সম্পাদকীয় শব্দ দিয়ে প্রতিবাদ করো, কণ্ঠ উঁচু করে নয়। মনে রাখবে ফুল ফোটে যতেœ, বজ্রপাতে নয়। -জালাল উদ্দিন রুমি।

কারাগারে বন্দী শিশু

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০২-২০২০ ইং ০০:২২:০৯ | সংবাদটি ১০৭ বার পঠিত

দেশের কারাগারগুলোতে বন্দী রয়েছে তিশন’ ৫১ শিশু। বিভিন্ন অভিযোগে দেশের কারাগারগুলোতে বন্দী রয়েছে অনেক নারী। তাদের অনেকের সঙ্গেই আছে শিশু সন্তান। যাদের বয়স ছয় বছরের কম। কারা বিধান অনুযায়ী, ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের মায়ের সঙ্গে কারাগারে অবস্থানের সুযোগ আছে। সেই সুবাদে বন্দী মায়ের সঙ্গে অনেক শিশুর শৈশবও কাটছে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে। এতে শিশুর মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়া ছাড়াও বৈরি পরিবেশের স্মৃতি নিয়ে তারা কারাগার থেকে বের হচ্ছে। মায়ের সঙ্গে কারাবন্দী শিশুদের মধ্যে একশ’ ৭২ জন ছেলে ও একশ’ ৭৯ জন মেয়ে। ‘কারাবন্দী’ শিশুদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে একশ’ জন, চট্টগ্রামে একশ’ ২৩ জন, সিলেটে ২৩ জন, রাজশাহীতে ৪১ জন, রংপুরে ১৭ জন, খুলনায় ২৬ জন, বরিশালে ৬ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১২ জন শিশু রয়েছে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে এই শিশুদের মানসিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, এরা একটা নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়ে বেড়ে উঠছে।
দেশের কারাগারগুলোতে বন্দী রয়েছেন বিভিন্ন মামলার বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত আসামীগণ। আর সেই বন্দীর সংখ্যা কারাগারের ধারণ ক্ষমতার প্রায় তিনগুণ। দেশে কারাগারগুলোতে ধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার। অথচ প্রায় সময়ই বন্দীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ-এ পৌঁছে। বন্দীদের একটা অংশ নারী। এই সংখ্যা বাড়ছে প্রতি বছর। দেশের কারাগারগুলোতে নারী বন্দীর ধারণ ক্ষমতা এক হাজারের ওপরে। অথচ বর্তমানে বন্দী রয়েছেন প্রায় তিন হাজার। আর এদের অনেকের সঙ্গেই রয়েছে শিশুসন্তান। যাদের বয়স ছয় বছরের নিচে। তার মানে, এদেরকে ছয় বছর বয়স পর্যন্ত কারাগারে মায়ের সঙ্গেই কাটাতে হয় ‘একজন অপরাধীর’ মতোই। ছয় বছর পূর্ণ হলে এদেরকে আত্মীয়-স্বজনের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। আর কারও আত্মীয়-স্বজন না থাকলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সবচেয়ে বড় কথা কারাবন্দী মায়েদের নির্ধারিত সেলেই থাকতে হয় তার শিশু সন্তানদের। বিশেষজ্ঞদের মতে কারাগারের এই পরিবেশ এমনিতেই শিশুদের অনুকূলে নয়; এই পরিবেশ তাদের মনে দাগ কেটে ফেলে। ওরা কমবেশি কারাগারের আচার-আচরণও শিখে নেয়। তাদের মানসিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় সর্বোপরি, তাদের মায়ের প্রতিও একটা বিরূপ ধারণার জন্ম হয়।
[একজনের সাজা অন্যজন ভোগ করা কিংবা বিনা অপরাধে সাজা ভোগ করার ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। কিন্তু এটা খুবই দুঃখজনক। কোন সভ্য দেশে, সভ্য সমাজেই এটা হতে পারে না; মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কেউই তা মেনে নেবে না। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে নিরপরাধ শিশুদের মায়ের সঙ্গে ‘কারাভোগ’ করার বিষয়টিও মেনে নেয়া যায় না। আদালতের বিচারে অপরাধী হতে পারে শিশুর মা; কিন্তু তার নিষ্পাপ সন্তানটি তো অপরাধী নয়।] তাছাড়া, আমাদের দেশে ১৮ বছরের কম বয়সী কোন শিশু অপরাধ করলেও এর সাজা প্রদানের ক্ষেত্রে নমনীয় রয়েছে প্রচলিত আইন। শিশুদের বন্দীদশা থেকে মুক্ত করার কি কোন উপায় বের করা যায় না?

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT