শিশু মেলা

ভূত মামা

জাহিদা চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০১-২০২০ ইং ০১:০৯:৪১ | সংবাদটি ৭৭ বার পঠিত

ঝন্টু মন্টুদের এক মামা ছিলেন। নাম তার কেবলা। সবাই তাকে ভূত মামা বলে ডাকতো। ভূত মামার ইয়া বড় বড় দুটি চোখ, ইয়া লম্বা গোঁফ, মাথায় ঝাঁকড়া চুল, গায়ের রং কালো, পেটটি ছিলো ঢোল এর মতো বড়।
ছোট ছেলে-মেয়েরা এ জন্য তাকে ভয় পেতো। তিনি আদর করে কাউকে কাছে ডাকলে কেউ তার কাছে আসতো না, ভূত মামা বলে সবাই তাকে ক্ষেপাতো।
ভূত মামা সব সময় গাছে চড়ে বসে থাকতেন এবং কুট কুট করে এটা সেটা খেতেন। প্রায় সময় বনে বাদাড়ে ঘুরে বেড়াতেন।
ভূত মামাকে কেউ পছন্দ করতো না বলে, তার মনে ভীষণ কষ্ট। কিন্তু ভূত মামা ছোটদেরকে খুব ভালোবাসতেন।
একদিন ভূত মামা ঝন্টু মন্টু ও তার বন্ধুদের ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কেনো আমাকে ভয় পাও, আমি তো তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি। তখন সবাই একসাথে বলে উঠলো মামা, তোমার ইয়া বড় মোটা শরীর, লম্বা গোঁফ, বড় বড় চোখ এসব দেখে মনে হয় সত্যিই তুমি একটা ভূত, তাই তো তোমাকে আমরা ভয় পাই। ভূত মামা তখন বললেন ওরে দুষ্টু ছেলেরা, তোমাদের একেবারে বুদ্ধি নেই। মানুষ কি কখনো ভূত হয়?
তোমাদের সাথে মজা করবার জন্যই তো আমি এমন করে দাঁড়ি, গোঁফ রেখেছি। তখন সবাই সমস্বরে বলে, ভূম মামা তুমি আসলেই চালাক। একদিন বিকেল বেলা ঝন্টু-মন্টুরা সবাই খেলছে, খেলছে তো খেলছেই, সন্ধ্যা হয়ে আসছে, অথচ কারো ঘরে ফেরার নাম নেই। ভূত মামা তখন ওদিক থেকে আসছিলেন, তিনি চুপি চুপি তাদেরকে ভয় দেখাবার জন্য মাঠের পাশের একটি গাছে ওঠে মোটা গলায় সবার নাম ধরে ডাক দিলেন এবং লাফ মেরে গাছ থেকে নেমে তাদের সামনে দাঁড়ালেন।
যেই না ভূত মামার লাফ মেরে গাছ থেকে পড়া অমনি প্রাণ পণ ছুটে যে যার ঘরে গিয়ে হাজির। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সবাই বললো আজ সত্যিই একটা ভূত আমাদেরকে ধাওয়া করেছে।
ঝন্টু-মন্টুর মা বাবা সবাই তখন হেসে খুন।
ভূত মামা যে ঘরে শুতেন ঝন্টু-মন্টুরা ওখানে গিয়ে তাদের মামাকে খুঁজছিলো। ভূত মামার কোন সারা শব্দ না পেয়ে, তারা তখন বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখে ওখানে তিনি না ঘুমিয়ে লম্বা একটি বালিশ পেতে চাদর মুড়ি দিয়ে রেখেছেন। ওরা তখন বললো আজ ভূত মামা আসুক, উনার চালাকী আমরা বের করবো।
ভূত মামা ঐ সময়ই তার ঘরে ঢুকলেন। এসে দেখেন ঝন্টু-মন্টু তার জন্য বসে অপেক্ষা করছে। তাদের দেখে জিজ্ঞেস করলেন তোমরা এখানে কি করছো?
ওরা বললো মামা তুমি এভাবে বিছানায় বালিশ পেতে কোথায় গিয়েছিলে? মামা বললেন তোমরা যে আমাকে ভূত মামা বলো, তাই তো আজ তোমাদের ফাঁকি দিয়ে ভূতের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম।
ঝন্টু-মন্টু বললো মামা তোমার মাথায় এতো বুদ্ধি? কিন্তু মামা আজ তোমার কারিগরি বিদ্যা ধরা পড়ে গেছে। ভূত মামা একটু চিন্তা করে বললেন কিভাবে?
ওরা বললো মামা খেলার মাঠের ঐ বড় গাছটা থেকে লাফ দিয়ে পড়া ভূতটি যে ‘তুমি’ তা আর আমাদের বুঝতে বাকী নেই। ভূত মামা তখন জোড়ে হেসে উঠলেন।
ভূত মামা ভালো খাবার খেতে খুব পছন্দ করতেন, মজাদার কোন খাবার পেলে তিনি আর কাউকে না দিয়ে সব খাবার একাই খেয়ে ফেলতেন।
একবার তিনি খেজুরের রস খাবেন বলে খেজুর গাছে উঠলেন, যেই না খেজুর গাছে উঠা অমনি তার মোটা দেহ নিয়ে ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেলেন।
ভূত মামার মাটিতে পড়ার শব্দ শুনে সবারই দৌড়ে ঘর থেকে বের হলেন। ভূত মামা এভাবে তার মোটা দেহ নিয়ে মাটিতে পড়ে আছেন দেখে সবাই একেবারে হতভম্ব। সবাই তখন টানা হেঁচড়া করে কোন রকমে সেখান থেকে ভূত মামাকে নিয়ে আসলেন।
ভূত মামা এ পাড়া ও পাড়া হেঁটে বেড়াতেন। ভূত মামার পায়চারীতে পাড়ার ছেলেমেয়েরা জড়ো সড়ো থাকতো। যারা ভূত মামার এ কান্ড কারখানা জানতো না, তারা বলতো রাতের বেলা সত্যি সত্যিই ভূত নামে।
রাতের বেলা পায়চারী করতে করতে একদিন ভূত মামা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসে রইলেন। পাড়ার সবাই ভাবলো ভূত মামা বোধ হয় কোথাও চলে গেছেন। সবাই ভূত মামাকে খুঁজতে থাকলো।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর ভূত মামার খবর যখন পাওয়া গেলো তখন সবাই একসাথে ভূত মামাকে দেখতে এলো। কিন্তু এ ভূত মামা যে ঝন্টু-মন্টুর সত্যিকারের মামা তা সবাই জানতো না।
তিনি সবাইকে ডেকে বললেন তোমরা সবাই এতোদিন আমাকে ভূত মামা বলে জানতে, কিন্তু আমি ভূত নই, আমি তোমাদের সবার মামা।
সবাই তখন বললো মামা তোমার এ বেশ-ভূষা ছেড়ে ভালো বেশ ধরো। আমরা সবাই তোমার সাথে থাকবো। তুমি আমাদের সবার অতি আদরের প্রিয় মামা হয়ে আমাদের সাথে থাকবে, আমাদের নিয়ে বেড়াবে, ঘুরবে, খেলবে।
আমরা সবাই তোমার কথা শুনবো। মন দিয়ে পড়ালেখা করবো। আমরা যখন লেখাপড়া করে বড় হবো, তখন তোমাকে ভালো ভালো খাবার কিনে দেবো, তুমি পেট ভরে খাবে, আমাদের জন্য দোয়া করবে মামা। তুমি খুশী থেকো মামা, ভালো থেকো।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT