উপ সম্পাদকীয়

একই বচন পুনর্বার

ইনাম চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০১-২০২০ ইং ০০:৩৯:২৭ | সংবাদটি ৪৩ বার পঠিত

স্থানীয় প্রচার মাধ্যম সমূহে ক্ষোভ সহকারে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে যে সিলেট মহানগর এর বারুতখানা মোড় এলাকায় একটি কালভার্ট পুননির্মাণ করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য এটি আকারে ও প্রশস্ততায় আরও চওড়ারূপে প্রতিষ্ঠা করা। ক্ষোভের কারণটি হলো বিনা এত্তেলায় এটি করা হয়েছে। তাই জনদুর্ভোগ এর কারণ ঘটিয়েছে। বাস্তবে এই রাস্তাটি হালজমানার চাপ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নানা ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থিতি সমূহের কারণে একেবারে সরু ও অপ্রশস্ত রূপ ধারণ করেছে। আমি কয়েকবার গুরুত্ব সহকারে নগরীর লামাবাজার মোড় থেকে একেবারে টিলাগড় মোড় পর্যন্ত এই রাস্তাটিকে প্রয়োজনানুযায়ী চওড়া ও প্রশস্তকরণ কর্মটি সত্বর সমাধান করার জন্য লিখেছি। নিশ্চয়ই সেটি কর্তৃপক্ষের মনঃপূত হয়েছে। অন্যদিকে সব চাহিদা পুরণের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দও পাওয়া গিয়েছে। সে হিসাবে আরাধ্য কার্যটি সমাধা করতে দোষ কোথায়। সিসিক কর্তৃপক্ষ সোৎসাহে উন্নয়ন কার্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে সিসিক কর্তৃপক্ষ কখন কোথায় জনচলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে এমনতরো কোন বিজ্ঞপ্তি আগেভাগে প্রচার করে রাখলেই সমীচীন হতো। নগরবাসীর সচেতনতা এ ব্যাপারে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায় কারণ সিলেট মহানগরীকে উন্নয়নের কর্মধারায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানা যায়। ভবিষ্যত ভেবে আর আগত দিনের প্রয়োজনটুকু ভেবে নিয়ে আপাত দুর্ভোগটুকু সহ্য করে নিতেই হবে।
সিসিক কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন আগে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে নগরীতে সাধারণ পরিবহন হিসাবে বাস সেবা চালু করেছেন। আমার মনে হয় সেগুলি জনসেবায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেনা। এখনও সাধারণ মানুষকে রিক্সা নামক অতি মূল্যবান বাহনটির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই বাহনটি যেমন ধীরগতির, চালকদের মর্জি ততোধিক অস্থিরচিত্তের আবার অর্থকড়ির ব্যাপারে একেবারে চাছাছোলা। সাধারণ মানুষ এই বাহনটির কবলমুক্ত হতে চেয়েছিল। সিসিক কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে অতিশয় সচেতন। তাই তারা নগরব্যাপী চালু করেছেন বাস সেবা। এই সেবাটি সাদরে গৃহিত হয়েছিলো সর্বমহলে। বাস্তবে কিন্তু এই বাস পরিবহন সেবা পর্যাপ্ত পরিমাণ বা সংখ্যায় পাওয়া যাচ্ছে না। অমাবশ্যার চাঁদের মতো একেকটি বাসের দেখা মেলে আবার কোনসময় অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে গেলেও সেটি পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটাতে রাস্তাঘাট প্রশস্ত করণের পর শুধুমাত্র মহানগরী কেন্দ্রিক সরকারি দোতলা বাস এর প্রবর্তন এবং চালুকরণ পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। আশা করবো বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজর কাড়বে।
সিলেট নগরীতে দ্রুত এবং বেশি পরিমাণ যাত্রি পরিবহন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হলে অবশ্যই যানজট সহ আনুষাঙ্গিক জটিলতা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। সাথে অবশ্যই প্রশস্ত সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমানে সিলেট মহানগরীতে অপদখলীকৃত জায়গা জমি উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। মাঝে মাঝে সেটা আবার থমকে যায়ও। কেন জানি মনে হয় কোন অসাধু মহল বাধা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। আশার কথা মাননীয় মেয়র স্বয়ং উচ্ছেদকর্মে অংশগ্রহণ করে থাকেন যদিও এটি তার কাজ নয়। বোধহয় অধস্তনদের উপর তিনি কাজের ব্যাপারে পুরো নির্ভর করতে পারেন না বলেই এ জাতীয় প্রয়াস। শোনা যায় কেউ কেউ আপন ব্যক্তিস্বার্থে অর্থকড়ি ব্যয় করে উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চান বা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চান। আশা করবো এমনতরো অপপ্রয়াস সফল হবেনা। মনে রাখতে হবে অপদখলকৃত জায়গাজমি এখনও বিস্তর পরিমাণে রয়ে গেছে দৃষ্টির আড়ালে। লামাবাজার নয়াপাড়া এলাকায় একদা বিস্তৃত একটি খাল এখন তিনফুট প্রশস্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সিসিক নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সেটি পরিষ্কার করে দেয়ার পর সেই নালাটি দিয়ে ময়লা পানি নিঃসরিত হয়ে থাকে। হারিয়ে যাওয়া খালটি বোধহয় উদ্ধার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভ্ক্তু হয়নি অদ্যাবধি। এই খাল সংলগ্ন অনেকগুলি নবনির্মিত বহুতল ভবন রয়েছে। শোনা যায়, এগুলির কোন একটি ভবন নাকি এই খালটির পুরো দুই ডেসিমেল জায়গা দখল করে তৈরি করা হয়েছে। মাপজোক নিয়ে এটি বার করা হয়েছে কিন্তু উচ্ছেদ কর্ম পরিচালিত হয় নাই। গোপন লেনদেন নাকি প্রভাবশালী মহলের হম্বিতম্বি কিসের বলে যে এমনতরো জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী বিষফোড়া সদৃশ সমস্যাটি রয়ে গেল বুঝতে পারিনা। আশা করবো সকল অপদখলকৃত জমিগুলি উদ্ধার হবে এবং ফুটপাতসহ রাস্তাঘাট আরো আরো প্রশস্ততর হবে। অন্যদিকে পলিথিন জাতীয় অপচনশীল দ্রব্যাদির ব্যবহার বন্ধে প্রচারণা যেমন জোরদার করতে হবে তেমনি উচ্চ আদালতের আদেশ মতো এ জাতীয় দ্রব্যাদির ব্যবহার, বিক্রি, মজুদ প্রভৃতির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
সিলেট মহানগরীতে চলাচলরত রিক্সার সংখ্যা বোধহয় মাত্রাতিরিক্ত। নিশ্চয়ই অবৈধ উপায়ে ও অনেকগুলি রিক্সা যাত্রী পরিবহন করছে এই নগরীতে। এদের দাপট, ভাড়ার চাহিদা সবকিছু মাত্রাতিরিক্ত। এ ব্যাপারে একটু খোঁজ-খবর এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা সংশ্লিষ্ট মহলকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।
আমাদের সিলেট-০১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য যিনি আবার একজন মান্যবর মন্ত্রীও। তিনি তার নির্বাচনী ওয়াদায় বলেছিলেন এই মহানগরীতে একটি ত্রিমুখী উড়ালসড়ক হলো বলে। এ জাতীয় উড়াল সড়কের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণাকালে নগরবাসীকে জানিয়েছিলেন। তিনি নির্বাচিত হয়েছেন কিন্তু উড়াল সড়কটির দেখা মেলে নাই এখন পর্যন্ত। নগরবাসী যানজটকে নিজেদের ভবিতব্য বলেই ধরে নিয়েছেন। এই মহানগরীতে সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করার ব্যাপারে বরাদ্দসহ ব্যবস্থা গৃহিত হয়েছিল। সেইমত পানি শোধনাগার বানানো হয়েছে এবং পানি সরবরাহও শুরু হয়েছে। এই সরবরাহ ব্যবস্থা নেহায়েত অপ্রতুল। অনুরূপ আরো দুটো পানি শোধনাগার এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এই নগরীতে এবং তখনই পুরো নাগরিকবৃন্দকে সুপেয় পানি সরবরাহের আওতায় আনা সম্ভব বলে আমি মনে করি। বর্তমানে সিসিক কর্তৃপক্ষ পানির লাইনে অবৈধ মোটরসহ নানা জাতীয় অপকর্ম রোধকল্পে অভিযান চালাচ্ছেন। গরু খোঁজা করে অপরাধীদের খোঁজে আনাচেকানাচে চষে বেড়াচ্ছেন। এটা হওয়ার কারণই হচ্ছে যথেষ্ট পরিমাণ পানি সরবরাহ করা যেমন হচ্ছে না তেমনি জনচাহিদাও মেটানো যাচ্ছে না। এতো ঢাকঢাক গুড়গুড় না করে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে না হক পানি তছরূপকারীদের পেছনে দৌঁড়াতে হতো না।
সিলেট মহানগরীতে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং একটি নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানজট, অহরহ দুর্ঘটনা প্রভৃতি কারণসমূহের মধ্যে এটিও একটি কারণ। অপ্রিয় হলেও সত্য নগরব্যাপি যত্রতত্র অবৈধ গাড়ী স্ট্যান্ড সহ পার্কিং উচ্ছেদে সিসিক ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ নিদারুনভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। জঞ্জাল আর অবৈধ গাড়ী স্ট্যান্ডমুক্ত নগরী সকলেই প্রত্যাশা করে। বাস্তবে সেটি যেন আর হয়ে উঠে না।
নাগরিক হিসাবে স্বাস্থ্যসেবার অধিকার সকলেই ভোগ করতে চায়। শোনা গিয়েছিলো শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতালটিকে অত্যাধুনিক শিশু হাসপাতাল হিসাবে গড়ে তোলা হবে এবং সে উদ্দেশ্যে বহুতল ভবনে রূপান্তরিত হবে হাসপাতালটি। কিন্তু এ ব্যাপারে কাকস্য পরিবেদনা ছাড়া আর কিছুই নয়। সিসিকের কাছে দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো লামাবাজার এবং সন্নিহিত এলাকায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার। সেটি হয়নি। মির্জাজাঙ্গালে সিসিক মালিকানাধীন একটি বাড়ী একজন ব্যক্তি আপন দখলে রেখেছেন কয়েক পুরুষ ধরে। মাননীয় মেয়র সাহেবকে অনুরোধ করবো তিনি যেন বাড়ীটি উদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা নেন এবং সেখানে একটি চিকিৎসালয় স্থাপন করে গরীব-নিঃস্ব চিকিৎসাপ্রার্থীদের সেবাদান নিশ্চিত করেন।
সিলেট-এক আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সমীপে নিবেদন করতে চাই তিনি যেন সিলেট সরকারী আলীয়া মাদ্রাসা মাঠটিকে সংস্কার করে ভবিষ্যৎ ক্রীড়াবিদ সৃষ্টিতে এগিয়ে আসেন। অনুরূপভাবে সিলেট আলীয়া মাদ্রাসাটিকে বহুতল ভবন নির্মাণপূর্বক উচ্চ শিক্ষার সকল সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করেন। বিলুপ্ত হাই মাদ্রাসা বিভাগটি পুনরায় যেন সেখানে চালু করা হয়। সিলেট জেলা পুলিশ মাঠটিকে পুনরুদ্ধার করা হয়, সংলগ্ন পুকুরটিকে ভবিষ্যৎ সাতারু তৈরীতে যুগোপযোগী করতে যেন উদ্যোগ নেয়া হয়। সিলেট জেলা স্কাউট ভবনটির (বহুতল) নির্মাণ কাজ ত্বরান্বিত করা হয়। বড়ে মুশকীলছে হোতা হ্যায়।
লেখক : কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT