সম্পাদকীয় প্রতিশ্রুতি খুব কম দিও। দয়া করবার আগে ন্যায়বান হও। -শেখ সাদী (রহ.)।

তার-জঞ্জালবিহীন শহর

প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০২-২০২০ ইং ০০:৩২:৩০ | সংবাদটি ৯৮ বার পঠিত

বিদ্যুৎ লাইন যাচ্ছে মাটির নিচে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারা দেশে বিদ্যুৎ লাইন যাবে মাটির নিচ দিয়ে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড অস্ট্রেলিয়ার একটি কোম্পানীর সঙ্গে এই সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী একথা বলেন। এই চুক্তির আওতায় দেশের চারটি বড় শহরে মাটির নিচে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করবে ওই প্রতিষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে সিলেটসহ ঢাকা, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা শহর এবং সংলগ্ন এলাকায় মাটির নিচে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য শহর এবং এর সংলগ্ন এলাকাগুলো আসবে প্রকল্পের আওতায়। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদা এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে, ঝুলন্ত তার দিয়ে তা পূরণ করা সম্ভব হবে না। তিনি জানান, মাটির নিচ দিয়ে লাইন নিতে যতোটা সম্ভব কম খোঁড়াখুঁড়ি করা হবে। প্রকল্পের আওতায় মাটির নিচে কিছু সাবস্টেশনও স্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।
দৃশ্যটি দেখলে মনেই হবে, এটা তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ। রাস্তার পাশে অসংখ্য খুঁটি আর খুঁটিতে জড়িয়ে আছে নানা ধরণের তার; বিদ্যুতের তার, টিলেফোনের তার, ক্যাবল সংযোগ তার, ইন্টারনেট-এর তার ইত্যাদি। আর উন্নত বিশ্বে এর উল্টো চিত্র। রাস্তার পাশে কোন খুঁটি নেই, তার ক্যাবলের জঞ্জাল নেই। আমাদের জন্য এমন দৃশ্য এতোদিন কেবল কল্পনায়ই মানাতো। কিন্তু আজকাল সেই কল্পনাই হলো বাস্তব। আর হজরত শাহজালাল (রহ.) এর পুণ্য স্মৃতি বিজড়িত সিলেটই হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম তারবিহীন নগরী। ইতোমধ্যেই এর কাজ শুরু হয়েছে পুরোদমে। কিছুদিন আগে দরগাহে হজরত শাহজালাল (রহ.) এর প্রধান ফটক থেকে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা তার-খুঁটির জঞ্জাল থেকে মুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে আম্বরখানা থেকে সার্কিট হাউস রোড এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সড়কের দু’পাশের খুঁটি অপসারণ করা হবে এবং তার ক্যাবল স্থাপন করা হবে মাটির নিচে। অর্থাৎ অচিরেই তার-খুঁটির জঞ্জালমুক্ত একটি পরিচ্ছন্ন নগরী হচ্ছে সিলেট, এই আশা আমরা করতেই পারি। ব্যাপারটি রীতিমতো রোমাঞ্চকর! শুধু সিলেট নয়, পর্যায়ক্রমে সারা বাংলাদেশেরই একই চিত্র হবে। তবে কাজটি বেশ কষ্টসাধ্য বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টগণ। দেশের অন্যান্য শহরের মতো সিলেট শহরের বিভিন্ন সড়কের আশেপাশে কিংবা সড়কের ওপরে জালের মতো বিস্তৃত বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের তার-ক্যাবল। বৈদ্যুতিক তার-এর সঙ্গে রয়েছে টেলিফোনের তার, ক্যাবল অপারেটরদের তার, ইন্টারনেট অপারেটরদের তারসহ আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তারসহ নানা সরঞ্জাম। সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার পয়েন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের বিভিন্ন ধরণের তার-ক্যাবলের জঞ্জাল নিয়ে প্রায় সময়ই সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয় পত্রপত্রিকায়। আর সেটা এ পর্যন্তই ছিলো। এই জঞ্জাল থেকে রেহাই পাওয়া যাবে, এমন চিন্তা হয়তো অনেকেই করতে পারেনি ইতোপূর্বে।
সব কথার শেষ কথা হচ্ছে, কোন মহৎ কাজই আটকে থাকে না। [অতীতে যা কল্পনায়ই ছিলো না, আজ তা বাস্তব। তবে এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষেরও রয়েছে দায়িত্ব। জঞ্জালমুক্ত রাস্তাঘাট যাতে পুনরায় জঞ্জালে ভরে না যায়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অনেকটাই নিতে হবে সাধারণ মানুষদের। বর্তমানে ক্যাবল অপারেটরসহ আরও কিছু বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনুমোদনহীনভাবেই বৈদ্যুতিক ও টেলিফোনের খুঁটি ব্যবহার করে তাদের তার, ক্যাবল ইত্যাদি টানিয়ে নিয়েছে। তাদের এই অপতৎপরতা যাতে আগামীতেও অব্যাহত না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT