উপ সম্পাদকীয়

পুলিশ জনগণের বন্ধু

মো. মনজুর আলম প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০১-২০২০ ইং ০০:১২:২৮ | সংবাদটি ৮২ বার পঠিত

পুলিশ একটি দেশের জনগণের সেবক। পুলিশের সেবা আমরা প্রতিদিনই পেয়ে থাকি। গ্রাম শহর কিংবা মেট্রোপলিটন এলাকা সর্বত্রই পুলিশ নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তাই পুলিশকে জনগণের বন্ধু নির্দ্ধায় বলা যায়। তবে পুলিশ সম্বন্ধে নেতিবাচক কিছু কথা থাকলেও পুলিশ এখন আগের চেয়ে অনেক গ্রহণ যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং পুলিশ সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। পুলিশের সাহায্য, সহযোগিতা ছাড়া সমাজ পুরোপুরি অচল। পুলিশের নেতিবাচক দিক বা সমালোচনা নয় বরং পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করা আমাদের সকলের উচিত। এক সময় পুলিশের বেতন ভাতা খুবই কম ছিল। সংসারের হিসাব নিকাশ করে পুলিশ একটু বাকা পথে চলে টাকা উপার্জনের চেষ্টা করত। কিন্তু বর্তমানে সেই অবস্থা নেই। পুলিশ এখন অনেক বেশি বেতন-ভাতা পাচ্ছে। যে টাকা পুলিশ বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পাচ্ছেন তা সংসার চালাতে আর হিমশিম খেতে হয় না। সুতরাং পুলিশ এখন আগের মতো নেই। পুলিশের আগের বদনাম অনেকখানি মুছে গেছে।
আমরা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখি পুলিশ কিভাবে জনগণের সেবায় নিয়োজিত। কোনো স্থানে মারামারি বা দাঙ্গা বেধে গেলে সংশ্লিষ্ট থানায় ফোন করার সাথে সাথে পুলিশ সেখানে গিয়ে হাজির। দুই পক্ষের মধ্যে যখন তুমুল মারামারি চলছে সে মারামারি থামাতে পুলিশ আপ্রাণ চেষ্টা করে। এসব দাঙ্গা থামাতে পুলিশ তার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংঘর্ষ স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কখনো কখনো কোনো কোনো পুলিশ সদস্য আহত হতে শুনা যায়। প্রাণপণ চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে এলাকায় শান্তি, শৃঙ্খলা বজায় রাখে এ পুলিশ। শুধু দাঙ্গা থামিয়ে শেষ নয়, উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে মীমাংসারও চেষ্টা করে পুলিশ। যদি মীমাংসা না হয় তবে মামলা গ্রহণ করে পুলিশ তা আদালতে পাঠিয়ে দেয়। তবে পুলিশ চেষ্টা করে জনগণ যাতে শান্ত থাকে, মামলা মোকদ্দমা না হয়, কোনো এলাকায় যাতে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি না হয় তার জন্য পুলিশ সদা তৎপর। রাত জেগে জেগেও পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। ঠান্ডা কিংবা গরমে পুলিশ তার ইউনিফর্ম পরিধান করে দায়িত্ব পালনে সদা ব্যস্ত থাকে। কয়েক বছর আগেও দেখতাম রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলে পুলিশের উপর আক্রমণ হচ্ছে। অনেকে পুলিশকে আক্রমণ করছে। পুলিশ মূলত পরিস্থিতি শান্ত রাখতে বা দুই দলের মধ্যে যাতে হাতাহাতি না হয় সে লক্ষে সেখানে উপস্থিত থাকে। কিন্তু শান্তি রক্ষায় গিয়ে পুলিশকে নাজেহাল হতে হয়। আমরা কি একটু চিন্তা করতে পারি উত্তপ্ত অবস্থায় নালিশ আমরা কার কাছে করি। যেকোনো অস্থির পরিস্থিতিতে পুলিশের সাহায্য না পেলে কি হবে। পুলিশকে তো ফোন করার সাথে সাথে পুলিশ এসে হাজির। সুতরাং পুলিশকে বন্ধু না বলে উপায় নেই। আর এখনো ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে পুলিশের জরুরি সেবা পাওয়া যায়। কেহ কারো জমি দখল করছে, কেহ মোবাইল ফোনে বিরক্ত করছে, কারো ঘর কিংবা দোকান চুরি হয়েছে। ইত্যাদি ইত্যাদি এসব কিছুর সুষ্ঠু সমাধানের জন্য আমরা পুলিশের শরণাপন্ন হই এবং পুলিশও আমাদের সাহায্য সহযোগিতা করে সমাধান দিয়ে থাকে। পুলিশ আমাদের বন্ধু একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ আমাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। এস.বি, সি.আই.ডি, ডি.বি, মেট্রোপুলিশ, জেলা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, পি.বি.আই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, আর্মড পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশিং, গ্রাম পুলিশ ইত্যাদি নাম বা শাখার মাধ্যমে পুলিশ আমাদের সবাইকে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকে।
এস.বি : এ শাখার পুলিশ সাধারণত ভি.ভি.আই.পি প্রটোকলে কর্মরত থাকে। ভি.ভি.আই.পি একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিই। তাদের প্রটোকলে এরা কাজ করে। তাছাড়া এয়ারপোর্টে কিংবা অন্যত্র ইমিগ্রেশন কাজ সম্পন্ন করতে এস.বি শাখার পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সি.আই.ডি : সাধারণ পুলিশ কোন জটিল কেইসের রহস্য উদঘাটনে হিমমিশ খেলে বা দীর্ঘ দিন লাগলে তখন সি.আই.ডি-তে হস্তান্তর করা হয়। ডি.বি : সাধারণ জনগণের মতো সাদাসিধে পোশাক পরে এ শাখার পুলিশের চলাফেরা। গোয়েন্দার মতো চলে কোনো মামলার তদন্ত, নাশকতামূলক কার্যক্রম ইত্যাদির লক্ষ রাখাই ডিবির কাজ। মেট্রোপলিশন পুলিশ : বিভাগীয় শহরে সাধারণত: এদের কার্যক্রম দেখা যায়। তাছাড়া বিভাগীয় শহর নয়, তবু ব্যস্ত বা মেট্রো ঘোষণা করা হয়েছে সেথায়ও তারা সরব। সাধারণভাবে পুলিশের যে দায়িত্ব তাই মেট্রোপুলিশ সমাধা করে থাকে। এখানে পূর্বে যা আলোচনা করা হয়েছে। জেলা পুলিশ : মেট্রো এলাকার বাইরে তাদের দায়িত্ব। অনেক আগে থেকে যে পুলিশ দেশে প্রচলিত তারাই জেলা পুলিশ। বিভিন্ন থানায় থানায় আমরা যে পুলিশ দেখি তারাই জেলা পুলিশ। শান্তি, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, চুরি, ডাকাতি না হওয়া ইত্যাদি পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ : গাড়ি চড়ে কোথাও যেতে রাস্তার মধ্যে তাদেরকে দেখা যায়। এরা দিনরাত খুব কষ্ট করে রাস্তার গাড়ি শৃঙ্খলা করে জনগণকে চলাচলে সাহায্য করে। রাস্তায় যাতে যানজট না হয় এবং যাত্রী সাধারণের যাতে কষ্ট না হয় সে লক্ষে দিনরাত তারা পরিশ্রম করে থাকে। ট্যুরিস্ট পুলিশ : পর্যটন এলাকায় পর্যটকদের জন্য এ পুলিশ নিয়োজিত। পর্যটন এলাকায় যাতে কেহ কোনো অসুবিধায় না পড়ে সেজন্য এ পুলিশ সদা তৎপর। হাইওয়ে পুলিশ : দেশের হাইওয়ে গুলোতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, যাত্রী হয়রানী ও দুর্ঘটনা রোধে ভূমিকা পালন করে থাকে। আর্মড পুলিশ : এ শাখার পুলিশ বিশেষ প্রয়োজনে বিশেষ বিশেষ স্থানে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকে। বিশেষ করে কোনো দাঙ্গার সময় প্রয়োজনে তাদের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। কমিউনিটি পুলিশিং : ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ এই শ্লোগান নিয়ে কমিউনিটি পুলিশের পথচলা শুরু। সাধারণত এলাকায় জনতাকে পুলিশের কাজের সাথে সম্পৃক্ত করা কমিউনিটি পুলিশের কার্যক্রম। কমিউনিটি পুলিশের যোগাযোগ পুলিশ ও পাবলিকের সাথে। এলাকার সুখ, দুঃখ, সুবিধা-অসুবিধা সবই কমিউনিটি পুলিশের সাথে শেয়ার করা যায়। গ্রাম পুলিশ : গ্রামে থেকে সবার সাথে মিশে এরা দায়িত্ব পালন করে। গ্রাম বা পাড়ার কোনো ঘটনায় তাদেরকে সবাই অবগত করে। এক কথায় পুলিশ থেকে আমরা প্রতিদিন নিয়মিত কোনো না কোনো সেবা পেয়ে থাকি। তাই একথা অস্বীকার করার উপায় নেই পুলিশ আমাদের বন্ধু ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’ একথা একদম সত্য। পুলিশের থেকে আরো বেশি সেবা ও সহযোগিতা পেতে এ বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে হবে। পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার পাশাপাশি প্রকৃত জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, পুলিশের নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাব অনেক ক্ষেত্রে লোকবলেরও সংকট। অনেক ক্ষেত্রে অনেক ঝুকিপূর্ণ কাজ করতে হয় তাই পুলিশকে যথাযথ সব কিছু যোগান দেওয়া প্রয়োজন। পুলিশের কাজে উৎসাহ জাগবে সবকিছুর যোগান থাকলে। তাই পুলিশের যা অপ্রতুল তা যেন সরবরাহ করা হয়। আমাদের পুলিশ বাহিনী বর্তমানে অনেক আধুনিক। তবু শোনা যায় এ বাহিনী অনেকাংশে সেই বৃটিশ আমলের প্রণীত ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের উত্তরাধিকারই বহন করে আসছে। ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন অনেকাংশে আজ অচল। সুতরাং পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
পুলিশ বাহিনীর উপর জনগণের যে মনোভাব সেথায় আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে। পুলিশের উপর জনগণের নেতিবাচক মনোভাব থাকলে পুলিশ ও জনগণের দূরত্ব বৃদ্ধি পাবে। পুলিশ তার কর্মদক্ষতা ও সততা দিয়ে জনগণের মন জয় করতে পারে। জনগণের জন্য এতো কাজ করে যে পুলিশ সে পুলিশ জনগণের বন্ধু বলে বিবেচিত হবে। সব ভুল ধারণা দূরীভূত হউক। পুলিশ জনগণের বন্ধু এটাই সত্য। কিছু ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য এ সত্য ম্লান হতে পারে না।
লেখক : কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT