অসহায় প্রবীণদের কল্যাণের বিষয়ে এখনই আমাদের উদ্যোগী হওয়া জরুরি। কেননা বার্ধক্য হচ্ছে মানুষের অবধারিত সমস্যা। আজকের নবীনই আগামী দিনের প্রবীণ। তাই শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রবীণদের দেখভাল করতে হবে। আর এখন থেকেই নিজেদের স্বস্তিময় বার্ধক্যের প্রস্তুতি নিতে হবে। দয়া-দাক্ষিণ্য বা করুণার দৃষ্টিতে নয়, মানবাধিকারের ভিত্তিতে এবং প্রাপ্য মর্যাদার যুক্তিতে প্রবীণদের চাওয়া-পাওয়া সমাধান করা প্রয়োজন। এর জন্য দরকার গণসচেতনতা, আর এই গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রবীণদের অবহেলা, অযত্ন, দুর্ব্যবহার, নির্যাতনের ঘটনা এবং সবার করণীয় বিষয়গুলো সব শিক্ষা পাঠ্যসূচিতে এবং গণমাধ্যম কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে প্রবীণদের প্রতি কিছুটা হলেও সম্মান প্রদর্শন করা হবে। বার্ধক্য মানেই নানাবিধ দুর্বলতা। বার্ধক্যপীড়িত প্রবীণের প্রতি যত্নবান হওয়া ও সহানুভূতিশীল থাকা খোদার বিধান। শুদ্ধাচার ও শিষ্টাচার মানবজীবনের অলংকার। আলস্নাহতায়ালা আদেশ দিয়েছেন, বাবা-মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়ই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের উহ্ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না; তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলো। মমতাবশে তাদের সামনে বিনয়াবনত করো এবং বলো 'হে আমার প্রতিপালক আমার বাবা-মায়ের প্রতি দয়া করো যেভাবে শৈশবে আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন'। (সূরা-১৭ বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৩-২৪)। মানবতার মহান শিক্ষক বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, যে প্রবীণকে সম্মান করে না সে আমার উম্মত নয়। (আবু দাউদ ও তিরমিজি)
যে প্রবীণ যৌবনে তার মেধা, মনন, দক্ষতা দিয়ে সমাজের অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন, জীবনের সব সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেছেন, মানব কল্যাণে অবদান রেখেছেন, বৃদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই মানুষটি অযত্ন অবহেলার আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। আপাতদৃষ্টিতে সমাজের বা সরকারের ন্যূনতম দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তায় না। শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সুন্দর জীবন গড়ার জন্য বাবা-মা ও সরকারের যেমন দায়িত্ব আছে অনুরূপভাবে প্রবীণদের জন্য সন্তান, সমাজ ও সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে।
প্রবীণদের এই অসহায় দুর্দশা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর সমাধান না করলে প্রত্যেককেই বৃদ্ধ বয়সে এই অবহেলা ও কষ্টের স্বাদ নিতে হবে। অনেক সন্তান তাদের কর্মব্যস্ততার কারণে কর্মস্থল ত্যাগ করে বাবা-মায়ের পরিচর্যা বা সেবা-যত্ন করতে পারে না। অনেক বাবা-মা নিজের ভিটা-মাটি ছেড়ে বিদেশে সন্তানের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করে না। এসব নানা কারণে দিন দিন সন্তানদের সঙ্গে বাবা-মায়ের সুসম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। তা ছাড়া অনেক বাবা-মায়ের পুত্রসন্তান না থাকায় জামাই-মেয়ের বাড়িতে থাকতে পছন্দ করেন না।
এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একটাই উপায়; কষ্টের বৃদ্ধাশ্রম নয়, প্রত্যেক উপজেলায় আনন্দের সঙ্গে বসবাস করার জন্য ‘আনন্দ আশ্রয়’ গড়ে তুলতে হবে। যেখানে স্ব-ইচ্ছায় প্রবীণরা থাকতে চাইবেন।
প্রত্যেক উপজেলার শহরের কাছাকাছি কমপক্ষে পাঁচ একর জমির উপরে এই 'আনন্দ আশ্রয়' গড়ে তুলতে হবে। আনন্দ আশ্রয়ে থাকবে প্রবীণদের সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, থাকবে ভালো নার্সিং ব্যবস্থা, থাকবে ভালো মানের খাবার, থাকবে বিনোদনের ব্যবস্থা, থাকবে প্রার্থনার জন্য মসজিদ, মন্দির, খেলার মাঠ, ব্যায়ামাগার ইত্যাদি। থাকবে ভালো আবাসনের ব্যবস্থা। এখানে যে কোনো প্রবীণ নিজ ইচ্ছায় থাকতে পারবেন। যাদের দেখার কেউ নেই, স্বামী-স্ত্রী এক সঙ্গে বা একা একা থাকতে পারবেন। ধনী প্রবীণরা ভাড়া বা খরচ দিয়ে থাকতে পারবেন। একই বয়সে অনেকে এক সঙ্গে থাকার কারণে প্রবীণরা আনন্দে থাকতে পারবেন। এতে সন্তান, আপনজনরা দেশে-বিদেশে যেখানেই থাকুক না কেন বাবা-মা ভালো আছেন ভেবে তারা নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন। প্রয়োজনে সন্তান, আপনজন বিদেশ থেকে এসে কিছুদিন আনন্দ আশ্রয়ে বাবা-মাকে সঙ্গ দিতে পারবেন। গরিব অসহায় প্রবীণরা সরকারি খরচে থাকবেন। প্রয়োজন হলে নিজ ইচ্ছায় কিছুদিন বাড়িতে, কিছুদিন 'আনন্দ আশ্রয়'-এ থাকতে পারবেন।
অসহায় প্রবীণদের বিষয়টি জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে জনসচেতনতা ও প্রচারের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে 'আনন্দ আশ্রয়' গড়ে তোলার জন্য নিজ দায়িত্বে সবাই এগিয়ে এলেই সত্বর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে এই মহৎ উদ্যোগকে বেশিরভাগ সচেতন মানুষ ও ভুক্তভোগী প্রবীণরা স্বাগত জানিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়কে বাস্তবায়নের জন্য সমাজে দানশীল ও বিত্তবানরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চায়। এখন সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে।
লেখক : কলামিস্ট।

'/> SylheterDak.com.bd
উপ সম্পাদকীয়

অসহায় প্রবীণদের দেখাশোনার দায়িত্ব কে নেবে?

এম এ কাদের প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০১-২০২০ ইং ০০:১৭:৫৭ | সংবাদটি ২৩২ বার পঠিত
Image

অসহায় প্রবীণদের বিষয়টি জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে জনসচেতনতা ও প্রচারের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ‘আনন্দ আশ্রয়’ গড়ে তোলার জন্য নিজ দায়িত্বে সবাই এগিয়ে এলেই সত্বর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
অসহায় প্রবীণদের স্মরণ ও সম্মান দেখানোর জন্য ১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ সভায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সিদ্ধান্তে ১৯৯১ সাল থেকে প্রতি বছর এ দিনটি (১ অক্টোবর) পালিত হয়ে আসছে। মানুষের গড় আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সালে বিশ্বে প্রবীণদের সংখ্যা ছিল ৫০ কোটি। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১০ কোটিতে। ২০৩০ সালে এর সংখ্যা হবে ১৫০ কোটি এবং ২০৫০ সালে প্রবীণদের সংখ্যা ২০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশে বর্তমান প্রবীণদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। ২০২৫ সালে প্রবীণদের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২ কোটিতে। ২০৫০ সালে প্রবীণদের সংখ্যা হবে প্রায় সাড়ে চার কোটি এবং ২০৬১ সালে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৬ কোটিতে। প্রবীণের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে, এর ফলে একসময় শিশুর চেয়ে প্রবীণের সংখ্যাই হবে বেশি। এসময় পরিচর্যাহীন বার্ধক্যই দেশের একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। এক বেসরকারি জরিপে জানা গেছে, বর্তমান বাংলাদেশে প্রায় ৫০ লাখ প্রবীণ অসুস্থ, অসহায়, অবহেলিত, নিঃসঙ্গ ও সেবাহীন জীবনযাপন করছেন। বর্তমান সমাজে সবচেয়ে অবহেলার শিকার এখন অসহায় প্রবীণরাই কিন্তু ক্রমবর্ধমান বার্ধক্যের অসহায়ত্ব মোকাবেলা করার মতো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আমাদের নেই। এ কারণে এখন থেকেই প্রবীণদের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারি নীতিনির্ধারকদের এগিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন।
সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং ধর্মীয় অনুশাসনের অভাবে আমাদের দেশে বৃদ্ধ বাবা-মা কত যে অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন বাইরে থেকে সেটা বোঝা যায় না। অনেক সময় বৃদ্ধ বাবা-মার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাড়ি পাহারা, সন্তান দেখাশোনা, বাজার করানো, সন্তানকে স্কুলে পাঠানো, ধমক দিয়ে কথা বলা, অপমান জনক আচরণ করা, চিকিৎসা না করানো, বৃদ্ধ বাবা-মাকে আলাদা রাখা, এমনকি শেষ সম্বল পেনশনের টাকা, জমি-জায়গা বাড়িটুকু পর্যন্তও জোর করে লিখে নেওয়া হচ্ছে। অনেক বাবা-মা সন্তান ও পুত্রবধূর কাছ থেকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এমনকি মাদকাসক্ত ছেলেমেয়ে, বাবা-মাকে হত্যা পর্যন্ত করছে।
অনেক সন্তান বৃদ্ধ বাবা-মাকে বাড়িতে রেখে তালা বন্ধ করে নিয়মিত স্বামী-স্ত্রী তার কর্মস্থলে চলে যায়। অনেক সময় অনেকে বৃদ্ধ বাবা-মাকে একাকী রুমে আটকা রেখে ৫-৭ দিনের জন্য বাইরে বেড়াতে চলে যায়। তা ছাড়া পারিবারিক বা সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বা দাওয়াতে পরিবারের সব সদস্য অংশগ্রহণ করলেও বৃদ্ধ বাবা-মাকে ঝামেলা মনে করে সঙ্গে নিতে চায় না। অনেক প্রবীণদের থাকার জায়গাও নিম্নমানের হয়ে থাকে। যেমন- বাড়ির নিচতলায়, বারান্দায়, চিলেকোঠায়, খুপরিঘরে, গোয়ালঘরে এমনকি বাড়ির কাজের লোকের সঙ্গে অমানবিকভাবে থাকতে দেওয়া হয়। অনেক সন্তানের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে অসুস্থ বাবা-মার এতটুকু খোঁজখবর পর্যন্ত নিতে চায় না। তা ছাড়া অনেকে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দরিদ্রতার কারণেও বাবা-মায়ের যত্ন নিতে পারেন না। অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা-মা তাদের এই কষ্টের কথা কাউকে বলতে পারেন না। এত কষ্টের পরও কেউ ভালো-মন্দ জানতে চাইলে সন্তানের মুখ উজ্জ্বলের জন্য বলেন, 'আমি খুব ভালো আছি'।
অসহায় প্রবীণদের কল্যাণের বিষয়ে এখনই আমাদের উদ্যোগী হওয়া জরুরি। কেননা বার্ধক্য হচ্ছে মানুষের অবধারিত সমস্যা। আজকের নবীনই আগামী দিনের প্রবীণ। তাই শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রবীণদের দেখভাল করতে হবে। আর এখন থেকেই নিজেদের স্বস্তিময় বার্ধক্যের প্রস্তুতি নিতে হবে। দয়া-দাক্ষিণ্য বা করুণার দৃষ্টিতে নয়, মানবাধিকারের ভিত্তিতে এবং প্রাপ্য মর্যাদার যুক্তিতে প্রবীণদের চাওয়া-পাওয়া সমাধান করা প্রয়োজন। এর জন্য দরকার গণসচেতনতা, আর এই গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রবীণদের অবহেলা, অযত্ন, দুর্ব্যবহার, নির্যাতনের ঘটনা এবং সবার করণীয় বিষয়গুলো সব শিক্ষা পাঠ্যসূচিতে এবং গণমাধ্যম কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে প্রবীণদের প্রতি কিছুটা হলেও সম্মান প্রদর্শন করা হবে। বার্ধক্য মানেই নানাবিধ দুর্বলতা। বার্ধক্যপীড়িত প্রবীণের প্রতি যত্নবান হওয়া ও সহানুভূতিশীল থাকা খোদার বিধান। শুদ্ধাচার ও শিষ্টাচার মানবজীবনের অলংকার। আলস্নাহতায়ালা আদেশ দিয়েছেন, বাবা-মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়ই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের উহ্ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না; তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলো। মমতাবশে তাদের সামনে বিনয়াবনত করো এবং বলো 'হে আমার প্রতিপালক আমার বাবা-মায়ের প্রতি দয়া করো যেভাবে শৈশবে আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন'। (সূরা-১৭ বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৩-২৪)। মানবতার মহান শিক্ষক বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, যে প্রবীণকে সম্মান করে না সে আমার উম্মত নয়। (আবু দাউদ ও তিরমিজি)
যে প্রবীণ যৌবনে তার মেধা, মনন, দক্ষতা দিয়ে সমাজের অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন, জীবনের সব সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেছেন, মানব কল্যাণে অবদান রেখেছেন, বৃদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই মানুষটি অযত্ন অবহেলার আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। আপাতদৃষ্টিতে সমাজের বা সরকারের ন্যূনতম দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তায় না। শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সুন্দর জীবন গড়ার জন্য বাবা-মা ও সরকারের যেমন দায়িত্ব আছে অনুরূপভাবে প্রবীণদের জন্য সন্তান, সমাজ ও সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে।
প্রবীণদের এই অসহায় দুর্দশা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর সমাধান না করলে প্রত্যেককেই বৃদ্ধ বয়সে এই অবহেলা ও কষ্টের স্বাদ নিতে হবে। অনেক সন্তান তাদের কর্মব্যস্ততার কারণে কর্মস্থল ত্যাগ করে বাবা-মায়ের পরিচর্যা বা সেবা-যত্ন করতে পারে না। অনেক বাবা-মা নিজের ভিটা-মাটি ছেড়ে বিদেশে সন্তানের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করে না। এসব নানা কারণে দিন দিন সন্তানদের সঙ্গে বাবা-মায়ের সুসম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। তা ছাড়া অনেক বাবা-মায়ের পুত্রসন্তান না থাকায় জামাই-মেয়ের বাড়িতে থাকতে পছন্দ করেন না।
এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একটাই উপায়; কষ্টের বৃদ্ধাশ্রম নয়, প্রত্যেক উপজেলায় আনন্দের সঙ্গে বসবাস করার জন্য ‘আনন্দ আশ্রয়’ গড়ে তুলতে হবে। যেখানে স্ব-ইচ্ছায় প্রবীণরা থাকতে চাইবেন।
প্রত্যেক উপজেলার শহরের কাছাকাছি কমপক্ষে পাঁচ একর জমির উপরে এই 'আনন্দ আশ্রয়' গড়ে তুলতে হবে। আনন্দ আশ্রয়ে থাকবে প্রবীণদের সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, থাকবে ভালো নার্সিং ব্যবস্থা, থাকবে ভালো মানের খাবার, থাকবে বিনোদনের ব্যবস্থা, থাকবে প্রার্থনার জন্য মসজিদ, মন্দির, খেলার মাঠ, ব্যায়ামাগার ইত্যাদি। থাকবে ভালো আবাসনের ব্যবস্থা। এখানে যে কোনো প্রবীণ নিজ ইচ্ছায় থাকতে পারবেন। যাদের দেখার কেউ নেই, স্বামী-স্ত্রী এক সঙ্গে বা একা একা থাকতে পারবেন। ধনী প্রবীণরা ভাড়া বা খরচ দিয়ে থাকতে পারবেন। একই বয়সে অনেকে এক সঙ্গে থাকার কারণে প্রবীণরা আনন্দে থাকতে পারবেন। এতে সন্তান, আপনজনরা দেশে-বিদেশে যেখানেই থাকুক না কেন বাবা-মা ভালো আছেন ভেবে তারা নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন। প্রয়োজনে সন্তান, আপনজন বিদেশ থেকে এসে কিছুদিন আনন্দ আশ্রয়ে বাবা-মাকে সঙ্গ দিতে পারবেন। গরিব অসহায় প্রবীণরা সরকারি খরচে থাকবেন। প্রয়োজন হলে নিজ ইচ্ছায় কিছুদিন বাড়িতে, কিছুদিন 'আনন্দ আশ্রয়'-এ থাকতে পারবেন।
অসহায় প্রবীণদের বিষয়টি জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে জনসচেতনতা ও প্রচারের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে 'আনন্দ আশ্রয়' গড়ে তোলার জন্য নিজ দায়িত্বে সবাই এগিয়ে এলেই সত্বর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে এই মহৎ উদ্যোগকে বেশিরভাগ সচেতন মানুষ ও ভুক্তভোগী প্রবীণরা স্বাগত জানিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়কে বাস্তবায়নের জন্য সমাজে দানশীল ও বিত্তবানরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চায়। এখন সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • প্রসঙ্গ : মহামারিতে ধৈর্য ধারণ
  • মা-বাবার সাথে থাকি
  • নব্যউদারনীতিবাদ নিয়ে কিছু কথা
  • মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  • বাউল সম্রাট ও গ্রামীণ সংস্কৃতি
  • সমাজসেবা ও দেশপ্রেম
  • ক্ষণজন্মা সৈয়দ মহসীন আলী
  • শিক্ষার সাথে চরিত্র গঠনও প্রয়োজন
  • জাতীয় প্রবীণ নীতিমালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
  • ম. আ. মুক্তাদির : বিপ্লবীর স্বপ্নের দেশ
  • স্মরণ: শেখ তজমুল আলী চেয়ারম্যান
  • করোনাকালে সঙ্কটে প্রবাসীরা
  • ব্যাংক খাত ও সাইবার নিরাপত্তা
  • আমাদের অসাধারণ মানুষের গল্প
  • প্রগতি জাতির প্রকৃতিগত অধিকার
  • নিজেকে দূরে রাখুন, সচেতন থাকুন
  • প্রগতি জাতির প্রকৃতিগত অধিকার
  • নিজেকে দূরে রাখুন, সচেতন থাকুন
  • আত্মহনন : অমূল্য জীবনের অপচয়
  • অনলাইন পাঠদান কেমন হওয়া উচিত
  • Image

    Developed by:Sparkle IT