শেষের পাতা স্বাবলম্বী হবার পথে শতাধিক কৃষক

জৈন্তাপুরে উৎপাদিত নাগামরিচ রপ্তানী হচ্ছে বিদেশে

প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০১-২০২০ ইং ০২:৫৫:১৯ | সংবাদটি ৩২৮ বার পঠিত

নূরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর থেকে : সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় উৎপাদিত নাগামরিচ রপ্তানী হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে। উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবং নাগা মরিচের চাহিদা বৃদ্ধি হওয়ায় এ উপজেলার কৃষকরা নাগামরিচ চাষে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন।
কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলিত মৌসুমে জৈন্তাপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১৫০ হেক্টর জমিতে নাগা মরিচের চাষ হয়েছে। প্রান্তিক চাষীরা এরই মধ্যে স্থানীয়ভাবে নাগা মরিচ বাজারজাত করতে শুরু করেছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার (বিসিএস) সুব্রত দেবনাথ জানিয়েছেন, জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত, নিজপাট ফতেপুর, জৈন্তাপুর ও চারিকাটা ইউনিয়নসহ অন্যান্য এলাকার গ্রামীণ কৃষকরা বিগত দুই বছর থেকে নাগা মরিচ চাষ করছেন। তিনি জানান, বিগত ২০১৮ সালে ১২০ হেক্টর এবং চলিত বছর ১৫০ হেক্টর কৃষি জমিতে নাগা মরিচ চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিবিড় পর্যবেক্ষণ থাকায় এ বছর ভালো ফসলের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, নাগা মরিচ বিদেশে রপ্তানী করতে ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীরা প্রান্তিক কৃষকদের সাথে চুক্তি করেছেন। বিদেশে রপ্তানী করতে প্রাথমিকভাবে উপজেলার ১শ’ জন কৃষকের তালিকা তৈরী করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাগা মরিচ চাষে আগ্রহী কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় সহযোগিতা করে যাচ্ছে। নাগা মরিচ চাষে উৎসাহিত করতে কৃষকদের নিয়মিত উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, নাগা মরিচ, মরিচের একটি প্রজাতি, যা প্রচন্ড ঝালের কারণে সমধিক পরিচিত। নাগা মরিচের পরিবার হলো সোলানেসি, জাত-ক্যাপসিকাম এবং প্রজাতি-ক্যাপসিকাম চাইনিজ।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জৈন্তাপুর উপজেলার আবহওয়া অনুকূলে থাকায় এই ফসল চাষের জন্য একটি ভালো জায়গা। উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের, সারীঘাট চৈলাখেল, হেলিরাই, বারগতি, নয়াগতি, ঢুপি, চারিকাটা ইউনিয়নের রামপ্রসাদ, দরবস্ত ইউনিয়নের বেধু হাওর, লাইন নদীর পার্শ্ববর্তী খরিলহাট মাদ্রাসা সংলগ্ন জায়গায় সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ করা হয়েছে। জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বিরাখাই-বাউরভাগ,ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাগেরখাল এলাকায় নাগা মরিচ চাষে কৃষকরা এগিয়ে এসেছেন। দরবস্ত ইউনিয়নের বেধু হাওর এলাকায় অন্তত ৪শ’ বিঘা জায়গা জুড়ে দরবস্ত শ্রীখেল গ্রামের তালিকাভুক্ত ২৬ জন কৃষক এ বছর নাগা মরিচ: চাষ করছেন। শ্রীখেল গ্রামের কৃষক আম্বিয়া জানান, তিনি এবার ১২ বিঘা জমিতে নাগা মরিচ চাষ করছেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি নিয়মিত নাগা মরিচ চাষ করে আসছেন। গত শীত মৌসুমে তিনি ১৮ বিঘা জমিতে নাগা মরিচ চাষ করেন। ওই সময় তিনি ১৪ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেন। এর মাধ্যমে তার ৪ লাখ টাকা লাভ হয়েছে।
তিনি বলেন, নাগা মরিচ চাষে সরকারীভাবে সহযোগিতা করা হলে গ্রামীণ জনপদের কৃষকরা আর্থিকভাবে অনেক লাভবান হবেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে অন্তত: ৯শ’ থেকে ১ হাজার চারা গাছ রোপণ করা হয়ে থাকে। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২০/২৫ হাজার নাগা মরিচ উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি গাছে ২শ’ থেকে ৩শ’ মরিচ উৎপাদন হয়। বাণিজ্যিকভাবে বাজারে একটি নাগা মরিচ ৩/৪ টাকায় বিক্রি করা হয়।
দরবস্ত ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শোয়েব আহমদ জানান, একটি গাছে অন্তত: ২শ’ নাগা মরিচ উৎপাদিত হয়। দরবস্ত ইউনিয়নের মহাইল গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, তিনি গত বছর ১০ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করে ১২ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেন। এতে তার খরচ হয়েছিল ৪ লাখ টাকা। বাগান থেকে উৎপাদিত নাগা মরিচ বিদেশে রপ্তানী করা হয়েছে। নজরুল ইসলাম চলিত বছরে বিরাখাই গ্রামে ১৫ বিঘা জমিতে নাগা মরিচ চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি ৮০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রয় করেন। তিনি জানান, প্রতি সপ্তাহে অন্তত: ২০/৩০ হাজার টাকার নাগা মরিচ বিক্রয় করা হচ্ছে। চলিত মাসের শেষ দিকে প্রতিদিন মরিচ গাছ থেকে উত্তোলন করে বিক্রয় করা হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার ফারুক হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার দেশের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে কৃষকদের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে।
রাজধানী ঢাকার রপ্তানীকারক এনএইচবি কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী নাজমুল হায়দার ভুইয়া জানান, সিলেট অঞ্চলে উৎপাদিত নাগা মরিচের চাহিদা সবচাইতে বেশী লন্ডনে। অন্যান্য দেশেও চাহিদা রয়েছে এ নাগামরিচের।
বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবল এন্ড এলাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের মহাসচিব কৃষিবিদ মনজুর হোসেন জানান, জৈন্তাপুর থেকে সংগৃহীত নাগামরিচ ঢাকায় প্রক্রিয়াজাত করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করা হয়। তাদের সংগঠন এ ক্ষেত্রে রপ্তানীকারক এবং কৃষকদের টেকনিক্যাল সহযোগিতা প্রদান করে থাকে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, কৃষকরা হচ্ছেন দেশের প্রাণ। সরকার দেশের প্রান্তিক চাষীদের কল্যাণে সবরকম সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কৃষি কার্ডের ব্যবস্থা করা গেলে জৈন্তাপুর উপজেলায় শীতকালীন নাগা মরিচ চাষে কৃষকগণ আরো উৎসাহিত হবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • মাদক ব্যবসা করে কোটিপতি
  • নতুন করোনাভাইরাসে তাইওয়ানে প্রথম মৃত্যু
  • সাবেক সংসদ সদস্য রহমত আলী আর নেই
  • সরকারি চাকরিজীবীদের জুন থেকে নতুন সুবিধা
  • করোনাভাইরাস শনাক্তে বাংলাদেশকে কিট উপহার দিল চীন
  • চুনারুঘাটে চা শ্রমিক খুন ॥ আটক দুই
  • বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা ঃ সুনামগঞ্জে ২ কিশোরের মৃত্যু
  • সেরা প্রকাশনার সম্মাননা পেলেন সিকৃবি’র ৬ শিক্ষক
  • সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত
  • সিলেট চেম্বারের ভ্যাট, বাজেট সাব কমিটির আলোচনা সভা
  • ‘এবং ইন্দ্রজিৎ’ নাটক প্রদর্শিত আজ মঞ্চায়ন ‘বাসন’
  • পাঁচ ছিনতাইকারী আটক’ লুন্ঠিত নগদ টাকা, মোবাইল সেট ও মোটর সাইকেল উদ্ধার
  • তাহিরপুরের পাঠলাই নদীতে ১ মাস ধরে চলা নৌ ধর্মঘটের অবসান
  • বানিয়াচংয়ে ডোবা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
  • অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক সুস্থ হয়ে সিলেটে ফিরেছেন
  • সুস্থ ও নিরাপদ রক্ত পেতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হবে .....এডভোকেট লুৎফুর রহমান
  • বিশ্বম্ভরপুরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার আটক ১
  • ছবি
  • জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসসহ সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে নাট্যান্দোলন অগ্রণী ভূমিকা রাখে
  • বঙ্গবন্ধুর প্রতি মণিপুরীসহ নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভালোবাসা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে
  • Developed by: Sparkle IT