শিশু মেলা

বেয়াক্কল শিয়াল

চন্দ্র শেখর দেব প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০১-২০২০ ইং ০১:১১:০৪ | সংবাদটি ৮৪ বার পঠিত

একবার হলো কি, হঠাৎ দিনে দুপুরে, রাতের আঁধারে হাজার হাজার কুত্তা বিলাই ইন্দুর চিকা অন্য এলাকা থেকে এক গ্রামে ঢুকতে লাগলো। এই গ্রামের কিছু জীব বুঝতে পারলো ষড়যন্ত্র করে এখানে ঢুকানো হচ্ছে এবং একদিন ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেবেই। মিন মিনে গলায় শুধু ফিস ফাস কোন প্রতিবাদ নাই। তখন কোন বিরোধিতা কেউ ঐক্য হয়ে কাজ করলো না। তবে ধারণাটা কিন্তু সত্যি করেছিল। এই গ্রামের জীবজন্তু নিজেরাই ঠিকমত খেতে পারে না। বাস করতে পারে না। অতিরিক্ত ভিড়ে গাদাগাদি। অনেক দূরের কিছু শিয়ানা শিয়ালগুলো মিলে দিল লোভের টোপ। অমনি গপাগপ টপাটপ গিলে ফেললো। এক রোখা শিয়াল একটুও গ্রামের ভবিষত চিন্তা করলো না। ক্ষমতা পেলে যা হয় আর কি। ‘হাম ছে বড় কোন হ্যায়’। মাঝে মধ্যে কোন কাজ করলে সাথে সাথে গৃহ পালিত কুত্তা বিলাই সারা গ্রাম জুড়ে চিৎকার চেচামেচি শুরু করে দেয়। যেন আমাজান জঙ্গল বানিয়ে ফেলেছে। এদিকে আগত কুত্তা বিলাই নিরাপদে থাকা খাওয়ার সুবাদে হাজার হাজার জন্ম দিয়ে পুরো গ্রামটাই নিজের করে নিয়েছে। শিয়াল গোষ্ঠী বসে বসে জিহ্বা বাহির করে তাকিয়ে দেখছে। স্থানীয় গ্রামের জীবেরা কিছুই করতে পারে না। তাদের বুনিয়াদি গ্রাম উদবাস্তুরা ইচ্ছামত ব্যবহার করে ফায়দা লুটছে। এ যেন যৌতুকের মাগনা পাওয়া সম্পদ। অন্যান্য দূর দূরান্তের গ্রামের বুদ্ধিমানরা দেখল। এই লোভি শিয়াল নানা উপাধি পাওয়ার লোভে গ্রামের ক্ষতি করতে একটুও বুদ্ধির পরিচয় দিল না। এর কুফল দীর্ঘমেয়াদি ভোগ করে নিরীহ জীবেরা মরবে। কিন্তু নিজের সম্পদ রক্ষা করতে অবাঞ্চিত কুত্তা বিলাইকে তাড়িয়ে দিতে সাহস শক্তি কাজে লাগাতে চায় না। নিজেই ঠিকমত খেতে পারে না। আগের মত নানা খাদ্য এখন আর নাই। পেটে যদি খাদ্য না থাকে শিয়াল কেন উপাধির লোভে এত বড় ক্ষতি করলো। অন্য গ্রামে যে সব শিয়ালরা লোভ দেখিয়ে নাকের আগে মূলা আর মুখের আগে কলা ঝুলিয়ে দিয়ে দূরে বসে সবাই হুয়াক্কা হুয়া মজা করে গান গাইছে। প্রকৃতি নির্ভর গ্রামের জীবেরা নিজের কর্ম দ্বারাই জীবন যাপন করে। বেভুতা শিয়াল জানে গ্রামের জীবেদের যেমন খুশি ব্যবহার করে ক্ষতি করা যায় পরম্পরা। কোন প্রতিবাদ করে না, গোমরা মুখে খেয়ে না খেয়ে সব মেনে নিতে বাধ্য হয়। বিভিন্ন বড় বড় গ্রামের নাম ডাক শুনে সেও লোভি হয়ে গেল। যুগের বিবর্তনে নিজের হেমিয়ত অওকাত সব ভুলে গেল। ভাবখানা এমন যে দূরের গ্রামগুলো তাকে মহা প-িত উপাধি দিবেই দিবে। কিন্তু উন্নত জাতের গ্রাম তার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে হাসতে হাসতে লুটোপুটি খেতে লাগল। এখন মনের দুখে যেখানেই যায় সবাই কাঁচকলা খেতে দেয়। যদিও লজ্জা শরম শিয়ালের কোন জন্মেই ছিল না। বাস্তব সত্য হলো উন্নত জাতে উন্নত জাতকেই মূল্যায়ন ও সম্মানীত করে। মাঝে মধ্যে দালালরা তাকে পাম দিয়ে অনেক কথা বলে খুশি করে। এটা শুনা মাত্র আদা জল খেয়ে প্রচার করতে লাখ লাখ হাড্ডি মাছের কাটা দালালরা গিলে ফেলে।
আর সবাইকে বিরক্ত করতেই থাকে। এই গ্রামের জীবেরা বড়ই অভিশপ্ত। শিয়ালের বদ নজর থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। শুধু আকাশ পানে চায়। নিজের পানে একবারও তাকায় না, তাকাতে জানে না। জন্ম জন্মান্তর ধরে। নিজে মরছে তো মরছেই জিন্দা লাশের মত। তার আগামী দিনকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে। ভাবে অন্য জীব এসে সব কিছু ঠিক করে দিবে। সে নিজে কিছুই করবে না। এ ধরনের ইচ্ছায় কুত্তা বিলাই কোন দিনও উন্নতি করতে পারে না। এটাকে বলা যায় জানতে অজান্তে নিজের নাক কেটে অন্যের নাকে জুড়ে দেয়া। এখন নিজেই ঠিকমত শ্বাস নিতে পারছে না দোয়ারে দোয়ারে ধর্না দিচ্ছে বাঁচাও বাঁচাও। কার কি ঠেকা পড়েছে বেয়াক্কলকে আকল দিয়ে কেউ আকল করে না নাশ। বেয়াক্কলের লোভের ভুলে হয়ে যায় গোটা গ্রামের সর্বনাশ। এবার ফান্দে পড়িয়া শিয়াল লুকিয়ে লুকিয়ে কেবল কান্দে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT