সম্পাদকীয়

ভেজাল খাদ্যে কমছে আয়ু

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০২-২০২০ ইং ০০:১১:২০ | সংবাদটি ৫২ বার পঠিত


একটি অতি পুরনো বিষয়-ভেজাল খাদ্য। ভেজাল খাদ্যের দৌরাত্ম্য কমছে না, বরং বাড়ছে। আর এই খাদ্য মূলত মানুষের জীবনীশক্তি কেড়ে নিচ্ছে; কমছে আয়ু। খাদ্যে ভেজাল ও ক্যামিকেল মেশানোর ফলে প্রকৃতপক্ষে মানুষের আয়ু কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অতিমাত্রায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। জানা গেছে, দুষিত খাবরের কারণে ডায়রিয়া থেকে শুরু করে ক্যান্সার পর্যন্ত দু’শ ধরণের রোগ ছড়াচ্ছে মানব দেহে। বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির কারণে দেশে শিশু মৃত্যুর হার কমেছে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। কিন্তু বাস্তব প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিরাপদ খাদ্যের অভাবে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের প্রকৃত আয়ু কমে যাচ্ছে। শুধু মানুষের আয়ুই কমছে না, বরং তারা নানান দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে একদিকে বিশাল সংখ্যক মানুষের কর্মদক্ষতা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে চিকিৎসা খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হচ্ছে। তাই ভেজাল খাদ্যের খপ্পর থেকে মানুষকে বাঁচাতে হলে দরকার সরকারের কঠোর পদক্ষেপ। সাথে সাথে দরকার সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা।
ভেজাল-অনিরাপদ খাদ্যে সয়লাব আমাদের চারপাশ। অনেক সময় জেনেশুনেই আমরা ‘বিষমিশ্রিত’ খাবার খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করছি। বিশেষ করে, জমিতে যে ফসল উৎপন্ন হয় তা বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে আসে খাবারের প্লেটে। আর এই প্রতিটি ধাপেই বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মিশে যাচ্ছে খাবারের সঙ্গে। প্রথমত জমিতে ফসল উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। যার বিষক্রিয়া মিশে যাচ্ছে উৎপাদিত ফসলে। আর তা পর্যায়ক্রমে প্রবেশ করছে মানবদেহে এবং সৃষ্টি করছে নানা ধরণের দূরারোগ্য ব্যাধি। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, যথাযথ নিয়ম মেনে কীটনাশক ব্যবহার করলে ক্ষতির কোনো কারণ নেই। জাপানের কৃষকেরা বাংলাদেশের চেয়ে সাতগুণ বেশি কীটনাশক ব্যবহার করে তারপরও জাপানীরা নিরাপদ খাবার খাচ্ছে। আমাদের দেশে এই সম্পর্কিত জ্ঞানের ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতি হয়েছে। রাসায়নিক সার ব্যবহারেও জমির উর্বরাশক্তি ধ্বংস হচ্ছে। এতে তাৎক্ষণিক ফসল উৎপাদন বাড়লেও দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে জমির ফসল উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। আর অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। যাতে মানবদেহে নানা রোগের জন্ম হচ্ছে। অথচ জৈবসার ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করলে জনস্বাস্থ্যের জন্য কোন সমস্যা হয় না। এতে উৎপাদন ব্যয়ও কম হয়। তাছাড়া, জৈবসার ব্যবহার করলে একই জমিতে কয়েকটি ফসল চাষ করা যায়। তাছাড়া, জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করলে তা অপকারী পোকা ধ্বংস করার সঙ্গে সঙ্গে উপকারী পোকাও ধ্বংস করছে। সেই সঙ্গে এই দ্রব্য পানি দূষিত করছে, ক্ষতি করছে মৎস্য সম্পদের। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
আসল কথা হলো, ধান-গম-শাক-সবজি ইত্যাদি খাদ্যপণ্যে উৎপাদনের সময়ই মিশে যাচ্ছে দূষিত রাসায়নিক পদার্থ। এই ধারার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তাই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আনতে হবে পরিবর্তন। আর সেটা হবে জৈবসার ও কীটনাশক ভিত্তিক আদর্শ উৎপাদন পদ্ধতি। [এ জন্য তৈরি করতে হবে একটি স্ট্যাণ্ডার্ড। নিরাপদ খাদ্য আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। গৃহীত হয়েছে জাতীয় নিরাপদ খাদ্যনীতি। এই সব আইন বা নীতি কার্যকর করতে উৎপাদন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধাপে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে সতর্কতা সৃষ্টি করা। খাদ্যপণ্যে ভেজাল রোধে আমাদের দেশে একটা গতানুগতিক অভিযান পরিচালনার সংস্কৃতি চালু রয়েছে। অথচ তা ভেজাল রোধে তেমন কোন অবদান রাখতে পারে না।] ভেজাল বা বিষাক্ত খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন বন্ধ না হলে এই ধরণের অভিযানে সুদূরপ্রসারী কোন ফল আসবে না।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT