সম্পাদকীয়

বিশ্বব্যাপী খাদ্যের অপচয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০২-২০২০ ইং ০০:০২:২৫ | সংবাদটি ৯৭ বার পঠিত


খাদ্যের অপচয় হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। বিশেষ করে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ খাদ্যের অপচয় হচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বলেছে, বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বছরে যে পরিমাণ খাবার নষ্ট হয়, তাতে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় এক লাখ কোটি ডলার। এর মধ্যে শিল্পোন্নত দেশগুলোর বছরে ক্ষতি হচ্ছে ৬৮ হাজার কোটি ডলার। আর উন্নয়নশীল দেশের ক্ষতি ৩১ হাজার কোটি ডলার। উন্নত দেশে বছরে ৬৭ কোটি টন এবং উন্নয়নশীল দেশে ৬৩ কোটি টন খাদ্য নষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়- প্রতি বছর বিশ্বে খাদ্যদ্রব্যের যতোটা উৎপাদন হয়, তার এক তৃতীয়াংশই নষ্ট হচ্ছে। চাল, গম, ডালের মতো দানাদার শস্য যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি নষ্ট হচ্ছে শাক-সবজি, ফল, দুধ, মাছ-মাংসও। সব মিলিয়ে নষ্ট হওয়া খাবারের পরিমাণ বছরে একশ’ ৩০ কোটি মেট্রিক টন।
ক্ষেত-খামার থেকে খাবার টেবিল পর্যন্ত পৌঁছাতে বিপুল পরিমাণ খাদ্যদ্রব্যের অপচয় হচ্ছে। মূলত পরিবহন ব্যবস্থা ও ভোক্তা পর্যায়ে খাদ্যের এই ধরণের অপচয় ঘটছে। অথচ আফ্রিকার মরু-সাহারা অঞ্চলে মোট উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণই হচ্ছে ২৩ কোটি মেট্রিকটন। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে খামার থেকে বিপণনের সময় খাদ্যদ্রব্যের অপচয় হয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার প্রতিটি নাগরিক প্রতিবছর দু’শ ৮০ থেকে তিনশ’ কিলোগ্রাম পর্যন্ত খাবার অপচয় করে। আর শুধুমাত্র আহারের সময় প্রতি আমেরিকান ও ইউরোপীয় ৯৫ থেকে একশ’ ১৫ কিলোগ্রাম খাবার নষ্ট করে। মূলত জনসচেতনতার অভাবেই ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সরিষা, আলু, শাকসবজিসহ অন্যান্য খাদ্যশস্য বিনষ্ট হচ্ছে। জানা যায়, সারা বিশ্বে ৩০ শতাংশ দানাশস্য ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ আলু-পেঁয়াজ-গাজরের মতো মাটির নিচের সবজি, ২০ শতাংশ তৈল বীজ, মাংস ও দুগ্ধজাত সামগ্রী এবং ৩৫ শতাংশ মাছ নষ্ট হচ্ছে। সার্বিকভাবে বিশ্বে মোট উৎপাদিত খাদ্যশস্যের অর্ধেকের বেশীই বিনষ্ট হচ্ছে। অথচ বিশ্বের অন্তত ৮২ কোটি মানুষ বর্তমানে রাতে না খেয়েই ঘুমোতে যায়। অপরদিকে বিশ্বের প্রায় দু’শ কোটি মানুষ অতিরিক্ত খাবার খেয়ে অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাচ্ছে। এই ব্যাপারটি খুবই দুঃখজনক। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও খাদ্যের অপচয় হচ্ছে। এখানে উৎপাদন পরবর্তী ১২ থেকে ১৫ শতাংশ চাল এবং ২৪ থেকে ৪০ শতাংশ ফলমূল ও শাকসবজি খাবারের গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। বিনষ্ট হওয়া এই খাদ্যদ্রব্যের মূল্য ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশী।
খাদ্যের অপচয় হচ্ছে অনেক দেশে, আর অনেক দেশে মানুষ না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিশ্বায়নের এই যুগে এটা মেনে নেয়া যায় না। খাদ্যের অপচয় রোধে সচেতন হতে হবে সকলকে। চাহিদার অতিরিক্ত খাদ্য বিনষ্ট করে ফেলতে হবে, অপচয় করতে হবে- এটা হতে পারে না। অপচয় রোধে যথাযথ প্রযুক্তির উদ্ভাবন করে এর ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে মানুষদের। সবচেয়ে জরুরী হচ্ছে, সাধারণ মানুষের সচেতনতা। খাদ্য পণ্য আহরণসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় যাতে অপচয় না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT