‘ওয়াছাত’ শব্দের অর্থ সর্বোৎকৃষ্ট বিষয়। আবু সায়ীদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন : মহানবী (স.) ‘আ’দল’ শব্দ দ্বারা ‘ওয়াছাত’ এর ব্যাখ্যা করেছেন। এর অর্থ সর্বোৎকৃষ্ট। (কুরতুবী) আলোচ্য আয়াতে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি শ্রেষ্ঠত্ব ও বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে যে, তাদেরকে মধ্যবর্তী উম্মত করা হয়েছে। এর ফলে তারা হাশরের ময়দানে একটি স্বাতন্ত্র্য লাভ করবে। সকল পয়গম্বরের উম্মতরা তাদের হেদায়েত ও প্রচারকার্য অস্বীকার করে বলতে থাকবে, দুনিয়াতে আমাদের কাছে কোন আসমানী গ্রন্থ পৌছেনি এবং কোন পয়গম্বরও আমাদের হেদায়েত করেননি। তখন মুসলিম সম্প্রদায় পয়গম্বরগণের পক্ষে সাক্ষ্যদাতা হিসাবে উপস্থিত হবে এবং সাক্ষ্য দেবে যে, পয়গম্বরগণ সব যুগেই আল্লাহর পক্ষ থেকে আনীত হেদায়েত তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, তাদেরকে সঠিক পথে আনার জন্যে তাঁরা সাধ্যমত চেষ্টাও করেছেন। বিবাদী উম্মতরা মুসলিম সম্প্রদায়ের সাক্ষ্যে প্রশ্ন তুলে বলবে? আমাদের আমলে এই সম্প্রদায়ের কোন অস্তিত্বই ছিল না। আমাদের ব্যাপারাদি তাদের জানার কথা নয়, কাজেই আমাদের বিপক্ষে তাদের সাক্ষ্য কেমন করে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
মুসলিম সম্প্রদায় এ প্রশ্নের উত্তরে বলবে : নিঃসন্দেহে তখন আমাদের অস্তিত্ব ছিল না, কিন্তু আমাদের নিকট তাদের অবস্থা ও ঘটনাবলী সম্পর্কিত তথ্যাবলী একজন সত্যবাদী রসুল ও আল্লাহর গ্রন্থ কোরআন সরবরাহ করেছে। আমরাও সে গ্রন্থের উপর ঈমান এনেছি এবং তাদের সরবরাহকৃত তথ্যাবলীকে চাক্ষুষ দেখার চাইতেও অধিক সত্য মনে করি; তাই আমাদের সাক্ষ্য সত্য। অতঃপর রসুলুল্লাহ (সাঃ) উপস্থাপিত হবেন এবং সাক্ষীদের সমর্থন করে বলবেন ঃ তারা যাকিছু বলছে, সবই সত্য। আল্লাহর গ্রস্থ এবং আমার শিক্ষার মাধ্যমে তারা এসব তথ্য জানতে পেরেছে। হাশরের ময়দানে সংঘটিতব্য এ ঘটনার বিবরণ সহীহ বুখারী, তিরমিযী, নাসায়ী ও মুসনদে-আহমদের একাধিক হাদীসে সংক্ষেপে ও সবিস্তারে বর্ণিত রয়েছে।
মোটকথা, আলোচ্য আয়াতে মুসলিম সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের কারণ হিসাবে বলা হয়েছে যে, এ সম্প্রদায়কে মধ্যপী সম্প্রদায় করা হয়েছে। তাই এখানে কয়েকটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য।
মধ্যপন্থার রূপরেখা, তার গুরুত্ব ও কিছু বিবরণ : (১) মধ্যপন্থার অর্থ ও তাৎপর্য কি? (২) মধ্যপন্থার এত গুরুত্বই বা কেন যে, এর উপরই শ্রেষ্ঠত্বকে নির্ভরশীল করা হয়েছে। (৩) মুসলিম সম্প্রদায় যে মধ্যপন্থী, বাস্তবতার নিরীখে এর প্রমাণ কি? ধারাবাহিকভাবে এ তিনটি প্রশ্নের উত্তর : (১) ‘আ’তাদাল’ (ভারসাম্য)-এর শাব্দিক অর্থ সমান হওয়া। ‘আদল’ মূল ধাতু থেকে এর উৎপত্তি, আর ‘আদল’ এর অর্থও সমান হওয়া।
(২) যে গুরুত্বের কারণে ভারসাম্যকে সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি সাব্যস্ত করা হয়েছে তা একটু ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। বিষয়টি প্রথমে একটি স্থুল উদাহরণ দ্বারা বুঝুন। ইউনানী, আয়ুর্বেদিক, এলোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক ইত্যাদি যত নতুন ও পুরাতন চিকিৎসা পদ্ধতি পৃথিবীতে প্রচলিত রয়েছে, সে সবই এ বিষয়ে একমত যে, ‘মেযাজে’র বা স্বভাবের ভারসাম্যের উপরই মানবদেহের সুস্থতা নির্ভরশীল। ভারসাম্যের ত্রুটিই মানবদেহে রোগ-বিকার সৃষ্টি করে। বিশেষতঃ ইউনানী চিকিৎসা পদ্ধতির মূলনীতিই মেজায-পরিচয়ের উপর নির্ভরশীল। এ শাস্ত্র মতে মানবদেহ চারিটি উপাদান-রক্ত, শ্লেষ্মা, অম্ল ও পিত্ত দ্বারা গঠিত। এ চারিটি উপাদান থেকে উৎপন্ন চারিটি অবস্থা শৈত্য, উষ্ণতা, আর্দ্রতা ও শুষ্কতা মানবদেহে বিদ্যমান থাকা জরুরী।

'/> SylheterDak.com.bd
ধর্ম ও জীবন

মূল : মুফতি মুহাম্মদ শফী

প্রকাশিত হয়েছে: ৩১-০১-২০২০ ইং ০১:২৬:১৪ | সংবাদটি ১৩২ বার পঠিত

মূল : মুফতি মুহাম্মদ শফী
অনুবাদ : মাওলানা মুহিউদ্দিন খানতাফসিরুল কুরআন
সূরা : বাক্বারাহ [পূর্ব প্রকাশের পর]
নামাযে কা’বার দিকে মুখ করাই যথেষ্ট : এখানে একটি ফেকাহ্-বিষয়ক সূক্ষ্ম তত্ত্ব উল্লেখযোগ্য। আয়াতে কা’বা অথবা বায়হ বলার পরিবর্তে ‘মসজিদে হারাম’ বলা হয়েছে। এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, দূরবর্তী দেশসমূহে বসবাসকারীদের পক্ষে হুবহু কাবাগৃহ বরাবর দাঁড়ানো জরুরী নয়, বরং পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণের মধ্য থেকে যে দিকটিতে কাবা অবস্থিত সেদিকে মুখ করলেই যথেষ্ট হবে। তবে যে ব্যক্তি মসজিদে হারামে উপস্থিত রয়েছে কিংবা নিকটস্থ কোন স্থান বা পাহাড় থেকে কা'বা দেখতে পাচ্ছে, তার পক্ষে এমনভাবে দাঁড়ানো জরুরী যাতে কাবাগৃহ তার চেহারার বরাবরে থাকে। যদি কাবাগৃহের কোন অংশ তার চেহারা বরাবরে না পড়ে, তবে তার নামায শুদ্ধ হবে না। কা’বাগৃহ যাদের চোখের সামনে নেই এ বিধান তাদের জন্যে নয়। তারা কাবাগৃহ কিংবা মসজিদে হারামের দিকে মুখ করলেই যথেষ্ট।
‘ওয়াছাত’ শব্দের অর্থ সর্বোৎকৃষ্ট বিষয়। আবু সায়ীদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন : মহানবী (স.) ‘আ’দল’ শব্দ দ্বারা ‘ওয়াছাত’ এর ব্যাখ্যা করেছেন। এর অর্থ সর্বোৎকৃষ্ট। (কুরতুবী) আলোচ্য আয়াতে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি শ্রেষ্ঠত্ব ও বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে যে, তাদেরকে মধ্যবর্তী উম্মত করা হয়েছে। এর ফলে তারা হাশরের ময়দানে একটি স্বাতন্ত্র্য লাভ করবে। সকল পয়গম্বরের উম্মতরা তাদের হেদায়েত ও প্রচারকার্য অস্বীকার করে বলতে থাকবে, দুনিয়াতে আমাদের কাছে কোন আসমানী গ্রন্থ পৌছেনি এবং কোন পয়গম্বরও আমাদের হেদায়েত করেননি। তখন মুসলিম সম্প্রদায় পয়গম্বরগণের পক্ষে সাক্ষ্যদাতা হিসাবে উপস্থিত হবে এবং সাক্ষ্য দেবে যে, পয়গম্বরগণ সব যুগেই আল্লাহর পক্ষ থেকে আনীত হেদায়েত তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, তাদেরকে সঠিক পথে আনার জন্যে তাঁরা সাধ্যমত চেষ্টাও করেছেন। বিবাদী উম্মতরা মুসলিম সম্প্রদায়ের সাক্ষ্যে প্রশ্ন তুলে বলবে? আমাদের আমলে এই সম্প্রদায়ের কোন অস্তিত্বই ছিল না। আমাদের ব্যাপারাদি তাদের জানার কথা নয়, কাজেই আমাদের বিপক্ষে তাদের সাক্ষ্য কেমন করে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
মুসলিম সম্প্রদায় এ প্রশ্নের উত্তরে বলবে : নিঃসন্দেহে তখন আমাদের অস্তিত্ব ছিল না, কিন্তু আমাদের নিকট তাদের অবস্থা ও ঘটনাবলী সম্পর্কিত তথ্যাবলী একজন সত্যবাদী রসুল ও আল্লাহর গ্রন্থ কোরআন সরবরাহ করেছে। আমরাও সে গ্রন্থের উপর ঈমান এনেছি এবং তাদের সরবরাহকৃত তথ্যাবলীকে চাক্ষুষ দেখার চাইতেও অধিক সত্য মনে করি; তাই আমাদের সাক্ষ্য সত্য। অতঃপর রসুলুল্লাহ (সাঃ) উপস্থাপিত হবেন এবং সাক্ষীদের সমর্থন করে বলবেন ঃ তারা যাকিছু বলছে, সবই সত্য। আল্লাহর গ্রস্থ এবং আমার শিক্ষার মাধ্যমে তারা এসব তথ্য জানতে পেরেছে। হাশরের ময়দানে সংঘটিতব্য এ ঘটনার বিবরণ সহীহ বুখারী, তিরমিযী, নাসায়ী ও মুসনদে-আহমদের একাধিক হাদীসে সংক্ষেপে ও সবিস্তারে বর্ণিত রয়েছে।
মোটকথা, আলোচ্য আয়াতে মুসলিম সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের কারণ হিসাবে বলা হয়েছে যে, এ সম্প্রদায়কে মধ্যপী সম্প্রদায় করা হয়েছে। তাই এখানে কয়েকটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য।
মধ্যপন্থার রূপরেখা, তার গুরুত্ব ও কিছু বিবরণ : (১) মধ্যপন্থার অর্থ ও তাৎপর্য কি? (২) মধ্যপন্থার এত গুরুত্বই বা কেন যে, এর উপরই শ্রেষ্ঠত্বকে নির্ভরশীল করা হয়েছে। (৩) মুসলিম সম্প্রদায় যে মধ্যপন্থী, বাস্তবতার নিরীখে এর প্রমাণ কি? ধারাবাহিকভাবে এ তিনটি প্রশ্নের উত্তর : (১) ‘আ’তাদাল’ (ভারসাম্য)-এর শাব্দিক অর্থ সমান হওয়া। ‘আদল’ মূল ধাতু থেকে এর উৎপত্তি, আর ‘আদল’ এর অর্থও সমান হওয়া।
(২) যে গুরুত্বের কারণে ভারসাম্যকে সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি সাব্যস্ত করা হয়েছে তা একটু ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। বিষয়টি প্রথমে একটি স্থুল উদাহরণ দ্বারা বুঝুন। ইউনানী, আয়ুর্বেদিক, এলোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক ইত্যাদি যত নতুন ও পুরাতন চিকিৎসা পদ্ধতি পৃথিবীতে প্রচলিত রয়েছে, সে সবই এ বিষয়ে একমত যে, ‘মেযাজে’র বা স্বভাবের ভারসাম্যের উপরই মানবদেহের সুস্থতা নির্ভরশীল। ভারসাম্যের ত্রুটিই মানবদেহে রোগ-বিকার সৃষ্টি করে। বিশেষতঃ ইউনানী চিকিৎসা পদ্ধতির মূলনীতিই মেজায-পরিচয়ের উপর নির্ভরশীল। এ শাস্ত্র মতে মানবদেহ চারিটি উপাদান-রক্ত, শ্লেষ্মা, অম্ল ও পিত্ত দ্বারা গঠিত। এ চারিটি উপাদান থেকে উৎপন্ন চারিটি অবস্থা শৈত্য, উষ্ণতা, আর্দ্রতা ও শুষ্কতা মানবদেহে বিদ্যমান থাকা জরুরী।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT