ইতিহাস ও ঐতিহ্য

পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন

আতিকুর রহমান প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-০১-২০২০ ইং ০১:০৯:০৬ | সংবাদটি ৭৪ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর] : এটা অতীত কাহিনী ভিত্তিক একটি গানের অংশ। (সূত্রঃ চাকমা লোকগীতি) আরেক চাকমা লোককাহিনী ভিত্তিক গানে ব্যক্ত হয় ঃ আদি চাকমা রাজার মর্যাদা প্রাপ্ত জনৈক শের মস্ত খার মূল বাড়ী ছিলো আরাকানে ও তার অধীন একদল চাকমার শেষ মোগল আমলে চট্টগ্রামে আগমন ঘটে। ঐ আদি রাজা ও আদি চাকমাদের বসবাসকাল অন্য কোন প্রমাণ সূত্রের দ্বারা নিশ্চিত নয়।
প্রফেসার আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দিন, স্বীয় রাজাজ ওফ দি চিটাগাং হিল ট্রাক্টস নামক প্রবন্ধে আদি রাজার সময়কাল ১৭৩৭ খ্রীঃ সাল বলে নির্ণয় করেছেন, যার সূত্র হলো মোগল আমলের স্থানীয় কানুনগো রিপোর্ট। তিনি এ-ও উল্লেখ করেছেন যে, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার মাওদা অঞ্চলে ঐ শেরমস্ত খাকে চট্টগ্রামের নাজিম জুল কদর খাঁ একখন্ড পাহাড়ী জমি বন্দোবস্তি দিয়েছিলেন, যে জমিতে তার সঙ্গী সাথী চাকমারা চাষাবাদে লিপ্ত হয়।
বর্ণিত উভয় তথ্যকে সঠিক ধরে নিয়ে বলা যায়, মোগল আমলের শেষের দিকে প্রথম একদল আরাকান ত্যাগী চাকমা শের মস্ত খানের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আদমন করে, এবং তাদের বৃহদাংশ মূল সর্দার নেতৃত্বাধীন, আরাকানেই নিজেদের অবস্থান বজায় রাখে। চাকমাদের বাংলাদেশে আগত খন্ডিতাংশের প্রথম রাজা শেরমস্ত খান, এবং এটা তাদের লোকগীতিতেও স্বীকৃত যথাঃ
“আদি রাজা শেরমস্ত খাঁ রোয়াং ছিলো বাড়ি,
তারপর শুকদেব রায় বান্ধে জমিদারী।ঃ
কিংবদন্তি সূত্রে চাকমারা অনেক দীর্ঘ রাজ তালিকার অধিকারী, এবং তাদের রাজ্য রাজত্বের ব্যাপ্তিকালও শত শত বছর দীর্ঘ, যা বিশ্বাস্য প্রমাণ সূত্রের দ্বারা সমর্থিত নয়।
তবে এ কথা সত্য যে, তারা একটি কুলিন সম্প্রদায়, এবং কয়েক শত বছর যাবৎ ভারত বাংলা ও আরাকানে বসবাসের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। ভাগ্যের পরিহাসে তারা দেশে দেশে বিচরণশীল ও বিভক্ত। আরাকান, বাংলাদেশ, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও অরুণাচল জুড়ে তাদের বসবাস বিস্তৃত। এই তিন রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম এলাকায় তাদের বিভক্ত বিচ্ছিন্ন অবস্থান কখনো জোড় খাবে এবং তারা রাজ্যাধিকারী হবে সে আশা বৃথা। তবে বাংলা অঞ্চলে তাদের প্রধান অবস্থান সর্বাধিক সংহত হয়ে আছে, এবং বাঙ্গালীদের সাথেও তাদের নিকটতম নৃতাত্বিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এই আনুকূল্যকে অবলম্বন করে আরো ঘনিষ্ঠতা ও নৈকট্য রচনা করা গেলে, এতদাঞ্চল হতে পারে তাদের স্থায়ী সুখ নিবাস। বাঙ্গালী উদারতা যেমন অতীতে তাদের সহযোগী থেকেছে, তেমনি তা ভবিষ্যতের জন্য নিশ্চিত করার উপায় হলোঃ উভয়ের অহিংস শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়া। চাকমাদের দ্বারা এতদাঞ্চলে বাঙ্গালীদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার নীতি উভয়ের মাঝে তিক্ততার জন্ম দিচ্ছে, যার ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হবে চাকমাসহ উপজাতীয়রাই। এই অঞ্চলে উপজাতীয়দের স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীন ক্ষমতা লাভের বাড়াবাড়িকে বাঙ্গালীদের বৃহৎ জনসংখ্যা আর বাংলাদেশের নিবিড় অখন্ডতাই সফল হতে দেবে না। তবে আপোষ সমঝোতার ধারায় প্রতিদ্বন্দ্বী দুই সম্প্রদায়ের সম অধিকারের ভিত্তিতে স্থানীয় শাসন ক্ষমতা বা সীমিত স্বায়ত্তশাসন লাভ সম্ভব। জাতীয় অসন্তোষ সন্দেহ আর অবিশ্বাস, উপজাতীয় রাজনৈতিক বাড়াবাড়িকে অবলম্বন করে, ইতোমধ্যে রচিত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের জন্মকালিন নাজুক শৈশবকালে সূচিত দীর্ঘ ব্রিতকর উপজাতীয় বিদ্রোহটি পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার উপর এক গভীর চীড় ধরিয়ে দিয়েছে। একে সারাতে দরকার এমন এক গভীর উদার সম্পর্ক রচনা যাতে উভয় সম্প্রদায়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক একাত্মতা বাস্তব হয়ে ওঠে। সম্প্রতি সম্পাদিত তথা কথিত শান্তি চুক্তিতে বৈষম্য ও ভিন্নতা সূচিত হয়েছে। মনে করা হয় এটি বিদ্রোহের জারজ সমঝোতা। এর দ্বারা সম্পর্কের উন্নয়ন হবে বলা যায় না। এটি বিদ্রোহের ঐ তিক্ততাকে বার বার স্মরণ করিয়ে দিবে যে, তাতে হাজার হাজার পাহাড়ী বাঙ্গালী পরস্পরের সাথে হানাহানিতে লিপ্ত আর হতাহত হয়েছে, পরস্পরকে শত্রু ভাবতে শিখেছে, এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে আনয়ন করেছে বৈষম্য। এটি বৈষম্যপূর্ণ এমন এক রোয়েদাদ, যদ্বারা পাহাড়ীরা বিশেষ সুযোগ সুবিধাভোগী বরপুত্র এবং বাঙ্গালীরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত।
চাকমা ইতিহাসের দ্বিতীয় উপাদান হলোঃ রাধা মোহন ধন পতি মহাকাব্য। চাটিগাং ছাড়া বা ছড়া কাব্যটিও তার অংশ। এ মহা কাব্যটির কোন লিখিত রূপ নেই। তবে তার কিছু খন্ডিতাংশ পুস্তিকা আকারে হালে প্রকাশিত হয়েছে। মৌখিক পালাগানের মত একদল চারণ গায়ক এটির চর্চা করে থাকেন, যাদের বলা হয়ে থাকে গেংকুলি গায়ক। গেংকুলি নামটি জ্ঞানকলির বিকৃত রূপ বলেই মনে হয়। চাকমা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বর্ণনায় এ গানটি ভরপুর। ইতিহাস গবেষণার এক সমৃদ্ধ উপাদান রূপে এটি সংগ্রহ যোগ্য।
চাকমা সমাজের অতীত গৌরবের খুটিনাটি বিষয়াদি এ গানটিতে সন্নিবেসিত আছে। এ গানের আসরে সাধারণ চাকমা সমাজ বিপুলভাবে উল্লসিত হয় এবং গৌরবময় অতীত কাহিনী শুনে উচ্ছাস প্রকাশ করে। আজকাল চর্চার অভাবে এই গেংকুলি গায়কদের সংখ্যা ও আদর হ্রাস পাচ্ছে, এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এ গানটির চর্চাও ধরে রাখা যাচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধান গেংকুলি গায়ক বা ওস্তাদ গেংকুলি যিনি একজন তঞ্চঙ্গ্যা অন্ধ ও বৃদ্ধ ব্যক্তি, জীবিকা নির্বাহে ব্যর্থ হয়ে, কারো প্রলোভনে কলকাতায় পাড়ি জমিয়েছেন। সাগরিদরাও অনাদর অবহেলায় প্রত্যন্ত সীমান্ত অঞ্চলের কোন কোন তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ায়, অন্য পেশা অবলম্বন করে কোনমতে কালাতিপাত করছেন। এখন আর তাদের সুরেলা দোতারা বাজে না, এবং কণ্ঠেও ঝংকৃত হয় না অতীত গৌরবময় চাকমা ইতিহাস। কেউ তৎপ্রতি আগ্রহীও নন। ইতিহাস ও সংস্কৃতির সংরক্ষক কর্তৃপক্ষ এগুলো হারিয়ে যাওয়ার আগে সংগ্রহে উদ্যোগী হলে প্রভূত উপকার হতো। খৃষ্টান মিশনারীদের কেউ কেউ এগুলো টেপ করে রেখেছেন। রাঙ্গামাটির কেথলিক গীর্জায় এগুলো টেপে বাজতে আমি শুনেছি। তবে সে অনেক আগের কথা। আমাদের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই মহৎ উদ্যোগটি নিতে পারে।
আরাকানের ম্রাকু রাজবংশ তাদের কার্যকালের ৩৫২ বছর যাবৎ মুসলিম নাম পদবী ধারণ ও আরবী ফার্সী ভাষা ও বর্ণের চর্চায় ব্রতী ছিলেন, যার প্রমাণ তাদের জারিকৃত মুদ্রা ও প্রচারিত দলিল পত্রে বিদ্যমান। সে সময়কার আরাকানবাসী হিসাবে চাকমাদের উপরও তার প্রভাব পড়ে থাকবে। তবে ব্যতিক্রম হলো ¤্রাকু রাজবংশীয় আর সে দেশীয় অভিজাতরা মঘী নাম পদবি বর্ণ ও ভাষার বিকল্পরূপে মুসলিম নাম খেতাব ও আরবী ফার্সী বর্ণ ভাষা ব্যবহারে অভ্যস্ত হলেও মুসলিম সামাজিক ও ধর্মীয় ভাষা থেকে তারা মুক্ত ছিলেন। কিন্তু চাকমা সমাজ হলো এর ব্যতিক্রম। তারা বাঙ্গালী মুসলিম সামাজিক ও ধর্মীয় ভাষায় পুরোপুরি অভ্যস্ত। মুসলিম নাম খেতাবের সাথে এই ভাষাগত একাত্মতা বিষ্ময়কর। অথচ স্থানীয় হিন্দু বাঙ্গালীরা মুসলিম বাঙ্গালীদের অধিকাংশের দীর্ঘদিনের রক্তগত আত্মীয়। তবু উভয়ের মাঝে ভাষা, নাম ও পদবিতে গভীর পার্থক্য প্রবহমান। চাকমা ও মুসলিম বাঙ্গালীদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিগত গভীর একাত্মতা উভয়ের দীর্ঘ অতীত ঘনিষ্ঠতার স্মারক। গভীর মিশ্রণ ও ঘনিষ্ঠতার দীর্ঘ প্রেকটিস ছাড়া খোদা, দোজখ, ওক্ত, সালাম, ইত্যাদির মত ইসলামী ভাষাগত একাত্মতা রচিত হতে পারে না। এই একাত্মতার উদাহরণকে পাশ কেটে বর্তমানে উভয় সম্প্রদায় পরস্পরের চরম বৈরী, এটা সর্বাধিক বিস্ময়কর। তবে এটাকে ভ্রাতৃ কলহই বলা যায়।
কেউ কেউ বলেন ঃ এই বিষ্ময়কর বৈরীতার প্রধান হেতু, কর্ণফুলী হ্রদের দ্বারা বিরাট উপজাতীয় অঞ্চলকে ডুবিয়ে দেয়া, বাঙ্গালীদের বসতি বিস্তার, যৌনঅনাচার ও শোষণ ইত্যাদি। হ্যাঁ উপজাতীয় অসন্তোষ বিস্তারে এ কারণ গুলোর খানেক প্রভাব অবশ্যই অনস্বীকার্য। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষই প্রধান কারণ, যেটি উপরোক্ত কারণগুলোকে অবলম্বন করে শক্তি সঞ্চয় করেছে। উপজাতীয় বিদ্রোহই ডেকে এনেছে বাঙ্গালীদের। নতুবা এতদিনে এতদাঞ্চলের বাংলাদেশ হয়ে থাকাই ছিলো সন্দেহজনক। উপজাতীয় রাজনীতির মূল বিষয় সূত্র তাদের পরিপোষিত ভ্রান্ত ঐতিহাসিক ধারণায়ই নিহিত, আর সে হলো ঃ এতদাঞ্চল আদি উপজাতীয় এলাকা, এবং এটি সাবেক স্বাধীন মুক্তাঞ্চল, যেখানে চাকমাদের একটি স্বাধীন রাজ্য ছিলো। অথচ এটি সঠিক ধারণা নয়। জনসংহতি সমিতি এই ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তিতেই স্বীয় দাবীতে স্বাধীন চাকমা রাজা কর্তৃক মোগলদের সাথে তুলনা চুক্তি সাম্পদনের কথা বলেছে।
সীলমোহর অনুযায়ী চাকমা রাজা ফতেহ খাঁ হলেন বৃটিশ আমলের লোক। তার কার্যকাল ১৭৭১ সাল থেকে শুরু। কথিত জালাল খান ও চাকমা নৃপতি নন। তিনি হলেন পৃথক উপজাতীয় সর্দার গোষ্ঠী তৈন খান বা চন্দন খান বংশের শেষ ব্যক্তি, যাকে ১৭২৪ সালে অবাধ্যতার কারণে, দোহাজারীতে নিযুক্ত মোগল ফৌজদার কৃষণ চাঁদ কর্তৃক উৎখাত করা হয়। এই বংশের কার্যকাল ১৭১১-১৭২৪ খ্রীঃ সাল পর্যন্ত মাত্র ১৩ বছর কাল ব্যাপ্ত। তাও তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা ছিলো আরাকান। সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম ক্ষুদ্র এক অঞ্চলে সীমাবদ্ধ।
ঐ ফতেহ খাঁ বা জালাল খানের পক্ষে দিল্লীর বাদশাহ ফররুখ শিয়ার বা মোহাম্মদ শাহের সাথে তুচ্ছ ১১ মন তুলার বিনিময়ে সরাসরি সাক্ষাতে চুক্তি সম্পাদন করা অসম্ভব, যার কোন প্রমাণ নেই। এ সব কল্পকাহিনী অবিশ্বাস্য। তবে যা বিশ্বাস্য তা হলোঃ চাকমা ও বাঙ্গালীরা দীর্ঘকালের ঘনিষ্ঠ ভ্রাত প্রতিবেশী। বর্তমানে তাদের মধ্যকার সংঘাত ও বিরোধ হলো আঞ্চলিক আধিপত্য ও রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ জাত দ্বন্দ্ব।
এতদাঞ্চলে উপজাতীয় সংখ্যা প্রাধান্য রক্ষার কোন উপায় নেই। বাঙ্গালীরা ইতোমধ্যে তাদের প্রাধান্য বিস্তার করে নিয়েছে। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সংঘাত যতই ঘটুক, এবং বিতাড়নমূলক ব্যবস্থা ও আইনের সংস্থান যতই হোক, পরিবেশ পরিস্থিতি হলো বাঙ্গালীদের পক্ষে। আর এটাই নির্মম বাস্তবতা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলটি কোন দ্বীপাঞ্চল বা ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন এলাকা নয় । এটি বাংলাদেশের সাথে অবিচ্ছিন্ন অঞ্চল। আইনী নিষেধাজ্ঞা বা দূর্ভেদ্য দেওয়াল নির্মাণের দ্বারা ও এতদাঞ্চলে বাঙ্গালী আগমন ঠেকান অসম্ভব। অনুরূপ চেষ্টা করা প-শ্রম ছাড়া কিছু নয়। যদি এতদাঞ্চল স্বায়ত্ত শাসিত বা স্বাধীন ও হয়, তবু পরিবেশ পরিস্থিতি তাকে বাঙ্গালী ও বাংলাদেশ নির্ভর করে রাখবে। ভুটান সিঙ্গাপুর ইত্যাদি ক্ষুদ্র দেশ সমূহের মত টিকে থাকা তার পক্ষে অসম্ভব। সর্বাবস্থায় তাকে বাংলাদেশ ও বাঙ্গালীদের সহ টিকে থাকতে হবে। কেবল স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতা বা স্বাধীনতা লাভই শেষ ও সব পাওয়া নয়। ভিন্নভাবে শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জন প্রয়োজনীয়। নাগরিক বিসম্বাদ ও সংঘাত প্রতিনিয়ত তাকে বঞ্চিত ও ব্যতিব্যস্ত করে রাখলে, শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জন হবে সুদূর পরাহত। সর্বাবস্থায় নাগরিক সুস্থিতি শান্তি ও সৌহার্দ্যের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র চর্চনীয়। সম্প্রদায় বিশেষকে অগ্রাধিকার দান এবং অন্যদের কোণঠাসা করে রাখা আন্দোলন সংঘাত ও অশান্তির কারণ হয়। বাংলাদেশ ভিত্তিক রাষ্ট্রীয় ও সরকারী ক্ষমতা কাঠামোতে যেমন সংখ্যালঘুদের অংশীদারিত্ব অপরিহার্য, তেমনি সম্ভাব্য স্বাধীন উপজাতীয় রাষ্ট্র বা রাজ্য সরকারকেও বাঙ্গালীমুক্ত রাখার চিন্তা অবাস্তব। এই অতি উৎসাহী চিন্তা চেতনা সুস্থ মস্তিস্ক জাত বলে ভাবা যায় না। তেমন অবস্থায় বাংলাদেশ ও বাঙ্গালী প্রতিবেশীরা আক্রমণাত্মক ভূমিকাই নিতে বাধ্য হবে। এই প্ররোচনামূলক রাজনীতি সংগঠিত করার লক্ষ্য হলো বসনিয়া বা পূর্ব তিমুরের মত পরিস্থিতির সৃষ্টি করা, যাতে সংখ্যালঘু ও মানবিক অধিকার রক্ষার নামে মুরুব্বী রাষ্ট্রদের হস্তক্ষেপ সম্ভবপর করে তোলা যায়, এবং আরো উদ্দেশ্য হলো বাঙ্গালী ও সেনাবাহিনী প্রত্যাহারে বাধ্যকরা, এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘের মাধ্যমে কেবল উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর জনমত যাচাইয়ের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠান। এই ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক লক্ষ্যের সাফল্যের পক্ষে, এতদাঞ্চলের সীমান্ত সংলগ্নতা, বিজাতীয় সহযোগিতা ও মদদের আশ্বাসকে পূজি রূপে ভাবা হয়, যার প্রতিকারের বিষয়টা হলো দেশপ্রেম, অখন্ডতা ও প্রতিরক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট। সে চূড়ান্ত পরিস্থিতিকে ঠেকানো হলো রাষ্ট্রীয় কূটনীতি। এর তিক্ত ও নির্মম বিকল্প হলো ঃ পার্বত্য অঞ্চলে নিশ্চিতভাবে বাঙ্গালী জনবিস্ফোরণ ঘটান। এটি এক অমোঘ অস্ত্র, যা থেকে উপজাতিদের আপোষে আত্মরক্ষাই উত্তম। অতীতে তা-ই হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ কৌশল কার্যকর।-(চলবে)

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • ভাটির বাতিঘর সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ
  • মাওয়ের লংমার্চের ৪ বছর পর সিলেটিদের লং মার্চ
  • শহীদ মিনারের ইতিকথা
  • সিলেটের লোকসংগীত : ধামাইল
  • পর্যটক ইবনে বতুতার কথা
  • বই এল কোথা থেকে?
  • লোক সাহিত্যে মননশীলতা
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • স্বাধীন বাংলাদেশে জনতার উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণ
  • সাচনাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়
  • একাত্তরের শরণার্থীর স্মৃতি
  • আরব বিশ্বের অনন্য শাসক
  • জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদ
  • বালাগঞ্জের আজিজপুর উচ্চবিদ্যালয়
  • হারিয়ে যাচ্ছে ডাকপিয়ন ও ডাকবাক্স
  • সুনামগঞ্জের লোকসংস্কৃতি
  • সিলেটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও শাবি
  • মরমী কবি শেখ ভানু
  • মুক্তিযুদ্ধে কানাইঘাট
  • বিপ্লবী এম.এন.রায়
  • Developed by: Sparkle IT