সম্পাদকীয়

বইয়ের প্রতি অনুরাগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০২-২০২০ ইং ০০:০৭:৩৩ | সংবাদটি ১১০ বার পঠিত

রীতিমতো একটা আনন্দঘন পরিবেশেই শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারী মাস। একেতো শীতের বিদায় ধ্বনিত হয়ে শুরু হবে ঋতুরাজ বসন্ত, তার ওপর বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব বর্ণমালার উৎসব তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয় এই মাসে। বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ঐতিহ্যবাহী বইমেলা শুরু হয়েছে ঢাকার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। মেলা শুরু হয়েছে সিলেট শহীদ মিনারেও। অপরদিকে গত বুধবার দেশে পালিত হলো জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারী মাস জুড়েই বাঙ্গালী ব্যস্ত থাকে নিজেদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের চর্চা আর লালনে। আসল কথা হলো, নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে না পারলে কোন জাতিই বিশ্ব দরবারে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারেনা। আর এক্ষেত্রে বই একমাত্র সম্পদ, যা মানুষকে জ্ঞান-গরিমায় পরিপুষ্ট একটি ঐতিহ্য-সচেতন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। তাই নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বই পৌঁছে যাক সবার ঘরে।
প্রযুক্তি নির্ভর এই সময়ে মানুষ ছাপার বই থেকে দূরে সরে গেছে বলে অনেকেই মনে করেন। ভাবাটাই স্বাভাবিক। কারণ মানুষ সর্বক্ষণ আঙ্গুলের পরশেই দেখে ফেলছে বিশ্বকে, পেয়ে যাচ্ছে বিশ্বের যে কোন দেশের যেকোন ভাষার বই। কিন্তু বাস্তবতা হলো এখনও মানুষ বই পড়ছে, বইয়ের দোকানে নতুন বইয়ের মদির গন্ধে বিমোহিত হচ্ছে, বই মেলার হাজারো মানুষের আনাগোনা রয়েছে, বই কিনছে অনেকেই। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে জানা গেছে, প্রযুক্তি নির্ভর এই সময়েও প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ পাঠক ঢুকছেন গ্রন্থাগারে। তারা দীর্ঘক্ষণ বসে বই পড়ছেন অথবা অন্ততপক্ষে উল্টেপাল্টে দেখছেন। সরকারও এ ব্যাপারে নানা ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রন্থাগারগুলোকে ডিজিটালাইজেশন ও ই-গ্রন্থাগারে রূপান্তর করা। সর্বোপরি দেশব্যাপী গ্রন্থাগারগুলোতে পাঠকসংখ্যা বাড়ছে বলে জানা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে কাজে মন না বসলে মনকে কেন্দ্রীভূত করা প্রয়োজন। আর সেটা করতে পারে একমাত্র বই। কোন বিষয়ের প্রতি আরও বেশী মনোযোগী হতে বই পড়ার বিকল্প নেই। বৃদ্ধ বয়সে ‘অ্যালঝাইমার্স’ সিনড্রোমের মতো স্মৃতিভ্রম রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশী তাদের, যাদের বই পড়ার অভ্যাস নেই। গবেষকদের মতে-বইয়ের সম্ভাব্য বাস্তবতা ও কল্পনা পাঠকের মনে নতুন আবেগ ও অনুভূতি সৃষ্টি করে, যা তাকে অন্য সংস্কৃতির মানুষকে বোঝা ও তাদের প্রতি সহমর্মী হতে সাহায্য করে। মানসিক চাপ ও অশান্তি দূর করতে হলে বই পড়তে হবে। একজন লেখক বিখ্যাত সব লেখকের বই পড়ে নিজে সাহিত্য চচার স্পৃহা পায়। একজন ভালো পাঠকই একজন ভালো লেখকে পরিণত হতে পারে।
জ্ঞান-বিজ্ঞানে শীর্ষে অবস্থান করছে, বিশ্বের এমন জাতিগুলোর সারিতে আমাদের নাম লেখাতে হলে বাড়াতে হবে বই পাঠকের সংখ্যা। আমাদের বর্তমান সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপকহারে প্রয়োজন মুক্ত জ্ঞানের চর্চা। দরকার মনুষ্যত্বের প্রকৃত বিকাশ। আর এই সব কিছুই দিতে পারে বই। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষের চিন্তা-চেতনায়ও পরিবর্তন হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে তৈরী হচ্ছে নতুন নতুন লেখক। তাদের চিন্তা-চেতনাকে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। সৃষ্টি করতে হবে নতুন নতুন পাঠক। গ্রন্থাগার এবং লেখক সমাজকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য দরকার সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা এই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে গুরুত্বের সঙ্গে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT