মহিলা সমাজ

বিয়ে নিয়ে বহু কথা

জুঁই ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০২-২০২০ ইং ০১:৩৩:২৫ | সংবাদটি ৩৪৩ বার পঠিত

‘বিবাহ’ জীবনচক্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। একজন নারী এবং একজন পুরুষের যৌথ জীবনের স্বতঃস্ফুর্ত অঙ্গীকার। যে চুক্তির মাধ্যমে বিপরীত লিঙ্গের দু’জন মানুষের মাঝে সেতুবন্ধন রচিত হয়। এর দ্বারা মানুষ তার মনের কামনা বাসনাকে বিধিবদ্ধভাবে নিয়ন্ত্রণ করে মনের প্রশান্তি লাভ করে। দৃষ্টি সংযত রাখার এবং উন্নত চরিত্র গঠনের সবচেয়ে কার্যকরী ব্যবস্থাপনা হচ্ছে বিয়ে। জৈবিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরহেজগারী ও সুস্থ সংস্কৃতির পূর্ণতায় পৌঁছানোর অন্যতম একটি মাধ্যম। রাসুল (স.) বলেছেন ‘যখন কোন ব্যক্তি বিবাহ করে তখন তার অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ হয়ে যায়’। সুতরাং যে ব্যক্তি বিবাহ করে স্ত্রীর ভরণ-পোষণের সামর্থ রাখে তার বিবাহ করে নেওয়া উচিৎ। বিবাহ জীবনের একটা অংশ এবং এবাদতও বটে। এর দ্বারা জীবন হয়ে উঠে প্রাণবন্ত। বিয়ের মাধ্যমে প্রতিটা মানুষের জীবনে পরিবর্তন ঘটে। শুরু হয় আরেকটি নতুন অধ্যায়। জীবনের এ অধ্যায়ে দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ বয়ে আনে। ইসলামে বিয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ও বিধিমালা রয়েছে। এই বিধান উপেক্ষা করে বর্তমানে নিজেদের খেয়াল খুশি মত বিয়ের কার্যাদি সমাধা করার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই, বরং রয়েছে সব ধরনের অকল্যাণ, অশান্তি। বিবাহ একটি সুন্নত কাজ। সুতরাং বিবাহ সুন্নত তরিকায় করাই সমীচিন। একটা প্রচলিত প্রবাদ আছে যে ‘স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক জন্মজন্মান্তরের’। ইংরেজিতেও বলা হয় ‘ম্যারেজ ইজ মেড ইন হেভেন’। কথাটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কখন ওই চিরাচরিত নয়। দু‘জন নরনারী এক ঘরে, এক ছাদের নিচে বাস করে সম্পূর্ণ বিশ্বাস ও পরস্পরের মধ্যে বুঝাবুঝি নিয়ে। যে দম্পতির মধ্যে যত ভালো বুঝাবুঝি, সেই দম্পতি তত বেশি সুখী।
আজ একটি বিয়েতে গেলাম। বেশ জমকালো বিয়েটি ছিল। বিয়ে মানেই তো জমকালো যার যার সাধ্যানুযায়ী। কিন্তু আজ যে বিয়েতে এসেছি সে বিয়ে কেন জানি আমাকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। খেতে বসেই ভাবলাম বিয়ে নিয়ে কিছু লেখতে হবে আর সেই ভাবনা থেকেই আমার এ লেখা।
আমাদের সমাজে বিয়ে ঠিক হওয়া থেকে শুরু করে বিয়ের পরেও যত কিছু নিয়ম কানুন পালন করা হয় তা কয়টা ইসলামের বিধানে পড়ে আমি জানি না? কেউ কি বলতে পারবেন? অতি আধুনিকতার নামে মুসলিম পরিবারে বিয়ে-শাদীতে কুসংস্কার ঢুকে পড়েছে। আধুনিকতার নামে চলছে অপচয়, অশ্লিলতা, বেহায়াপনা, অবাধ্যতা। সবই কিন্তু সামাজিকভাবে গড়ে উঠেছে কিন্তু বিয়ের মধ্যে যে ক’টা নিয়ম আমরা সামাজিভাবে পালন করি তার কয়টা নিয়ম ইসলাম সমর্থন করে একটু কি ভেবে দেখেছেন। ভাবুন, ভাবার সময় এসেছে।
যেমন ধরুণ শুরুতেই ধরা যাক পানচিনি কিংবা আকদ- আমাদের সমাজে দু’পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে বিয়ের সিদ্ধান্তে উপনিত হলে দেখা যায় কত আয়োজন। শুরু হয় অপচয়ের পালা। যেমন ধরুন সমাজের এক শ্রেণীর লোকেরা পানচিনি অনুষ্ঠানে যতটুকু আয়োজন করেন মনে হয় ছোটখাটো একটা বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে। ১০০ থেকে ২০০ জনের খানাপিনার ব্যবস্থা করাসহ অন্যান্য আরও কত কি পানচিনি অনুষ্ঠানে, যা হয়ত নিম্নবিত্তদের এ রকম করে বিয়ে দেওয়ার সাধ্যও হয় না অনেক পরিবারের। তারপর ধরা যাক ‘আকদ’ এ অনুষ্ঠানেও দেখা যায় বিশাল আয়োজন। এগুলো একদিকে অপচয় অন্যদিকে সামাজিক অবক্ষয়ও বটে আমি মনে করি। বিয়ে ঠিক করা কিংবা আকদ অনুষ্ঠান কি ঘরোয়া পরিবেশে কনে আর বরের পরিবার মিলে নিজেদের বাসায় কি করা যায় না? দেখা যায় এসব অনুষ্ঠানও বাইরে চাইনিজ কোন রেষ্টুরেন্টে হচ্ছে আজকাল। কিন্তু কেন এতো বিলাশিতা কিংবা অপচয়। বিয়ে তো হচ্ছে একটা পবিত্র বন্ধন, তবে কেনো এতো অনিয়ম বা অপচয়?
বিয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কাবিন। এই বিষয়টা আমাকে বেশ ভাবায়। আমাদের দেশে ৯০% এরও চেয়ে বেশি মানুষ যেখানে মুসলিম, সেখানে সেই জনসংখ্যার ৮৫% এরও বেশি লোকের কাবিন সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না থাকাটা সত্যি হতাশার। ইসলামিক তরিকায় বিয়ে করতে হলে আগে দেনমোহর, তালাক, স্বামী-স্ত্রীর কর্তব্য ইত্যাদি সম্পর্কে ভালভাবে জ্ঞান নিয়ে তবেই বিয়ে করা উচিত। দেখা যায় আমাদের সমাজে অনেক ছেলেই দিন আনে দিন খায়, সেও দেখা যায় ৫ লক্ষ্য টাকার কাবিন করে ফেলে। অথচ তার কাছে হয়ত ৫০ হাজার টাকা নেই। কিন্তু কেনো? যার যত সামর্থ্য সে অনুযায়ী কাবিন করা হয় না কেন? করা হলে দোষ কি? লোক দেখানো সমাজে টাকার সংখ্যাটাই প্রাধান্য পায়। পকেটে কত টাকা আছে তা দেখি না, তবে সবার ক্ষেত্রে এক না। খুব কম লোক আছে কাবিন সম্পর্কে ভাল-মন্দ জ্ঞান রাখে।
সেদিন একটি হাদিস দেখলাম দেনমোহর ও কাবিন নিয়ে, এখানে তা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম-বদর যুদ্ধের দুই মাস পরে হযরত আলী রাঃ যখন রাসুলুল্লাহ (স.) কাছে তাঁর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) বিয়ে চাইলেন তখন রাসুলুল্লাহ ফাতিমার (রাঃ) মতামত জিজ্ঞেস করলেন। যখন বুঝতে পারলেন তার কন্যার মত আছে, তখন তিনি আলী (রাঃ) কাছে জানতে চাইলেন, মোহর হিসেবে তুমি কি দিতে পারো?
রাসুলুল্লাহর প্রশ্ন শুনে আলী (রাঃ) জানালেন আমারতো তেমন কিছুই নেই। আলী (রাঃ) সারা জীবনই হতদরিদ্র ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন ‘তোমাকে না আমি যুদ্ধের সরঞ্জাম দিয়েছিলাম, সেগুলো কোথায়? আলী (রাঃ) সাথে সাথেই বললেন, জি আমার একটি ঘোড়া, একটি তলোয়ার এবং একটি যদ্ধিবর্ম আছে। নবীজি তা শুনে বললেন ‘তোমার ঘোড়ার প্রয়োজন আছে, তলোয়ার ছাড়া তোমার চলবে না-এবং যুদ্ধবর্মের কথা শুনে বললেন তুমি যৃদ্ধবর্মটি বিক্রি করে দাও। আলী (রাঃ) বাজারে গিয়ে যুদ্ধবর্মটি বিক্রি করলেন। এক সাহাবী জানতেন আলী (রাঃ) বিয়ের খরচের জন্য বর্মটি বিক্রি করছেন। তাই তিনি উচ্চমূল্যে সেটি কিনে নেন ভাইকে সাহায্য করার জন্য। যদিও দেনমোহরে টাকার পরিমাণ এমন ছিল না যে মানুষের চোখ কপালে উঠে যাবে। আলী (রাঃ) নগদ টাকা নিয়ে ফিরে এলেন নবীজির কাছে। তখন আমাদের প্রিয় নবী বিয়ের আয়োজন শুরু করেন। ইসলামে দেনমোহরকে কত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অথচ আমাদের সমাজে বর্তমানে ছেলে পক্ষের সামর্থ্য না থাকার সত্ত্বেও কাবিন বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সমাজকে দেখানোর জন্য। কম কাবিনে কি বিয়ে হয়? সমাজে একটা ইজ্জত আছে না, ভাবটা এমন।
আবার ধরুন বিয়ের দাওয়াত পত্র - বিয়েতে যে দাওয়াত পত্র বা বিয়ের কার্ড হয় সেই কার্ডেও দেখা যায় ভিন্নতা। কারুকাজ বা বিভিন্ন স্টাইলে কার্ড যে কেউ বানাতেই পারেন কিন্তু ভাষার ক্ষেত্রে আমার অভিমত। যেমন ইংরেজীতে লেখা থাকে অনেক দাওয়াতপত্র। যারা ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করে কার্ড বিলি করেন তারা কি ভেবে দেখেছেন যে আপনি আপনার আত্মীয়স্বজন বা ্আপনার আশপাশের ক‘জন লোক ইংরেজী লেখার অর্থ বুজেন? আফসোস হয় যে ভাষার জন্য জীবন দিলো তরতাজা প্রাণগুলো সে ভাষাকে মূল্য না দিয়ে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করে কার্ড বিলি করায় অর্থ কি? আমরা যদি আমাদের ভাষাকে গুরুত্ব না দিই কিংবা সম্মান না করি তাহলে অন্যদের কাছে কিভাবে সম্মান পাবো? এটা বাংলা ভাষাকে অবমাননা নয় কি ? আচ্ছা ইংলিশ ভাষাতে কার্ড দিলে কি সামাজিক স্ট্যাটাস বাড়ে, আমার জানতে খুব ইচ্ছে করে। নাকি ভাবটা এমন যে দাওয়াত তো দিয়েছি কেউ ইংরেজী ভাষা বুঝলে বুঝুক, না আসলে না আসুক। আমি সমাজের অমুক সাহেব তমুক সাহেব আমার কার্ডটা তো স্ট্যান্ডার্ড হতেই হবে। এখানেও ভাব তাই নয় কি?
এবার ধরা যাক গায়ে হলুদ-বিয়েতে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান প্রতিটি মুসলিম পরিবারে কমবেশি হয়েই থাকে। কন্যার শরীরে হলুদ মাখানো কিংবা বরের গায়ে হলুদ মাখানো অনুষ্ঠান অনেক জমকালোভাবে আমাদের সমাজে হয়ে থাকে। গানের শিল্পী আনা হয় গান বাজনা, নাচ, খাওয়া-দাওয়া কত কি? অনেকে বিয়ের সেন্টার কিংবা রেষ্টুরেন্টে এসব অনুষ্ঠান করেন। এর মানে কি? বিয়ে মানেই কি এসব? তাহলে প্রশ্ন আসে কোথা থেকে আসলো এসব? এই যে ধারাবাহিকভাবে একটার পর একটা আয়োজন এসব সংস্কৃতি কি আদৌ আগে ছিল? দিন যত যাচ্ছে বিয়েতে এসব অনুষ্ঠান বেড়েই চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এসব অনুষ্ঠান করে কি আদৌ কোন উপকারে আসে কারো জীবনে? এই যে কুসংস্কারগুলো আমাদের সামাজিক জীবনে প্রভাব পড়ছে দিনে দিনে তার ফলে আমরা মুসলমানরা যে হারে অপসংস্কৃতিতে ঢুকে পড়েছি তাতে করে অদূর ভবিষ্যতে বিয়ে একটি সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।
বিয়ের অনুষ্ঠান-বিয়ের দিন দেখা যায দু‘হাজার, তিন হাজার, পাঁচ হাজার লোক খাওয়ানো. বিয়ের ফার্নিচার অন্যান্য আরও কত খরচ করে সমাজে বিত্তশালীরা এভাবেই মেয়েদেরকে বিয়ে দিচ্ছেন বর্তমান সমাজে। ভালো কথা কিন্তু প্রশ্ন হলো এই যে লোক দেখানো সমাজে এতো আয়োজন এ বিষয়ে ইসলাম কি বলে? আবার এও দেখা যায় ৫ হাজার লোকের খাবারের আয়োজন করা হলেও অনেক সময় বিয়েতে খাবার না খেয়েও অনেককে আসতে হয়। বিয়ে বাড়ির খাবার শেষ, তাই বাড়ি ফিরে খেতে হয়। কথা হলো এত বিশাল আয়োজনের দরকার কি? ইসলামতো এসব পছন্দ করে না। আবার মাঝে মাঝে এও দেখা যায় সমাজে, কিছু যুবকদের কপাল খুবই খারাপ তারা এইভাবে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে করতে পারেন না টাকা পয়সার অভাবে। কারণ ভালো একটা বিয়ের আয়োজন করার ক্ষমতা তাদের নাই এই জন্য অনেকে জীবনে বিয়েও করতে পারেন না কিংবা এই কারণে অনেক যুবক বিলম্বেও বিয়ে করেন, তখন দেখা যায় অনেকক্ষেত্রে জীবনের স্বাদ-আল্লাদ হারিয়ে ফেলেন তারা।
মৌন যৌতুক-মুখেই শুধু বলা হয় আমরা মেয়ে চাই কোন ফার্নিচার চাই না-কিন্তু মনে মনে ঠিকই আশা করেন ছেলের সাথে পুরু সব ফার্নিচার-ই আসুক। এটা যেন একটা অলিখিত দলিল হয়ে গেছে। তবে আমি এ কথা সবাইকে বলছি না। কিছু লোক অবশ্যই শুধু একটা ভাল বউ চায় তবে তার সংখ্যা খুব কম।
বিয়েতে ফটোসেশন-বিয়েতে যে ফটোসেশন হয় সে বিষয়টা দিন দিন প্রকোপ আকার ধারণ করছে। আজকাল বিয়ে বাড়িতে কন্যাদের ঘন্টার পর ঘন্টা মডেলিং স্টাইলে ছবি তোলা এর কি কোন মানে আছে। ক্যামেরা ম্যান বিভিন্ন ভঙ্গিমা দেখিয়ে দেয় আর কন্যারা সেভাবেই পোজ দেয়। এসব দেখলে আমার কাছে মনে হয কন্যারা বিয়ে বাড়িতে মডেলিং করছে আর আমরা তার দর্শক। কন্যা থাকবে নিচের দিকে চেয়ে, লজ্জাবতীর মত কিন্তু সে রকম কোন কন্যা এখন মিলা ভার। সেই লজ্জাবতী কন্যারা কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে ফ্যাশনে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায়। স্টেজে দেখা যায় কন্যারা খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসে থাকে, সবার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসিমুখে কথা বলতে অহরহ। হাজার টাকার মেকাপ দিয়ে সাজানো হয় কন্যাকে তাই মেকাপ নষ্ট হওয়ার ভয়ে অনেক কন্যাতো কাঁদতেও ভুলে যান। অনেক মেয়েতো হেসে হেসে বলেই দেয় অনেক টাকার মেকাপ নিয়েছি কাঁদবো কেন? যা কান্নার মেকাপ করার আগেই কেঁদে নিবো। সে যাই হোক কান্নার বিষয় বাদ-ই দিলাম। যার মায়া থাকবে সে বাপের বাড়ির জন্য কাঁদবেই, মেকাপ দিয়ে কান্না আটকানো সম্ভব নয়।
বিয়ের পরের দিন জামাই বাজার থেকে বড় মাছ কিনে এনে বউয়ের হাতের রান্না করা ও আত্মীয়দের খাওয়ানো। সে অনুষ্ঠানের নামও আছে আমাদের সমাজে মাছ-ভাত। সেটা অবশ্য নতুন বউর হাতে রান্না খাওয়ার একটা টেকনিক আর বরের পকেট থেকে কিছু টাকা খরচ করার ফন্দি দাদী-নানিরা করে থাকেন।
অবশেষে বলতে চাই আমরা মানুষরা সমাজকে দিনে দিনে কঠিন করে তুলছি আর ধর্মীয় বিধান বিয়েকে একটা ব্যবসায়ীক স্পট করে ফেলছি। ছেলের পক্ষ কন্যাকে সোনা-গয়না, শাড়ি, অন্যন্য জিনিষ কমবেশ দিল্ইে আমরা বলাবলি করি বরের বাড়ির লোক ভালো না, কমদামী জিনিষ দিয়ে বিয়ে করতে চাচ্ছে, ওরা সমাজ চিনে না, আমাদের তো এসব দিয়ে ছোট করলো, সমাজের সবার কাছে এসব কি দেখানো যায়? এইভাবে কটাক্ষ করে কথা বলতে শোনা যায়, অনেক সময় এসব নিয়ে ঝগড়া-বিবাদও লেগে যায়। অথচ ইসলামে এসব পণ্য সামগ্রী লেনদেনের কথা বলা হয়নি। এ সবই আমাদের সামাজিক কুসংস্কার ছাড়া আর কিছু না।
বিয়ে মানে এত এত নিয়ম আর অপচয়ের বাহাদুরি কেন আমাদের সমাজে আমরা কি এ থেকে বের হতে পারি না? এসব নিয়ম ভেঙ্গে নবী-রাসুলের ইসলামি তরিকায় বিয়ের মাধ্যমে যুগল বন্ধিরা কি সুখী হতে পারেন না এতে করে ছেলের পরিবার ও মেয়ের পরিবার দু‘পক্ষের সাশ্রয়ী উপায়ে পরিবার গঠন করে সমাজের এ বিয়ে নামক কুসংস্কারগুলো ভেঙ্গে ফেলতে পারি না সবই সম্ভব শুধু মাত্র ইচ্ছাশক্তি আর কুসংস্কারমুক্ত মনের দরকার। তবেই অনেক কিছুর সমাধান হতে পারে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT