সম্পাদকীয়

অতিথি’দের নিরাপত্তা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০২-২০২০ ইং ০০:১৭:৪১ | সংবাদটি ৮৭ বার পঠিত


এবারও এসেছে অতিথিরা। এরা ঠাঁই নিয়েছে সবুজ-শ্যামল এই বাংলার হাওর-বিল, বন বাদাড়ে। এরা শীতের অতিথি পাখি। তাদের কলকাকলীতে মুখরিত দেশের নানা প্রান্তের হাওর-বাঁওর, বিল, জলাশয়। রকমারি বর্ণিল পাখিগুলোর দিনমান ওড়াওড়ি মুগ্ধ করে যে কাউকে। হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এসব পাখি আসে আমাদের দেশে। তারা আসে মূলত শীতপ্রধান দেশগুলো থেকে শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচার জন্য। অথচ এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সৌখিন শিকারী নিমর্মভাবে নিধন করছে এইসব পাখি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুসারে অতিথি পাখি শিকার ও বিক্রয় করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এই আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নেই। তাই অবাধে শিকার করা হচ্ছে অতিথি পাখিদের। প্রতিদিন শত শত পাখি ধ্বংস করা হচ্ছে। মানুষের এই অমানবিক আচরণে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। বাড়ছে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের প্রকোপ। যার কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণে অতিথি পাখি রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার।
পাখির ডাকে ঘুমিয়ে পড়া আর পাখির ডাকে জেগে ওঠার দিন হারিয়ে যায়নি। চিরায়ত বাংলার এই দৃশ্যটি এখনও অটুট আছে গ্রামীণ জনপদে। আর শীত মওসুমে চিরাচরিত সেই দৃশ্যে নতুন মাত্রা যোগ করে অতিথি পাখিরা। এরা ঝাঁকে ঝাঁকে এসে হাজির হয় আমাদের দেশে শীতের শুরুতেই। কিন্তু শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এসে তারা পড়ে যায় পাখি শিকারী নামক ‘দুর্বৃত্তদের খপ্পরে’। জানা গেছে, পৃথিবীতে প্রায় পাঁচ লাখ প্রজাতির পাখি রয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রজাতির পাখিই বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে অন্য দেশে চলে যায়। শুধু ইউরোপ আর এশিয়ায় রয়েছে প্রায় ছয়শ’ প্রজাতির পাখি। অনেক প্রজাতির পাখি প্রতি বছর ২২ হাজার মাইল পথ অনায়াসে পাড়ি দিয়ে চলে যায় অন্য দেশে। উত্তর মেরুর পাখিরা চলে যায় দক্ষিণ মেরুতে। এভাবেই আমাদের দেশে চলে আসে অনেক প্রজাতির পাখি। বিশেষ করে সাইবেরিয়া এবং হিমালয়ের পাদদেশের তিব্বত থেকে বেশির ভাগ পাখি আসে আমাদের দেশে।
প্রচলিত আইনে শুধু অতিথি পাখি নয়, সব ধরণের পাখিই নিধন নিষিদ্ধ। কিন্তু [আইনের প্রতি কেউ তোয়াক্কা করছে না। সুতরাং আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি। সেই সঙ্গে পাখি তথা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে গ্রামীণ জনপদে পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তোলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা যায়। বিশেষ করে প্রতি ইউনিয়নে সরকারি উদ্যোগে একটি করে পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তুললে শুধু দেশী পাখিই নয, অতিথি পাখিও নিরাপদ আশ্রয় পাবে।]

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT