ধর্ম ও জীবন

জিয়ারতে সোনার মদিনা

সৈয়দ আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০২-২০২০ ইং ০১:০৬:৪৮ | সংবাদটি ৬৮ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর] বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দর এর দূরত্ব প্রায় ৫,২৬৩ কি.মি। ইসলামের পবিত্র নগরী ‘মক্কা-মদিনায়’ প্রবেশের শুরুটা বা প্রবেশ দ্বার হচ্ছে জেদ্দা নগরীর ‘মক্কা গেইট’। যা ঐতিহাসিক জেদ্দা শহরের গুরুত্বপূর্ণ ফটক। আমাদের আদি মাতা ‘বিবি হাওয়া (আ:)-কে’ জেদ্দার ঐতিহাসিক আল বালাদ এলাকায় দাফন করা হয়েছিল, সেখানে তার মাজার রয়েছে তাই জেদ্দাকে ‘জাদ্দা’ বলা হয়ে থাকে। জাদ্দা অর্থ দাদি-নানি। অর্থাৎ দাদি-নানির শহর জাদ্দা বা জেদ্দা। বিমান আবিষ্কারের আগে বাংলাদেশ থেকে সাগর পথে বঙ্গোপসাগর, আরব সাগর হয়ে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে হাজিগণকে জেদ্দা সমুদ্র বন্দর দিয়ে জেদ্দা নগরীতে পৌঁছতে হতো। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে অথবা মরুভূমির জাহাজ উটের পিঠে চড়ে মক্কা-মদিনা যেতে হতো। বিমান পথে বর্তমানে আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থা সেই দীর্ঘ পথযাত্রাকে সহজ করে সময় কমিয়ে দিয়েছে। তাইতো এখন সৌদি আরব সরকারের প্রতি বছর শুধু ওমরা হজ যাত্রীদের নিকট থেকেই আয় হয় ১২ হাজার কোটি ডলারের অধিক। যা বাংলাদেশী টাকায় মোট ১০ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা (অনলাইন থেকে সংগৃহিত)। আমাদের যাত্রা পথে আল খালিছ অঞ্চলের ওয়াজি ইন্তার বাস স্টপিজ এ মাগরিবের নামাজের জন্য যাত্রা বিরতি করেছিলাম। মাগরিবের নামাজ শেষে একটি হোটেলে চা নাস্তা করতে বসলাম। হোটেলটিতে ৫/৬ জন বাংলাদেশী কর্মী ছিল। যাত্রা বিরতির স্থানে প্রচুর বাতাস থাকায় ঠান্ডার কারণে আমাদের অসুবিধা হয়েছিল। বিরতির স্থানটি থেকে চতুর্দিকে দিগন্ত জোড়া খালি প্রান্তরের উভয় দিকে আকাশ মাটিতে মিশে আছে, এমন প্রান্তরে বাধাহীন বাতাস ছাড়া অন্য কিছুই প্রত্যাশা করা যায় না। যাত্রা পথে রাস্তার দুই ধারে যতদূর চোখ যায় বা দৃষ্টিগোচর হয়, ততদূর পর্যন্ত আকাশ মাটিতে শুয়ে থাকতেই দেখা গেছে। বাড়ি-ঘর, গাছ-পালা, পশু-পাখি, মানুষজন কিছুই দেখা যায়নি। মাঝে মধ্যে বিরাট খাল, নদী নালার মত দেখতে মনে হলেও কিন্তু পানি, গাছপালা বন জঙ্গল কিছুই দেখা যায়নি। সেই পানিহীন নালা বা হৃদগুলোতে ব্রিজ তৈরি করে ছয় লেনের হাইওয়ে রাস্তা করা হয়েছে। রাস্তার উভয় পাশে মাঝে মধ্যে পাহাড়, টিলা, হৃদ দেখা গেলেও মাটি, পাথর ছাড়া দিগন্ত জুড়া প্রান্তরে কিছুই দৃষ্টিগোচর হয়নি। পাহাড়-পর্বতের পাদদেশে মাঝে মধ্যে দু’একটি পাকা ঘর দেখা গেলেও জনশূন্য প্রান্তর ছাড়া আর কোথাও কিছু চোখে পড়েনি। রাস্তায় রাত হয়ে যাওয়ায় জেদ্দার উপকণ্ঠে উভয় পার্শ্বে গাড়ি থেকে সুদৃশ্য লাইটিং ছাড়া কিছুই দেখতে পাইনি। বিরাট এলাকা নিয়ে লোহিত সাগর তীরের জেদ্দা বিমানবন্দর রাতে বিদ্যুতের আলোয় যেন সৌন্দর্যের মহিমা কীর্তন করছিল। মুসলমান হজ ও ওমরা যাত্রীদের জন্য জেদ্দা বিমানবন্দর যেন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত এক ধরনের নিয়ামত ও বরকত।
ইসলাম শান্তি, সম্প্রীতি, মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ধর্ম, ইসলাম মানবতার ধর্ম, ইসলাম সত্য, সুন্দর, ন্যায় ও কল্যাণের ধর্ম। বিশ্বের প্রতিপালক তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানব জাতির শান্তি ও কল্যাণের জন্য উত্তম, সত্য ও কল্যাণকর ধর্ম প্রচারের জন্য তার প্রিয় রাসুল (সা.) কে দায়িত্ব দিয়ে ‘কুরআন’ নামক পবিত্র গ্রন্থ নাজিল করেছিলেন। আর আমাদের প্রাণপ্রিয় নবী (সা.) আল্লাহর ধর্ম ইসলাম প্রচারে দীর্ঘ ২৩ বছর অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে তো বটেই, শত্রুদের সাথে নিজেই ২৩টি যুদ্ধে মতান্তরে ২৭টি যুদ্ধে অংশ নিয়ে বিজয়ীর বেশে সফলতার সাথে ধর্মকে প্রচার ও প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। প্রতিষ্ঠিত ও সফলতার স্বাক্ষী হিসাবে সশরীরে উপস্থিত শতাধিক সাহাবীর সম্মুখে দুনিয়াবাসীর জন্য রেখে গেছেন বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ। নবী প্রেমিক মুমিন মুসলমানবৃন্দ আজ ১৫ শত বছর পর তাঁর সত্য ধর্মের আনুগত্যতা প্রকাশ করে। সোনার মদিনায় রওজা জিয়ারত করে মুখে বলে থাকেন, ‘আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু’ অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তার কোন শরীক নাই, মোহাম্মদ (সা.) তার বান্দা ও রাসুল। ইসলামের চেয়ে বড় নিয়ামত পৃথিবীতে আর কিছু হতে পারে না। ঈমান ও ইসলাম ছাড়া পৃথিবীতে আর কোনো কল্যাণ নেই, আখিরাতেও মুক্তির কোনো পন্থা নেই। আল্লাহ কোরআনে ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আমি তোমাদের জন্য দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছি এবং আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করে দিয়েছি’।
যেহেতু আল্লাহর সবচেয়ে বড় নিয়ামত ঈমান ও ইসলাম তাই ইসলাম ও ঈমান সম্পর্কে জানতে ও শিখতে হবে। আমরা নিজেরা ঈমানদার বলে দাবি করি, কিন্তু ঈমান ও ইসলামের সঙ্গে আমাদের কোনো মজবুত সম্পর্ক নেই। আমরা ঈমান ও ইসলামের রীতি নীতি অনুযায়ী পরিবার, সমাজ ও দেশকে পরিচালনা করতে চেষ্টা করি না বা ব্যর্থ হই। ফলে আমরা ইসলামের সঠিক আলো থেকে হই বঞ্চিত। আমাদেরকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তার উৎকৃষ্ট চরিত্রে চরিত্রবান হয়ে জ্ঞান চর্চা করতে হবে এবং তা নিয়ে সারা পৃথিবীময় ছড়িয়ে দিতে হবে। আল্লাহ সবাইকে তৌফিক দান করুন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT