পাঁচ মিশালী

বঙ্গবন্ধু : এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের দৃষ্টিতে

উর্দু থেকে অনুবাদ : সৈয়দ মবনু প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০২-২০২০ ইং ০০:৪৭:১০ | সংবাদটি ৩০৬ বার পঠিত


[মুহাম্মদ বদর মুনির, সত্তর-আশির দশকে পাকিস্তানের সাংবাদিকতায় অত্যন্ত আলোচিত-সমালোচিত এক নাম। তাঁর জন্ম ও শৈশব কেটেছে ভারতে। ১৯৪৭-এ ভারত ভাগের সময় পরিবারের সাথে পাকিস্তানে আসেন। তাঁর বন্ধুদের তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানের অনেক হাইপ্রফাইল ব্যক্তি রয়েছেন। বাংলাদেশের শহিদ-বুদ্ধিজীবীদের অনেকই ছিলেন তাঁর বন্ধু। রাজনীতিতে তিনি এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে, আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগই তাঁর প্রথম ও শেষ রাজনৈতিক দল। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং অল-পাকিস্তান আওয়ামী লীগের মজলিসে আমেলার সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি যেভাবে দেখেছেন এবং জেনেছেন, তা নিয়ে ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে উর্দুতে প্রকাশিত হয় তাঁর গ্রন্থ ‘জেয়সা কেহ ময় জানতাহু শেখ মুজিবুর রহমান’। লেখকের প্রায় পঁচিশ বছরের কর্মের ফসল দু’শত ছিয়াশি পৃষ্ঠার এই বই। বইটিতে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্যের পাশাপাশি উপমহাদেশীয় রাজনীতির অনেক নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে।]
পলাশি থেকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত বাঙালি মুসলমানের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস একশো নব্বই বছরের। এই দীর্ঘ সময়ে বাঙালি মুসলমানেরা স্বাধীনতার জন্য যে কোরবানি দিয়েছেন, তার দ্বিতীয়টি উপমহাদেশের ইতিহাসে খুব কমই পাওয়া যায়। তিতুমীর আন্দোলন থেকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন পর্যন্ত বাঙালি মুসলমান আন্দোলন-সংগ্রাম এক মুহূর্তও বন্ধ করেনি। তারা শুধু বাংলার স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেননি, তারা উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই আন্দোলন-সংগ্রামে তারা শুধু জানÑমাল দান করেননি, বরং তারা বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য অনেক উপহারও রেখে গেছেন। তবে দুঃখজন হলেও সত্য এত কোরবানির পরও তারা নিজেদের অবস্থার উপর নিঃসঙ্গ থেকে গেলেন। উপমহাদেশে বাঙালি মুসলমানদের ভাগ্যের এই খারাপ পরিণতির অন্য কারণ থাকতে পারে। তবে সবচে বড় কারণ অন্য জাতির সাথে যোগাযোগের মাধ্যম উর্দুর সাথে তাদের সম্পর্ককে খারাপ করে দেওয়া হয়েছিলো। নিজেরাও এর গুরুত্ব অনুভব করতে পারেননি। ফলে বাঙালি মুলমানদের ত্যাগ, এখলাস, চেতনা ইত্যাদি তাদের নিজেদের জন্য এই অঞ্চলে বেশি লাভজনক হয়নি। বাঙালি মুসলমানেরা তাদের পাশের প্রদেশ বিহারের মুসলমানদেরকে বেশি সহযোগিতা করেছে। সেখানের মুসলমানদের জন্য তারা সর্বপ্রকার সাহায্যের হাত এগিয়ে দিয়েছে। সেই সময়ের বাঙালি প্রধানমন্ত্রী মুহাজিরদের সাহায্যার্থে প্রাদেশিক পার্লামেন্টের ভবন খুলে দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছিলেন। পাকিস্তান আন্দোলনে বাঙালি মুসলমানদের অবদান এবং পাকিস্তানের সূচনালগ্নে বিভিন্নভাবে তাদের ত্যাগ ও সংগ্রাম রয়েছে। ঐতিহাসিক বাস্তবতা হলো, সেদিন যদি বাঙালি মুসলমান বিশেষ করে আসামের মুসলমানেরা ত্যাগ ও সংগ্রাম না করতেন, তবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হতো না। কারণ স্বাধীনতালগ্নে হিন্দুস্তানে মুসলিম জনসংখ্যা ছিলো দশ কোটির কাছাকাছি। এর মধ্যে সাড়ে চার কোটি মুসলমান বাঙালে ছিলো। এজন্যই লাহোর প্রস্তাব (১৯৪০) এবং দিল্লির প্রস্তাব (১৯৪৬) উপস্থাপনে বাঙালের দুই নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো। এখানে উল্লেখ্য যে, লাহোর প্রস্তাবে পাকিস্তান বাক্য ছিলো না, আর দিল্লির প্রস্তাবে শুধু পাকিস্তান বাক্যই নয়, বরং এতে প্রদেশগুলোর মধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাকে পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করার প্রস্তাবও ছিলো। যদি এই প্রস্তাবানুসারে কাজ হতো, তবে সীমানা নির্ধারণ কমিটিতে মুসলিমদের বাদ দেওয়া প্রদেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করা হতো এবং মাউন্ট ব্যাটন-এর উপর অন্ধভাবে বিশ^াস করা হতো না, তখন শুধু বাঙালের সাথে বিহার নয়, বরং পশ্চিমে সাহারানপুর জেলাও পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হয়ে আসতো।
পাকিস্তান আন্দোলনে বাঙালি সাধারণ মুসলমান এবং নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের বর্ণনা ছোট পরিসরে সম্ভব নয়, এজন্য পূর্ণাঙ্গ একটি বই লেখার প্রয়োজন অনুভব করছি। আমি শুধু ১৯৪৬-এর নির্বাচনের পরবর্তী ডাইরেক্ট এ্যাকশনের অবস্থা থেকে কিছু বর্ণনা দিতে চেষ্টা করবো। সেই সময় ঐক্যবদ্ধ ভারতের কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক পার্লামেন্ট নির্বাচনসমূহের গুরুত্ব এই জন্য বৃদ্ধি পেয়েছিলো যে, এই নির্বাচন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। নিঃসন্দেহে তা মুসলমানদের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন ছিলো। যদিও এই নির্বাচন ভারতবর্ষের সকল মুসলমানের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিলো, তবে শুধু বাঙালি মুসলমানদের জন্য ছিলো তা বিশেষ পরীক্ষা। এখানে একটি পরীক্ষা ছিলো যে, বাঙালি মুসলমানদের প্রিয় নেতা শেরে বাংলা একে ফজলুল হক তখন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা করে দিয়েছেন। ফলে অবস্থা খারাপ ও চিন্তার কারণ হয়ে যায়। দ্বিতীয় কারণ, মুসলিম লীগের শাসনকালে এই প্রদেশে শক্ত দুর্ভিক্ষ হলে অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায় এবং এতে পনেরো-বিশ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও সেই সময় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন নির্বাচন থেকে সরে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ নির্বাচনে আসে। কিন্তু তাও তো সত্য যে, দুর্ভিক্ষের সময় তিনি খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন। অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, বাঙালের মুসলমানদের রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব ও জাতীয় চেতনার কারণে এই পরীক্ষায়ও হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী সঠিক নেতৃত্ব দেন।
সমস্ত উপমহাদেশে বাঙাল একমাত্র প্রদেশ যেখানে কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধবাদীরা জামানত হারিয়েছিলো। কেন্দ্রীয় নির্বাচনে মুসলমানদের ছয় বিশেষ আসনের মধ্যে মোট ৯৪ হাজার তেপ্পান্নটি ভোটের মধ্যে মুসলিম লীগ পায় ৮৮ হাজার ৪ শ’ ৪৯টি, বিরোধীরা পায় মাত্র ৫ হাজার ৬ শ’ ৪৬টি। এর মধ্যে কংগ্রেস পায় শুধু ৯ শ’ ৪৬ টি।
গোটা কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফল হলো; বর্ধমানে : স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দী (মুসলিম লীগ) ২০২৫৯, ওলিউর রহমান (কৌমপরস্ত) ১৪৭০, কে এম জাকারিয়া (আজাদ) ১২৭। ওলিউর রহমান ও জাকারিয়ার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিলো। চট্টগ্রাম : শেখ রফিউদ্দিন সিদ্দিকি (মুসলিম লীগ) ১৯০২৭, একরামুল হক (কৌমপরস্ত) ৮৫৬। একরামুল হকের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিলো। রাজশাহী : শাহ আব্দুল হামিদ (মুসলিম লীগ) ২৩২৬৬, মুহিউদ্দিন (কংগ্রেস) ৯৪৬, মৌলভী আব্দুর রহমান (আজাদ) ১০১। মুহিউদ্দিন ও মৌলভী আব্দুর রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিলো। কোলকাতা এবং নাবাহি এলাকা : আব্দুর রহমান সিদ্দিকি (মুসলিম লীগ) ৪৫৮০, আইএস ওয়াজেদ আলী (কৌমপরস্তÍ) ৩২০। আইএস ওয়াজেদ আলীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। বাকেরগঞ্জ এবং ফরিদপুরের ভাটি এলাকা : চৌধুরী মুহাম্মদ ইসমাইল খান (মুসলিম লীগ) ৯১৯৫, খান বাহাদুর হাশিম আলী (আজাদি) ১০১৪। খান বাহাদুর হাশিম আলীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ঢাকা ও ময়মনসিংহ : মৌলভী তমিজ উদ্দিন খান (মুসলমি লীগ) ১২০২৪, স্যার আব্দুল হালিম গজনভী (আজাদি) ৭৭০। স্যার আব্দুল হালিম গজনভীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
এখানে একথা স্মরণ রাখা উচিত; সেই সময় গোটা ভারতে মুসলিম লীগ ভোট পেয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৩ শ ৫৯ টি, এর মধ্যে ৮৮ হাজার ৪ শ’ ৫৯টি ভোট শুধু বাংলা থেকে মিলেছে। অর্থাৎ অর্ধেক থেকেও বেশি ভোট বাঙালিরা দিয়েছে। এখানে আরও উল্লেখ্য যে, সমস্ত ভারত থেকে কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টে মুসলিম সদস্য সংখ্যা ছিলো ৩০টি, এর মধ্যে বাংলা, পাঞ্জাব এবং ইউপিতে ছয়জন করে সদস্য ছিলো। বাংলার প্রদেশিক পার্লামেন্টের জন্য ১১৯ মুসলিম সদস্যের মধ্যে মুসলিম লীগ ১১২টি আসন লাভ করে। সমর্থনকারী নির্বাচনেও দুই আসনে মুসলিম লীগ বিজয়ী হয় এবং সংরক্ষিত নারী আসনও মুসলিম লীগ লাভ করে। আর তিন বিশেষ আসনে মুসলিম লীগের প্রতিনিধি সফলতা লাভ করে। প্রদেশিক নির্বাচনে ২৪ লাখ ৩৪ হাজার ১ শ’ ৬টি মুসলিম লীগের ভাগে আসে। মুসলিম লীগের প্রার্থীরা তাদের বিপক্ষের ১৭০ জন প্রতিদ্বন্দ্বীকে জামানত বাজেয়াপ্ত করিয়েছিলেন। ১৯৭ বিরোধী প্রার্থীকে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন। ফলে মানুষের কাছে হিসাবটা বিশ^াসযোগ্যতা লাভ করে। নির্বাচনে ভোটের হিসাব :
মুসলিম লীগ ২০৩৬০৪৯, (৮৩. ৬৪ ভাগ)। কৃষক প্রজা পাটি ১৩১১৯১ (৫.৩৯), জমিয়তে উলামা ২৭৭৫৬ (১.১৪), ইমারত পটি ১৬৯৪১ (০.৬৯), মুসলিম পার্লামেন্টারী ব্যুরো ১৫৪১৬ (০.৬৫), কংগ্রেস ১১৭৫৯ (০.৪৮), কওমপরস্ত ৪৪২৬ (০.১৮), কমিউনিস্ট ৩২৪৪ (০.১৩), রেডিক্যাল ডেমুক্রেট ৬৬৯ (.০৩), আজাদ আমিদওয়ার ১৮৬২৫৫ (৬.৩)।
বাংলার প্রাদেশিক নির্বাচন বিশ^াসযোগ্য হওয়ার আরেকটি কারণ ছিলো ছয় আসনে পূর্ণাঙ্গরূপে মুসলিম লীগ বিজয়ী হয়েছে। এরমধ্যে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী এবং খাজা নুরুদ্দিন পূর্ণাঙ্গরূপে বিজয়ী হয়েছিলেন। একইভাবে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে মুসলিম লীগের বেগম হোসনে আরা এবং বেগম আনোয়ারা বিজয়ী হয়েছিলেন। ১১১ আসনের মধ্যে ১০৪টিতে মুসলিম লীগ জয় লাভ করে, যার মধ্যে ছয়টিতে ছিলো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এখানে ফজলুল কাদের চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য, যে চট্টগ্রামের পূর্বদিকের এলাকা থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন। বিজয়ীদের মধ্যে মাওলানা আবুল হাশিম, আব্দুল আউয়াল, তফজ্জুল হোসেন, খান আব্দুস সবুর খান, খয়রাত হোসেন, চৌধুরী মুহাম্মদ আলী অফ বগুড়া, দেওয়ান লুৎফুর রহমান, জহুর আহমদ চৌধুরী, নুরুল আমিন, খরম খান পন্নী, মির্জা আব্দুল হক, হাফিজুর রহমান আহমদ, খান বাহাদুর নওয়াব আলী, ডা. আব্দুল মুতলিব মালিক, হামিদুল হক চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য। তিন বিশেষ আসনের মধ্যে ফজলুর রহমান, আবুল হোসেন আসফানি, ডা. আব্দুল মুতলিব বিজয়ী হয়েছিলেন। ওরা হলেন সেই ব্যক্তিত্ব যারা পাকিস্তান হওয়ার পর জনগণের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন। মাওলানা তমিজ উদ্দিন খান দু’বার জাতীয় সংসদে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। ফজলুল কাদের চৌধুরী মন্ত্রী এবং স্পিকার হয়েছেন। নুরুল আমিন পূর্ব বাংলার প্রধানমন্ত্রী এবং ঐক্য পাকিস্তানের সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। মুহাম্মদ আলী বগুড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন। ফজলুর রহমান পাকিস্তানের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী।
এই সামান্য বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, মুসলিম লীগ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণে নিজস্ব পছন্দের পরিবর্তে উপযুক্ত ও যোগ্য ব্যক্তিদেরকে টিকেট দিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাকিস্তানের জন্মের পর মুসলিম লীগ যা এক রাজনৈতিক সংগঠন ছিলো তাকে জাতীয় দল হওয়া থেকে বিরত রাখা হলো। ফলে পাকিস্তানে বসবাস করেও সবাই এক জাতি হতে পারেনি। অবশ্য কায়দে আজমের জীবদ্দশায় তিনি প্রমাণ রেখেছেন উপমহাদেশের মুসলমান সবাই এক জাতি এবং বিশ^ মুসলিমের ঐক্যের মাইলফলক। যদি এই নীতি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরও অব্যাহত থাকতে তবে আর বিভক্ত হতে হতো না। আজকে যখন সম্্রাজ্যবাদি শক্তির উত্থান হয়েছে তখন শক্তির দিকে পাকিস্তান নেতৃত্ব পর্যায়ে থাকতো। কিন্তু পাকিস্তান ভেঙে যাওয়ার ফলে যে ভৌগলিক এবং চিন্তাগত পরিবর্তন হয়েছে তা কায়দে আজমের স্বপ্নের পাকিস্তানের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT