সম্পাদকীয়

প্রতি উপজেলায় হচ্ছে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০২-২০২০ ইং ০০:২৩:২৪ | সংবাদটি ১১৫ বার পঠিত

সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হচ্ছে সব উপজেলায়। প্রান্তিক পর্যায়ে সংস্কৃতিচর্চাকে ছড়িয়ে দিতে নেয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে শিল্পের আলোয় রাঙিয়ে দেয়া ৫৬ হাজার বর্গমাইল। সেই আলোয় দূর হবে মনের আঁধার। জাগ্রত হবে শুভবোধের চেতনা। সর্বোপরি সংস্কৃতির আশ্রয়ে মৌলবাদ প্রতিরোধ করে মানবিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষে নেয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা। আর তারই অংশ হচ্ছে উপজেলা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। প্রথম ধাপে একশ’ উপজেলায় তৈরি হবে এই কেন্দ্র। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ইতোমধ্যেই শত উপজেলা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। এ বছরের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শুরু হবে এবং আগামী বছর জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে জানা গেছে। আধুনিক সুযোগ সুবিধা সংবলিত ও নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর সংমিশ্রণে নির্মিত হবে চার তলা ভবনের প্রতিটি কেন্দ্র। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে তিন থেকে চারশ’ আসনের একটি অডিটরিয়াম।
উপজেলা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের বিজ্ঞমহল। তাদের মতে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে সংস্কৃতিচর্চার ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তাছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবী জানিয়ে আসছেন দেশের সংস্কৃতিকর্মীগণ। তাদের সেই দাবী এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। তৃণমূল পর্যায়ে সাংস্কৃতিকচর্চা জোরালো করতে সরকারের এই উদ্যোগ। সংস্কৃতি প্রতিটি মানুষকে জীবন চলার পথে সুস্থ ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে। একজন সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রেমী কখনও কোন অশুভ কাজে জড়িয়ে পড়তে পারে না সহজে। সত্যি বলতে কি, দিন দিন মানুষের মধ্যে সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা কমে আসায় আমাদের সমাজে বেড়ে চলেছে নানা অশান্তি-বিশৃঙ্খলা। [অতীতে গ্রাম-শহর সর্বত্র সারা বছরই নানা ধরণের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড লেগেই থাকতো। তাতে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে অংশ নিতো সব বয়সের মানুষ। এতে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হতো, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটতো। যে কারণে মানুষের মধ্যে সহমর্মীতা সহনশীলতা ছিলো অটুট। তবে বর্তমানে বলা যায় সুবাতাস বইছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গণে কর্মতৎপরতা বেড়েছে সংস্কৃতিপ্রেমীদের।]
উপজেলা পর্যায়ে নির্মিত হচ্ছে সাংস্কৃতিককেন্দ্র। এতে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সংস্কৃতি কর্মীরা যাতে চর্চার সুযোগ পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি সর্বস্তরের মানুষকে এই কেন্দ্রের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। গ্রামীণ জনপদে অতীত থেকে চলে আসা বৈশাখী মেলা, চৈত্র সংক্রান্তি কিংবা পৌষ সংক্রান্তির নানা আয়োজন, গ্রামীণ মেলা-এই সব কিছুই উপজেলা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মাধ্যমে পূর্ণোদ্যমে জেগে উঠবে বলেই আমরা আশা করছি। এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করা জরুরি। ইতোপূর্বে প্রতিটি উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়, সেটা বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে উপজেলা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং শিল্পকলা একাডেমি একই সঙ্গে একই ভবনে গড়ে তোলা যায় কি না, সেটা ভেবে দেখতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT