ইতিহাস ও ঐতিহ্য

সাচনাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়

পরিতোষ ঘোষ চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-০১-২০২০ ইং ০০:২৪:২৮ | সংবাদটি ৩৬১ বার পঠিত

মহান স্বাধীনতার পর থেকেই সাচনাবাজার এলাকায় একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপনের খুব প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বিশেষ করে বর্ষায় খর¯্রােতা নদী পার হয়ে নদীর ওপারে জামালগঞ্জে ছাত্র-ছাত্রীদের পারাপার খুব কষ্টদায়ক ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৭ সনে সাচ্নাবাজার এলাকার সুধীজনদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেছিলেন সাচ্নাবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রয়াত হৃষিকেশ রায়। সভায় বিদ্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে সবাই একমত পোষণ করেন। একই সালের শেষদিকে সুনামগঞ্জ-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য প্রয়াত বরুন রায়ের সভাপতিত্বে আরেকটি মতবিনিময় সভায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
অবশেষে ১৯৮৯ সালের ২২শে জানুয়ারী সাচ্নাবাজার লামাবাজারের পুরাতন হাসপাতালে অস্থায়ীভাবে নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে কার্যক্রম শুরু হয়। পলক গ্রামবাসী উক্ত বিদ্যালয়ের জন্য ২.০৮ একর ভূমি দান করেছিলেন।
প্রথম কমিটি ঃ স্কুল পরিচালনার জন্য প্রথম যে কমিটি হয় তা নি¤œরূপ: সভাপতি-মনোরঞ্জন পাল (প্রয়াত), সাধারণ সম্পাদক-এম নবী হোসেন, সদস্য-মরহুম করম আলী তালুকদার, অজিত রায়, রেজাউল করিম শামীম, এডভোকেট সত্যরঞ্জন রায়, মোহাম্মদ আলী, অর্ধেন্দু ঘোষ চৌধুরী, আব্দুস সত্তার, রফিকুল বারী রফিক, হিমাংশু দে প্রমুখ।
২২শে জানুয়ারী ১৯৮৯ শীতের শিশির ভেজা সকালে বিদ্যালয়টির শুভ উদ্বোধন করেন তৎকালীন জামালগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান, আবুল মনসুর আহমদ লাল মিয়া (মরহুম)। শুরুতে ৯টি ব্রেঞ্চ, ৩টি চেয়ার, ২টি টেবিল দিয়ে কার্যক্রম চলে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন নিখিল রঞ্জন তালুকদার, সহ শিক্ষক পরিতোষ ঘোষ চৌধুরী, ভাগিরতী রায়, মুকুল রায়, আব্দুল মতিন, প্রাণতোষ ঘোষ, প্রয়াত হৃষিকেশ রায় ও হাসনা ইয়াসমিন পিয়ারা।
প্রথম দপ্তরী ঃ বিনোদ বিহারী দাস, প্রথম ছাত্র-অনুপম রায়, প্রথম ছাত্রী ময়না রানী দাস। এছাড়া আরও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ছিল আনোয়ারা পংকজ রায় (প্রয়াত), রিয়াজ, সজল রায়, সলিল রায়, শ্রীনাথ ভট্টাচার্য্য, মতিউর রহমান, মাধবী রায় চৌধুরী, বিশ্বজিৎ পাল, লক্ষ্মী রায় চৌধুরী প্রমুখ।
সভাপতি ঃ প্রথম সভাপতি মনোরঞ্জন পাল (প্রয়াত), সিরাজুল ইসলাম শেখ, (তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) নজির হোসেন (তৎকালীন সুনামগঞ্জ-১ সংসদ সদস্য।) ১৯৯৬ সালের পর থেকে অদ্যাবদি দায়িত্ব পালন করছেন সাচ্নাবাজার ইউনিয়নের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও শিক্ষানুরাগী রেজাউল করিম শামীম।
প্রধান শিক্ষক ঃ প্রথম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক-নিখিল রঞ্জন তালুকদার, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক-প্রাণতোষ ঘোষ চৌধুরী ০৯.০১.১৯৯০ হইতে ২৫.০১.১৯৯৫। প্রধান শিক্ষক প্রাণতোষ ঘোষ চৌধুরী ২৬.০১.১৯৯৫ হইতে ২৫.১০.২০১৭ পর্যন্ত। ২৬.১০.২০১৭ হইতে রইছ মিয়া প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ইতিপূর্বে তিনি ছিলেন সহ প্রধান শিক্ষক বর্তমানে কর্মরত।
শিক্ষক/শিক্ষিকা ঃ সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রভাকর মজুমদার। অন্যান্য শিক্ষক/শিক্ষিকা-হাসনা ইয়াসমিন পিয়ারা, মোঃ আজাদ আল মামুন, সৈয়দ আহমদ, মুকুল চন্দ্র রায়, অরূপ নারায়ণ তালুকদার, মোঃ আক্তার হোসেন, সাকেরা বেগম, সুজল চন্দ্র পাল নূর জালাল মিয়া, হেপী চৌধুরী, চয়ন কান্তি পুরকায়স্থ, ভাগীরথী রায় প্রমুখ।
মোট শিক্ষক/শিক্ষিকা-২০ জন। কর্মচারী-০৫ জন।
মোট ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা বর্তমানে তেরোশতের উপরে।
অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে বিদ্যালয়ে পাঠদান হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দুইটি দ্বিতল ভবন, একটি একতলা ভবন এবং একটি টিনশেড ঘর বিদ্যমান। বিদ্যালয় সীমানা প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত। সীমানা প্রাচীরের অভ্যন্তরে রয়েছে দীঘির মত দেখতে পুকুর। সুন্দর একটি খেলার মাঠ আছে। আছে সুসজ্জিত কম্পিউটার ল্যাবরেটরি। একটি কক্ষে বিজ্ঞানাগার-আছে বৃহৎ লাইব্রেরি। পাঠদানের জন্য আছে মোট ১১টি শ্রেণি কক্ষ। প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়, আলাদা কক্ষে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের মিলনায়তন। এছাড়াও আছে দৃষ্টিনন্দন আধুনিক শহীদ মিনার।
এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে নিয়মিত চর্চা করা হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহযোগিতায় এ বিদ্যালয়ে প্রতি বছর বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিতর্ক, একক অভিনয়, উপস্থিত বক্তৃতা, জ্ঞান জিজ্ঞাসা, অভিনয় নৃত্যসহ আরো অন্যান্য প্রতিযোগিতা হয়। তাতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে। প্রতিদিনেই জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়াও বিদ্যালয়ে প্রতি বছর মিলাদ মাহফিল ও সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পাশের হার সন্তোষজনক।
তবে শিক্ষক স্বল্পতা ও শ্রেণি কক্ষের সংকট আছে।
একটি আদর্শ বিদ্যালয় হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালনা কমিটির অভিভাবক, শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বালাগঞ্জের বাতিঘর বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়
  • বঙ্গবন্ধু ও গান্ধীজী
  • সিলেটের দ্বিতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন ‘মেশিনম্যান’
  • একটি যুদ্ধ : একটি শতাব্দী
  • বালাগঞ্জের প্রাচীন জনপদ শিওরখাল গ্রাম
  • ভাটিপাড়া
  • সময়ের সোচ্চার স্বর সোমেন চন্দ
  • বঙ্গবন্ধুর সিলেট সফর ও কিছু কথা
  • বায়ান্নতেই লিখেছিলেন ‘ঢাকাই কারবালা’
  • জীবনের শেষক্ষণে অর্থ-স্বর্ণ সবই জড়পদার্থ
  • কমরেড বরুণ রায়
  • বঙ্গবন্ধু ও রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
  • নারী ভাষাসৈনিকদের কথা
  • মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবীর ওসমানী
  • ভাটির বাতিঘর সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ
  • মাওয়ের লংমার্চের ৪ বছর পর সিলেটিদের লং মার্চ
  • শহীদ মিনারের ইতিকথা
  • সিলেটের লোকসংগীত : ধামাইল
  • পর্যটক ইবনে বতুতার কথা
  • বই এল কোথা থেকে?
  • Developed by: Sparkle IT