উপ সম্পাদকীয়

শীতরে আনন্দ এবং বদেনা

মোহাম্মদ আনোয়ার হোসনে প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০২-২০২০ ইং ০০:৪৪:৫৫ | সংবাদটি ৫৫ বার পঠিত

এই বাংলা অতি প্রাচীনকাল থকেইে ছয় ঋতুর দশে। ছয় ঋতুর পালাবদলে বাংলা বছরে ছয়টি রূপ ধারণ কর।ে ছয় ঋতুর অন্যতম ঋতু হলো শীত। এই শীত ঋতুকে আমরা বশেদিনি অনুভব করতে পারনিা। মনে হয় যনে শীত ঋতু আসে অতথিরি মতো। কখন যে শুরু হয়ে আবার কখন শষে হয়ে যায় তা আমরা অল্পই উপলব্ধি করতে পার।ি শীতরে যমেন আনন্দ আছে তমেনি বদেনাও আছ।ে বাংলাদশে নাতশিীতোষ্ণ দশে। এখানে শীতরে বশেি প্রকোপ নইে। যহেতেু হমিালয় র্পবতমালা বাংলাদশেরে উত্তরে অবস্থতি তাই বাংলাদশেরে উত্তরাঞ্চলে শীত বশেি দখো যায়। উত্তরাঞ্চলে কখনো কখনো তাপমাত্রা খুব কম দখো যায়। এই শীত ঋতুতে গ্রাম বাংলার মানুষ সারা বছররে লনেদনে করে থাক।ে ববিাহ সাদী থকেে শুরু করে সব কছিু সম্পন্ন করা হয়। ছলেমেয়েদেরে বয়িে দতিে এবং করাতে শীতকালকে বশেী বছেে নয়ে। গাঁয়রে মানুষ তখন বলতো পৌষ মাসরে ত্রশি তারখিরে মধ্যে আমার ছলেে ময়েরে বয়িে সম্পন্ন করতে হব।ে শুধু বয়িে নয় টাকা পয়সা লনেদনে, জমি বন্দকসহ ইত্যাদি সব কছিু পৌষ মাসরে মধ্যে শষে করতো। গ্রাম বাংলার মানুষরে মনে আরও একটি ধারণা ছলি আশ্বনি মাসে শীতরে জন্ম র্অথাৎ শরতরে ভজো শশিরি দখেে তখন শীতকালকে উপলব্ধি করতো। তারা শরৎকালরে লক্ষণকইে শীতরে র্পূবাভাস ধরে নতিো। শরৎকালে র্বষার পানি কমে আস।ে খাল বলিরে পানি কমতে শুরু কর।ে তখন গ্রাম বাংলার পুকুর, দঘিী, খালে প্রচুর মাছ ধরার ধুম পড়ে যতে। গ্রামরে প্রত্যকেরে বাড়ি থকেে তখন শুকনো মাছরে গন্ধ বরে হতে থাক।ে গ্রামরে হাট-বাজারে এমনকি শহররে বাজারওে প্রচুর গ্রামীণ মাছ পাওয়া যায়। নবান্ন তখন আসন্ন। মোটকথা, নবান্ন থকেে শীতরে প্রকৃত আনন্দ উপলব্ধি করা হয়। অগ্রহায়ন মাস থকেে মাঘ ফাল্গুন মাস র্পযন্ত শীতরে সইে আনন্দ চলতে থাক।ে
শীতকালরে সবচয়েে সুবধিা হলো যাতায়াত ব্যবস্থা, খাওয়া দাওয়া, চলাফরিা ইত্যাদ।ি গ্রামরে মানুষ তখন যখোন দয়িে খুশি সখোন দয়িে চলাচল করতে পার।ে সড়কপথ ছাড়াও মাঠমেয়দান দয়িে চলাচল করে অনকে দূর র্পযন্ত হঁেটে যাওয়া যায়। গ্রামরে মাঠে এবং ক্ষতেরে মধ্যে দয়িে বকিল্প রাস্তা তরৈি হয়। সড়ক পথ দয়িে হঁেটে বা রক্সিায় গলেে যে সময় লাগতো মাঠরে রাস্তার ব্যবহার করার ফলে সময় লাগতো তার র্অধকে। শীতকালে গ্রামরে মাঠ দয়িে হাঁটলে সারা বাংলাকে শুকনো মনে হয়। মাঠরে পর মাঠ ফাঁকা দখো যায়। মনে হয় যনে শান্ত ধূধূ মরুভূমরি মতো। কন্তিু শীতরে হমিলে হাওয়া, নস্তিজে রোদরে মষ্টিি আলো, শীতরে বকিালরে কুয়াশার ছাপ মনে আরও পরশ লাগয়িে দয়ে। শশৈবকালে শীতরে বশেি আনন্দ পয়েছে।ি এই শীতকালে মামার বাড়,ি খালার বাড়ি বশেি বড়োতে গয়িছে।ি পুরো বছররে ৫/৬ মাস শীতরে বভিন্নি পঠিাপুলি খয়েছে।ি শীতকালে যে মাঠ দয়িে হঁেটে খলেে বড়েয়িছেি সে মাঠে র্বষাকালে পানি থৈ থৈ করতো। তখন মাঠরে দকিে তাকালে মনে হয় শুধু পানি আর পান,ি বঙ্গোপসাগররে ঢউে খলেছ।ে শীতকালে য,ে এ মাঠ দয়িে হঁেটছে,ি খলেছে,ি বন্ধু বান্ধবদরে সঙ্গে নয়িে স্কুলে গয়িছেে তখন তা বশ্বিাসই হতো না। শীতাকালে আরকেটি মজার বষিয় ছলি আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন মা, কাঁথা, বালশি, লপে-তোশকগুলো রোদে দয়িে শুকয়িে ভাঁজ করে ঘরে এনে রখেে দতিো। আমরা যখন রাতে পড়া শষে করে ঘুমাতে গয়িছেি তখন মা সইে গরম কাঁথাগুলো গায়ে দয়িে দতিো। তখন যে কি ভালো লাগতো তা এখন ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। সইে কাঁথা গায়ে দয়িে নমিশিে ঘুম এসে যতেো। আবার কখন যে সকাল হতো তা বুঝতওে পারি নাই। শীতরে কষ্ট বশেি হতো যখন কনকনে ঠা-া হাড় কাঁপানো পানরি মধ্যে পুকুরে গোসল করতে হতো, সকালে ঘুম থকেে উঠতে বলত। আব্বার সঙ্গে সকালে বাজারে গয়িে বাজার আনতে হতো ইত্যাদি ইত্যাদ।ি আবার দখো যতে শীতকালে খাবার নষ্ট কম হতো, বশেক্ষিণ খাবার রাখা যতেো। শীতকালে ঘুম থকেে উঠে হাত-মুখ ধুয়ে যখন পড়তে বসছেি তখন ঘররে জানালা দয়িে দরজা দয়িে সকালরে রোদ এসে হাজরি হতো। সইে রোদে পঁিড়তিে বসে হাতে ভাজা মুড়,ি খই, লাড়, ঢঁেকছিাঁটা চড়িা খতেে খুব ভালো লাগতো। আরও ভালো লাগতো মা যখন কর করা ভাত (ঠা-া ভাত) দয়িে রাতে রান্না করা টংেরা, বজুর,ি পাবদা এবং পুঁটি মাছ তরকারি দতি। আমরা শীতকালে মায়রে হাতরে রান্না করা সুন্দর সুন্দর খাবার খয়েে খুব তৃপ্তি অনুভব করছে।ি এখন আমাদরে ছলেমেয়েরো এসব খাবার তো খায় না বরং তা শুনলে তারা তা বশ্বিাসও করতে চায় না। তারা এখন যত ফাস্টফুড খতেে ভালোবাস।ে গ্রামীণ জীবনরে এসব খাবার তারা খতেে পছন্দ করে না এবং গ্রামে যতেওে চায় না। আমার কাছে শীত সবচয়েে বশেি ভালো লাগতো এবং এখনো লাগ।ে শীতরে সময় গ্রাম শহর বন্দররে স্কুলগুলতিে র্বাষকি পরীক্ষা শুরু হতো। শীতকালে সাধারণত রাত বড় থাকে এবং দনি ছোট থাক।ে শীতরে রাতে শীতরে জামা কাপড় পড়ে অধকি রাত র্পযন্ত যখন পড়ছেি তখন আবার ক্ষুধা লাগত। মা আবার খাবার গরম করে খতেে দতি। সে খাবার খয়েে তখন এক নমিষিে ঘুময়িে পড়ছে।ি ভোরে উঠে আবার পড়া শুরু করছে।ি সকাল ৮-৯টা বাজলে খাবার খয়েে মা-বাবা, বাড়রি চাচা-চাচ,ি জঠো-জঠেকিে সালাম জানয়িে পরীক্ষা দতিে গয়িছে।ি পরীক্ষা শষে করে শীতরে পড়ন্ত বকিালে বাড়ি ফরিছে।ি এখন যভোবে পরীক্ষা হয় আমাদরে সময় সভোবে পরীক্ষা হতো না।
আমাদরে সময় পাবলকি পরীক্ষাসহ স্কুলরে আন্তঃ এবং বহঃিপরীক্ষা সকালে এক বষিয় এবং বকিালে এক বষিয় অনুষ্ঠতি হতো। এখন পাবলকি পরীক্ষাসহ স্কুলরে সব পরীক্ষা দনৈকি এক বষিয় অনুষ্ঠতি হয়ে থাক।ে শীতকালে বাংলাদশেসহ বশ্বিরে যে সব স্থানে শীত বশেি পড়ে সে স্থানরে ছন্নিমূল মানুষগুলকিে দখেলে খুব মন কাঁদ।ে যারা একটি গরম কাপড়রে অভাবে কন কনে শীতে কাঁপছ।ে পথরে ধারে বস্ততিে বসবাস করছে তাদরে কথা চন্তিা করলে মনে হয় আমরা এখনো অনুন্নত রাষ্ট্রে বসবাস করছ।ি দারদ্র্যি আমাদরেকে ছড়েে যায়ন।ি রাষ্ট্র নাগরকিদরে মৌলকি সমস্যা সমাধানে সাংবধিানকিভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। যদওি বাংলাদশে মধ্যম আয়রে দশেে পরণিত হওয়ার চষ্টো করছে এবং ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পরণিত হওয়ার স্বপ্ন আছ।ে সইে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হলে গ্রামগঞ্জ,ে মাঠ,ে ময়দানে এবং শহর-বন্দরে যে সব মানুষ মানবতের জীবন যাপন করছে তাদরে অবস্থা আগে উন্নত করতে হব।ে যারা শীতরে কাপড় পড়তে পারে না, রাস্তার পাশে আগুন পোহাইয়া শীত দূর করছে তাদরে জীবনযাত্রা কাক্সক্ষিত মানে আনতে পারলে তখনই বাংলাদশে প্রকৃত উন্নত হবে এবং শীতরে বদেনা দূর হবে বলে আমার বশ্বিাস।
প্রাচীন বাংলা ছলি বৌদ্ধ এবং হন্দিু সম্প্রদায়ে ভরপুর। কালরে বর্বিতনরে ফলে আরব জাহান থকেে বভিন্নি সময় সুফ,ি দরবশে, আসার কারনে এ উপহাদশেে মুসলমানরে সংখ্যা বৃদ্ধি পতেে থাক।ে বখতয়িার খলজরি মাধ্যমে বঙ্গদশেে প্রথম মুসলমি শাসনরে সূত্রপাত হয়। তখন থকেে শীতকালে এই বঙ্গদশেে র্ধমীয় সভা, ওয়াজ মাহফলি প্রচলতি হয়ে এখন র্পযন্ত চলছ।ে র্ধমীয় অনুষ্ঠান শীতকালে আরও একটি আনন্দ উৎসব। এই শীতকালে উপমহাদশেরে আলমে পীর দরবশেগণ বঙ্গদশেরে বভিন্নি জায়গায় সভা সমাবশে করে মহান আল্লাহর একাত্ববাদরে কথা প্রচার করার ফলে ইসলাম র্ধমরে প্রতি মানুষরে আর্কষণ ক্রমইে বৃদ্ধি পতেে থাক।ে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থকেে শহরাঞ্চল র্পযন্ত শীতকালে ওয়াজ মাহফলি বশেি হয়। এই ওয়াজ মাহফলি শোনার জন্য মানুষ গ্রাম থকেে গ্রামান্তরে শহর থকেে শহরান্তে ছুটে বড়োয়। শশৈব, কশৈোর এবং যৌবনকালে শীতকাল খুবই আনন্দরে ছলি। কি সকাল, কি বকিাল এবং রাত্রতিে ছুটে বড়েয়িছে,ি নানা রঙরে খাবার খয়েছে।ি শীতকালে গ্রাম বাংলার বড় আর্কষণ ছলি যাত্রা এবং পালাগান। যাত্রা পালাগানে গ্রাম বাংলা আনন্দে মুখরতি হতো। সন্ধ্যার পর থকেে যাত্রাগান শুরু হতো, গভীর রাত র্পযন্ত চলতো এবং বভিন্নি রঙরে হাউজি খলো হতো। যখোনে যাত্রাপালা গান হতো পুরো থানার মানুষ এই গানকে উপভোগ করার জন্য আসতো। রাত্র একটা, দুইটায় যাত্রা গান শষে হলে মানুষ দল বঁেধে বাড়ি যতেনে। বভিন্নি সুরে কথা বলতো, হচৈৈ করতো। এভাবে গ্রাম বাংলা মুখরতি হয়ে উঠত। গ্রামরে মানুষ তখন শারীরকি ও কায়কি পরশ্রিম বশেি করত। রোগ ব্যাধরি কথা তমেন শোনা যতে না। গ্রামরে মানুষ বলাবলি করত শীতকাল খুবই ভালো। রোগ-ব্যাধি হয় না এবং খাবার দাবার নষ্ট হয় না। এখন যে র্হাটরে বভিন্নি রোগ, স্ট্রোক, প্রসোর, ডায়াবটেসি ইত্যাদি রোগরে কথা গ্রামরে মানুষ আগে তমেন শুনে নাই। শীতকালে সাধারণত যে সব রোগ দখো যতেো তা হলো খোসপাঁচড়া, বভিন্নি চুলকান,ি মুখে ঘা ইত্যাদ।ি গ্রামরে মানুষরে শারীরকি গঠন খুব ভালো এবং মজবুত ছলি। তারা পরশ্রিমরে কাজ বশেি করতে পারত। এখন গ্রামরে মানুষরে কায়কি পরশ্রিম হ্রাস পাওয়ার কারণে বভিন্নি রোগ ব্যাধতিে আক্রান্ত হয়ে অল্প বয়সে মারা যাচ্ছ।ে যদওি বাংলাদশেরে মানুষরে গড় আয়ু বৃদ্ধি পয়েছে,ে সে অনুযায়ী মানুষরে আগরে মতো শারীরকি ও মানসকি পরশ্রিমও বৃদ্ধি পাচ্ছে না। ফলে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দকিে ঝুঁকে যাচ্ছ।ে কথায় বলে মাঘ মাসরে শীত বাঘরে গায়ে লাগ।ে গ্রামীণ বাংলার ব্রাহ্মণ ঠাকুর (ভাবনা) তার শষে সম্বল গাড়ীটি বক্রিি করে শীতরে বস্ত্র কনিছেনে। এভাবে গ্রাম বাংলার মানুষ শীতরে তীব্রতা ব্যাখ্যা করতো। শীতকালে যে দনি কুয়াশা বশেি পড়তো সে দনি তমেন কছিুই দখো যতেো না। মানুষ শীতরে সকালরে সইে কুয়াশাকে ভদে করে কউে বাজারে যতেো, কউে মাঠে হাল চাষ করত, কউে শীতরে আর্কষনীয় খজেুররে রস বক্রিি করতে যতেো। শীতকালরে সবচয়েে আর্কষণ হলো খজেুররে রস। সকালে গাছীরা খজেুর গাছরে রস সংগ্রহ করে তা বক্রিি করার জন্য বরে হয়। সইে কাঁচা খজেুররে রস খতেে খুব মজা। আবার খজেুররে রস দয়িে পায়শে, ছন্নিি তরৈি করে খাওয়া আরও বশেি মজা। শীতরে খজেুররে রস, নবান্নরে পঠিা পুলি শুষ্ক মৃদু বাতাস, মষ্টিি র্সূযরে তাপ আছে বলে শীত ঋতু আমাদরে কাছে খুবই প্রয়ি। গাঁয়রে মানুষ হাড় কাপানো শীত থকেে বাঁচার জন্য মাটরি পাতলিে তুষরে আগুন তরৈি করে সকাল এবং রাতে শরীর গরম করতে দখো যায়। কখনও কখনও কুঁড়ে ঘররে কোণায় লাড়কি এবং কাঠরে উল্কা দয়িে আগুন তরৈি করে পুরো ঘরকে গরম রাখ।ে তাই শীতরে এই বদেনার কথা মনে পড়লে সুকান্ত ভট্টার্চাযরে ‘হে র্সূয’ কবতিাটি মনে পড়।ে তনিি তার কবতিায় বলছেনে-
‘হে র্সূয, তুমি তো জানো আমাদরে গরম কাপড়রে কত অভাব!
সারারাত খড়কুটো জ্বালয়ি,ে একটুকরো কাপড়ে কান ঢকেে কত কষ্টে আমরা শীত আটকাই।
তাই, পরশিষেে এ কথা বলতে পারি য,ে শীতরে প্রকৃত র্সাথকতা তখনই হব,ে যখন দশেে শীর্তাথ মানুষগুলি আরামে থাকব।ে
লখেক : শক্ষিক ও প্রাবন্ধকি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT