স্বাস্থ্য কুশল

সুঅভ্যাসে সুস্বাস্থ্য

মো. লোকমান হেকিম প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০১-২০২০ ইং ০২:১৬:৩৩ | সংবাদটি ১৪৭ বার পঠিত

একথা কেউ জোর দিয়ে বলতে পারবেন না যে, আমি কখনও ঠা-া বা অন্য কোনো ফ্লুতে আক্রান্ত হবো না। যে কেউ যেকোনো সময় ঠা-ায় আক্রান্ত হতে পারেন। কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকলে সহজে ফ্লু ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে না-হাত পরিষ্কার রাখা-হাত পরিষ্কার রাখুন এবং মাঝে মাঝেই হাত ধোবেন। দ্য ইউএস নেপাল হেলথ রিসার্চ সেন্টারে চল্লিশ হাজার মানুষের ওপর একটি জরিপ করা হয়। স্টাডি অনুযায়ী যারা দিনে অন্তত পাঁচবার হাত ধোয় তারা অন্যদের তুলনায় পঁয়তাল্লিশ শতাংশ বেশি ঠা-া প্রতিরোধে সক্ষম। গণশৌচাগার ব্যবহারে সতর্কতা : গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ মানুষই পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করার পর হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করেন না এবং প্রত্যেককেই বের হওয়ার সময় দরজায় হাত দিয়ে খুলতে হয়। সুতরাং টয়লেট থেকে বের হওয়ার আগে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে টাওয়াল বা টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে নেবেন। পরে টিস্যু পেপার দিয়ে দরজার ছিটকিনি খুলে বের হয়ে আসুন।
প্রতিরোধই মূল, প্রতিষেধক নিন-ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হচ্ছে প্রতিষেধক নেয়া। জটিল ধরনের ফ্লু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ভ্যাকসিন নেয়া প্রয়োজন। তবে ডায়াবেটিস, এ্যাজমা, কিডনি সমস্যা, হার্টের রোগী, গর্ভবতী মা এবং ৬৫ বছর বয়ষোর্ধদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন গ্রহণে স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নেয়া উচিত। জীবাণুমুক্তকরণ সরঞ্জাম হাতের কাছে রাখুন-ঠা-া কখনই কাশি বা চুমুর মাধ্যমে ছড়ায় না। যদিও এই দু’টিই সংক্রমণের প্রধান উপায়। কিন্তু ঠা-া হাত থেকে হাতে, হাত দিয়ে বিভিন্ন বস্তু ধরার মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে। এমনকি ঠা-ার ভাইরাসটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা জীবিত থাকতে পারে। যখন নাকেমুখে হাত দেয়া হয় তখন হাতে লেগে থাকা ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করে এবং অসুস্থতা দেখা দেয়। তাই জীবাণুমুক্তকরণ জেল বা জীবাণুমুক্ত টাওয়াল হাতের কাছেই রাখুন এবং প্রয়োজনে বারবার হাত পরিষ্কার করুন। একজনের হাতের জীবাণু থেকে কমপক্ষে ২০ জন সংক্রমিত হতে পারেন। বারবার হাত ধোয়া: কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক পরীক্ষা করে দেখেছেন, স্বেচ্ছাসেবকদের হাতের জীবাণু খুব সহজেই অন্য সেবাপ্রাপ্তদের শরীরে প্রবেশ করছে। এমনকি ব্যাকটেরিয়াবিরোধী সাবান ব্যবহার করা সত্ত্বেও।
সুতরাং ঠা-া থেকে রক্ষা পেতে হাত ধোয়ার সময় বারবার পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। তিন মাস পর টুথব্রাশ পরিবর্তন করুন : ট্রুথব্রাশ দাঁত পরিষ্কার রাখে। কিন্তু দাঁত ব্রাশ করার পর ব্রাশের নিচে জীবাণু জমা থাকে। অধিকাংশ ডেন্টিস্ট দুই-তিন মাসের মধ্যে ব্রাশ পরিবর্তন করতে পরামর্শ দেন। ঠা-া ফ্লু এবং ইনফেকশন প্রতিরোধে এটি অন্যতম একটি উপায়। বসার আগে টিসু দিয়ে সিট মুছে নেয়া-বাসা, অফিস বা বাসে বসার আগে টিসু দিয়ে সিট মুছে নিন। অনেক সময় সিটে কফ, হাঁচি সর্দির জীবাণু থাকে-যা সহজেই অন্যকে আক্রমণ করতে পারে। অসুস্থ হলে নিজেকে দোষারোপ করবেন না-বিশ্বাস করুন আর না করুন নিজেকে ঠা-ার রোগী হিসেবে ডাকা বা দোষারোপ করা ঠা-ায় সংক্রমণের মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে যারা বেশি কাজ করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঠা-া মোকাবেলা করতে পারেন তাদের ঠা-ার প্রবণতা কম। ঠা-ার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করার জন্য নিজেকে উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। আঙ্গুলের ডগা দিয়ে চোখ পরিষ্কার করা-আঙ্গুলের ডগায় জীবাণু অপেক্ষাকৃত কম থাকে। চোখ এ্যান্টি ভাইরাস তৈরি করে।
দিনে ২০ থেকে ৫০ বার চোখেমুখে পানির ঝাপটা দেয়া ভালো। সপ্তায় একদিন সোউনা করুন- ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলিয়ান এক গবেষণায় দেখা গেছে, সারা সপ্তাহে একদিন সোউনা করেন তাদের ছয় মাসের মধ্যে ঠা-া সমস্যা অর্ধেক কমে যায়। এটি গরম বাতাস থেকে ঠা-ার জীবাণুকে নষ্ট করে দেয়। সোউনা বাথ নিলে শরীর জীবাণু সংক্রমণ থেকে দূরে থাকে। ব্যায়াম-ব্যায়াম শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। ২০০৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে বয়স্ক মহিলারা যারা সপ্তায় অন্তত পাঁচ দিন পঁয়তাল্লিশ মিনিট করে ব্যায়াম করেন তারা অন্যদের তুলনায় ঠা-ায় আক্রান্ত হন কম। গবেষকরা জানিয়েছেন, ব্যায়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দুধ দই বা ঘোল পান করা-গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রতিদিন এক কাপ দই বা ঘোল পান করেন তাদের তুলনামূলক ঠা-ার প্রবণতা অনেক কম। যদিও অনেকে মনে করেন দুধ জাতীয় খাবার ঠা-া বাড়ায়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন দুধ বা দুধ জাতীয় খাবার খেলে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ঘরের জানালা খোলা রাখুন : আপনি যে ঘরে বেশি সময় কাটান তার জানালা বেশির ভাগ সময়ই খোলা রাখুন। এতে আলো-বাতাস আসবে এবং ঘরের জীবাণু বাইরে নিয়ে যাবে। সতেজ বাতাস মনকেও সতেজ করে তোলে। টিস্যু দিয়ে সর্দি ও কাশি ঝাড়–ন- যখন সর্দি পরিষ্কার করতে হয় তখন বিভিন্ন জীবাণু হাতে এসে লেগে যায়, খুব ভালোভাবে পরিষ্কার না করা হলে জীবাণুগুলো দীর্ঘক্ষণ জীবিত থাকে। তাই টিস্যু দিয়ে সর্দি পরিষ্কার করা উচিত এবং এরপর সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নেয়া প্রয়োজন।
অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ না করাই ভালো- ঠা-া এবং ফ্লু ভাইরাস আক্রান্ত অনেকেরই ধারণা ঠা-া হলেই অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে-যা ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু এমনটি ভাবা ঠিক নয়। অ্যান্টিবায়োটিক জীবাণু ধ্বংস করে ঠিকই, কিন্তু অন্যদিকে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। সপ্তায় তিন/চার দিন টাওয়াল পরিষ্কার করুন-সপ্তায় অন্তত তিন থেকে চারদিন গরম পানি দিয়ে আপনার ব্যবহার্য টাওয়াল পরিষ্কার করে নিন। গরম পানি জীবাণু ধ্বংস করে। ঠা-া বা যেকোনো ধরনের ফ্লুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই। নিজেকে গুছিয়ে রাখতে হবে-পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন, সুস্থ থাকুন। আর এ দায়িত্ব আপনার নিজেরই। কারণ জানেন তো প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো। সবশেষে এ সত্যটি মনে রাখুন-নিজের যতœ না নিলে নিজে-অন্যের ওপর ভরসা মিছে।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • জুতায় কতদিন বেঁচে থাকতে পারে করোনাভাইরাস?
  • হার্ট সুস্থ রাখা চাই
  • হাম রুবেলা ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে প্রচারণা
  • গাজরের উপকারিতা
  • রোগ প্রতিরোধে ডুমুর
  • তরমুজ এক উপকারী ফল
  • সকালের নাস্তা যখন সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি
  • করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার উপায়
  • শাকসবজি ও ফলমূল কেন খাবেন
  • দৈনন্দিন জীবনে লেবুর চাহিদা
  • এ্যাপোলো হসপিটালে ভারতের প্রথম ইনভেসিভ ডবল কার্ভ কারেকশন সার্জারি
  • হাঁড়ের ক্ষয় রোগ : নীরব ঘাতক
  • আপনার সন্তানের চোখের যত্ন নিন
  • আয়োডিন স্বল্পতায় জটিল রোগ
  • শারীরিক শক্তি বাড়ায় যে খাবার
  • সুস্থতার জন্য পানি
  • রোগ প্রতিরোধে ডালিম
  • শীতে হাঁপানি এড়াতে কী করবেন
  • শীতে ঠোঁটের সুরক্ষা
  • এক জায়গায় বসে কাজ করার কুফল
  • Developed by: Sparkle IT