উপ সম্পাদকীয়

পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার

নিগার সুলতানা সুপ্তি প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০২-২০২০ ইং ০০:৪৩:৩৯ | সংবাদটি ১০০ বার পঠিত

মানুষ হিসেবে আমরা নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ দাবি করি। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সবকিছুই যেন আমাদের হাতের মুঠোয়। যে কোনো সমস্যা সমাধানের বুদ্ধিমত্তাই প্রমাণ করে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব। কিন্তু এত কিছুর পরও কিছু দিক দিয়ে আমরা যেন খুবই অসহায়। পৃথিবী আর মানবসভ্যতার বয়স দিনকে দিন যত বাড়ছে, আমরা ততই কিছু অমীমাংসিত সমস্যার সম্মুখীন হয়ে চলছি, যার সমাধান বের করতে গিয়ে প্রায়শই আমাদেরকে অনেক জটিলতার বাধা পেরোতে হচ্ছে। বিশ্বের বড়ো বড়ো নেতৃবৃন্দ আজ নিজেদের অস্তিত্বটুকু টিকিয়ে রাখতে সবাই একসঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। আর সেই প্রধান সমস্যা, যা কি না আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্নে হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে, সেটা হলো-‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা’।
জলবায়ু পরিবর্তনের একাধিক কারণ আমাদের সামনে দ-ায়মান। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়-এসব যতটা না প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট তার থেকেও বেশি মানবসৃষ্ট। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্লাস্টিক দূষণ। আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য দ্রব্যের মোড়কে প্রতিদিনই পলিথিন এবং প্লাস্টিক মোড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উক্ত দ্রব্যগুলো ব্যবহারের পর বর্জ্য হিসেবে পলিথিন এবং প্লাস্টিকের মোড়কগুলো ড্রেন, রাস্তা-ঘাট, মাঠে-ময়দানে, নদী-নালা, খাল-বিল এবং ফসলের মাঠে ফেলা হচ্ছে। পলিথিন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য মাটিতে ফেলার দরুন মাটি তার উর্বরতা হারাচ্ছে, ড্রেন, নদী-নালা, খাল-বিলে ফেলার দরুন ড্রেনগুলো ময়লা পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং নদী-নালা এবং খাল-বিলগুলো মাছ চাষে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্রের ঢেউ এবং সূর্যের আলোর প্রভাবে প্লাস্টিকের পণ্য ধীরে ধীরে টুকরো হয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়। পানি ও অন্যান্য খাদ্যের সঙ্গে একসময় এই মাইক্রোপ্লাস্টিক বিভিন্ন জীবের দেহে প্রবেশ করে। এক সময় ফুড চেইন বিশেষ করে মাছের মাধ্যমে মানুষের শরীরেও প্রবেশ করে, যা মানবদেহে চরম স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটায়। এছাড়া ক্লোরিনযুক্ত প্লাস্টিক বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ নির্গত করে, যা ভূগর্ভস্থ ও ভূ-পৃষ্ঠীয় পানির সঙ্গে মিশে যায়। আর এভাবেই পানি গ্রহণে তা খাদ্যচক্রে ঢোকার মাধ্যমেও প্রতিনিয়ত আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। অন্যদিকে প্লাস্টিক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে।
একদিকে শিল্পায়ন ও নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্লাস্টিকের (পলিথিনসহ) ব্যবহার বাড়ছে। মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে বর্ধিত পরিমাণে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারের সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশেও প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ছে। ২০১৪ সালের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বছরে গড়ে মাথাপ্রতি প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহূত হয় ৩ দশমিক ৫ কিলোগ্রাম। ইউরোপের গড় মাথা প্রতি বছরে ১৩৬ কিলোগ্রাম এবং উত্তর আমেরিকায় ১৩৯ কিলোগ্রাম। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারের পরিমাণ কম হলেও নগরায়ণের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত বাড়ছে সে পরিমাণ। কেবল প্লাস্টিক পণ্যের পরিমাণ নয়, বাংলাদেশে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বৈচিত্র্যও বাড়ছে। আমাদের দেশে আমরা এর প্রভাব খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারি প্রচুর বৃষ্টিপাতের পর। বিভিন্ন ডোবা, নালা, খাল-বিল, ড্রেনে গিয়ে প্লাস্টিক পদার্থগুলো জমা হয়। যেহেতু এসব পদার্থ সহজে বিয়োজিত হয় না, তাই বৃষ্টির পর এসব পদার্থ পয়োনিষ্কাশনে প্রভাব ফেলে। ফলশ্রুতিতে দেখা যায়, রাস্তাঘাটে পানি জমে থাকে, সেই সঙ্গে বাড়ে রোগের প্রাদুর্ভাব।
আমাদের উচিত প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ বর্জন করা, আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার সীমিত করা, পাটজাত দ্রব্যের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের দেশের হারানো ঐতিহ্য পাটশিল্পকে পুনরায় জাগিয়ে তোলা। সব জায়গায় প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, জনগণকে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করে গড়ে তোলা, পাটজাতীয় পদার্থ ব্যবহারের কারণে সরকারিভাবে ভোক্তা এবং উদ্যোক্তাদের পুরস্কৃত করে তাদেরকে এসবের ব্যবহারে আরো উৎসাহিত করা। গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ত্তারিখ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় সমাবর্তনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যান করা উচিত’। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হলেই প্লাস্টিক দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
লেখক : শিক্ষার্থী।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • বিদ্যুৎসাশ্রয় এবং আমাদের করণীয়
  • বেঁচে থাকি প্রাণশক্তির জোরে
  • রক্ত দিন জীবন বাঁচান
  • নদীকে না দেখলে নদীও আমাদের দেখবে না
  • করোনা ভাইরাসে থমকে গেল পৃথিবী
  • করোনা ভাইরাসে আমাদের করণীয়
  • বঙ্গবন্ধুর মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন
  • বঙ্গবন্ধু ও আমাদের শিশুরা
  • করোনা ভাইরাস ও দেশের অর্থনীতি
  • Developed by: Sparkle IT