উপ সম্পাদকীয়

বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০২-২০২০ ইং ০০:৩৫:৫০ | সংবাদটি ১২২ বার পঠিত

কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে বেকার সমস্যা মনে হয় বাংলাদেশে জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতই দিন যাচ্ছে বাংলাদেশ বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েই চলছে। গত ৩০ জানুয়ারি সকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ কার্যালয়ে জাতীয় যুব পুরস্কার ২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে চাকরির পেছনে না ছুটে যুব সমাজকে তাদের মেধা ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, সরকার চায় এই মুজিববর্ষে দেশে কেহ বেকার থাকবেনা। শুধু চাকরির মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকলে চলবেনা। তরুণদের মাঝে যে সুপ্ত শক্তি রয়েছে একটা কিছু তৈরি করার, তার চিন্তা ও মননকে বিকশিত করার, সেই কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে। নিজের কাজ করবে আরও ১০ জনকে কাজের সুযোগ করে দেবে।
বাংলাদেশ থেকে বেকারত্ব দূর করা স্বল্প সময়ে সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী ঠিক বলেছেন, কারণ আমাদের কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে টিক কিন্তু শিক্ষিত বেকার যুবক তারা যদি চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে উদ্যোগী হয়ে কর্মসংস্থান করার চেষ্টা করে তবেই বেকারত্ব হ্রাস পাবে। কিন্তু তাদের সহযোগিতায় সরকারকে সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে। বিভিন্ন যুব উন্নয়ন সংস্থা যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকারকে সেটা আরও জোরদার ও সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ফলে আমাদের দেশে বেকারত্বের কারণে তরুণরা যে হতাশায় আছে তা থেকে কাটিয়ে উঠতে পারবে। সরকারকে অবশ্যই যুব সমাজকে কীভাবে কাজে লাগানো যাবে, সেটা ভাবতে হবে গুরুত্ব সহকারে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় তরুণদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে যুব সমাজের কাউকে অলস বসে থাকতে না হয়। নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতেও গুরুত্ব সহকারে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ এবং অর্থনৈতিক কাঠামোগত পরিবর্তনে। প্রয়োজন কর্মমুখী শিক্ষা বিস্তার, কুটির শিল্পের প্রসারসহ আত্মকর্মসংস্থানমূলক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন। উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ালে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা না পেয়ে বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে বিদেশি গ্রুপ টাটা। ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের একটা সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এসব ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্ত হতে হবে সঠিক, সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী। শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটিয়ে বৃত্তিমূলক, কারিগরি ও কৃষিশিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। কৃষিক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের জন্যে সার, বীজ, যন্ত্রাংশ, কীটনাশক প্রভৃতির বাজার সম্প্রসারণ, হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু পালন, মাছ চাষ, বনায়ন ইত্যাদির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প এবং বিদেশি বিনিয়োগের লক্ষ্যে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষুদ্র শিল্প এবং বিভিন্ন প্রচলিত-অপ্রচলিত খাতে মহিলা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা প্রদান করতে হবে। সর্বোপরি এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি বেসরকারি সংস্থাসহ রাজনৈতিক দলগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশে বেকার সমস্যা একক কোনো সমস্যা নয়, বরং বহুবিধ সমস্যার জনক। এ সমস্যা ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে জাতীয় জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকারি সদিচ্ছা যেমন জরুরি, তেমনি সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বেরও প্রয়োজন। বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষিত ও পরিশ্রমী জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন ধরনের কাজে উৎসাহী করে তুলতে পারলেই বেকারত্বের বিশাল বোঝা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় নতুন জোয়ার আসবে বলে আমরা মনে করি। সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে সবার।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ক্যাস্পিয়ান সাগরের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব
  • নিজগৃহে আমাদের এই উদ্বাস্তু জীবন
  • বেকারত্ব ও যুবসমাজ
  • আমার হাতেই আমার সুরক্ষা
  • কুড়িগ্রামের সুলতানা সরেবোর
  • স্মার্টফোনের আনস্মার্ট ব্যবহার
  • কোয়ারেন্টাইন না বলে ঘরবন্দি, একঘরে, ছোঁয়াচে বলুন
  • বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের বন্ধু
  • করোনা ভাইরাস ও করুণ পরিস্থিতি
  • পানির অপচয় রোধ করতেই হবে
  • বিশ্বনবী (সা) এর মিরাজ
  • বিদ্যুৎসাশ্রয় এবং আমাদের করণীয়
  • বেঁচে থাকি প্রাণশক্তির জোরে
  • রক্ত দিন জীবন বাঁচান
  • নদীকে না দেখলে নদীও আমাদের দেখবে না
  • করোনা ভাইরাসে থমকে গেল পৃথিবী
  • করোনা ভাইরাসে আমাদের করণীয়
  • বঙ্গবন্ধুর মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন
  • বঙ্গবন্ধু ও আমাদের শিশুরা
  • করোনা ভাইরাস ও দেশের অর্থনীতি
  • Developed by: Sparkle IT