পাঁচ মিশালী

জাফলং-শ্রীপুরে একদিন

মো. ফয়ছল হোসেন প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০১-২০২০ ইং ০০:৩৭:১৯ | সংবাদটি ১৮৩ বার পঠিত

কয়েক দিন ধরে সিলেটে প্রচন্ড শীত পড়েছিল। দেশের কোনো কোনো জায়গায় তো সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ডও করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। যা হোক কন কনে শীতের প্রচন্ড তীব্রতায় সিলেটের মানুষ যখন কাতর ঠিক তখনি আমরা কয়েকজন মিলে শীতকে উপভোগ করতে সবাই এক হয়ে চলে গেলাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জাফলং ও শ্রীপুর পার্কে। সিলেটে দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে জাফলং সবার পছন্দ। তাই বারবার জাফলং যেতে মন চায়। প্রকৃতি কন্যা হিসাবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং। প্রকৃতি কন্যা ছাড়াও জাফলং বিউটি স্পট, পিকনিক স্পট, সৌন্দর্যের রাণী- এসব নামেও পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিত। একেক ঋতুতে জাফলং একেক রকম রূপের প্রকাশ ঘটায় যা পর্যটকদেরকে ভ্রমণের জন্য সারাবছরই আগ্রহী করে রাখে। জাফলং- তিন অক্ষরের এই নামটির মধ্যে কেমন যেন ভ্রমণের একটা গন্ধ লেগে আছে। জাফলং আবহমান কাল ধরে সিলেটে পর্যটকদের কাছে অতি প্রিয় একটি নাম। জাফলং-এর অনিন্দ্য সৌন্দর্য নিয়ে বলার ভাষা নেই। এক কথায় অপরূপ, অসাধারণ। সিলেট এর গোয়াইনঘাট উপজেলার ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা প্রকৃতির দানে রূপের পসরা সাজিয়ে আছে জাফলং।
সিলেটের পিয়াইন নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা জাফলং এর অপূর্ব সৌন্দর্য বিমোহিত করে পর্যটকদের। ভ্রমণ পিয়াসীদের কাছে জাফলং এর আকর্ষণই যেন আলাদা। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে আরোও আকর্ষণীয়। সীমান্তের ওপারে ইন্ডিয়ান পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম ধারায় প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রীজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিম পানি, উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য ও শুনশান নিরবতার কারণে এলাকাটি পর্যটকদের দারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে। সিলেট নগরী থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলং এর অবস্থান। জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা মওসুমের সৌন্দর্যের রূপ ভিন্ন। শীতকালে জাফলং এর রূপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে উঠে। জাফলংয়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের কথা সারাদেশে ছড়িয়ে আছে। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীরাও ভিড় করতে থাকেন জাফলংয়ে। জাফলং এখন দেশের সেরা পর্যটন স্পট। জাফলং এর কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান লালাখাল, তামাবিল, জৈন্তাপুর, সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা। কিছু কিনতে বা খেতে চাইলে দরদাম করে নিন। ভারতীয় বর্ডার কাছেই, তাই সীমানার ব্যাপারে সতর্ক থাকুক। জাফলং এর পানিতে নামার সময় সতর্ক থাকুন।
জীবনে চলার পথে মানুষ যখন হাঁপিয়ে উঠে ঠিক তখনি প্রয়োজন হয় একটু প্রশান্তির। আর এই প্রশান্তি মানুষ খুঁজে প্রায় প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে। কারণ সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ ভ্রমণপিপাসু। যে দিকে তাকাই এ যেন সৃষ্টিকর্তার নিজ হাতে গড়া একটি নিখুঁত ছবি। এখন চলছে শীতকাল। আর শীতকালে সবচেয়ে যে কাজ সবাই করেন সেটা হলো পিকনিক। কিন্তু পিকনিক করার জন্য অনেক সময় সঠিক সময় ও সঠিক জায়গা খুঁজে পাওয়া যায়না। তাই আধ্যাত্মিক নগরী হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের পাশেই রাজারগলি এলাকার উদ্যোগে রাজারগলি সমাজ কল্যাণ সংঘ ও রাজারগলি ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ইউ.কে এর যৌথ আয়োজনে বার্ষিক বনভোজন উপলক্ষে জায়গা ঠিক করা হয় জাফলং-শ্রীপুর। প্রথমে প্রোগ্রাম করা হয়েছিল এ বছরের প্রথম তারিখে ঘুরতে যাওয়ার। বিভিন্ন কারণে ১ জানুয়ারীর পরিবর্তে ১১ জানায়ারী করা হয়। আমরা চেয়েছিলাম আরো কয়েকদিন পরে যেতে কিন্তু আমার প্রবাসী বন্ধু মাহবুব আহমদ এর তাড়াহুড়ার কারণে ১১ তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এই ভ্রমণে তার অবদান অনেক। ভ্রমণ উপলক্ষে ৬ জন্য সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। কমিটির দায়িত্ব দেয়া হলো মাহবুব আহমদ (আহবায়ক), মো: ফয়ছল হোসেন, মকসুদ আহমদ, নাছির উদ্দিন ফয়ছল, তামিম হাসান সায়েম, নাহিদ হোসেন। বার্ষিক বনভোজনের জন্য সবাইকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য বলা হয়। রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ ছিল ৭ জানুয়ারি। অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেন। যারা যাবার সবাই নাম রেজিস্ট্রেশন করেন। যতো দিন ঘনিয়ে আসলো নামের লিস্ট লম্বা হতে লাগলো। আমিসহ প্রায় ৪৮ জনের মতো হয়ে গেলাম। কিন্তু শেষ মেষ আমরা ৩৬ জন গিয়েছিলাম।
পৃথিবীর সবচেয়ে সৌন্দর্য মন্ডিত প্রকৃতি কন্যা জাফলং অবলোকন করতে। ধন সম্পদ-খাদ্যে, প্রাচুর্যে ভরা আমাদের এই বাংলাদেশ। আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে এক সাথে ৩৬ জন ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে ঘুরে আসতে পেরেছি। আমি কমিটির সকল সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই বিশেষ করে সভাপতি কবির চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোজাহীদ হোসেন মুনিম ভাইকে এমন একটি ভ্রমণের উদ্যোগ নেয়ার জন্য।
আগের দিন বলা হয়েছিল-সবাই যেন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ঠিক সাড়ে ৮টার মধ্যে গাড়িতে থাকাতে। সে জন্য আমি তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখছিলাম জাফলং-এ ঘুরাঘুরি করছি। হঠাৎ চোখ খুলে দেখি ঘড়িতে পৌণে ৮টা বাজে। তখন মোবাইল ফোনে তাকিয়ে দেখি আমার বন্ধু ইকবাল সরকার কল দিচ্ছে। কল ধরতে সে বললো কী খবর, রেডি তো? তারপর তাড়াতাড়ি করে ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে গাড়ির পাশে গিয়ে দেখি দুই একজন বাদে সবাই চলে এসেছেন। তখন আমার আরেক বন্ধু আবুল খায়ের মাহবুব ফোন দিচ্ছে কোথায় তোমরা, আমি বললাম আমরা তো গাড়ির পাশে তুমি কোথায় তখন সে বলে আমি তো যেতে পারবো না। আমি বললাম ভাব লইয়না তাড়াতাড়ি চলে আস গাড়িতে এখনি গাড়ি ছেড়ে দেবে। ততক্ষণে আমরা সবাই গাড়িতে উঠে বসলাম। খায়েরের মতো আরো অনেক আমাদের সাথে যেতে পারেননি। কয়েকজন প্রিয় মানুষ ছিলেন যাদেরকে আমরা আমাদের সাথে নিতে পারিনি তারা হলেন মাসুদ আহমদ আফতাব, সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন জাহাঙ্গীর, এস.এ সাদাত, মো. ইলিয়াস হোসেন, জেবুল হোসেন ফাহিম, নিয়াজ খাঁন, মুহিন, কাকন, অমরুল ইসলাম লিটন, সাব্বির আহমদ, ইভান চৌধুরী, আরেফিন ফিদা, ফাসি, অলি। তাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করছি। উনার আমাদের সাথে থাকলে ভ্রমণটি আরো আনন্দের হতো। ঘড়িতে তখন ৯টা বেজে গেছে। ঠিক ৯টা সময় আমরা ৩৬ জন নিয়ে জাফলং শ্রীপুর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম।
এই আনন্দ ভ্রমণে আমাদের সাথে যারা ছিলেন, সাধারণ সম্পাদক মোজাহীদ হোসেন মুনিম, আব্দুল ওদুদ চঞ্চল, মঞ্জুর, সোহেল মাহবুব, শহিদ, মাসুদ, মাহবুব আহমদ, মো. ফয়ছল হোসেন, ইকবাল সরকার, বদরুল ইসলাম রুমান, সৈয়দ রাজন আহমদ, মকসুদ আহমদ, সাকিল, নাছির উদ্দিন ফয়ছল, আফজাল আহমদ, তামিম হাসান সায়েম, নাহিদ হোসেন, শফিউল আলম, আরিফ আহমদ, মুরাদ, সেলিম বখ্ত, হেলাল আহমদ, সৈয়দ কামরান আহমদ, জসিম উদ্দিন, রফিক বখ্ত সোহেল, সুলতান কবির, ফাহিম আহমদ, আদনান, আবির, ইসলাম উদ্দিন, আরিফ, তাহমীদ, তাহা, ইফতি, সাইহান, নয়ন।
গাড়িতে উঠতেই হাতে হাতে চলে আসে খাবারের প্যাকেট। সকালের হালকা নাস্তা। কিন্তু প্যাকেট খুলতে মনে হলো এটা তো দুপুরের খাবারে মতো। এ নাস্তার অবদানে জন্য একজনকে ধন্যবাদ দিতেই হয় তিনি হেলাল আহমদ। হেলালের সৌজ্যনে এতো সুন্দর সকালের নাস্তা খেয়েছিলাম। আর আমাদের সবার জন্য এক বোতল করে খাবার পানি দিয়েছিলেন মঞ্জুর ভাই। আরেক জনের কথা বলতেই হয় তিনি ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ইউ.কে এর সভাপতি সেলিম হোসেন। তিনি আমাদের আনন্দ ভ্রমণের জন্য অনেক সহযোগিতা করেছেন। এলাকার আরো অনেকেই আমাদের সাথে না গিয়েও সহযোগিতা করেছেন। মুনিম ভাই, মঞ্জুর ভাই, চঞ্চল ভাই, মাসুদ ভাই, মাহবুব, মুরাদ, বদরুল ইসলাম রুমান, সৈয়দ রাজন আহমদ, মকসুদ, শাকিল তারা অত্যন্ত কষ্ট করেছেন আমাদের আনন্দ দেয়ার জন্য। কার কি প্রয়োজন, কে কে এলো না। ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। অনেকদিন পর এভাবে একসাথে সাইকে পেয়ে বাঁধভাঙা আনন্দে ভেসেছি আমরা।
রাজারগলি থেকে আম্বরখানা হয়ে গোয়াইনঘাট রোড দিয়ে সারিঘাট হয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। রাস্তার দুই ধারে সারি সারি গাছ আর এঁকে বেঁকে চলা রাস্তা অপরূপ সুন্দর লাগছিল। কিছুক্ষণ পরপর শিশির ভেজা সরষে ক্ষেত দেখছিলাম। রাখালের গরু নিয়ে যাওয়া। গরুর পাল। সারিবদ্ধভাবে যাচ্ছিল দেখতে কী যে সুন্দর লাগছিল। যত সামনে এগুচ্ছিলাম ততই সুন্দর লাগছিল। আমরা যখন সারিঘাটের ব্রিজের উপর দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন নদীকে অপূর্ব লাগছিল। নদীর উপর সাজানো ছোট ছোট নৌকাগুলো সৌন্দর্যকে আরো দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। তারপর সামনে এগিয়ে যেতে যেতে আরও চোখে পড়লো পাহাড়। দূর থেকে মনে হয় পাহাড়ের সাথে যেন মেঘের মিতালী। যত কাছাকাছি যাচ্ছিলাম মনে হচ্ছিল আকাশটা যেন আজ ছুঁয়েই ফেলব। আমরা যখন জাফলং গিয়ে পৌঁছলাম তখন বেলা ১১ টা বেজে খানিকটা উপরে। ততক্ষণে আস্তে আস্তে কুয়াশাও কিছুটা কমে গিয়েছিল। তারপর আমরা প্রথমে গিয়ে নামলাম জাফলং বাজারে। বাস থেকে নেমে সবাই মিলে কয়েকটি সেলফি তুলে নিলাম। এখন তো সেলফির যুগ। সেলফি তুলার পর জিরো পয়েটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। কেউ কেউ হেঁটে চললেন। সবাইকে ১ ঘণ্টা সময় দেয়া হয়েছিল। মোজাহীদ হোসেন মুনিম ভাই, মনজুর ভাই ও আব্দুল ওদুদ চঞ্চল ভাই বললেন, যারা সাঁতার জানেনা তারা যেন পানিতে না নামেন। এখানে পানির গভীরতার তারতম্য থাকতে পারে। সবাই সাবধানে চলাফেরা করবেন। সবাই তখন দেরি না করে পানিতে নেমে পড়লাম। চারিদিকে ক্লিক ক্লিক ছবি তোলার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। আমি নিজেরও অনেক সেলফি নিলাম। যে যতো বেশি পারছে ছবি তুলছেন কেউ মোবাইলে, কেউ ক্যামেরায় ছবি তুলছেন, কারণ এখন ফেইসবুক ও সেলফির দুনিয়া। তাই তো যতো বেশি ছবি ততো বেশি আপলোড দেয়া যাবে। স্বচ্ছ পানির মধ্যে নানা রঙের পাথর। সারি সারি গোছানো পাথরের সাথে হাঁটু সমান পানি। কিছু সময় এখানে না কাটিয়ে গেলেই নয়। অপলক দৃষ্টিতে শুধু চেয়ে রই। একদিকে পানি আর পাথরের সারি তো অন্যদিকে পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি। এক পাশে যেমন ভারতীয়রা তাদের সীমানা সৌন্দর্যকে উপভোগ করছেন অন্যদিকে আমরা বাংলাদেশীরাও আমাদের সীমানার মধ্যে জাফলং-এর সৌন্দর্য আর পানির স্রোত নিয়ে অপার তৃপ্তিতে মজে উঠি। বারবার শুধু একথাই বলবো, এখানে না আসলে বলে বোঝানো অসম্ভব যে কতটা স্মরণীয় এই অভিজ্ঞতা।
অনেকক্ষণ ঘুরাঘুরির পর কিছুটা ক্লান্তি বোধ করছিলাম। এদিকে প্রখর রৌদ্র তো আছেই। দেখতে দেখতে অনেক সময় পেরিয়ে গেল। আমার চেয়েছিলাম আরেকটু বেশি সময় এখানে সময় কাটাতে কিন্তু সবাই গাড়িতে উঠে অপেক্ষা করছেন আমাদের জন্য। তাড়াতাড়ি পানি থেকে উঠে কাপড় চেইঞ্জ করে গাড়িতে উঠে বসলাম। বাস এখন যাবে শ্রীপুরের উদ্দেশ্যে। তখন ঘড়িতে বাজে ৩টা। শ্রীপুরে ঢুকতেই আমাদের খাবারের গাড়ি এসে উপস্থিত। ভ্রমণে গরম গরম খাবারের মজাই আলাদা তাই আমাদের সাথে খাবার না এনে ৩টার সময় খাবার নিয়ে আসতে সিলেটে একটি সিএনজি রিজার্ভ করা হয়েছে। সব খাবার রেডি ছিল শুধু সালাদ আমরা এখানে বানিয়ে ছিলাম। আমরা বসে খাবার জন্য কাপড় বিছিয়ে একটু বিরতি দিয়ে ফুবটল খেলতে লাগলাম। বনভোজনে যাওয়ার একটি উদ্দেশ্য ছিল যে, সেখানের শ্রীপুরে ফুটবল ম্যাচ খেলবো। তরুণ গ্রুপ ও সিনিয়র গ্রুপের মধ্যে একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আমরা দু’ ভাগে ভাগ হয়ে গেলাম। এক পাশে তরুণ গ্রুপ আর এক পাশে সিনিয়র গ্রুপ। আমরা তাড়াতাড়ি কাপড় চেইঞ্জ করে মাঠে নেমে পড়লাম। আমি ছিলাম তরুণদের দলে। ফুটবল ম্যাচটি প্রায় ১ ঘণ্টা চললো। আমরা ০ আর সিনিয়ররা ১টি গোল করেন। জাফলেং পাথরের মধ্যে ছবি তোলতে গিয়ে আমি পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলাম। হাত ও পায়ে খুব ব্যথা পেয়েছিলাম। আমরা ব্যথা নিয়েও খেলে গিয়েছিলাম। সবাই অনেক দিন পর খেলেছিলাম খুব ভালো লাগছিল। খেলা শেষে এই অনিন্দ্য সুন্দর জায়গায় দুপুরের খাবার সেরে নিলাম।
সবাই আবার ফিরে এসে গাড়িতে উঠে বসলাম। শ্রীপুর থেকে সিলেটের শাহজালাল মাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার পরই পুরোপুরি বুঝা গেল শীত এসে গেছে। এতো আনন্দের মধ্যে শীত যেন কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল। ঠান্ডা বাতাসের হিমহিম পুলক অবারিত স্রোতের মতো ছুঁয়ে দিচ্ছিল চোখ, মুখ, কান। তারপর ধীরে ধীরে গাড়িটি শ্রীপুর থেকে সিলেট মাজারের উদ্দেশ্যে চলে এলো। এভাবে আমাদের আনন্দ ভ্রমণটি স্মৃতির মণিকোঠায় জাগরুক হয়ে রইল। কোন ভ্রমণই আমাদের শেষ হয়েও শেষ হয় না। বারংবার আমাদের সেই একি স্থানে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে। কারণ, আমরা যে প্রকৃতিকে ভালবাসি। প্রকৃতিও আমাদের ভালবাসে। আমাদের জাফলং ভ্রমণ তারই একটি অংশ ছিল। কথা দিলাম সময় এবং সুযোগ পেলে তোমার কাছে আবার ফিরে আসব অপরূপ সৌন্দর্যের জাফলং।

শেয়ার করুন
পাঁচ মিশালী এর আরো সংবাদ
  • লজিং জীবন
  • বঙ্গবন্ধু : এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের দৃষ্টিতে
  • একটি কুসুম ফলে
  • শিশুদের ভালবাসায় সিক্ত দানবীর
  • কবিতা
  • হায়রে বাংলা ভাষা
  • স্বাধীন
  • ৬৪টি জেলা ঘুরেছেন সিলেটের ফাহিম
  • জন্মভূমির টানে
  • তাজমহল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা
  • বঙ্গবন্ধু : এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের দৃষ্টিতে
  • বঙ্গবন্ধু : এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের দৃষ্টিতে
  • প্রকৃতির হাতছানি
  • সাংবাদিক জিয়া খালেদের চলে যাওয়া
  • ব্যারিস্টার নাজির ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন সম্মাননায় ভূষিত
  • প্রাচীন বাংলার রাজধানী পানামনগরে একদিন
  • বঙ্গবন্ধু : এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের দৃষ্টিতে
  • কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ
  • চলতি পথের সরস বচন
  • লিথিসি’র ‘ভাইবে রাধারমণ’-এ মুগ্ধ শিলচর
  • Developed by: Sparkle IT