উপ সম্পাদকীয়

বকুল ফুলের মালা

কামরুল আলম প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০১-২০২০ ইং ০১:১৮:৫৫ | সংবাদটি ২৪৬ বার পঠিত

বকুলের বাবা মনির সাহেব বকুলকে স্কুল থেকে আনতে গেলেন। গিয়ে দেখলেন স্কুল ছুটি হয়ে গেছে কিছুক্ষণ আগেই। ঘড়ির দিকে তাকালেন তিনি। সকাল দশটা বেজে ছাব্বিশ মিনিট।
এত দ্রুত স্কুল ছুটি হলে তো চলবে না। বকুল নার্সারিতে পড়ে। ওদের ক্লাস শুরু হয় সকাল সাড়ে আটটায়। স্কুল ছুটি হয় দশটা ত্রিশ মিনিটে। মনির সাহেব বকুলকে স্কুলে দিয়ে অফিসে চলে যান। অফিসের কিছু কাজ শেষ করে আবার স্কুলে আসেন বকুলকে নিতে। বকুল অবশ্য বাবার এ ব্যাপারটা পছন্দ করে না। ও বলে, বাবা, তুমি গেইটের বাইরে বসে থাকবে। আমাদের স্কুলের গেইটের বাইরে অভিভাবকদের জন্য চেয়ার রাখা আছে।
মনির সাহেব প্রথম প্রথম বসতেন। অভিভাবকদের সঙ্গে দুই ঘন্টা বসে থাকতে ভালো লাগে না তার। তাছাড়া অফিসেরও দেরি হয়ে যায়। তাই তিনি দুই ঘন্টা সময় কাজে লাগাতে চান।
মনির সাহেব স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করলেন। এদিক-ওদিক তাকালেন তিনি। চারদিকে বাচ্চাদের কোলাহল। বকুলকে কোথাও দেখতে পেলেন না। ঘাবড়ে গেলেন কিছুটা। এত আগে স্কুল ছুটি দিলে তো সমস্যা। যদি কোনোভাবে বকুল গেইটের বাইরে চলে যায়। স্কুলের অবশ্য সিকিউরিটি বেশ ভালো। পরিচিত অভিভাবক না এলে বাচ্চাদের বের হওয়া নিষেধ।
মনির সাহেব বাচ্চাদের ভিড় ঠেলে বকুলকে খুঁজতে খুঁজতে ক্লাসরুমের দিকে এগোলেন। হঠাৎ পেছন থেকে কেউ তার জামা ধরে টান দিলো। তিনি ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেন। খুব টেনশনে আছেন তিনি। বকুলকে খুঁজে না পেলে কী কী করতে হবে ভাবছিলেন।
‘বাবা, ও বাবা’ বলে পেছন থেকে ডেকে উঠল বকুল। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন মনির সাহেব। ওহ! বকুলই তার জামা ধরে টানছিল। যাক পাওয়া গেল তাহলে।
বকুলকে নিয়ে মনির সাহেব স্কুল থেকে বের হলেন। গাড়িতে উঠলেন তিনি। বকুল বসল বাবার পাশের সিটে। মনির সাহেব নিজেই ড্রাইভ করেন গাড়ি। তিনি স্টার্ট দিতে যাবেন এমন সময় বকুলের বয়সী একটি মেয়ে এসে দাঁড়াল গাড়ির পাশে।
মেয়েটির হাতে অনেকগুলো মালা। সবটাই বকুল ফুলের মালা। মেয়েটি গাড়ির গ্লাসের দিকে তাকিয়ে কাকুতি-মিনতি করে বলছে, মালা নেবেন মালা। বকুলের মালা। আপনার বাবুর জন্য নিয়ে যান না সাব। একটা বকুল ফুলের মালা মাত্র পাঁচ টাকা...।
বকুল বলল, বাবা, আমাকে মালা কিনে দাও। আমি বুকলের মালা গলায় পরব।
মনির সাহেব মালা কিনে দিলেন বকুলকে। বকুল খুব খুশি হলো। সে বকুল ফুলের মালা গলায় দিয়ে বসল। মনির সাহেব গাড়ির সিডি প্লেয়ারটা অন করলেন। একটি গান বেজে উঠল স্পিকারেÑ
বকুলের মালা নিয়ে
একটি শিশু যে বলল এসে
পাঁচটি টাকা দিন ভালোবেসে
পাঁচটি টাকা দিন ভালোবেসে।
সারাদিন বিক্রি করি
বকুল এই ফুলের মালা
তবুও খালি থাকে
আমাদের ভাতের থালা...।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • বিদ্যুৎসাশ্রয় এবং আমাদের করণীয়
  • বেঁচে থাকি প্রাণশক্তির জোরে
  • রক্ত দিন জীবন বাঁচান
  • নদীকে না দেখলে নদীও আমাদের দেখবে না
  • করোনা ভাইরাসে থমকে গেল পৃথিবী
  • করোনা ভাইরাসে আমাদের করণীয়
  • বঙ্গবন্ধুর মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন
  • বঙ্গবন্ধু ও আমাদের শিশুরা
  • করোনা ভাইরাস ও দেশের অর্থনীতি
  • Developed by: Sparkle IT