াগাঁয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শরিয়ত উল্লাহ এবং মাতার নাম নুরজান বিবি। নিভৃত পল্লীর সন্তান মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ নিজ গ্রাম ভুরাখালী থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এসে ভর্তি হন। সেখান থেকে মেট্রিক পাশ করে চলে আসেন সিলেট শহরের অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এম.সি কলেজে এবং এখান থেকে ১৯৪৮ সালে কৃতিত্বের সহিত স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। এম.সি কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি এম.সি কলেজ ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি এবং ১৯৪৪-৪৭ সাল সময়ে বৃহত্তর সিলেট জেলা মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে কাজ করেন। তিনি আসাম প্রাদেশিক মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও উক্ত দলের ওয়ার্কিং কমিটির মেম্বার ছিলেন।
১৯৪৮ সাল। তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ইতিহাস বিভাগের ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় তিনি ১৯৪৯-৫০ সালে নিখিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তখন শাহ আজিজুর রহমান ছিলেন উক্ত দলের সভাপতি। তিনি তখন পাকিস্তান আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য ও শিক্ষা সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৫১ সালে মেডিকেল ছাত্রদের আন্দোলন এবং পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক মূলনীতির প্রস্তাব বিরোধী আন্দোলনেও নেতৃত্ব দেন।
বাঙালি জাতির আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় মহান ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনে আব্দুস সামাদ সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে গ্রেফতার হয়ে তিনি কারাবরণ করেন। পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনে তাঁর অনন্য সাধারণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে সম্মানিত করা হয়।
১৯৫২-৫৩ সালের কথা। তখন আব্দুস সামাদ আজাদ একজন তুখোড় ছাত্রনেতা। গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। তিনি এই সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন। তখন সরকার বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ফলে তৎকালীন সরকার ১৯৫৩ সালে তার আইন ও এম.এ ডিগ্রী কেড়ে নিয়ে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে দেন।
১৯৫৩ সাল। এই সময় সুনামগঞ্জের মাহমুদ আলী, হাজী দানেশ ও আতাউর রহমান প্রমুখের নেতৃত্বে গঠিত হয় পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল (পিডিপি)। ইহা ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক ও তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক দল। আব্দুস সামাদ আজাদ তখন এই রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হন।
১৯৫৪ সাল। পূর্ব পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয় সাধারণ নির্বাচন। এই সময় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠিত হলে পিডিপি থেকে তিনি নির্বাচনে যোগদান করেন। এই সময় আব্দুস সামাদ আজাদ সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা-জগন্নাথপুর নির্বাচনী এলাকা হতে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। বঙ্গবন্ধু তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৫৫-৫৭ সাল পর্যন্ত আব্দুস সামাদ আজাদ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৫৭ সাল। অনুষ্ঠিত হয় কাগমারী সম্মেলন। এই সম্মেলনের পর আব্দুস সামাদ আজাদ মৌলানা ভাসানীর সাথে এক হয়ে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে আসেন এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি ন্যাপের সহ-সাধারণ সম্পাদক, দলের পার্লামেন্টারী বোর্ডের সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির মেম্বার নির্বাচিত হন। এমতাবস্থায় আব্দুস সামাদ আজাদ ১৯৫৯ সালে তৎকালীন সরকার কর্তৃক কারারুদ্ধ হয়ে ১৯৬২ সালে মুক্তি লাভ করেন। পরবর্তীতে দাঙ্গা বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুনরায় তিনি ১৯৬৪ সালে কারারুদ্ধ হয়ে আট মাস কারাভোগ করেন।
পরবর্তীতে আব্দুস সামাদ আজাদ ১৯৬৭ সালে এনডিএফ এর প্রাদেশিক সম্পাদক এবং পিডিএম এর আঞ্চলিক শাখার কোষাধ্যক্ষ এবং ডাকের সদস্য হিসেবে তৎকালীন আয়ূব বিরোধী সকল আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৯ সালে আওয়ামী লীগের নীতি ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আবারও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগদান করে তৎকালীন আয়ূব বিরোধী সকল আন্দোলনে আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদের সাথে প্রথম সারিতে অবস্থান করে বঙ্গবন্ধুর একজন সহকর্মী হিসেবে তাঁর পাশে থেকে কাজ করেন।
১৯৭০ সাল। পূর্ব পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয় সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনে আব্দুস সামাদ আজাদ সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা-জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা নির্বাচনী এলাকা হতে আওয়ামী লীগের একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসাবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গভীর রাত্রে নিরীহ ঘুমন্ত বাঙালির ওপর পাকিস্তান বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ শুরু হলে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে এদেশে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। এই সময় বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর আব্দুস সামাদ আজাদ এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন।
১০ই এপ্রিল অস্থায়ী মুজিবনগর সরকার গঠনের পিছনেও ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদায় তিনি ছিলেন ঐ সরকারের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ভ্রাম্যমাণ রাষ্ট্রদূত। বিচারপতি আবু সায়্যিদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য হিসেবে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ঐ সময় আব্দুস সামাদ আজাদ তাঁর অসীম সাহসিকতা, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ রাষ্ট্রদূত হিসেবে বহির্বিশ্বে ভ্রমণ করে পাকিস্তানী বাহিনীর অমানুষিক অত্যাচার ও বর্বরোচিত লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের করুণ কাহিনীর কথা প্রচার করে বাংলাদেশের মানুষের ন্যায়সঙ্গত দাবি স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠন করে এক ঐতিহাসিক ও গুরুদায়িত্ব পালন করে মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেন।
১৯৭১ সালের ১৩-১৬ মে হাঙ্গেরীর রাজধানী বুদাপেষ্টে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বশান্তি সম্মেলন। এই সম্মেলনে আব্দুস সামাদ আজাদ বাংলাদেশের পক্ষে অংশ গ্রহণ করে তিন সদস্য বিশিষ্ট দলের নেতৃত্ব দেন। ঐ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ, শক্তিশালী ও ঐতিহাসিক বক্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সংহতি এবং জাতিসংঘের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ঐ সম্মেলনে তিনি বিশ্ব বর্ণবৈষম্য কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করলে ১৩ জানুয়ারি গঠিত হয় প্রথম আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসভা। ঐ মন্ত্রী সভায় তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত করা হলে তিনি বিশ্বের এক প্রান্ত হতে আরেক প্রান্তে ভ্রমণ করে যুদ্ধ বিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের জন্য সাহায্য আনয়ন এবং স্বীকৃতি আদায়ের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৩ সাল। বাংলাদেশে প্রথম বারের মত অনুষ্ঠিত হয় সাধারণ নির্বাচন। ঐ নির্বাচনে আব্দুস সামাদ আজাদ সুনামগঞ্জ-২ ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচন করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে দু’টি আসনেই জয় লাভ করেন এবং তার নেতৃত্বে সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করলে তিনি ঐ সরকারের কৃষিমন্ত্রী নিযুক্ত হয়ে দেশের কৃষি উন্নয়নে সাফল্যের সহিত দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই সময় আব্দুস সামাদ আজাদকে এক সপ্তাহ গৃহবন্দী করে রাখার পর ২২ আগস্ট তাঁকে গ্রেফতার করে জাতীয় চার নেতার সহিত তাকেও কারাগারে বন্দী রাখা হয়। সামরিক আদালতে দন্ডিত হয়ে কারাভোগের পর ১৯৭৯ সালে তিনি মুক্তি লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তন করলে তাঁর পাশে থেকে দলকে সুসংগঠিত করতে, জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার কায়েম করতে বার বার স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েছেন এবং সর্বশেষ ’৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
১৯৯১ সাল। স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ঐ নির্বাচনে আব্দুস সামাদ আজাদ সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে ৫ম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ঐ সংসদে জননেত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা এবং আব্দুস সামাদ আজাদ ছিলেন বিরোধী দলীয় উপনেতা। আব্দুস সামাদ আজাদ সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা হিসেবে ৫ম সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকার তথা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করে একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানের পরিচয় দিয়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন।
১৯৯৬ সাল। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আব্দুস সামাদ আজাদ তাঁর নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচন করে আবারও ৭ম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করলে আব্দুস সামাদ আজাদ ঐ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হন। এই সময় একজন সফল কূটনৈতিক হিসেবে অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে ভারতের সহিত গঙ্গার পানি বন্টন সমস্যা সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সমস্যাসমূহের দ্রুত সমাধান করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।
পরবর্তীতে ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং তার পূর্ববর্তী নির্বাচনী এলাকা হতে জীবনের শেষ বারের মত সংসদ সদস্য হয়ে পার্লামেন্টে এসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে গেছেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে আব্দুস সামাদ আজাদ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনীত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ ছিলেন জাতির জনকের একজন পরীক্ষিত, বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ট সহচর। রাজনীতি ছিল তাঁর নেশা ও পেশা। জাতির জনকের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত সহচর বলে জননেত্রী শেখ হাসিনাও ছিলেন তাঁর প্রতি অত্যন্ত বিশ্বস্ত, আস্থাভাজন ও নির্ভরশীল। তাই তাঁকে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে ধরে নেওয়া হত। পিতৃ-মাতৃহীন জননেত্রী শেখ হাসিনাও সবসময় আব্দুস সামাদ আজাদকে পিতৃতুল্য জ্ঞান করতেন। তিনিও শেখ হাসিন কে স্বীয় কন্যার মতই দেখতেন এবং অনেক সময় তাঁকে মা বলেই সম্বোধন করতেন। শেখ হাসিনার অবর্তমানে তিনি দলীয় প্রধান ও সরকার প্রধানের দায়িত্বও পালন করেছেন।
আব্দুস সামাদ আজাদ বাংলাদেশের রাজনীতির এক অন্যতম দিকপাল ও কিংবদন্তী পুরুষ। তাঁর রয়েছে সুদীর্ঘ ছয় দশকের বেশি বর্ণাঢ্য ও ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবন। তিনি ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। ৮ম জাতীয় সংসদের একজন প্রবীণ সদস্য থাকা অবস্থায় ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল এই মহান ও প্রবীণ রাজনীতিক মৃত্যুবরণ করেন। এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বার্ধক্যে উপনীত হয়েও সকল গণমুখী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে অবস্থান করে এদেশ ও জাতির জন্য কাজ করে গেছেন। পার্থিব লোভ লালসার মোহে পড়ে, দলীয় পদ কিংবা মন্ত্রীত্বের টানে কখনও তিনি দলীয় নীতি ও আদর্শকে বিসর্জন দেন নাই। এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নাম চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে। এদেশের জনগণ চিরদিন তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বালাগঞ্জের বাতিঘর বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়
  • বঙ্গবন্ধু ও গান্ধীজী
  • সিলেটের দ্বিতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন ‘মেশিনম্যান’
  • একটি যুদ্ধ : একটি শতাব্দী
  • বালাগঞ্জের প্রাচীন জনপদ শিওরখাল গ্রাম
  • ভাটিপাড়া
  • সময়ের সোচ্চার স্বর সোমেন চন্দ
  • বঙ্গবন্ধুর সিলেট সফর ও কিছু কথা
  • বায়ান্নতেই লিখেছিলেন ‘ঢাকাই কারবালা’
  • জীবনের শেষক্ষণে অর্থ-স্বর্ণ সবই জড়পদার্থ
  • কমরেড বরুণ রায়
  • বঙ্গবন্ধু ও রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
  • নারী ভাষাসৈনিকদের কথা
  • মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবীর ওসমানী
  • ভাটির বাতিঘর সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ
  • মাওয়ের লংমার্চের ৪ বছর পর সিলেটিদের লং মার্চ
  • শহীদ মিনারের ইতিকথা
  • সিলেটের লোকসংগীত : ধামাইল
  • পর্যটক ইবনে বতুতার কথা
  • বই এল কোথা থেকে?
  • Developed by: Sparkle IT