সম্পাদকীয় যার টাকা আছে তার কাছে আইন খোলা আকাশের মতো। যার টাকা নেই তার কাছে আইন মাকড়সার জালের মতো। -সক্রেটিস।

বিশ্বকে বাঁচাতে বৃক্ষরোপণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০২-২০২০ ইং ০০:৪৩:৫৪ | সংবাদটি ১০২ বার পঠিত

এক লাখ কোটি বৃক্ষ বাঁচাবে বিশ্বকে। এই ধরণের স্লোগান ইদানিং বেশ জোরালোভাবেই বলে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞগণ। তাদের মতে এক লাখ কোটি গাছ লাগাতে হবে খুব তাড়াতাড়ি; তবেই আমাদের শ্বাসের বাতাসের বিষ মবে, আমাদের বায়ুম-ল হয়ে উঠবে একশ’ বছর আগেকার মতো। গাছ লাগালেই বেঁচে যাবে বিশ্ব, না হলে ফোলা ফেঁপে ওঠা সমুদ্রের জলেই তলিয়ে যেতে হবে মানবজাতিকে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বেড়েছে উষ্ণায়ন। এতে বরফ গলছে আস্বাভাবিক দ্রুত হারে। আর বিশ্ব জোড়া শিল্পায়নের বদৌলতে বাতাস ভয়ঙ্করভাবে বিষিয়ে উঠছে কার্বন ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনো´াইডসহ নানা ধরণের গ্রিন হাউস গ্যাস। যা তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে পৃথিবীর। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলেছে, সারা বিশ্বে এক লাখ কোটি বৃক্ষ লাগালেই এই বিপর্যয় থেকে মুক্ত থাকা যাবে। তাদের মতে, পৃথিবীর স্থলভাগের শহর, গ্রাম, চাষাবাদের জমি বাদ দিয়ে ৩৫ লাখ বর্গমাইল বা ৯০ লাখ বর্গ কিলোমিটার এলাকা পতিত রয়েছে। এক লাখ কোটি বৃক্ষ লাগানোর জন্য জায়গাটা মোটেই কম কিছু নয়। গবেষণায় বলা হয়, গ্রিন হাউস নির্গমণের ফলে বায়ুম-লে যে পরিমাণে কার্বন জমেছে- এক লাখ কোটি বৃক্ষ লাগালে তার ২৫ শতাংশই চলে যাবে বায়ুম-ল থেকে। বায়ুম-ল হয়ে যাবে একশ’ বছর আগেকার মতো।
পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ছে অব্যাহতভাবে। এতে গলে যাচ্ছে মেরু অঞ্চলে জমে থাকা বরফ। জলবায়ুর এই পরিবর্তন পৃথিবীকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে পৃথিবীর আয়ু আর বেশি দিন নেই। আর পৃথিবীর এই উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে বায়ু দুষণ ও বৃক্ষ নিধনকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। সারা বিশ্বে শিল্পায়নের ফলে গ্রিন হাউজের মধ্যে ফাটল ধরে গেছে ইতোমধ্যেই। পৃথিবীর বাতাস ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে বিষাক্ত। গাড়ির ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য এবং অতিরিক্ত বৃক্ষ নিধনের ফলে পৃথিবীতে বসবাসের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে; সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক প্রাণী। জানা গেছে, আমেরিকা, কানাডা, রাশিয়া এবং চীনের মতো বড় কয়েকটি দেশেই এক লাখ কোটি বৃক্ষ রোপণের মতো জায়গা পতিত রয়েছে। তাই সারা বিশ্বে এক লাখ কোটি নয়, বরং তার দ্বিগুণ-তিনগুণ বৃক্ষ লাগানোর জায়গা খালি রয়েছে। বিজ্ঞানের পরিভাষায়, গাছ তার মালোকসংশ্লেষণের জন্য জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করে সূর্যলোক এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড। ফলে যতো বেশি গাছ লাগানো সম্ভব হবে গাছ ততো বেশি করে কার্বন ডাইআক্সাইড টেনে নেবে বায়ুম-ল থেকে। তাতে বাতাসের কার্বনের পরিমাণ কমবে উল্লেখযোগ্য হারে। যে কার্বন গাছ তার নিজের প্রয়োজনে কাজে লাগাবে।
বৃক্ষ বাঁচায় পরিবেশ, বাঁচায় পৃথিবী, বাঁচায় মানুষ। মানুষের জন্য বৃক্ষ বরাবরই একটা অমূল্য সম্পদ। বৃক্ষকে বলা যায় মানুষের জীবন রক্ষার জন্য সৃষ্টিকর্তার একটা সেরা দান। জ্ঞান-বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের এই যুগেও উষ্ণায়ন তথা জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যা মোকাবেলায় কোন উপায় বের করতে পারেনি বিজ্ঞানীগণ। সবকিছুর পরে আশ্রয় নিতে হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ বৃক্ষের ওপর। বিজ্ঞানীদের গবেষণা বলছে, বৃক্ষই পারে পৃথিবীকে জলবায়ু বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে। বিশ্ববাসীর সম্মিলিত প্রয়াসে এক লাখ কোটি গাছ লাগালে পৃথিবীর বনাঞ্চল বেড়ে যাবে বর্তমান থেকে তিন গুণ। অথচ এতে চাষাবাদের জমিও ধ্বংস হবে না। কারণ চাষাবাদের জমি সংকোচিত হওয়া আজকাল বিশ্ববাসীর জন্যও একটি সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
এক লাখ কোটি বৃক্ষরোপণ আন্দোলনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশও অংশ নেবে, এটাই স্বাভাবিক। উল্লেখ করা যেতে পারে, ইতোমধ্যেই মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা দেশে এক কোটি বৃক্ষ রোপণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলার কাজটি সহজতর হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT