শিশু মেলা

মেঘ-বৃষ্টির পরিবার

চন্দ্র শেখর দেব প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০২-২০২০ ইং ০০:১৩:৩২ | সংবাদটি ৯৭ বার পঠিত

আকাশে মেঘের বড় পরিবার নিয়ে চলছে তাদের সুখের জীবন। যদিও মাঝে মধ্যে লেগে ধাক্কা ভজগট হয়ে যায়। মেঘের ছোট বোন শিলা। দুবোন খেলাচ্ছলে দ্রুত গতিতে উড়ে বেড়ায়। অসাবধানতাবশতঃ কখনও তাদের মধ্যে সামনা সামনি ধাক্কা লেগে গুড়ুম গুড়ুম শব্দ করে পৃথিবীকে জানিয়ে দেয় পরিচয়। এতে বড় বোন মেঘের বড় একটা অংশ ছোট ছোট টুকরো হয়ে ছোট বোন শিলার নাম নিয়ে মাটিতে এসে পড়ে। সেটা দেখে মেঘের প্রিয় মেয়ে বৃষ্টি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না। তাই সেও অঝোরে ধারায় নেচে নেচে মাটির সাথে মিতালী করতে। মাটিও বৃষ্টিকে পেয়ে আনন্দিত হয়ে উঠে। দুজনের এত ভাল সম্পর্ক হয় মাটির গর্ভে নিজেকে বিলীন করে দেয়। তাতে মাটি খুশি হয়ে ফুলে ফলে ফসলে গাছ গাছালি দিয়ে নিজেকে অপরূপ সাজে রাঙ্গিয়ে তোলে। কী অপূর্ব খুশির ঝলক হাসির ফোয়ারা দেখে জীব জগতের সবাই অশেষ ধন্য হয়ে উঠে। মানুষ জাতি কৃতজ্ঞ হয়ে কারো নাম শিলা কারো নাম বৃষ্টি রাখে। এটা দেখে আকাশের মেঘও অত্যন্ত খুশি হয়।
বৃষ্টি যখন পৃথিবীতে আসে উদার মনে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চায়। কিন্তু মানুষ জাতি বিরক্ত হয়ে বলে, এত পানি যদি ঢালতেই থাক। তবে যে ফসলের ক্ষতি হয়ে যাবে। আর পানি ঢালিও না, এবার তুমি আকাশে ফিরে যাও। বৃষ্টি আর কি করবে? অভিমান করে আকাশে ফিরে গেল। কিছুদিন পরে রোদের তীব্র দহনে ক্ষেতের ফসল জ্বলে যাচ্ছে। মাঠ শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। এবার ভাল ফলন হবে না। এই চিন্তায় দিবা রাত্রি কাটে। আবার শুরু হলো বৃষ্টিকে ডাকা। আওগো বোন আওগো মাই ক্ষেতের ফসল বাঁচাও। অভিমান করে আর কতদিন থাকা যায়। এমন কাতর স্বরে মানুষ তাকে ডাকছে। কি আর করা বৃষ্টির মন গলে একেবারে পানি পানি হয়ে গেল। তবে বৃষ্টি এবার মনে মনে একটা ফন্দি করেছে। এবার সে অন্যভাবে আসবে। বৃষ্টির পরিবারে আরেকজন সদস্যা বেড়েছে জগতবাসী সেটা জানত না। বৃষ্টি এবার তার মেয়েকে নিয়ে। যদিও বৃষ্টি তার মেয়ের নামকরণ করে নাই। চারিদিকে বৃষ্টি অঝোর ধারায় পানি বিলিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু দেখা গেল বৃষ্টির মেয়ে শুধু কাঁদছে। কান্না তো থামানো যাচ্ছে না। বৃষ্টি এই অবস্থা দেখে জানতে চাইল কি হয়েছে কেন এত কান্নাকাটি করে। এবার মেয়েটি যা বললো সেটা শোনে বৃষ্টি অবাক হয়ে গেল! এই পিচ্চি মেয়েটা এত কিছু বুঝার বয়স হয়ে গেছে। কাঁদতে কাঁদতে বৃষ্টির মেয়ে বললো, শুন মা এই দেশের লোক এত খারাপ বেঈমান চোর চোট্টা বাটপার নিমক হারাম। আজকে যার থালায় ভাত খায়। আগামীকাল সেই থালা কানা করে দেয়। উল্টো উপকারির ক্ষতি করতে পিছপা হয় না। এই লোকগুলো অভিশপ্ত। যতই গলাবাজি করুক উপর থেকে নিচ সবাই একে অপরের হাড়কুটা শ্রমের মাংস শুষে চুষে খেয়ে ফেলছে। এদের উন্নতি হতে মানুষ হতে কয়েক শতাব্দী লাগবে। মাগো আমি আর থাকব না চলো ফিরে যাই চির শান্তির দেশ আকাশে। মেয়েটা যাবার সময় রোগ জীবাণু ছড়িয়ে দিয়ে গেল। এই মেয়ের কান্নার পানিতে বাড়ি ঘর ক্ষেতের ফসল মাঠ ঘাট সব তলিয়ে গেল। পরে বিশেষ তদন্ত কমিটি বসে এই পানির নাম দেয়া হলো ‘বন্যা’।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT