ধর্ম ও জীবন

জিয়ারতে মক্কা-মদীনা

সৈয়দ আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০১-২০২০ ইং ০১:২৩:২৮ | সংবাদটি ২২৩ বার পঠিত
Image

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর স্মৃতিধন্য ও মুসলমানদের পবিত্র নগরী মক্কা-মদিনায় দ্বিতীয় বারের মত উমরা করতে গিয়েছিলাম গত ৭ই ডিসেম্বর/১৯। উমরা পালন শেষে পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীর বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের জন্য গিয়েছিলাম। নবী করিম (সা:) এর স্মৃতিধন্য পবিত্র মক্কা নগরীর স্থানগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নি¤েœ তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।
ইসলামের সর্বোৎকৃষ্ট, পবিত্র ও সম্মানিত স্থান হল মসজিদুল হারাম। সৌদি আরবে মক্কা নগরীতে তার অবস্থান। সারা বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠী নামাজের সময় কাবা শরীফের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করে থাকে। হজ্ব ও উমরা করার জন্যও মুসলমানদের মসজিদুল হারামে যেতে হয়। উক্ত মসজিদুল আল-হারামের অনলাইন তথ্য মতে বর্তমান মসজিদ আল হারামে প্রায় নয় লক্ষ মুসল্লি এক সাথে নামাজ আদায় করতে পারে তবে হজ্বের সময় প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। হজ্বের সময় উপস্থিত হওয়া হাজিগণের জামাত পৃথিবীর বৃহত্তম জামাত বা মানব সমাবেশ হয়ে থাকে।
কুরআন হাদিসে বর্ণিত মতে ইব্রাহীম (আ:) ও ইসমাইল (আ:) আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক পবিত্র এই কাবাগৃহটি নির্মাণ করেছিলেন। নির্মাণ শেষে হযরত ইব্রাহীম (আ:) কাবাগৃহের পূর্ব কোণে ‘হজরে আসওয়াদ’ নামক পবিত্র পাথরটি স্থাপন করেছিলেন। সেই পবিত্র পাথরে হাজিগণকে চুম্বন করতে হয়। বর্তমানে বাইতুল্লাহর চারপার্শে যে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে তার নাম ‘মসজিদ আল হারাম’। এই পবিত্র মসজিদে এক রাকাত নামাজ আদায় করতে সক্ষম হলে, এক লক্ষ রাকাতের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। সৃষ্টির প্রথম গৃহ বা বাইতুল্লাহ শরীফের পাশেই ‘মাকামে ইব্রাহীম’ কাচের আবরণের বাক্সে আবদ্ধ একটি পাথর। এই পাথরের উপর দাড়িয়ে ইব্রাহীম (আ:) কাবাগৃহ নির্মাণ করেছিলেন বলেই পাথরে উনার পায়ের চিহ্ন রয়েছে। কাবাগৃহ সায়ি করার সময় তা বারবার দৃষ্টিতে পড়ে থাকে। পবিত্র বাইতুল্লাহ এবং চতুর্পাশে নির্মিত মসজিদে হারাম ছাড়াও সাফা-মারওয়া পাহাড়, যমযম কূপ, মিনা, মুজদালিফাকেও হেরেমের সীমার মধ্যে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। সাফা ও মারওয়া কাবাগৃহের পাশেই দু’টি পাহাড়। বর্তমানে মসজিদে হারাম শরীফ সম্প্রসারণের কারণে উক্ত পাহাড়দ্বয় মসজিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইব্রাহীম (আ:) এর স্ত্রী বিবি হাজেরা (আ:) এর শিশুপুত্র ইসমাইল (আ:) এর জন্য পানির সন্ধান করতে উক্ত পাহাড়দ্বয়ে সাত বার দৌড়াদৌড়ি করেছিলেন। ইসলামে সেই ঘটনার অনুকরণে উক্ত পাহাড়দ্বয়ে হজ্ব ও উমরা করার সময় হাজিগণকে সায়ি করতে বা দৌড়াতে হয়। আর সেই সময়ে সৃষ্ট এই যমযম কূপের পানি যা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পানি, আজও মানব কল্যাণে কাজ করে থাকে। যমযম কূপ আল্লাহ তালার কুদরতের অপরূপ ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। যা বর্তমানে সাধারণ মানুষের দেখার জন্য উন্মুক্ত নয়।
মক্কায় অবস্থান কালে আমাদের জন্য থাকার হোটেলটি ইব্রাহীম খলিল রোডের মূল সড়কের পাশেই ছিল। ফলে পবিত্র হারাম শরীফে প্রবেশ করতে ১৫/২০ মিনিট সময় লাগতো। বর্তমান মসজিদুল হারামের উন্নয়ন কাজ চলমান, তবে দিনের বেলায় কাজ চলতে দেখা যায়নি। আমরা ২০১৭ সালে উমরায় গিয়ে যে বিল্ডিংগুলো আশেপাশে দেখেছিলাম তা এবার গিয়ে দেখা যায়নি। সেখানে ঈষড়পশ ঞড়বিৎ (ঘড়ি টাওয়ার) সহ নতুন কয়েকটি হোটেল বা বিল্ডিং তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে তৈরী ঈষড়পশ ঞড়বিৎ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঐড়ঃবষ টি দেখতে অতি সুন্দর ও চমৎকার। সুউচ্চ হোটেলটি বাইতুল্লাহর ভিতর থেকেতো বটেই মক্কা নগরীর বাইরে থেকেও সৌন্দর্য দেখা যায়। মসজিদুল হারাম শরীফের স্উুচ্চ ৯ (নয়)টি মিনার যেমন হারাম শরীফের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে তৎরূপ ঈষড়পশ ঞড়বিৎ বিল্ডিং এর নির্মাণশৈলী হারাম শরীফ ও মক্কা নগরীর সৌন্দর্য অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। মক্কা নগরীর পবিত্রতা, নিরাপত্তা এবং সৌন্দর্য্য যেন আল্লাহ প্রদত্ত এক ধরনের নিয়ামত ও বরকত।
বাইতুল্লাহ ও মসজিদুল হারামের ভিতরে মুসল্লিদের ভীড় যেমন লেগে থাকে তদরূপ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় ইব্রাহীম খলিল রোডসহ আশেপাশের সকল রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে মানুষ নামাজে দাঁড়িয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ২৪ ঘন্টা খোলা থাকা মসজিদুল হারামে মানুষ ২৪ ঘন্টাই নামাজে রত থাকতে দেখা যায় অথচ সূর্য উদয়, অস্ত ও দ্বিপ্রহর অর্থাৎ নামাজ পড়া হারাম সময়টিও কেউ তোয়াক্কা করে না বা সময় জ্ঞান লক্ষ্য করে না, জানিনা তারা কল্যাণ চাইতে গিয়ে নিজেদের জন্য অকল্যাণ ডেকে আনছে কিনা, তা অবশ্য আল্লাহই ভালো জানেন। অথচ প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজেই দেশী বিদেশী হাজি ও স্থানীয় মিলে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জামাত হয়ে থাকে। তবে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সময় ৪/৫ মিনিট কাবাগৃহ প্রদক্ষিণ (সায়ি করা) বন্ধ থাকে এবং ফরজ নামাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আবার কাবাগৃহ প্রদক্ষিণ শুরু হয়। আদিকাল থেকে এভাবেই প্রদক্ষিণ বা সায়ি করা চলছে, অনন্তকাল পর্যন্ত চলতে থাকবে ইনশাআল্লাহ। হজ্ব ও উমরা করার সময় প্রতি হাজি সাহেবকেই কাবাগৃহ এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয় সাতবার করে প্রদক্ষিণ ও দৌড়ানো অবশ্য কর্তব্য। তবে আমি একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি যে, উমরা করার সময়ই যদি লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল পরিলক্ষিত হয় তবে প্রতি বছর হজ্বের সময় প্রায় ৪০/৫০ লক্ষাধিক মানুষের স্থান কিভাবে হয়ে থাকে, তা অবশ্য বুঝা মুশকিল, যা আল্লাহর রহমত ও সাহায্য ছাড়া চিন্তা করাও কঠিন। এখানেই প্রমাণিত ‘লা ইলাহ ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, মোহাম্মদ (সা:) তার বান্দা ও রাসুল।
ইতিমধ্যে আমরা একদিন মহানবী (সা:) এর বাল্যস্মৃতির শহর তায়েফ গিয়েছিলাম। তায়েফ এলাকায় ছিল প্রচন্ড শীত। তাই সফরটি ততটা আরামদায়ক হয়নি। আমরা বিশ্বনবী (সা:) এর দুধমাতা বিবি হালিমা (রা:) বাড়ি দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু হতাশ হয়েছিলাম এই দেখে যে, সেখানে হালিমা (রা:) বাড়ির কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। শিশুকালে বেড়ে ওঠা আমাদের প্রিয় নবী (সা:) এর কোনো স্মৃতি চিহ্নই সেখানে পাওয়া যায়নি। যে পাহাড়ে বিবি হালিমা (রা:)-এর বাড়ি ছিল এবং যে পাহাড়ের পাদদেশে গাছের নিচে নবীজি (সা:)-কে শিশুকালে প্রথম ছিনা ছাক করা হয়েছিল সেখানেও কোনো স্মৃতি চিহ্ন দেখা যায়নি বা অবশিষ্ট নেই। জনমানুষ শূণ্য বিরান পাহাড়ি এই এলাকায় মাঝে মধ্যে পাহাড় টিলার, ফাঁকে ফাঁকে দু’একটি দরজা জানালা বন্ধ পাকাঘর ছাড়া আর কিছুই দেখা যায়নি, বা দেখার মত কিছু নেই।
আমরা সকাল ১০টার দিকে তায়েফ থেকে ফিরছিলাম, ফিরার পথে পাহাড়ের বুক ছিরে তৈরী করা বিশেষায়িত আঁকাবাঁকা পাহাড়ঘেষা ছয় লেনের রাস্তার উপর থেকে নিচের দিকে তাকালে নিচের গভীর খাদ দেখে শরীর হিম শীতল হয়ে যায়। গাড়ি থেকে বাইরে তাকালে আরও অবাক হতে হয়, কেননা গাড়ি থেকে নিচের রাস্তাগুলো আঁকাবাঁকা সরু নালার মতো মনে হয়, আর চলন্ত গাড়িগুলোকে বাচ্চাদের খেলনা গাড়ির ন্যায় দেখা যায়। শরীর হিম করা এমন পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে চলাচল ও হাঁটাচলা আসলেই এক ধরনের এডভেঞ্চার। মক্কা নগরী থেকে পাহাড়ের বুক চিড়ে ১২০ কিলোমিটার দূরত্বের তায়েফের রাস্তা শুধু সড়ক পথই নয় এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যেতে উড়াল সেতুও রয়েছে। ছয় লেনের রাস্তা হওয়ায় এবং রাস্তাগুলো পাহাড়ের গায়ে ক্রমান্বয়ে পেচিয়ে পেচিয়ে রিং এর মত হওয়ায় পবিত্র মক্কা তায়েফ-রাস্তাকে রিং বোর্ড বলা হয়ে থাকে। রাস্তায় মানুষজনের চলাচল না থাকলেও গাড়ি থেকে চমৎকার সব রিসোর্ট, পার্ক আর অবকাশ যাপন কেন্দ্রসমূহ দেখা গেছে। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যেতে রয়েছে ক্যাবলকার (আমাদের দেশের ছাতকের রোপওয়ের মত), যা দ্বারা স্থানীয় বাসিন্দারা প্রয়োজনে যাতায়াত করে থাকে। রাস্তার পাশে এবং রাস্তার রেলিংসমূহের মধ্যে অনেক জায়গায় বানর দেখা যায়। মানুষের দেয়া খাবার খেতেই বানররা রাস্তায় এসে ভীড় করে থাকে।
তায়েফ নগরীর প্রবেশ মুখে ‘রাসাওকাজ’ নামক স্থানে রয়েছে বড় বড় ফলমূলের দোকান, খেলাধুলার স্থান ও বিনোদন এরিয়া, সেখানে মরুভূমির জাহাজ খ্যাত উট, কিছু সময়ের জন্য ভাড়ায় চড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ইতিহাসের ঘটনা থেকে জানা যায় এই নন্দিত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ তায়েফ নগরীতে হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর দুধমাতা হালিমা (রা:) এর বাড়িতে তিনি দুই বছর লালিত পালিত হয়েছিলেন আবার নবুয়ত প্রাপ্তির পর নবীজি (সা:) তায়েফ গিয়েছিলেন ইসলাম প্রচারের জন্য, কিন্তু তায়েফবাসীরা ইসলাম গ্রহণের পরিবর্তে নবীজিকে নিষ্ঠুরভাবে অত্যাচার নির্যাতনের মাধ্যমে রক্তাক্ত করে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। অথচ, নির্যাতিত হয়ে দশদিন পর ফিরে যাওয়ার সময় তায়েফবাসীর হেদায়েত ও মঙ্গলের জন্যই দোয়া করেছিলেন। তাইতো আজ সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ১৬ হাজার ফুট উপরে থেকেও তায়েফবাসী এখন প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ সৌদি আরবের একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল। নবীজি (সা:) এর নেক দোয়ার বরকতেই আজ তারা সমৃদ্ধ, উন্নত ও শান্তিময় অঞ্চল হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত।
মক্কা নগরী থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত নবীজি (সা:) এর স্মৃতিধন্য পাহাড়ের নাম জাবালে নূর বা আলোর পাহাড়। এই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি গুহার নাম গায়রে হেরা বা হেরা গুহা। নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্ব থেকেই নবীজি (সা:) পাহাড়ের এই গুহাটিতে ইবাদত বন্দেগী ও ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। এখানে সর্বপ্রথম ওহী নাজিল হয়েছিল। সূরা ‘আলাক’ নাজিলের মাধ্যমেই কুরআর নাজিলের সূচনা এবং ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব। তাই জাবালে নূর পাহাড় এবং হেরা গুহা ইসলামের ঐতিহাসিক স্থাপনার অন্যতম নিদর্শন। ২ হাজার ১০০ ফুট উচু এই আলোর পাহাড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মুমিন বান্দা দেখতে যান। দর্শনার্থীবৃন্দ উক্ত পাহাড়ে আরোহণ করে গুহাটিতে দু’রাকাত নফল নামাজ পড়ে থাকেন। আমি, আমার স্ত্রী ও ছোট ছেলেসহ উক্ত পাহাড়ে উঠেছিলাম এবং গুহার ভিতরে দু’রাকাত নামাজ পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।
হযরত মোহাম্মদ (সা:) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় মসজিদে হারাম থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত জাবালে সাওর বা (সুর পাহাড়) এর একটি গুহায় আত্মগোপন করেছিলেন। সাওর পাহাড়টি মক্কা নগরীর দক্ষিণ দিকের কুদাই নামক স্থানের হিজরা এলাকায় অবস্থিত। পাহাড়টির উচ্চতা ৪৮০০ ফিট বা ৪৫৮ মিটার। জাবালে সুর বা সুর পাহাড়ের গুহায় প্রিয় নবীজি (সা:) হযরত আবু বকর (রা:)-কে সাথে নিয়ে উক্ত পাহাড়ের গুহায় তিনদিন অবস্থান করেছিলেন। নবীজি (সা:) কে খোঁজে মক্কার শত্রুরা যখন গুহার নিকটবর্তী এসেছিলেন তখন আবু বকর (রা:) ভয় পেয়েছিলেন কিন্তু নবীজি (সা:) ছিলেন নির্ভীক আত্মবিশ্বাসী ও অটল। তিনি আল্লাহর সাহায্যের ওপর ছিলেন সম্পূর্ণ ভয়হীন, আস্থাশীল ও দুশ্চিন্তাহীন। তাইতো তিনি আবু বকর (রা:) বলেছিলেন, ‘চিন্তা করো না, আমরা দু’জন মাত্র নই, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’। যে পথে নবী করিম (সা:) মদিনায় হিজরতের জন্য যাত্রা করেছিলেন, সে রাস্তাটির বর্তমান নাম হিজরা রোড। সেখানে একটি হিজরা নামে মসজিদও রয়েছে। আমরা উক্ত পাহাড়ের কাছে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ নিচে থেকেই দেখেছিলাম।
পবিত্র মক্কা নগরীর পথে প্রান্তরে নবীজি (সা:) নবীন ধর্ম ইসলাম প্রচারের জন্য ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। তাই মক্কা নগরীতে প্রচুর ঐতিহাসিক ইসলামী নিদর্শন রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা সেসব ঐতিহাসিক ইসলামিক স্থানগুলো ঘুরে দেখে থাকেন। হজ্ব বা উমরা পালন করতে এসে কেহ এসব স্থানগুলো পরিদর্শন করে না, এমন হাজির সংখ্যা নগন্য। অন্যান্য হাজিদের ন্যায় আমরাও উমরা শেষে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছিলাম জাবালে রহমত তার মধ্যে অন্যতম। জাবালে রহমত পাহাড়টি মক্কা নগরীর পূর্ব দিকে প্রায় নয় কিলোমিটার দূরে আরাফাত ময়দানে অবস্থিত পাহাড়টিকে জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড় বলা হয়ে থাকে। আমাদের প্রিয় নবী (সা:) জিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখে লক্ষাধিক সাহাবীর উপস্থিতিতে উক্ত রহমতের পাহাড়ের পাদদেশে উটের উপর আরোহণ করে ঐতিহাসিক বিদায় হজ্বের ভাষণ দিয়েছিলেন। পাহাড়টি গ্রাণাইড পাথর দ্বারা সুন্দরভাবে সুসজ্জিত রয়েছে। তার উচ্চতা প্রায় ৭০ মিটার। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই রহমতের পাহাড়েই হযরত আদম (আ:) ও বিবি হাওয়া দুনিয়াতে প্রথম মিলিত হয়েছিলেন। আমার ছেলে, তার মা ও আমি উক্ত পাহাড়ে উঠেছিলাম এবং দুনিয়াবাসীর শান্তির জন্য রহমতের পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে রহমতের পাহাড়ের মালিকের নিকট দোয়া চেয়েছিলাম। নির্ধারিত সময় শেষ হলে কাবা শরীফ ও মক্কা নগরী থেকে সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ ও আশীর্বাদ কামনা করে নবীজি (সা:) রওজা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদিনায় চলে আসলাম।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT