শেষের পাতা আলোচিত স্কুল ছাত্র আলাল হত্যাকান্ড

২২ বছরেও শেষ হয়নি মামলার কার্যক্রম যুক্তিতর্ক কাল

প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০১-২০২০ ইং ০২:৪৭:৪৫ | সংবাদটি ২১৪ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিশু আলাল হত্যাকান্ড। গত শতকের ৯০ দশকের আলোচিত একটি হত্যাকান্ড। সিলেটের শিশু রাজন কিংবা সুনামগঞ্জের শিশু তুহিন হত্যাকান্ডের মতো আলোচিত ছিলো সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ঘোপাল গ্রামের স্কুল ছাত্র আলাল হত্যাকান্ডটি। কিন্তু আলোচিত এ হত্যাকান্ডের ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি মামলার বিচারকাজ। সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটি বিচারাধীন আছে। এ অবস্থায় আগামীকাল বুধবার মামলাটির যুক্তিতর্ক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মামলার দীর্ঘসূত্রতায় আশাহত শিশু আলালের মা শারি বেগম। জীবন সায়াহ্নে এসেও যেন তিনি ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেন-এটাই তার আকুতি ।
নিহত শিশু আলালের পরিবার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ঘোপাল গ্রামের আলোচিত স্কুল ছাত্র আলাল হত্যা মামলার রায়ের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে তার পরিবার। হত্যাকান্ডের দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ছেলের হত্যাকারীদের শাস্তি দেখে যেতে আশায় বুক বেঁধে আছেন তার মা। আসামী পক্ষ মামলার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে বার বার সাক্ষীর রিকল করার আবেদন জানায়। এছাড়া, দফায় দফায় পুলিশী তদন্ত ও আদালতের দীর্ঘসূত্রতায় সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যন্ত কেটে যায় ২১ বছর। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর মামলার যুক্তিতর্কের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন আদালত। আবারো আসামী পক্ষের নানা টালবাহানা ও দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে কেটে যায় আরো একটি বছর। এখনো মামলাটি যুক্তিতর্ক পর্যায়েই রয়েছে। আগামীকাল বুধবার মামলার যুক্তিতর্কের তারিখ ধার্য্য করেছেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ আব্দুর রহিম।
নিহত আলাল মিয়ার চাচা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক জানান, মামলার বাদী আলালের বাবা মারা গেছেন। এরপর থেকে তিনি মামলাটির বাদী। আদালত কর্তৃক বার বার সমন, ওয়ারেন্ট প্রেরণের পরও মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিতে না আসায় মামলাটির অগ্রগতি হচ্ছিলো না। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এবার রায় শোনার অপেক্ষায় আছি।
নিহত আলাল মিয়ার মাতা শারি বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আলালের খুনীরা যখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়-তখন কষ্ট পাই। মনে হয়, আলালের বাবার মত আমিও পুত্রের হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে পারব না। তিনি সরকারের প্রতি আলালের খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট এমাদুল্লাহ শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আশা করছি এই তারিখেই মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হবে। এরপর আর রায় পেছানোর খুব একটা সুযোগ নেই, স্বাভাবিক নিয়মে আদালত রায়ের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করবেন।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট মফুর আলী জানান, মামলাটি বেশ পুরনো। মামলাটির বিষয়ে তিনি খোঁজ খবর নেবেন। মামলাটি দীর্ঘদিনেও নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন পিপি।
১৯৯৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর যখন আলাল খুন হয়, তখন সে ঘোপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল। দীর্ঘ ৬ বছর পর ২০০৩ সালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মহানগর দায়রা জজ আদালতে চলমান মামলা নং দায়রা ১৪২৪/২০১৩। চার্জশীটভুক্ত ১৩ আসামীর মধ্যে আব্দুল মানিক ও আব্দুল জলিল মারা গেছেন। বাকী আসামীরা হচ্ছেন-আলী আশরাফ ওরফে আলী, হেকিম আলী, সিরাজ, আনোয়ার হোসেন, আলী আহমদ, সায়েস্তা মিয়া, ছাবির, আব্দুর রহমান ওরফে ফকির, জমসিদ আলী, মকবুল ও সুহেল। এই ১১ আসামীর মধ্যে মকবুল ও সুহেল আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছে।
মামলার ২৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জন সাক্ষী দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাক্ষ্য প্রদান করেন। আটকে থাকে সরকারি সাক্ষীর জন্য। এরপর একে একে কেটে যায় ১৮ বছর। সরকারি সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় কেটে যায় কয়েক বছর। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২১ মার্চ চাকুরি থেকে অবসরে যাওয়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা দেওয়ান গোলাম সারওয়ার হোসেন এসে সাক্ষ্য দেন। মামলার অন্য তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তৎকালীন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সাক্ষীর জন্য আবারো ধীরগতি চলে আসে মামলায়। আসামী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে মিজানুর রহমানের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়। কয়েক দফা মামলা পেছানোর পর ২০১৭ সালের শেষের দিকে এসে সাক্ষ্য দিয়ে যান মিজান। এরপর আদালত যুক্তিতর্কের জন্য তারিখ ধার্য্য করেন। এখন পর্যন্ত মামলা ঐ পর্যায়েই রয়েছে।

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • গ্রামের জনগণও এখন শহরের সুযোগ-সুবিধা পাবে
  • ‘আমরা এখন লন্ডন যাব কলম চালাতে’
  • প্রধান অতিথি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
  • ওসমানী বিমানবন্দরে কর্মচারীর হামলায় কর্মচারী আহত
  • সিলেট বোর্ডে এসএসসি’র হিসাব বিজ্ঞানে অনুপস্থিত ২৬ পরীক্ষার্থী
  • বাসিয়া নদীকে আদি রূপে ফেরাতে হবে -----------------------সুলতানা কামাল
  • সুনামগঞ্জের প্রফেসর ডা. কবির চৌধুরী ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ এ মনোনীত
  • চেক ডিজঅনার মামলায় উচ্চ আদালতের যুগান্তকারী রায়
  • বঙ্গবন্ধুর কাছে জাতির ঋণ কোনো দিন শোধ হবার নয়-----ভিসি মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী
  • রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
  • পুলিশ বাহিনীকে আরো জনবান্ধব করতে সরকার কাজ করছে ------------------ফরিদ উদ্দিন পিপিএম
  • প্রবাসীরা দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে অবদান রাখছেন -------নাসির উদ্দিন খান
  • ভাষা সৈনিক প্রফেসর আব্দুল আজিজ ও অধ্যক্ষ মাসউদ খানকে একুশে পদকে ভূষিত করার দাবি
  • সিলেটে দু’টি মণিপুরি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্বোধন
  • পল্লীবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে ----এটিইউ তাজ রহমান
  • মন এবং আত্মার পরিশুদ্ধতার জন্য প্রয়োজন শিক্ষা
  • বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্রিটেনের ভূমিকা ব্যাপক: চেম্বার সভাপতি
  • মানবকল্যাণমূলক শিক্ষাই প্রকৃত শিক্ষা
  • সম্মিলিত নাট্য পরিষদের একুশের অনুষ্ঠান ভোরে একুশের প্রভাতফেরী
  • রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজে বঙ্গবন্ধু’র মুর‌্যাল উদ্বোধন কাল
  • Developed by: Sparkle IT