উপ সম্পাদকীয়

লিবিয়ায় তুরস্কের সেনা মোতায়েনের কারণ

অ্যাডভোকেট আনসার খান প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০১-২০২০ ইং ০১:১৭:০৬ | সংবাদটি ১৫১ বার পঠিত

আরববসন্ত খ্যাত ২০১১ সালের গণবিপ্লবের ঢেউ লেগেছিলো আফ্রিকার দেশ লিবিয়াতে এবং ঢেউয়ের প্রচন্ড আঘাতে দেশটার দীর্ঘকালীন একনায়ক শাসক গাদ্দাফীর পতন হয়েছিলো। শুধু যে গাদ্দাফী শাসনেরই পতন ঘটেছিলো তা নয়, সে সাথে গাদ্দাফীর জীবনাবসানও হয়েছিলো গাদ্দাফী বিরোধী সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। বলা হয়ে থাকে লিবিয়ার বিদ্রোহী বাহিনীর নামে আমেরিকার সেনারাই গাদ্দাফীকে হত্যা করেছিলো।
গাদ্দাফীর শাসন ও তাঁর জীবনাবসান পরবর্তী লিবিয়ায় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম হবে-এমনটাই ছিলো গণবিপ্লবের প্রাথমিক লক্ষ্য। তবে লিবিয়ায় সেটা হয়নি, অদ্যাবধি লিবিয়া অশান্ত, অস্থিতিশীল ও যুদ্ধরত অবস্থায় আছে। ২০১১ সালের গণবিপ্লবের নিট ফলাফল লিবিয়ার জন্য একটি বিপজ্জনক অবস্থার ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছিলো মাত্র। গাদ্দাফীর পতন পরবর্তীতে বিদ্রোহীরা একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ হিসেবে গঠন করেছিলো-‘ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এনটিসি) যেটাকে সমর্থন দিয়েছিলো জাতিসংঘ।
কিন্তু বিদ্যমান বাস্তবতা হলো-গাদ্দাফির পতন পরবর্তী সময়কাল থেকে এখন পর্যন্ত লিবিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি, বরং চলছে সীমাহীন নৈরাজ্য এবং অরাজকতা। এখন দেশটাতে রয়েছে দু’টি কর্তৃপক্ষ। জাতিসংঘ স্বীকৃত-‘গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল এ্যাকর্ড তথা জি.এন.এ সরকার একদিকে; যার নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী ফায়াজ আল সারাজ। আর অন্যদিকে রয়েছে-লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি তথা এলএনএ-যার নেতৃত্বে রয়েছেন জেনারেল খালিফা হাফতার।
অর্থাৎ লিবিয়া এখন সম্পূর্ণ দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে এবং দু’টি কর্তৃপক্ষ লিবিয়ার ওপর কর্তৃত্ব স্থাপনের জন্য, একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার জন্য অব্যাহতভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ দু’টি কর্তৃপক্ষের বাইরেও লিবিয়ায় কর্তৃত্ব স্থাপনের জন্য বিভিন্ন মত ও পথের অসংখ্য সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনী তৎপর রয়েছে। লিবিয়াতে এখন যার হাতে যত বেশি অস্ত্র, তার শক্তি এবং প্রভাব তত বেশি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অনেকে মনে করেন-লিবিয়া এখন অস্ত্রের বাজারে পরিণত হয়েছে।
অসংখ্য অস্ত্রবাজ সশস্ত্র গ্রুপ লিবিয়ায় শাসন কর্তৃত্ব স্থাপনের জন্য লড়াই করলেও এটা সত্য যে, লিবিয়া এখন মূলত: ফায়াজ আল সারাজ এবং জেনারেল খালিফা হাফতারের নেতৃত্বে দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে।
রাজধানী ত্রিপলি ও আশপাশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছেন ফায়াজ; তার সরকারকে বলা হয় জাতীয় ঐক্যমতের সরকার বা জিএনএ সরকার। জাতিসংঘ এই সরকারকে লিবিয়ার বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০১৬ সালে এ সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবার পর থেকে মি. সারাজ বিভিন্ন মিলিশিয়া ও রাজনীতিকদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কিন্তু পুরো দেশের ওপর তাঁর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে পারেননি। এমনকি, তাঁর সরকারের অধীনে যে সেনাবাহিনী রয়েছে, তার ওপরও তাঁর পূর্ণ কর্তৃত্ব নেই।
মি. সারাজের বিপরীতে তবরুক ভিত্তিক একটা সরকার রয়েছে-যার নেতৃত্বে দিচ্ছেন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি বা এলএনএ এর প্রধান জেনারেল হাফতার। বলা হয়ে থাকে-হাফতারের নেতৃত্বেই এখন লিবিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। হাফতার বাহিনী এখন লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলী দখল করার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে ত্রিপোলীর দিকে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে লিবিয়ার তেল খনিগুলোর সিংহভাগই দখলে নিয়েছে হাফতার বাহিনী।
লিবিয়ায় শাসন কর্তৃত্ব স্থাপন ও কায়েমে যখন দ্বিমুখি লড়াই অব্যাহত রয়েছে সে সময়ে বহি:রাষ্ট্রগুলো নিজেদের স্বার্থরক্ষায় নিজেদের পছন্দের পক্ষকে সমর্থন দেওয়ায় লিবিয়ার রাজনৈতিক সংকট আরো গভীরতর হয়ে ওঠেছে; এ সংকট থেকে উত্তরণের আশু কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন না রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। সবমিলে তাই জটিল এক জালে জড়িয়ে গেছে লিবিয়া ও এর জনগণ। ফলে দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের পতন হলেও গত প্রায় আট বছরেও গণতন্ত্রের মুখ দেখেনি লিবিয়ার মানুষ।
লিবিয়ার বিদ্যমান এ সংকটের জন্য বিদেশী রাষ্ট্রগুলো অনেকাংশে দায়ি। বলা হয়ে থাকে ত্রিপোলী ভিত্তিক ফারাজ আল সারাজ এবং তবরুক ভিত্তিক জেনারেল হাফতার, এ দু’টি সরকারের পক্ষে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং এমনকি জাতিসংঘ।
যেমনটা উল্লেখ করেছি- মি. সারাজ সরকারের সমর্থনে রয়েছে জাতিসংঘ। আর অধিকাংশ পশ্চিমা দেশই মি: সারাজ সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, জেনারেল হাফতারের সমর্থনে রয়েছে-সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও ফ্রান্স। বহিরাষ্ট্রসমূহের কারণেই লিবিয়া সংকট সমাধানে অগ্রগতি নেই; বরং সংকট আরো বেড়ে চলেছে এ মাসে মি: সারাজ সরকারের প্রতি তুরস্কের সামরিক সমর্থন প্রদানের ফলে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী-তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদনক্রমে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েফ এরদোগান লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফারাজ আল সারাজের সমর্থনে সেনাবাহিনী প্রেরণ ও মোতায়েন করেছেন লিবিয়াতে। তুরস্কের সেনা মোতায়েনের ফলে লিবিয়ার সংকট আরো জটিল হবে বলে মনে করছেন রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। যদিও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান তেমনটা মনে করেন না। প্রেসিডেন্ট এরদোগান মনে করেন তুরস্কের সেনা মোতায়েনের ফলে লিবিয়ার সংকট উত্তরণে সহায়ক হবে।
তুরস্কের দাবি-লিবিয়া এবং তুরস্কের মধ্যে ইতোপূর্বে স্বাক্ষরিত মেরিটাইম মেমোরেন্ডামের শর্তানুয়ায়ী ত্রিপোলীর ইউ.এন সমর্থিত বৈধ গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল এ্যার্কড-সরকারের অনুরোধে তুরস্কের মিলিটারী ভেহিকেল ও অস্ত্রশস্ত্র লিবিয়ায় পাঠানো হয়েছে-যা স্থল, নৌ এবং বিমানবাহিনীর জন্য ব্যবহার করা হবে। তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে-সেনা ও অস্ত্রাদি মোতায়েন কেবলমাত্র ডিফেনসিভ এবং এর ফলে দেশটার বৈধ জিএনএ লিড প্রধানমন্ত্রী সারাজ ও লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির নেতৃত্বাধীন জেনারেল হাফতার বাহিনীর মধ্যেকার বিরাজমান সশস্ত্র সংঘাত নিরসনে ভূমিকা পালন করবে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান এ প্রসেঙ্গ বলেন যে, লিবিয়ায় মোতায়েনকৃত তার দেশের সেনাবাহিনী যুদ্ধে অংশ নেবে না (নট টু ফাইট)। তবে বৈধ জি.এন.এ সরকারকে সহায়তা করবে এবং হিউম্যানিটারিয়ান ট্রাজেডি পরিহারে সহযোগিতা করবে।
তুরস্ক সরকারের লিবিয়ায় সেনা প্রেরণের উদ্দেশ্য ইউ.এন স্বীকৃত বৈধ জি.এন.এ সরকারের নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদানের জন্য হলেও এর পেছনে রয়েছে আরো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। আর তা হচ্ছে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে প্রাপ্ত তেল-গ্যাসের ওপর তুরস্কের জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করাসহ অত্র অঞ্চলে তুরস্কের আঞ্চলিক খ্যাতি ধরে রাখা।
উল্লেখ্য যে, অতি সাম্প্রতিককালে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে নতুন করে তেল-গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই তেল-গ্যাসের মালিকানা নিয়ে অন্যান্য কোস্টাল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে তুরস্কের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরে উভয় দেশের ‘ইক্সক্লোসিভ ইকোনমিক জোন’ এর নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার জন্য ইতোপূর্বে তুরস্ক ও লিবিয়ান জি.এন.এ সরকারের মধ্যে মেরিটাইম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এ অঞ্চলের পরিবর্তিত গ্যাস গেইম চেইঞ্জিং অবস্থা বিবেচনায় রেখে।
‘তুরস্ক সর্বদাই সকল বাধা বিপত্তি উপেক্ষা ও মোকাবেলা করে নিজেদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষা করে চলেছে অত্রাঞ্চলে। লিবিয়ার জিএনএ সরকারের নেতৃত্বে লিবিয়ার অখন্ডতা রক্ষার জন্য এবং একই সাথে আঞ্চলিক শান্তি রক্ষার উদ্দেশ্যেই তুরস্ক লিবিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে’-এক টুইট বার্তায় বলেছেন তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াটগুকটে।
লিবিয়ার জি.এন.এ সরকারের পক্ষে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যেই তুরস্ক এই সরকারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বলে আনকারার সরকারী কর্তৃপক্ষের অভিমত। ‘তুরস্ক লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে জড়িত হতে ইচ্ছুক নয়; তবে লিবিয়ার জাতিসংঘের সমর্থিত বৈধ জি.এন.এ সরকারকে জেনারেল হাফতার বাহিনী ক্ষমতা থেকে ফেলে দেবে তা কখনো তুরস্ক হতে দেবে না।” লিখেছেন ইবনে হালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের বিশেষজ্ঞ তালহা কচি। লিবিয়ায় তুরস্কের সেনা মোতায়েন লিবিয়া সম্পর্কে তুরস্কের গুরুত্বের বিষয়টা স্পষ্ট করেছে। লিবিয়ার সাথে গঠনমূলক সম্পর্ক রক্ষা, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে বহিরাগতের কবল থেকে তুরস্কের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে তুরস্কের দীর্ঘ মেয়াদী ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য-বলেছেন মিঃ তালহা কচি।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরের গ্যাস ক্ষেত্র থেকে ইতালি ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে গ্যাস রপ্তানী ও সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে ২০০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পাইপ লাইন স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গ্রীস, গ্রীক সাইপ্রিয়ট প্রশাসন এবং ইসরাইল ইতোপূর্বে একটা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
“গ্রীস, গ্রীক সাইপ্রিয়ট, মিসর এবং ইসরাইল নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে চলেছে এবং এ রাষ্ট্রগুলো তুরস্ক বিরোধী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তুরস্ক অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এটা লক্ষ্য রাখছে এবং এসব মোকাবেলা করে তুরস্ক পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তার স্বার্থ সংরক্ষণ করবে”-বলে মনে করেন মিঃ কচি।
এই চারটা রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো-পূর্ব ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের তেল, গ্যাস, জ্বালানী সংক্রান্ত গেইম থেকে তুরস্ককে বাইরে রাখা। কিন্তু তুরস্ক জ্বালানী গেইম থেকে সরে যাবে এমনটা ভাবা যায় না বিধায় চার রাষ্ট্র শক্তির সাথে তুরস্কের সংঘাত অনিবার্য। তাই আনকারা চার রাষ্ট্রের কোয়ালিশনকে অত্রাঞ্চলে ব্লক করে দেবার লক্ষ্যেই লিবিয়ার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে জি.এন.এ সরকারের সমর্থনে সেনা পাঠিয়েছে। সেনা পাঠানোর এই বিষয়টাকে অত্রাঞ্চলের প্রতি তুরস্কের দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত পাইপ লাইন তুরস্কের ই.ই.জেড হয়ে যাবে বিধায় তুরস্ক এটা ব্লক করে দেবার উদ্দেশ্যেই পূর্ব ভূমধ্যসাগরের প্রকল্প নিয়ে লিবিয়ার সাথে ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে দেবে না। আর এটাও সত্য যে, তুর্কি ও লিবিয়ার সম্মতি ব্যতীত পূর্ব ভূমধ্যসাগরে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা অসম্ভব।
লিবিয়ার সাথে তুরস্কের চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। ভূমধ্যসাগরে আমরা আমাদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ করব।” এক টুইট বার্তায় তার্কিশ প্রেসিডেন্সীর কমিউনিকেশনস ডাইরেক্টর মিঃ ফাহরেটিন আলতুন এ কথা বলেন।
অন্যদিকে আনকারা-ত্রিপোলী চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান স্পষ্ট করেই বলেছিলেন যে, ‘গ্রীক, গ্রীস সাইপ্রিয়ট, মিসর ও ইসরাইল-তুরস্কের সম্মতি ব্যতীত প্রাকৃতিক গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে না।’ তুরস্ক সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য যে, ইউ.এস.এ, রাশিয়া, ইইউ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো তুরস্কের সম্মতি ব্যতীত লিবিয়ার ভবিষ্যত প্রশ্নে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। একইভাবে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের প্রাকৃতিক গ্যাসের বিষয়েও এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে না। একক যেকোনো সিদ্ধান্ত প্রতিহত করবে তুরস্ক ও লিবিয়া।
লিবিয়া-তুরস্ক চুক্তি, লিবিয়ার জি.এন.এ সরকারের সমর্থনে তুরস্কের সৈন্য লিবিয়ায় মোতায়েন করার মৌল লক্ষ্যই হলো পূর্ব ভূমধ্যসাগরের তেল-গ্যাস সমৃদ্ধ অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে তুরস্কের আধিপত্য বজায় রাখা এবং অত্রাঞ্চলে তুরস্কের অনুকূলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা। এর মাধ্যমে তুরস্ক যেমন পূর্ব ভূমধ্যসাগরে নব আবিস্কৃত তেল-গ্যাসের ওপর মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে, তেমনি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে সর্বত্র গ্রহণযোগ্যতা লাভ করবে। তাই বলা যায় যে, লিবিয়ার জি.এন.এ সরকারের সমর্থনে সেনা পাঠিয়ে তুরস্ক তার শক্তি সামর্থতা সম্পর্কেই জানান দিলো তার বিরোধী আঞ্চলিক শক্তি ও রাষ্ট্রগুলোকে বিশেষ করে অত্রাঞ্চলে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, ইসরাইল প্রভৃতি তুরস্কের শত্রু রাষ্ট্রগুলোর প্রভাব রোধ করে নিজেদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ভূকৌশলগত স্বার্থ বজায় ও সংরক্ষণ রাখার স্ট্র্যাট্রেজিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তুরস্ক-লিবিয়ার জিএনএ সরকারের পক্ষে সৈন্য পাঠিয়েছে।
লেখক : আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT